Business News

Displaying 1-10 of 155 results.

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু রোববার

Picture

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের আদলে মূল ফটকের কাজ শেষ। ভেতরে ইট-বালুর স্তূপ। সেই ইট বিছিয়ে হাঁটার পথ নির্মাণ চলছে। প্যাভিলিয়ন ও স্টলের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ। তবে অধিকাংশের সাজসজ্জার কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) প্রস্তুতি দেখতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে এমন চিত্রই চোখে পড়ল। পুরো মাঠেই ইট, বালু, কাঠ, বোর্ডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। নির্মাণশ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা ও হাঁকডাকে পুরো এলাকা সরগরম।
অন্যবারের মতো এবারও মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা ১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে। রোববার মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে মেলাটির আয়োজন করছে। মেলায় এবার বিভিন্ন ধরনের প্যাভিলিয়ন ও সাধারণ স্টল বরাদ্দ নিয়েছে ৫৫৫টি।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেল, ওয়ালটন, হাতিল ফার্নিচার, আকতার ফার্নিচার, প্রাণ-আরএফএল, যমুনার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন করছে। এসব বড় প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়নের কাজ বেশ এগিয়েছে। তবে অধিকাংশ সাধারণ স্টলের কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে।
এদিকে, মেলার সামনের পার্কিংয়ের কাজ চলছে। টিকিট কাউন্টার নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। ভেতরের অবকাঠামো নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি। ভেতরে হাঁটার পথ তৈরির জন্য ইট বিছানোর কাজ চলছে। অনেক প্যাভিলিয়ন ও স্টলের সামনে যাওয়ার পথ তৈরি হয়নি।
বাণিজ্য মেলার সদস্যসচিব রেজাউল করিম বলেন, ‘সব কাজ শনিবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। প্যাভিলিয়ন তৈরির জন্য বড় বড় ট্রাক পণ্য নিয়ে মেলায় ভেতরে আসে। তাই কিছু জায়গার হাঁটার পথ শেষ মুহূর্তে করা হয়।’

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দুই পুঁজিবাজারে

আজ সোমবার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের প্রথম দুই ঘণ্টায় লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ডিএসইতে।

 

 

অন্যদিকে, সিএসইতেও দৈনন্দিন লেনদেনও গতি গত কার্যদিবসের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া প্রথম দুই ঘণ্টায় বেশির ভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে দুই পুঁজিবাজারেই।

ডিএসইতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট কমে হয়েছে ৪৯৭৮ পয়েন্ট। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। গত কার্যদিবস এই সময় পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৫০ কোটি টাকা। প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩২০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৫টির, কমেছে ৮৫টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টি কোম্পানির।

সিএসইতে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সার্বিক সূচক বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট। মোট লেনদেন সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত কার্যদিবস এই সময় পর্যন্ত লেনদেন হয় ২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রথম দুই ঘণ্টায় লেনদেন হয়েছে ২১২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪১টির, কমেছে ৪৮টির। দর অপরিবর্তিত ২৩টির।

 

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

অর্থনীতি নিয়ে ডিসিসিআইয়ের সম্মেলন আজ

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘নতুন অর্থনৈতিক চিন্তা: বাংলাদেশ ২০৩০ ও পরবর্তী সময়’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হতে করণীয় নিয়ে সুপারিশ ঠিক করতে ডিসিসিআই এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে এটি অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সম্মেলনে মোট সাতটি অধিবেশন থাকবে। এর মধ্যে একটি হবে ‘নতুন অর্থনৈতিক চিন্তা’ শিরোনামে। এ অধিবেশনে বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাজ্যের সাংসদ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত রুশনারা আলী এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি ডেভিড স্যাকস-এর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে পাঁচটি অধিবেশনে গভর্নমেন্ট অব সিঙ্গাপুর ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (জিআইসি) গ্রুপ প্রেসিডেন্ট লিম সিয়ং গুয়ান, ফ্রান্সের প্যারিস ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক রেমি প্রুধমে, আইএফসির বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ব্যবস্থাপক ওয়েন্ডি জো ওয়েরনার, কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট বিজর্ন লমবার্গসহ প্রায় ১৫ জন বিদেশি অতিথি অংশ নেবেন।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

