Paripatra

Displaying 1-9 of 9 results.

Paripatra-2016-2017

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা।

নথি নং-০৮.০১.০০০০.০৩০.০৩.০১০.২৭৭ তারিখঃ ৩ ভাদ্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ১৮ আগস্ট, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
পরিপত্র-০১ (আয়কর)/২০১৬-১৭

বিষয়ঃ ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেট কার্যক্রমের আওতায় আয়কর আইন, বিধিও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনীত পরিবর্তন সম্পর্কিত স্পষ্টীকরণ।

অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর ও সারচার্জের হার নির্ধারণ এবং আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর আওতায় জারীকৃত বিভিন্ন এস, আর, ও এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনাসহ বিভিন্ন করহার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নব প্রবর্তিত ও সংশোধিত আইন, বিধি ও প্রজ্ঞাপনসমুহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকল্পে ও করদাতাদের সংশ্লিষ্ট বিধি বিধানসমূহ সহজভাবে অবহিত করার লক্ষ্যে আনীত সংযোজন/সংশোধন/পরিবর্তন/পরিমার্জনসমূহ নিম্নমূপে উপস্থাপন করা হলোঃ

১। ২০১৬-২০১৭ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য আয়কর হার

(ক) ব্যক্তি করদাতাসহ অন্যান্য করদাতার (কোম্পানী ব্যতীত) জন্য সাধারণ করহার
অর্থ আইন, ২০১৬ তে বর্ণিত করহারের তফসিল অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি-করদাতা (অনিবাসী বাংলাদেশীসহ), হিন্দু যৌথ পরিবার, অংশীদারী ফার্ম, ব্যক্তি-সংঘ ও আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসহ অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে মোট আয়ের উপর আয়করের হার হবে নিম্নরূপঃ

  মোট আয় কর হার
(১) প্রথম ২,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য
(২) পরবর্তী ৪,০০,০০০/-টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০%
(৩) পরবর্তী ৫,০০,০০০/-টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫%
(৪) পরবর্তী ৬,০০,০০০/-টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২০%
(৫) পরবর্তী ৩০,০০,০০০/-টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২৫%
(৬) অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ৩০%

তবে, উপরোল্লিখিত কর হার করদাতার মর্যাদা নির্বিশেষে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক করদাতার উক্ত ব্যবসায় হতে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি (person with disability) এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা হবে নিম্নমূপ:
(১) মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাত: ৩,০০,০০০/- টাকা;
(২) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা: ৩,৭৫,০০০/- টাকা;
(৩) গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত করদাতা: ৪,২৫,০০০/- টাকা:
কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের জন্য করমুক্ত সীমা ২৫,০০০/- টাকা বেশী হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা ও মাতা উভয়েই করদাতা হলে যে কোন একজন এ সুবিধা পাবেন।
উদাহরণ ১-১
জনাব সাব্বির চৌধুরী এবং তার স্ত্রী মিজ্ অর্পা চৌধুরী দু’জনেই করদাতা এবং তাদের একজন সন্তান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংজ্ঞা অনুযায়ী বিবেচিত একজন প্রতিবন্ধী। ২০১৬-১৭ কর বছরে জনাব সাব্বির চৌধুরীর মোট আয় ৫,০০,০০০/- টাকা এবং মিজ্ অর্পা চৌধুরীর মোট আয় ৩,২০,০০০/-। যদি জনাব সাব্বির চৌধুরী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা হিসেবে ২৫,০০০/-টাকা অতিরিক্ত করমুক্ত সীমার সুবিধা গ্রহণ করেন তাহলে তার মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করে পরিমাণ হবে নিম্নরূপঃ
মোট আয় …………………………………………………… ৫,০০,০০০/-
বাদ: করমুক্ত সীমা (২,৫০,০০০+২৫,০০০) ………………………………. ২,৭৫,০০০/-
অবশিষ্ট ……………………………………………………২,২৫,০০০/-
মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়কর (২,২৫,০০০x১০%) ২২,৫০০/-
আর যদি মিজ্ অর্পা চৌধুরী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা হিসেবে ২৫,০০০/-টাকার অতিরিক্ত করমুক্ত সীমার সুবিধা গ্রহণ করেন তাহলে তার মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ হবে নিম্নমূপ:
মোট আয় ………………………………………………….. ৩,২০,০০০/-
বাদ: করমুক্ত সীমা (৩,০০,০০০+২৫,০০০) …………………………৩,২৫,০০০/-
মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়কর ………………………………শূন্য
জনাব সাব্বির চৌধুরী এবং মিজ্ অর্পা চৌধুরীর মধ্যে যে কোন একজন অতিরিক্ত করমুক্ত সীমার সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩৯ নং আইন) এর ৩১ ধারা মোতাবেক প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত কোন ব্যাক্তকে বুঝাবে।
মোট আয়ের পরিমাণ করমুক্ত সীমার অধিক হলে প্রদেয় ন্যূনতম আয়করের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ;

এলাকা ন্যূনতম করের হার (টাকা)
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতা ৫,০০০/-
অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতা ৪,০০০/-
সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত করদাতা ৩,০০০/-

করমুক্ত সীমার উর্ধ্বে আয় আছে এমন করদাতার প্রদেয় আয়করের পরিমাণ বা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বিবেচনার পর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ ন্যূনতম আয়করের চেয়ে কম, শূন্য বা ঋণত্মক হলেও তাকে প্রযোজ্য হারে ন্যূনতম আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
কোন করদাতা স্বল্প উন্নত এলাকা বা সবচেয়ে কম উন্নত এলাকায় অবস্থিত কোন ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পের মালিক হলে এবং উক্ত ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পের দ্রব্যাদি উৎপাদনে নিয়োজিত থাকলে উক্ত করদাতার সে ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প হতে উদ্ভূত আয়ের উপর নিম্নবর্ণিত হারে আয়কর রেয়াত প্রযোজ্য হবে:

  বিবরণ রেয়াতের হার
(১) যেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের উৎপাদনের পরিমাণ পূবৃবর্তী বছরের উৎপাদনের পরিমাণের তুলনায় ১৫% এর অধিক, কিন্ত ২৫% এর অধিক নয় উক্ত আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের ৫%
(২) যেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের উৎপাদনের পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের উৎপাদনের পরিমাণের তুলনায় ২৫% এর অধিক উক্ত আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের ১০%।

(খ) কোম্পানি ব্যতীত নিদির্ষ্ট শ্রেণির করদাতার উপর সর্বোচ্চ করহার
কোম্পানী ব্যতীত নিম্নোক্ত অন্যান্য শ্রেণির করদাতার উপর নিম্নমূপ সর্বোচ্চ হারে আয়কর আরোপিত <