১৮ মাসের মধ্যে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গতকাল সোমবার এক দিনেই সাড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বা তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৫৭ দশমিক ৮৯ মার্কিন ডলারে উঠেছে। ২০১৫ সালের জুলাইয়ের পরে, অর্থাৎ গত ১৮ মাসের মধ্যে এটিই জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম।
তবে গতকাল দিন শেষে ব্যারেলপ্রতি দাম কিছুটা কমে ৫৬ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে এসেছে। তারপরও তা আগের দিনের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ বেশি। অবশ্য গত বছরের একই সময় বিবেচনায় নিলে তেলের সর্বশেষ এই দাম ৫০ শতাংশ বেশি। আর বার্ষিক হিসাবে এটি ২০১১ সালের পরে তেলের দামে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউএস ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৪৬ ডলার বেড়ে ৫৩ দশমিক ৯৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) পথ ধরে ও এর বাইরে থাকা ১১টি দেশও গত শনিবার এক বৈঠকে উত্তোলনের পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াতেই মূলত বিশ্ববাজারে পণ্যটির দামে উল্লম্ফন ঘটে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ওপেকের প্রধান কার্যালয়েই গত শনিবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাশিয়া, আজারবাইজান, ওমান, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, সুদান, সাউথ সুদান, বাহরাইন প্রভৃতি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ওপেক-বহির্ভূত ১১টি দেশ তাদের দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল কমানোর চুক্তি করেছে। অতিরিক্ত সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
এর আগে একই লক্ষ্যে তেল উত্তোলন কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক। যেসব দেশ ওপেকের সদস্য নয়, তারাও উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিক, এমনটা চাইছিলেন সংস্থাটির নেতারা।
২০০১ সালের পরে গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম তেল উত্তোলন কমানোর বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে একটি বৈশ্বিক মতৈক্য হলো।
ওপেকের সদস্যরা আগামী মাস (জানুয়ারি) থেকে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল কম উত্তোলন করবে। গত আট বছরের মধ্যে এটা হচ্ছে ওপেকের উত্তোলন কমানোর প্রথম সিদ্ধান্ত। ওপেকের সদস্যরা হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ভেনেজুয়েলা, ইরান, ইরাক, কুয়েত, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, কাতার, অ্যাঙ্গোলা, ইকুয়েডর, গ্যাবন ও লিবিয়া।
এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘২০১৭ সালের গোড়ার দিকে উত্তোলনের পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত সরবরাহের পরিবর্তে ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করবে।’ তবে কেউ কেউ অবশ্য দীর্ঘ মেয়াদে রপ্তানিকারকদের উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে ২০১৪ সালের জুন থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করে। এতে রপ্তানিকারক দেশগুলোর আয় কমতে থাকে। সে জন্য তারা অধিক পরিমাণে তেল উত্তোলন করে। এভাবে বিশ্ববাজারে জোগান বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম আরও কমে যায়। এমন এক অবস্থায় ওপেক সদস্য ও এর বাইরের দেশগুলো উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের ৪০ শতাংশ হয়ে থাকে ওপেকের সদস্যদেশগুলোতে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া প্রচুর পরিমাণে তেল উত্তোলন করে। তারা ওপেকের সদস্য নয়।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

২০ হাজার কোটি টাকার সিমেন্টের বাজার

চলতি বছর শেষে দেশের সিমেন্টের বাজারের আকার বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার কোটি টাকায়। গত বছর এ বাজারটির আকার ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকার। সিমেন্ট খাতের বিভিন্ন কোম্পানি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শেষে সিমেন্টের ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় আড়াই কোটি মেট্রিক টনে। এরই মধ্যে গত ১১ মাসে ২ কোটি ২৭ লাখ মেট্রিক টন সিমেন্টের ব্যবহার হয়ে গেছে। ২০১৫ সালে দেশে সিমেন্ট ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন।
এদিকে, সিমেন্টের বিশাল বাজারের সিংহভাগই মাত্র ১২ কোম্পানির দখলে। দেশে বর্তমানে ৩৩টি সিমেন্ট উৎপাদক প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশই ১২ কোম্পানির হাতে। বাকি ২১ কোম্পানির বাজার অংশীদারত্ব মাত্র ২০ শতাংশ।
সিমেন্ট কোম্পানি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের সিমেন্টের বাজারে আধিপত্যের শীর্ষে রয়েছে শাহ্‌ সিমেন্ট। কোম্পানিটি এককভাবে সিমেন্টের বাজারের সাড়ে ১৪ শতাংশ দখলে রেখেছে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান। বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা ও বসুন্ধরা সিমেন্ট মিলে যৌথভাবে দখলে রেখেছে সিমেন্টের বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সেভেন রিংস ব্র্যান্ডের সিমেন্ট। কোম্পানিটির বাজার অংশীদারত্ব ৮ শতাংশের কিছুটা বেশি।

 

 

বাজার অংশীদারত্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ সিমেন্ট। দেশের সিমেন্টের চাহিদার প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ পূরণ করছে কোম্পানি। পঞ্চম অবস্থানে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। এটির বাজার অংশীদারত্ব প্রায় ৭ শতাংশ। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে প্রি​িময়ার সিমেন্ট। কোম্পানির বাজার অংশীদারত্ব প্রায় ৬.৯ শতাংশ। সপ্তম অবস্থানে রয়েছে ক্রাউন ব্র্যান্ডের এম আই সিমেন্ট। এ কোম্পানিটির বাজার অংশীদারত্ব ৬.৬৮ শতাংশ।

বাজার অংশীদারত্বের দিক থেকে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। এই কোম্পানিটির বাজার অংশীদারত্ব প্রায় পৌনে ৬ শতাংশ। নবম অবস্থানে রয়েছে হোলসিম সিমেন্ট। সিমেন্টের বাজারের ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ রয়েছে কোম্পানিটির দখলে। দশম অবস্থানে আকিজ সিমেন্ট। এটির বাজার অংশীদারত্ব ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। ১১তম অবস্থানে রয়েছে মদিনা সিমেন্ট। কোম্পানিটির বাজার অংশীদারত্ব ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ১২তম অবস্থানে রয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। সিমেন্টের বাজারের ২ দশমিক ২১ শতাংশ রয়েছে এই কোম্পানিটির দখলে।

উল্লেখিত ১২ কোম্পানির বাইরে সিমেন্টের বাজারের বাকি ২০ শতাংশ দখলে রেখেছে যে ২১ কোম্পানি, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডায়মন্ড সিমেন্ট, অ্যাংকর ব্র্যান্ডের অলিম্পিক সিমেন্ট, দুবাই বাংলা সিমেন্ট, ইমিরেটস সিমেন্ট, সিয়াম সিটি সিমেন্ট এবং সেনাকল্যাণ সংস্থার মোংলা সিমেন্ট কোম্পানি।

একাধিক সূত্রে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ১১ মাসে দেশে সিমেন্টের চাহিদা ছিল ২ কোটি ২৭ লাখ মেট্রিক টন। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন। সেই হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি বছরের ১১ মাসে সিমেন্ট খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ। ১১ মাসের হিসাবে চলতি বছরে প্রতি মাসে গড়ে ২১ লাখ মেট্রিক টন সিমেন্টের চাহিদা ছিল। সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা, চলতি বছর শেষে সিমেন্টের চাহিদা আড়াই কোটি মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।

জানতে চাইলে লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মাসুদ খান বলেন, বর্তমান বাজারমূল্যে দেশে প্রতি টন সিমেন্টের দাম আট হাজার টাকা। বছর শেষে যদি আড়াই কোটি মেট্রিক টন সিমেন্ট বিক্রি হয় তাহলে সিমেন্টের বাজারটি দাঁড়াবে ২০ হাজার কোটি টাকায়।

মাসুদ খান জানান, ২০১৫ সালে দেশে মোট সিমেন্টের চাহিদা ছিল ২ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। প্রতি টন সিমেন্টের দাম ৮ হাজার টাকা ধরে গত বছর শেষে সিমেন্টের বাজারটি ছিল ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকার। চলতি বছর শেষে এই বাজারটির আকার ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়বে।

শেয়ারবাজারের প্রতিষ্ঠান লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের গবেষণা বিভাগের প্রধান মাহফুজুর রহমান এ খাত নিয়ে করা তাঁর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছেন, বাংলাদেশে সিমেন্টের যে ব্যবহার, তার ৪০ শতাংশ যায় ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ সিমেন্টের ব্যবহার হয় সরকারি বিভিন্ন ভবন নির্মাণে। আবাসন খাতের ভবন নির্মাণে সিমেন্টের ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়।

মাহফুজুর রহমান তাঁর গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলেন, নয় বছর ধরে ১০ শতাংশের বেশি হারে সিমেন্টের চাহিদা বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ চাহিদা আরও বাড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিদ্যমান চাহিদার পাশাপাশি সরকারি অবকাঠামো খাতে সিমেন্টের চাহিদা বাড়বে। পদ্মা সেতুসহ একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্প চলমান রয়েছে। বর্তমানে সরকারি অবকাঠামো খাতে সিমেন্টের মোট চাহিদার ৬ শতাংশ ব্যবহার হয়।