করদাতার শ্রেণি করহার
(১) মোম্পানী নয়, বাংলাদেশে অনিবাসী (অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যতীত ) এরূফ ব্যক্তি শ্রেণির ভুক্ত করদাতার ক্ষেত্রে আয়ের উপর– ৩০%
(২) কোম্পানী নয়, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক এরূপ করদাতার উক্ত ব্যবসায় হতে অর্জিত আয়ের উপর– ৪৫%
(৩) সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিবন্ধিত সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে আয়ের উপর– ১৫%

(গ) কোম্পানীর করহার
কোম্পানী করদাতার জন্য বিদ্যমান করহার ২০১৬-১৭ কর বছরেও বহাল থাকবে। তবে বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানীর করহার সিগারেট প্রস্তুতকারকের অনুরূপ ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে।
২০১৬-২০১৭ কর বছরের জন্য কোম্পানীর আয়করের হার (লভ্যাংশ আয় ও মূলধনী আয় ব্যতীত ) নিম্নরূপ:

  কোম্পানীর ধরণ কর হার সম্ভব্য
(১) নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী (স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানী) ৩৫%  
(২) পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী (স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানী) ২৫% শর্ত:যদি এরূপ কোম্পানী যা Publicly traded company নয়, তার পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২০% শেয়ার Initial Public Offerings (IPO) এর মাধ্যমে হস্তান্তর করে, তাহলে এরূপ কোম্পানী উক্ত হস্তান্তর সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের উপর ১০% হারে আয়কর রেয়াত লাভ করবে।
(৩) ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠনসমুহ (মার্চেন্ট ব্যাংক ব্যতীত) পাবলিকলি ট্রেডেড হলে নন-পাবলিকলি ট্রেডেড হলে সরকার কর্তৃক ২০১৩ সালে অনুমোদিত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলে ৪০%
৪২.৫%
৪০%
 
(৪) মার্চেন্ট ব্যাংক ৩৭.৫%  
(৫) সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানী ৪৫%  
(৬) বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানী ৪৫%  
(৭) মোবাইলে ফোন অপারেটর মোম্পানী ৪৫% শর্তঃ (১) এরূপ কোন মোম্পানী তার পরিশোধিত মূলধনের নূন্যতম ১০% শেয়ার, যার মধ্যে Pre Initial Public Offering Placement ৫% এর অধিক হবে না; স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হস্তান্তর করে Publicly traded company তে রূপান্তরিত হলে তার কর হার হবে ৪০%; (১) এরূপ কোন কোম্পানী যদি তার পরিশোধিত মুলধনের ন্যূনতম ২০% শেয়ার Initial Public Offerings (IPO) এর মাধ্যমে হস্তান্তর করে, তহাহলে হস্তান্তর সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়কর এর উপর ১০% হারে কর রেয়াত পাবে।

২০১৬-২০১৭ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য আয়করের হারের তফসিল: পরিশিষ্ট ০১ দ্রস্টব্য

২। ব্যক্তি-করদাতার উপর প্রযোজ্য সারচার্জের হার পুনর্বিন্যাস

অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে ব্যক্তি-করদাতার প্রদেয় আয়করের উপর প্রযোজ্য সারচার্জ আরোপের হার নিম্নরূপে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে:

নীট পরিসম্পদের মূল্যমান সারচার্জের হার
(১) দুই কোটি পাঁচিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত- শূন্য
(২) দুই কোটি পাঁচিশ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু পাঁচ কোটি টাকার অধিক নয়- ১০%
(৩) পাঁচ কোটি টাকার অধিক কিন্তু দশ কোটি টাকার অধিক নয়- ১৫%
(৪) দশ কোটি টাকার অধিক কিন্তু পনের কোটি টাকার অধিক নয়- ২০%
(৫) পনের কোটি টাকার অধিক কিন্তু বিশ কোটি টাকার অধিক নয়- ২৫%
(৬) বিশ কোটি টাকার অধিক যে কোন অংকের উপর- ৩০%

নীট পরিসম্পদের মূল্যমান দুই কোটি পাঁচিশ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে কোন ব্যক্তি-করদাতার প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ ৩,০০০/- টাকার কম হলেও তাকে ন্যূনতম ৩,০০০/- টাকা সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে।
সারচার্জ কিভাবে পরিগণনা করতে হবে তা নিচের উদাহরণগুলোর মাধ্যমে স্পষ্টীকরণ করা হলোঃ
(১) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান …………………………২,২০,০০,০০০/-
মোট আয় …………………………………………৫,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ …………………………………..২৫,০০০/-
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ ……………………………………….. শূন্য
(২) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূণ্যমান …………………………………২,৩০,০০,০০০/-
মোট আয় …………………………………………২,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রধেয় আয়করের পরিমাণ ……………………………………শূন্য
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ …………………………………শূন্য
(৩) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান ………………………………২,৩০,০০,০০০/-
মোট আয় …………………………………….৫,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ …………………………………………২৫,০০০/-
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১০%) ………………………………২,৫০০/-
এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সারচার্জ অর্থাৎ ৩,০০০/- টাকা সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে।
(৪) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান ……………………………..৭,৫০,০০,০০০/-
মোট আয় ………………………………………৫,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ ………………………………….২৫,০০০/-
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ(১৫%) ……………………………………..৩,৭৫০/-
(৫) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান ……………………………১২,৫০,০০,০০০/-
মোট আয় …………………………………………………… ৫,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ ……………………………………………২৫,০০০/-
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ(২০%) ………………………………… ৫,০০০/-
(৬)করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান ……………………………………১৫,৫০,০০,০০০/-
মোট আয় ……………………………………..৫,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ …………………………………২৫,০০০/-
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ(২৫%) ………………………………………….৬,২৫০/-
(৭)করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান …………………………………….২০,০০,০০,০০০/-
মোট আয় ………………………………………….৫,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ ……………………………………………২৫,০০০/-
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ(২৫%) ……………………………………………..৬,২৫০/-

(৮)করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান …………………………………..২২,৫০,০০,০০০/-
মোট আয় ……………………………………….৫,০০,০০০/-
আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ …………………………………………২৫,০০০/-
প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ(৩০%) …………………………………………৭,৫০০/-
উল্লেখ্য, ব্যক্তিসত্তা (individual) ব্যতীত অন্য কোন শ্রেণির করদাতার উপর এ সারচার্জ আরোপযোগ্য নয়।

(৩) আয়কর অধ্যাদেশর ধারা 2 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2 তে আনীত সংশোধনীসমূহ নিম্নমূপ:

(ক) Assessee এর সংজ্ঞা পরির্তন: ক্লজ (7) এর সংশোধন
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2 এর ক্লজ (7) এর assessee এর সংজ্ঞাটি অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে । সংশোধিত বিধান অনুযায়ী আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর অধীন minimum tax প্রদেয় হয় এরূপ প্রত্যেক person করদাতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

(খ) Income এর সংজ্ঞা পরিবর্তন: ক্লজ (34) এর প্রতিস্থাপন
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2 এর ক্লজ (34) তে Income এর সংজ্ঞাটি অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে পতিস্থাপন করা হযেছে। প্রতিস্থাপিত সংজ্ঞা অনুযায়ী নতুন যে বিষয়গুঅে Income এর সংজ্ঞাভুক্ত হবে তা হলো: আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় করযোগ্য কোন প্রাপ্তি, আয়কর অধ্যাদেশের অধীনে উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ প্রযোজ্য এমন কোন অংক, কর আরোপিত অর্থ এবং আয়কর অধ্যাদেশের কোন বিধানের আওতায় আয় হিসেবে গণ্য কোন অংক ।
উল্লেখ্য, Income এর সংজ্ঞা পরিবর্তনের কারণে বোনাস শেয়ারের করযোগ্যতার কোন পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ, বোনাস শেয়ার পূর্বের মতো করমুক্ত থাকবে।

(গ) Income year এর সংজ্ঞা পরিবর্তন: ক্লজ (35) এর সংশোধন
বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠনের জন্য আয় বছর (Income year) জানুয়ারি-ডিসেম্বর। অন্যান্য করদাতার জন্য আয় বছর জুলাই-জুন। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2 এর ক্লজ (35) তে Income year এর সংজ্ঞাটি অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোন সাবসিডিয়ারির ক্ষেত্রেও আয়বছর হবে ১ জানুয়ারী হতে শুরু করে পরবর্তী ১২ মাস।
এছাড়া, উক্ত ক্লজে নতুন একটি প্রোভাইসো সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত প্রোভাইসোর বিধান মোতাবেক কোন করদাতা যদি বাংলাদশের বাইরে নিবন্ধিত কোন কোম্পানীর সাবসিডিয়ারি বা হো্ল্ডিং কোম্পানী হয় এবং যদি করদাতা কোম্পানীকে উক্ত বাইরে নিবন্ধিত মূল কোম্পানীর হিসাবের সাথে সমন্বিত হিসাব প্রণয়নের স্বার্থে ধারা 2 এর ক্লজ (35) তে উল্লিখিত হিসাব বছর অপেক্ষা ভিন্ন কোন হিসাব বছর অনুসরণ করতে হয়, তাহলে উপ কর কমিশনার করদাতা কোম্পানীকে উক্ত ভিন্ন হিসাব বছর অনুসরণের অনুমতি প্রদান করবেন।

(ঘ) Person এর সংজ্ঞা পরিবর্তন: ক্লজ (46) এর সংশোধন
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2 এর ক্লজ (46) তে Person এর সংজ্ঞাটি অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত সংজ্ঞা অনুযায়ী কোন ব্যক্তিসত্তা ফার্ম, ব্যক্তি-সংঘ, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ট্রাস্ট, ফান্ড, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোম্পানী, কোন সত্তা এবং অপরাপর প্রত্যেক কৃত্রিম আইন গত সত্তা Person এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে।

(ঙ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি (Person with disability) এর সংজ্ঞা: নতুন ক্লজ (46A) এর সন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 2 তে নতুন clause (46A) সংযোজনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি (Person with disability) বলতে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩৯ নং আইন) এর ৩১ ধারা মোতাবেক প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত কোন ব্যাক্তকে বুঝাবে। উক্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী যে ব্যাক্তি প্রতিবন্ধী হিসেবে বিবেচিত হবেন কেবল তার ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য আয়কর অধ্যাদেশে প্রদত্ত সুবিধাদি প্রয়োজ্য হবে।

(চ) Principal officer এর সংজ্ঞা পরিবর্তন: ক্লজ (48) এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2 এর ক্লজ (48) সংশোধনের মাধ্যমে Principal officer এর সংজ্ঞা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান মোতাবেক কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (chief executive officer) ও Principal officer এর সংজ্ঞাভুক্ত হবেন।

(ছ) কর দিবস (Tax Day) এর সংজ্ঞা: নতুন ক্লজ (62A)এর সন্নিবেশ
প্রত্যেক কর বছরে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির করদাতার জন্য রিটার্ন দাখিলর সর্বশেষ তারিখ নির্দেশক Tax Day এর ধারণা প্রবর্তন করা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 2 তে নতুন clause (62A) সংযোজনের মাধ্যমে বিধান করা হয়েছে যে-
(অ)কোম্পানী ব্যতীত অন্যান্য শ্রেণির করদাতার জন্য আয় বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ নভেম্বর হবে কর দিবস (Tax Day) । যদি ৩০ নভেম্বর সরকারি ছুটির দিন হয় তাহলে পরবর্তী কার্য দিবসটি কর দিবস হিসেবে বিবেচিত হবে।
উদাহরণ ৩-১
কোম্পানী ব্যতীত অন্যান্য শ্রেণীর করদাতার আয় বছর শেষ হওয়ার তারিখ ৩০ জুন ২০১৬। ৩০ নভেম্বর ২০১৬ যেহেতু সরকারি ছুটির দিন নয়, তাই কোম্পানী ব্যতীত অন্যান্য শ্রেণীর করদাতার জন্য ২০১৬-১৭ কর বছরে কর দিবস অর্থাৎ রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ হবে ৩০ নভেন্বর ২০১৬।
(আ) কোম্পানী করদাতার জন্য আয় বছর শেষ হওয়ার সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিনটি হবে কর দিবস (Tax Day) । এক্ষেত্রে পঞ্চদশ দিনটি যদি সরকারি ছুটির দিন হয় তাহলে পরবর্তী কার্য দিবসটি হবে কর দিবস।
উদাহরণ ৩-২
কোন কোম্পানীর আয় বছর ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে শেষ হলে সে কোম্পানীর জন্য কর দিবস অর্থাৎ রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৬। আর আয় বছর ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে শেষ হলে কর দিবস অর্থাৎ রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ হবে ১৫ জানুয়ারি ২০১৭।
কর দিবসের পর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বিলম্ব সুদ আরোপযোগ্য হবে (নতুন সংযোজিত ধারা 73A দ্রষ্টব্য)।

৪। কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কর কমিশনারগণের অভিজ্ঞা সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 11 এর সংশোধন

বর্তমানে যে কোন কর কমিশনারকে কর আপীলাত ট্রাইব্যুনালে সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা যায়। অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাধেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 11 সংশোধনের মাধ্যমে বিধান করা হয়েছে যে কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগের জন্য একজন কর কমিশনারের কমপক্ষে কর কমিশনার হিসেবে ১ বছর দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ১ বছরকাল গণনার ক্ষেত্রে আয়কর বিভাগের যে কোন কার্যালয়ে কর কমিশনার বা সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব (চলতি দায়িত্বসহ) পালনের সময় কালও বিবেচনায় নেয়া হবে।

৫। লভ্যাংশ প্রদান বা বোনাস শেয়ার ইস্যুর ব্যর্থতায় অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান বাতিলঃ আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16B এর প্রতিস্থাপন

ধারা 16B তে দুটি ক্লজ ছিল। ক্লজ (a) তে ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ব্যতীত বাংলাদেশের কোন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন পাবলিক লিঃ কোম্পানী তার পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১৫% লভ্যাংশ নগদে বা বোনাস শেয়ার হিসেবে আয় বছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ইস্যু, ঘোষণা বা বিতরণ না করলে অবন্টিত মুনাফার (ফ্রি রিজার্ভসহ সঞ্চিত মুনাফা ) উপর ৫% হারে অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান ছিল। ক্লজ (b) তে বিনিয়োগ বোর্ড বা সরকারের কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন বিদেশী নাগরিককে কোন কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান ছিল। অর্খ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে এ ধারাটি প্রতিস্থাপন করে লভ্যাংশ প্রদান বা বোনাস শেয়ার ইস্যুর ব্যর্থতায় অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান রহিত করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ কর বছর থেকে এ বিধানটি কার্যকর হবে।
পূর্বনুমোদন ব্যতীত কোন বিদেশী নাগরিককে কোন কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান বহাল রয়েছে।

৬। অতিরিক্ত অংক আরোপ (charge of additional amount) সংক্রান্ত নতুন ধারা 16BB সন্নিবেশ

অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে নতুন ধারা 16BB সন্নিবেশের মাধ্যমে বিধান করা হয়েছে যে আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় করের অতিরিক্ত হিসেবে কোন সুদ বা অন্যে কোন অর্থ, তা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, আরোপযোগ্য হলে তা আয়কর অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী ক্ষেত্রমতে আরোপ, ধার্য, পরিশোধ ও আদায় হবে।

৭। নূ্ন্যতম কর (minimum tax) সংক্রান্ত বিধানের পুনর্গঠন: ধারা 16BBB এর সন্নিবেশ ও ধারা 16CCC বিলোপ

অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ন্যূনতম কর (minimum tax ) সংক্রান্ত বিধান পুর্নগঠন করে ন্যূনতম কর আরোপ (charge of minimum tax) সংক্রান্ত নতুন ধারা 16BBB সন্নিবেশ করা হয়েছে । সন্নিবেশিত ধারায় বিধান করা হয়েছে যে আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় ন্যূনতম কর আরোপযোগ্য তলে তা আয়কর অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী ক্ষেত্রমতো আরোপ, ধার্য, পরিশোধ ও আদায় হবে।
ন্যূনতম কর সংক্রান্ত ধারা 16CCC বিলোপ করে উক্ত ধারার বিধানসমূহ ধারা 82C তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ।

৮। ব্যাংক কোম্পানীর অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর আরোপ সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16C এর বিলোপকরণঃ

অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 16C বিলোপ করা হয়েছে, যা ২০১৬-১৭ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

৯।আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 19 তে আনীত পরিবর্তনসমূহ নিম্নরূপ:

(ক) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ ও সুদ মওকুফজনিত প্রাপ্ত সুবিধার করযোগ্যতা সংক্রান্ত উপধারা (11) এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 19 এর উপধারা (11) তে একটি নতুন প্রোভাইসো সংযোজন করা হয়েছে। নতুন প্রোভাইসোর বিধান মোতাবেক পুঁজিবাজারে কোন ব্যক্তি (individual) বিনিয়োগকারী কর্তৃক কোন শেয়ার, ডিবেঞ্চার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড অথবা অন্য কোন সিকিউরিটিজ এ বিনিয়োগে গৃহীত মার্জিন ঋণ ও ঋণের সুদ TREC- ধারী কর্তৃক মওকুফ করা হলে মওকুফজনিত সুবিধার মোট অংক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ধারা 19(11) এর আওতায় করযোগ্যতার আওতা বহির্ভূত রাখা হয়েছে। তবে মওকুফজনিত মোট সুবিধা ১০ লক্ষ টাকার অধিক হলে ১০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত অংকের জন্য দারা 19(11) এর করযোগ্যতার বিধান প্রযোজ্য হবে।

(খ) বাকিতে ক্রয়কৃত ও দায় হিসেবে প্রদর্শিত গৃহ-সম্পত্তি নির্মাণ সামগ্রির মূল্য পরিশোধ না করা হলে দায়ের অংক আয় হিসেবে গণ্য করার বিধান সংক্রান্ত উপধারা (29) সংশোধন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নিয়োজিত কোন করদাতা ব্যতীত অন্য কোন করদাতা যদি কোন দালান বা গৃহ-সম্পত্তি বা এর কোন ইউনিট নির্মাণের জন্য বাকীতে নির্মাণ সামগ্রীর ক্রয়ের জের দায় হিসেবে প্রদর্শন করে, তাহলে যে কর বছরে এরূপ দায় প্রদর্শিত হবে তার পরবর্তী কর বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করা না হলে অপরিশোধিত দায় ধারা 19 এর উপধারা (29) অনুযায়ী “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান ছিল। অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে দায় পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পরিবর্তিত বিধান অনুযায়ী যে কর বছরে এরূপ দায় প্রদর্শিত হবে তার পরবর্তী ২ কর বছরে মধ্যে তা পরিশোধ না করলে ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী কর বছরে অপরিশোধিত দায়ের সম্পূর্ণ অংশ করদাতার “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে।
উদাহরণ ৯-১
ধরা যাক, একজন করদাতা ২০১৫-১৬ কর বছরে দালান নির্মাণের বিপরীতে ৩০,০০,০০০/- টাকা মূল্যের নির্মাণ সামগ্রী বাকীতে ক্রয় হিসেবে তার দাখিলকৃত সম্পদ ও দায় বিবরণী/স্থিতিপত্রে দায় বাবদ প্রদর্শন করেছেন। ২০১৬-১৭ কর বছরে এ দায় হতে তিনি ২০,০০,০০০/-টাকা পরিশোধ করেছেন। যদি করদাতা ২০১৭-১৮ কর বছরের মধ্যে অবশিষ্ট ১০,০০,০০০/-টাকার দায় পরিশোধ না করেন অর্থাৎ যদি ২০১৮-১৯ কর বছরে তিনি উক্ত অংক সম্পদ ও দায় বিবরণী/স্থিতিপত্রে দায় হিসেবে প্রদর্শন করেন তাবে উক্ত ১০,০০,০০০/-টাকা ২০১৮-২০১৯ কর বছরে করদাতার “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে।

১০। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 তে কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছে, যা নিম্নে উপস্থাপিত হলো:

(ক) ব্যবসায় বা পেশা আয়ের খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে উৎসে মূণ্য সংযোজন কর (VAT) কর্তন বা আদায় যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা রহিতকরণ-ক্লজ (aa) এর সংশোধন
ব্যবসায় বা পেশা আয়ের খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে Chapter VII অনুযায়ী উৎসে আয়কর এবং মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২২ নং আইন) অনুযায়ী উৎসে মূল্য সংযোজন কর কর্তণ/আদায় যাচাইয়ের বিধান ছিল, উৎস কর কর্তণ/আদায় না হলে সংশ্লিষ্ট খরচ আবশ্যিকভাবে অননুমোদনয়যোগ্য হওয়ার বিধান ছিল। অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর ক্লজ (aa) সংশোধন করে ব্যবসায় বা পেশা আয়ের খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে উৎসে মূল্য সংযোজন কর (VAT) কর্তন বা আদায় যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত বিধান রহিত করা হয়েছে।ধারা 29 অনুযায়ী ব্যবসায় বা পেশা আয়ের খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনুযায়ী উৎস কর কর্তন/যাচাইয়ের বিধান বহাল রয়েছে। পরিবর্তিত বিধান ২০১৬-১৭ কর বছর থেকে প্রযোজ্য হবে।

(খ) Employee এর বেতনাদি বাবদ খরচ অনুমোদনে ১২-ডিজিট টি, আই, এন যাচাই-নতুন ক্লজ (aaa) এর সিন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 তে নতুন একটি ক্লজ (aaa) সন্নিবেশ করা হয়েছে। সন্নিবেশিত বিধান মোতাবেক কোন করদাতার ব্যবসা বা পেশা আয় নির্ধারণের বেলায় করদাতা কর্তৃক দাবীকৃত বেতনাদি খরচ অনুমাদনের ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার পরীক্ষা করে দেখবেন যে সকল বেতন ভোগী কর্মী (employee) এর জন্য বেতনভাতা বাবদ খরচ দাবী করা হয়েছে তাদের ১২-ডিজিট টি, আই, এন ছিল কিনা। যদি আয়কর অধ্যাদেশের কোন বিধানে কোন ব্যক্তির ১২-ডিজিট টি, আই, এন নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে, কিন্তু কোন মাস বা মাসসমূহের বেতন-ভাতাদি গ্রহণের সময় ঐ ব্যক্তি ১২-ডিজিট টি, আই, এন ধারী না থাকেন তাহলে তার ঐ মাস বা মাসসমূহের বেতন ভাতাদি খরচ অনুমোদন যোগ্য হবে না। ১ জূলাই ২০১৬ তারিখ থেকে পরিশোধকৃত বা পরিশোধযোগ্য বেতন ভাতাদির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।
উদাহরণ ১০-১
জনাব আসাদ আলফা কোম্পানীর একজন এক্সিকিউটিভ এসিসটেন্ট।২০১৬-১৭ অর্থ বছরে (অর্থাৎ ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত সময়ে) তার প্রাপ্ত বেতন-ভাতা করমুক্ত সীমার নীচে। একজন এক্সিকিউটিপভ এসিসটিন্ট হিসেবে ধারা 184A এর উপধারা (1) এর ক্লজ (za) অনুযায়ী জনাব আসাদের ১২-ডিজিট টি, আই, এন গ্রহণের বাধ্যবাধকত রয়েছে। ধরা যাক, জনাব আসাদ ২০১৬ সালের জুলাই হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বেতন-ভাতা গ্রহণের সময় ১২-ডিজিট টিআইএন ধারী ছিলেন না। তিনি ১ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে ১২-ডিজিট টিআইএন গ্রহণ করেন এবং ১২-ডিজিট টিআইএন ধারী হিসেবে ২০১৭ সালের জানুয়ারি হতে জুন মাস পর্যন্ত বেতনভাতা প্রাপ্ত হন।
আলফা কোম্পানীর ২০১৭-১৮ কর বছরের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনাব আসাদের ২০১৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর মাসসমুহের প্রাপ্ত বেতন-ভাতাদি বাবদ দাবীকৃত খরচ অনুমোদনযোগ্য হবে না।

(গ) কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পারকুইজিটবাবদ খরচ অনুমোদনের সীমা বৃদ্ধি-ক্লজ (e) এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর বিদ্যমান ক্লজ (e) সংশোধন করা হয়েছে। পূর্বের বিধান অনুসারে কোন করদাতা তার কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বছরে ৪,৫০,০০০/-টাকা পর্যন্ত পারকুইজিট বাবদ অর্থ প্রদান করলে তা করদাতার করযোগ্য আয় নির্ধারণে খরচ হিসেবে বিবেচিত হতো। সংশোধিত বিধান অনুসারে পারকুইজিট বাবদ প্রদত্ত অর্থ বিবেচনার এই সীমা ৪,৫০,০০০/- টাকা হতে বৃদ্ধি করে ৪,৭৫,০০০/-টাকা করা হয়েছে। এতদ্ব্যতীত, কোন কর্মমর্তা/কর্মচারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হলে তার ক্ষেত্রে পারকুইজিট অনুমোদনের সীমা হবে ২৫,০০,০০০/- টাকা ।
পরিবর্তিত বিধান ২০১৬-১৭ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

(ঘ) বিদেশ ভ্রমণ ভাতা বাবদ খরচ অনুমোদনের সীমা বৃদ্ধি – ক্লজ (k) এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর বিদ্যমান ক্লজ (k) সংশোধন পূর্বক বিদেশ ভ্রমণ খরচ (overseas traveling expenditure) এর অনুমোদনযোগ্য সীমা প্রদর্শিত টার্নওভার এর ১% হতে বৃদ্ধি করে ১.২৫% করা হয়েছে।
২০১৬-১৭ কর বছর থেকে এ পরিবর্তিত বিধান প্রযোজ্য হবে।

১১। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 35 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 35 তে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, The Companies Act, 1913 বা কোম্পানী আইন, ১৯৮৪ মোতাবেক সংজ্ঞায়িত কোন কোম্পানীর দাখিলকৃত হিসাব বিবরণীসমূহ কোন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট কর্তৃক নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিস্ট চার্টার্ড একাউন্টেন্ট এ মর্মে প্রত্যয়ন করবেন যে হিসাব সংরক্ষণ, বিবরণী (Statements) প্রস্তুত ও Report করার ক্ষেত্রে Bangladesh Accounting Standard (BAS) এবং Bangladesh Financial Reporting Standard (BFRS) এবং অডিটের ক্ষেত্রে (Statements )Bangladesh Standards on Auditing(BSA) এর বিধানাবলী অনুসরণ করা হয়েছে।
১২। লোকসান সমন্বয় সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 37 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর লোকসান সমন্বয় সংক্রান্ত ধারা 37 এর চতুর্থ প্রোভাইসোটি সংশোধন করা হয়েছে । সংশোধিত বিধান অনুসারে কোন করদাতার অন্য কোন খাতের লোকসান সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, চিবানো তামাক (chewing tobacco), গুল অথবা যে কোন ধোঁয়াবিহীন তামাক (smokeless tobacco) অথবা তামাকজাত দ্রব্য (tobacco products) উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যাবসা খাতের আয়ের সাথে সমন্বয় করা যাবে না।
১৩। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 44 এর সংশোধন
(ক) অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 44 এর উপধারা (2) এর বিদ্যমান ক্লজ (b) বিলুপ্ত করে নতুন ক্লজ (b) এবং ক্লজ (c) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত নতুন ক্লজ (b)এর বিধান মোতাবেক নিবাসী বা অনিবাসী বাংলাদেশী করদাতার বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াতের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ

মোট আয় রেয়াতের পরিমাণ
মোট আয় ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত eligible amount এর ১৫%
মোট আয় ১০লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত (১) eligible amount এর প্রথম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ১৫%
(২) eligible amount এর অবশিষ্ট অংশের ১২%
মোট আয় ৩০ লক্ষ টাকার অধিক (১) eligible amount এর প্রথম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ১৫%
(২) eligible amount এর পরবর্তী ৫ লক্ষ টাকার ১২%
(৩) eligible amount এর অবশিষ্ট অংশের ১০%

(C) তে উল্লিখিত eligible amount হবে-
(১) এর অনুচ্ছেদ 15 এবং অনুচ্ছেদ 16 ব্যতীত অন্যান্য সকল অনুচ্ছেদে উল্লিখিত খাতে বিনিয়োগ/দানের অংকের সমষ্টি;
(২) ধারা 44 এর উপধারা (4) অনুযায়ী কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপযোগ্য আয় এবং ধারা 82C এর উপধারা (2) এর ক্লজ (a) এর আওতাভুক্ত ন্যূনতম কর সংশ্লিষ্ট কোন উৎস হতে অর্জিত আয় ব্যতীত করদাতার অন্যান্য করযোগ্য আয়ের 25%:
(৩) এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা (১,৫০,০০,০০০/- ;
এ তিনটির মধ্যে যেটি কম, সে অংক।
eligible amount এবং কর রেয়াতের পরিমাণ কিভাবে হিসেব করা হবে তা নিচের উদাহরণে দেখানো হলো:
উদাহরণ ১৩-১
জনাব ফয়েজ আহমেদের ২০১৬-২০১৭ কর বছরে মোট আয়ের পরিমাণ ১২,০০,০০০/- টাকা, যার মধ্যে সঞ্চয়পত্রের সুদ ১,০০,০০০/- টাকা। সঞ্চয়পত্রের সুদের উপর উৎসে ৫% হারে ৫,০০০/- টাকা কর কর্তন করা হয়েছে। জনাব ফয়েজ আহমেদের আযকর রেয়াতের জন্য বিবেচনাযোগ্য খাতসমূহে মোট বিনেয়োগ/দানের পরিমাণ নিম্নমূপঃ

ক্রম বিবরণ পরিমাণ ৳
(১) জীবন বীমার কিস্তি পরিশোধ ১,০০,০০০/-
(২) ডিপোজিট পেনশন স্কীমে বিনিয়োগ ১,২০,০০০/-
(৩) সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে নতুন বিনিয়োগ ২,০০,০০০/-

জনাব ফয়েজ আহমেদের বিবেচনা যোগ্য বিনিয়োগ/ব্যয়ের পরিমাণ নিম্নমূপ:

ক্রম বিবরণ পরিমাণ ৳
(১) জীবন বীমার কিস্তি পরিশোধ ১,০০,০০০/-
(২) ডিপোজিট পেনশন স্কীমে বিনিয়োগ (২ক ও ২খ এর মধ্যে যেটি কম) ৬০,০০০/-
(২ক) প্রকৃত বিনিয়োগ ১,২০,০০০/-
(২খ) অনুমোদনযোগ্য সীমা ৬০,০০০/-
(৩) সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে নতুন বিনিয়োগ ২,০০,০০০/-
মোট ৩,৬০,০০০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount)

(১) মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি ৩,৬০,০০০/-
(২) সঞ্চয়পত্রের সুদ (ধারা 82C ব্যতীত মোট আয় (১২,০০,০০০-১,০০,০০০)= ১১,০০,০০০/- টাকার ২৫% ২,৭৫,০০০/-
(৩) ১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(১),(২) ও (৩) এর মধ্যে যেটি কম] =২,৭৫,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণ:
Eligible amount এর প্রথম ২ অক্ষ ৫০ হাজার টাকার উপর ১৫% এবং পরবর্তী (২,৭৫,০০০-২৫০,০০০) = ২৫,০০০/- টাকার উপর ১২% হারে কর রেয়াত প্রাপ্য। ফলে কর রেয়াতের পরিমাণ হবে (২,৫০,০০০x ১৫%) + (২৫,০০০১২%) = ৪০,৫০০/- টাকা ।
(খ) উপধারা (4) এর পর নতুন উপধারা (5) সংযোজনের মাধ্যমে বিধান করা হয়েছে যে উপধারা (4) এর ক্লজ (b) তে অথবা অধ্যায় VI এর যে কোন ধারায় যা কিছুই বলা থাকুক না কেন-
(১) ধারা 75 মোতাবেক আয়কর রিটার্ন দাখিলে বাধ্যবাধকতা আছে এরূপ কোন করদাতা কর্তৃক যদি কোন আয় বছরের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা হয় তবে সে করদাতা ঐ সংশ্লিষ্ট কর বছরে কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারের সুবিধা প্রাপ্য হবে
না;
(২) কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারের সুবিধা প্রাপ্য কোন ব্যক্তি বা উৎসের আয় নিরূপনের ক্ষেত্রে যদি ধারা 30 অনুযায়ী কোন খরচ অননুমোদনযোগ্য হয় তবে তা ঐ ব্যাক্তি বা উৎসের আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং তার উপর নিয়মিত হারে কর আরোপযোগ্য হবে।

১৪। উৎস করের নতুন কাত সন্নিবেশ: আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 49এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 49 এর উপধারা (1) এর বিদ্যমান ক্লজ (O) এর পর নতুন ক্লজ (OO) সন্নিবেশ করে শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল (workers’ participation fund) হতে প্রাপ্ত যে কোন আয়কে উৎসে কর আরোপযোগ্য আয়ের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

১৫। সিকিউরিটিজ এর সুদ বা মুনাফা হতে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 51 প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 51 প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত বিধান অনুসারে সরকার ভিন্নরূপ কোন নির্দেশনা প্রদান না করলে, সরকারী কোন সিকিউরিটিজ বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন সিকিউরিটিজ, যার উদ্ভুত আয় সিকিউরিটিজ এর সুদ আয় হিসেবে বিবেচিত, ইস্যূ করার দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি (person) ঐ সিকিউরিটিজ এর মেয়াদান্তে প্রদেয় সুদ বা ডিসকাউন্টের উপর ৫% হারে upfront উৎসে আয়কর আদায় করবেন।
তবে কোন ইসলামী শরিয়াভিত্তিক সিকিউরিটিজ এর বেলায় upfront এর পরিবর্তে উক্ত সিকিউরিটিজ এর মুনাফা বা ডিসকাইন্ট পরিশোধ বা ক্রেডিট করার সমময়, দুটির মধ্যে যেটি আগে হবে, ৫% হারে উৎসে আয়কর কর্তন বা আদায় করতে হবে।
যদি উক্ত সিকিউরিটিজ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন বন্ড বা ট্রেজারী বিল হয় তাহলে তার বেলায় উৎসে আয়কর কর্তন বা আদায় প্রযোজ্য হবে না।

১৬। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52,52A এবং 52AA এবং বিধি 16 এর প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52, 52A,এবং 52AA এর আওতাভুক্ত উৎস করের খাত পুনর্গঠন করে উৎসে করের হার যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে। ধারা 52 এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধি 16 এস, আর, ও নং ২৫৯-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখঃ ১০ আগস্ট, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে কোন চুক্তি সম্পাদন (Chapter VII এর অন্য কোন ধারায় উল্লিখিত কোন সেবা প্রদান সংশ্লিষ্ট চুক্তি ব্যতীত), দ্রব্য সরবরাহ, উৎপাদন, প্রক্রিয়জাতকরণ বা রূপান্তর এবং প্রিন্টিং, প্যাকেজিং বা বাইন্ডিং বাবদ অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ধারা 52 এর আয়তায় ও বিধি 16 তে বর্ণিত হারে উৎস কর প্রযোজ্য হবে। রয়্যালটি, ফ্র্যাঞ্চাইজ, লাইসেন্স ফি, ব্র্যান্ড নাম, পেটেন্ট ইত্যাদি সহ (পূর্ণাংগ তালিকার জন্য ধারা 52A দ্যষ্টব্য) অন্যান্য সকল intangibles ব্যবহারের VII জন্য অর্ত পরিশোধের ক্ষেত্রে ধারা 52A অনুযায়ী উৎস কর প্রযোজ্য হবে। এর অন্য কোন ধারায় উল্লিখিত সেবাব্যতীত অন্যান্য সকল সেবা গ্রহণের বিপরীতে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ধারা 52AA অনুযায়ী উৎস কর প্রযোজ্য হবে।
52, 52A এবং 52AA এর উৎস কর সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান নিম্নমূপ:

(ক) ধারা 52 ও বিধি 16
কোন specified person কর্তৃক কোন নিবাসীকে নিম্নবর্ণিত কারণে কোন অর্থ পরিশোধ করা হলে ধারা 52 এর আওতায় এবং বিধি 16 তে বর্ণিত হারে উৎস কর কর্তন করতে হবে:<<>
(১) কোন চুক্তি সম্পাদন (Chapter VII এর অন্য কোন ধারায় উল্লিখিত কোন সেবা প্রদান সংশ্লিষ্ট চুক্তি ব্যতীত),
(২) দ্রব্যাদি সরবরাহ,
(৩) উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা রূপান্তর, এবং
(৪) প্রিন্টিং, প্যাকেজিং বা বাইন্ডিং।
Specified person বলতে বুঝাবে-
(১) সরকার, সরকারের কোন দপ্তর বা ইউনিট, কোন কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন বা সত্তা, যা বাংলাদেশে প্রযোজ্যে কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ বা দলিল দ্বারা কোন কাজ করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত;
(২) কোন প্রকল্প, কর্মসূচি বা কার্যক্রম, যাতে সরকারের আর্থিক বা পরিচালনগত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে;
(৩) কোন জয়েন্ট ভেঞ্চার বা কনসোর্টিয়াম (যে নামেই অভিহিত হোক না কেন);
(৪) ধারা 2 এর ক্লজ (20) অনুয়ায়ী সংজ্ঞায়িত কোন Company;
(৫) কোন সমবায় ব্যাংক;
(৬) কোন সমবায় সমিতি;
(৭) কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান;
(৮) এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত কোন এনজিও;
(৯) কোন স্কুল, কলেজ, ইনস্টিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়;
(১০) কোন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার;
(১১) কোন ফান্ড বা কোন ট্রাস্ট;
(১২) কোন ফার্ম;
(১৩) কোন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ;
(১৪) কোন বিদেশি ঠিকাদার, বাংলাদেশের বাইরে গঠিত কোন বিদেশি enterprise, association বা body;
(১৫) উপরে উল্লিখিত হয়নি এরূপ কোন কৃত্রিম আইনী ব্যক্তি (artificial juridical person)|
লিখিত বা অলিখিত কোন সাব-কন্ট্রাক্ট (sub-contract) বা পরবর্তী চুক্তি (subsequent contract), সম্মতি (agreement) বা ব্যবস্থা (arrangement) চুক্তি (contract) এর সংজ্ঞাভুক্ত হবে।
উৎস করের হার নির্ধারিত হবে ভিত্তি অংক (base amount) এর ভিত্তিতে। চুক্তি মূল্য, বিল বা ইনভয়েস অংক এবং পরিশোধ- এ তিনটির মধ্যে যেটি বেশি তাই হবে উৎস করহার নির্ধারণের ভিত্তি অংক।
ট্রান্সফার, ক্রেডিট বা সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদানও পরিশোধ (payment) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উৎস কর প্রযোজ্য হবে ।
একজন নিবাসী প্রাপক (payee) কোন অর্থ বছরে ধারা 52 এর আওতাভুক্ত খাতে একাধিক payment গ্রহণ করলে তার সমষ্টি ঐ অর্থ বছরে প্রাপকের payment বলে গণ্য হবে এবং সে অনুযায়ী ভিত্তি অংক পরিগণিত হবে ও উৎস কর প্রযোজ্য হবে।

বিধি 16 অনুযায়ী উৎস করের হার হবে নিম্নমূপ:
চুক্তি সম্পাদন (যেমন পূর্তকাজ, স্থাপনা নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন, মেরামত ও রক্ষাণাবেক্ষণ কাজসহ অনুরূপ প্রকৃতির বিভিন্ন কাজের জন্য) উৎস করহার হবে বিধি 16 এর ক্লজ (a) অনুযায়ী নিম্নরূপ-

ক্রম ভিত্তি অংকের পরিমাণ উৎস কর হার
(১) ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শূন্য
(২) ২ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১%
(৩) ৫ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২%
(৪) ১০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৩%
(৫) ২৫ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪%
(৬) ১ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৫%
(৭) ৫ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৬%
(৮) ১০ কোটি টাকার অধিক হলে ৭%

(১) দ্রব্যাদি সরবরাহ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা রূপান্তর, এবং প্রিন্টিং প্যাকেজিং বা বাইন্ডিংকাজের ক্ষেত্রে উৎস কর হার হবে বিধি 16 এর ক্লজ (b) অনুযায়ী নিম্নমূপ-

ক্রম ভিত্তি অংকের পরিমাণ কর্তনের হার
(১) ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৩%
(২) ২০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪%
(৩) ১ কোটি টাকার অধিক হলে ৫%

(২) তেল সরবরাহের বিপরীতে তেল বিপণনকারী কোম্পানী বা তাদের ডিলার/এজেন্ট পেট্রল পাম্প স্টেশন ব্যতীত) ও অয়েল রিফাইনারী কোম্পানীকে এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীকে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎস কর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বের হার বহাল থাকবে [বিধি 16এর (c) দ্রষ্টব্য]
Payment এর সময় পরিশোধের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি (the person responsible for making payment) যাচাই করে দেখবেন যে প্রাপক ১২-ডিজিট টিআইএনধারী কি-না । যদি প্রাপক ১২-ডিজিট টিআইএনধারী না হন তাহলেণ উৎস করের হার নির্ধারিত হার অপেক্ষা ৫০ শতাংশ বেশি হবে।
সংশোধিত বিধি 16 পরিশিষ্ট ২৮ তে সন্নিবেশিত হয়েছে।
বিধি 16 এর আওতায় উৎস কর প্রযোজ্য –এরূপ ব্যক্তির নিকট হতে লিখিত আবেদন পাওয়ার প্রেক্ষিতে Board যদি এ মর্মে সনদ প্রদান করে যে, কোন আয় বছরে উক্ত ব্যক্তির আয়কর অব্যাহতি প্রাপ্ত অথবা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য, তাহলে ঐ আয় বছরে উক্ত ব্যক্তির নিকট থেকে Board এর সনদে উল্লিখিত মতে আয়কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে আয়কর কর্তন করে (Board এর সনদ অনুযায়ী যেটি প্রযোজ্য এবং সনদে যেভাবে উল্লেখ থাকবে। বিধি 16তে উল্লেখিত অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

(খ) ধারা 52A
কোন specified person কর্তৃক কোন নিবাসীকে রয়্যালটি, ফ্র্যাঞ্চাইজ, লাইসেন্স ফি, ব্র্যান্ড নাম, পেটেন্ট ইনভেনশন, ফর্মুলা, প্রসেস ইত্যাদিসহ (পূর্ণাংগ তালিকার জন্য ধারা 52A দ্রষ্টব্য) অন্যান্য সকল intangibles ব্যবহারের জন্য অর্থ পরিশোধ করা হলে এর উপর নিম্ন বর্ণিতহারে উৎস কর কর্তন করতে হবে:

ক্রম ভিত্তি অংকের পরিমাণ কর্তনের হার
(১) ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১০%
(২) ২৫ লক্ষ টাকার অধিক হলে ১২%

Payment এর সময় পরিশোধের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি (the person responsible for making payment)যাচাই করে দেখবেন যে প্রাপক ১২-ডিজিট টিআইএন ধারী কি-না। যদি প্রাপক১২-ডিজিট টিআইএন ধারী না হন তাহলে উৎস করের হার নির্ধারিত হার অপেক্ষা ৫০ শতাংশ বেশি হবে।
ধারা 52A এর specified person হবে ধারা 52 উধারা (2) তে উল্লিখিত specified person এর অনুরূপ।
লিখিত বা অলিখিত কোন সাব-কন্ট্রাক্ট (sub-contract) বা পরবর্তী চুক্তি (subsequent contract), সম্মতি (agreement) বা ব্যবস্তা (arrangement) ও চুক্তি (contract) এর সংজ্ঞাভুক্ত হবে।
উৎস করের হার নির্ধারিত হবে ভিত্তি অংক (base amount) এর ভিত্তিতে। চুক্তি মূল্য, বিল বা ইনভয়েস অংক এবং পরিশোধ-এ তিনটির মধ্যে যেটি বেশি তাই হবে উৎস করহার নির্ধারণের ভিত্তি অংক।
ট্রান্সফার, ক্রেডিট বা সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদানও পরিশোধ (payment) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উৎস কর প্রযোজ্য হবে।
কোন অর্থ বছরে একজন নিবাসীকে ধারা 52A এর আওতাভুক্ত খাতে একাধিক payment করা হলে তার সমষ্টি ঐ অর্থ বছরে প্রাপকের payment বলে গণ্য হবে এবং সে অনুযায়ী ভিত্তি অংক গণনা হবে ও উৎস কর প্রযোজ্য হবে।

(গ) ধারা 52AA
কোন specified person কর্তৃক ধারা 52AA তে বর্ণিত সেবা প্রদানের বিপরীতে কোন নিবাসীকে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে payment এর উপর নিম্নবর্ণিত হারে উৎস কর কর্তন করতে হবে:

SL. No. Description of service and payment Rate of deduction of tax (% of base amount )
Where base amount does not exceed Tk. 25 lakh Where base amount exceeds Tk. 25 lakh
1 Advisory or consultance service 10% 12%
2 Professional service, technical services fee, or technical assistance fee 10% 12%
3 Catering service
(a)on commission
(b)on gross amount
10%
1.5%
12%
2%
4 Cleaning service
(a)on commission
(b)on gross amount
10%
1.5%
12%
2%
5 Collection and recovery agency-
(a)on commission
(b)on gross amount
10%
1.5%
12%
2%
6 Management of events, trainging, workshops etc.
(a)on commission
(b)on gross amount
10%
1.5%
12%
2%
7 Private security service
(a)on commission
(b)on gross amount
10%
1.5%
12%
2%
8 Supply of manpower
(a)on commission
(b)on gross amount
10%
1.5%
12%
2%
9 Indenting commission 6% 8%