চলতি মাসের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শেয়ারবাজার মেলায় সিমেন্ট খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে মাহফুজুর রহমান গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। ওই সেমিনারে একাধিক সিমেন্ট কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিবছর দেশে সিমেন্টের চাহিদা গড়ে ১০ শতাংশের বেশি হারে বাড়লেও এখনো মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহারে বাংলাদেশ আশপাশের অনেক দেশ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাথাপিছু সিমেন্টের ব্যবহার ১২৫ কিলোগ্রাম বা কেজি। ভারতে মাথাপিছু সিমেন্টের ব্যবহার ২২৫ কেজি। পাকিস্তানে ১২৯ কেজি। মাথাপিছু সিমেন্টের ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটিতে মাথাপিছু সিমেন্টের ব্যবহার প্রায় ১ হাজার ৭০০ কেজি। আর সারা বিশ্বে সিমেন্টের মাথাপিছু গড় ব্যবহার ৫০০ কেজি।

মাসুদ খান বলেন, বিশ্বের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত কোনো দেশে সিমেন্টের মাথাপিছু ব্যবহার ৬০০ কেজিতে উন্নীত হওয়ার পর এ খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। সেই হিসাবে বাংলাদেশে সিমেন্টের মাথাপিছু ব্যবহার আরও চার গুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

আমদানিনির্ভরতা থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সিমেন্ট খাত ছিল আমদানিনির্ভর। দেশের চাহিদার ৯৫ শতাংশ সিমেন্টই ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন থেকে আমদানি করা হতো। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নগরায়ণ, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দেশে সিমেন্টের চাহিদাও বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় নব্বইয়ের পর সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশি-বিদেশি একাধিক কোম্পানি বাংলাদেশে সিমেন্ট উৎপাদন শুরু করে। উৎপাদন শুরুর কয়েক বছর পর্যন্ত সিমেন্ট খাতে ছিল মাত্র চারটি কোম্পানির আধিপত্য। কোম্পানিগুলো হলো মেঘনা সিমেন্ট, ইস্টার্ন সিমেন্ট, ছাতক ও চিটাগাং সিমেন্ট। এর মধ্যে ইস্টার্ন সিমেন্ট বর্তমানে সেভেন হর্স সিমেন্ট হিসেবে পরিচিত। আর চিটাগাং সিমেন্ট হাতবদল হয়ে এখন হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। ২০০০ সালের পর থেকে এ খাতে নতুন নতুন দেশীয় কোম্পানি 

 

 

যুক্ত হতে থাকে। বর্তমানে সিমেন্ট খাতে ১২৪টি কোম্পানি নিবন্ধিত থাকলেও এর মধ্যে উৎপাদনে রয়েছে ৩৩টি। বর্তমানে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সীমিত আকারে কিছু সিমেন্ট রপ্তানিও হচ্ছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ৪০তম বৃহত্তম সিমেন্ট উৎপাদনকারী দেশ।

জানতে চাইলে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমীরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০০ সালের আগে সিমেন্ট খাতে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছিল। তাই দীর্ঘদিন ধরে সিমেন্টের বাজারটি ছিল বহুজাতিক কোম্পানির দখলে। কিন্তু ২০০০ সালের পর দেশীয় অনেক কোম্পানি এ খাতে বিনিয়োগ করায় সিমেন্টের বাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর একক আধিপত্য কমতে শুরু করে। আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সিমেন্টের বাজারের সিংহভাগই দেশীয় কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

সিমেন্ট খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে দেশে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে। তবে এটি কখনো কখনো ওঠানামা করে।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

জ্বালানি তেল খালাসে সাগরের তলদেশে পাইপলাইন হচ্ছে

সাগর ও মাটির তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল স্থানান্তরে ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরোর সঙ্গে চুক্তি করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আজ বৃহস্পতিবার এ চুক্তি হবে।
বিপিসি সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা পর্যন্ত ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি পাইপলাইন স্থাপিত হবে। যার মধ্যে ৬৪ কিলোমিটার থাকবে সাগরের তলদেশে আর ৩০ কিলোমিটার থাকবে উপকূলঘেঁষা মাটির নিচে।
এর বাইরে মাতারবাড়ি ট্যাংক ফার্ম থেকে গভীর সাগরের জাহাজ ভেড়ার স্থান পর্যন্ত আলাদাভাবে আরও ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাইপলাইন স্থাপন করা হবে; যার মধ্যে ৯ কিলোমিটার সাগরের ও ৭ কিলোমিটার থাকবে মাটির তলদেশে। এসব পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হলে তাতে বছরে বিপিসির খরচ বাঁচবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিপিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আজ ঢাকার একটি তারকা হোটেলে এ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৪২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিপিসি জোগান দেবে ১১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ১ হাজার ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বাকি টাকা ঋণ হিসেবে জোগান দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। গত নভেম্বরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাত বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন ছাড়াও মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ৫০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার তিনটি ক্রুড অয়েল ট্যাংক, ৩০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার তিনটি ডিজেল স্টোরেজ ট্যাংক, পাম্পিং স্টেশন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মো. মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাইপলাইন স্থাপনের কাজটি বাস্তবায়িত বিপিসির এক হাজার কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেল খালাসে ভোগান্তি ও সময় কমবে।’
বিপিসি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির নাম ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন’। এসব পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হবে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব পাইপলাইন দিয়ে বছরে ৪৫ লাখ করে মোট ৯০ লাখ টন জ্বালানি তেল খালাস সম্ভব হবে। একটি পাইপলাইন দিয়ে কেবল ডিজেল খালাস হবে। এই পাইপলাইন পতেঙ্গায় অবস্থিত জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার প্রধান ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আর অন্য পাইপলাইন দিয়ে কেবল ক্রুড (অপরিশোধিত জ্বালানি) খালাস হবে। ক্রুডের পাইপলাইন যুক্ত থাকবে সরকারি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সঙ্গে। ইস্টার্ন রিফাইনারির অবস্থানও চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়।
বিপিসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, দেশে বছরে ৫০ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে এক লাখ মেট্রিক টনের একটি জাহাজ বহির্নোঙরে আসার পর ছোট জাহাজ দিয়ে সেই জ্বালানি খালাস করতে ৯-১০ দিন সময় লাগে। এতে জাহাজগুলোকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। কিন্তু পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলে তেল খালাসের সময় কমে দুই দিনে নেমে আসবে।
বিপিসির ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানের সময় বেড়ে যাওয়ায় এবং লাইটার জাহাজের ভাড়া মিলে প্রতি মেট্রিক টন জ্বালানি খালাসে খরচ পড়ে ২৫ ডলার (দুই হাজার টাকা)। পাইপলাইন স্থাপন শেষ হলে জাহাজের গড় অবস্থান এক-পঞ্চমাংশে নেমে আসবে। এতে বছরে খরচ বাঁচবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

চট্টগ্রামে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু

চট্টগ্রামের হালিশহরে আবাহনী মাঠে গতকাল বুধবার মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তবে উদ্বোধন হলেও আজ বৃহস্পতিবার থেকে মেলা শুরু হওয়ার কথা।
তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এক্সপোর্ট ফেয়ার’ নামে এ মেলার আয়োজন করেছে। এবারের মেলায় ২০০টি স্টল থাকবে বলে আয়োজকেরা জানান।
মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সাংসদ বেগম মাহজাবিন মোরশেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী ও আলীহুসাইন আকবরআলী, ওমেন চেম্বারের পরিচালক বেগম আবিবা মোস্তফা, মেলার আহ্বায়ক আমিনুজ্জামান ভূঁইয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতে আরও বেশিসংখ্যক ফ্লাইট ওঠানামা হয়, সে জন্যও জোর দেওয়া হচ্ছে।
চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, বন্দরে কনটেইনার জট বাড়ছে। জট কমিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। সরকারি নীতিসহায়তা অব্যাহত থাকলে আমদানিনির্ভর অনেক পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে আমদানিনির্ভরতা কমানো যাবে।
চেম্বারের সহসভাপতি আলীহুসাইন আকবরআলী আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার জন্য আহ্বান জানান।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

শেষ দিনে ব্যাপক ভিড় করদাতাদের

Picture

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হলো। গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত করদাতারা রিটার্ন জমা দেন। তবে সকাল থেকেই মাঠপর্যায়ের কর কার্যালয়গুলোতে করদাতাদের বেশ ভিড় ছিল। সারা দিনই সেগুনবাগিচাসহ রাজধানীর বিভিন্ন কর কার্যালয়ে রিটার্ন জমা দিতে আসেন। অনেকে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে বসে রিটার্ন ফরম পূরণ করতে দেখা গেছে। ভিড় ঠেলে রিটার্ন জমার কাজ শেষ করতে অন্য দিনের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচার কর অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ১১-এর কার্যালয়গুলোতে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র পাওয়া গেছে। গতকাল সরকারি কর্মকর্তাদের রিটার্ন জমা বেশি পড়েছে বলে এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত মোট কী পরিমাণ রিটার্ন জমা পড়েছে, সেই তথ্য হালনাগাদ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
যাঁরা গতকালও রিটার্ন জমা দিতে পারেননি। ‘সব শেষ হয়ে গেছে’—এটা ভাবার কারণ নেই। নির্ধারিত করের ওপর মাসে ২ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
গতকাল জাতীয় আয়কর দিবস পালন করেছে এনবিআর। এ উপলক্ষে সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে এনবিআর। এতে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, এনবিআরের সদস্য, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি সেগুনবাগিচার এনবিআর ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে মৎস্য ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে আবার এনবিআরের সামনে এসে শেষ হয়।
গতকাল দুপুরে সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সামনে সারিকা টাওয়ারে গিয়ে দেখা গেছে, করদাতারা বিভিন্ন বুথে লাইন ধরে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। কেউবা ফরম পূরণ করছেন। আবার কেউ সহায়তা কেন্দ্রে খোঁজ নিচ্ছেন কীভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে। সারা দিনই এমন ভিড় ছিল কর অঞ্চল-৭-এর কার্যালয়ে। সরকারি চাকরিজীবী নাহিদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিড়ের কথা ভেবে বাসা থেকেই ফরম পূরণ করে এনেছি। ব্যাংকের চালানপত্রসহ রিটার্ন জমা দেওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই প্রাপ্তি রসিদ পেয়ে গেছি।’
সারিকা টাওয়ারের পাশের ভবনের কর অঞ্চল-১১ ও কর অঞ্চল-৮-এর কার্যালয়েও সারা দিনই করদাতাদের ভিড় ছিল।
এবার রিটার্ন জমার শেষ সময়ে বিভিন্ন কর কার্যালয় মেলার আমেজে করদাতাদের সেবা দিয়েছে। প্রতিটি কর কার্যালয়ে একাধিক বুথ তৈরি করে রিটার্ন জমা নেওয়া হয়েছে। আবার নতুন ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) দেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে তিন লাখ নতুন টিআইএনধারীর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম চার মাসেই পাঁচ লাখের বেশি টিআইএন দেওয়া হয়েছে।
গতবার সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন। এবার এ সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে এনবিআর কর্মকর্তারা জানান।
গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় পর্যন্ত ৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৭ জন রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ২৬ কোটি টাকা।
ই-টিআইএন: এনবিআরের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ই-টিআইএন নিতে সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ই-টিআইএনপ্রত্যাশী। কয়েক দিন ধরেই এ সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেছেন, একই সঙ্গে শত শত ই-টিআইএনপ্রত্যাশী ওয়েবসাইটে লগইন করায় সেবাটি দিতে সমস্যা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

রপ্তানির দ্বিগুণ আমদানি

শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও নিউজিল্যান্ডে তেমন রপ্তানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে যা রপ্তানি করে, দেশটি থেকে আমদানি করে তার দ্বিগুণের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে।
সচিবালয়ে গতকাল বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গ্রাহাম মার্টনের এক বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রীও বলেন, ‘উভয় দেশের বাণিজ্যে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে। কারণ, দেশটিতে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাই আমরা।’
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি করেছে। একই বছরে বাংলাদেশ দেশটি থেকে আমদানি করেছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলারের পণ্য।
নিউজিল্যান্ডে নিট ও ওভেন পোশাক, পাটজাত পণ্য, তামাক, শুকনো খাদ্য ও সিরামিক পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। দেশটি থেকে আমদানি হয় কেমিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক, চিকিৎসাসামগ্রী, গুঁড়া দুধ ইত্যাদি।
দেশটিতে বাংলাদেশি ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
জানা গেছে, রপ্তানি বাড়াতে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি পণ্যের মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ৯২১ কোটি পাকিস্তানি রুপি (৬৯২ কোটি টাকা) দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং বাংলাদেশ যে পাকিস্তানের কাছে টাকা পায়, তা ফেরত না দিতেই এমন উল্টো দাবি করছে দেশটি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আগে বাংলাদেশ পাট রপ্তানি করে যে আয় করত, তা তারা নিয়ে যেত। তা ছাড়া একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করায় তারা তা না দেওয়ার জন্য বরং উল্টো টাকা দাবি করছে।’
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ৯২১ কোটি রুপি পাওনা রয়েছে এবং পাকিস্তান তা ফেরত চায় বলে পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর সূত্র ধরেই বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা হয়।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো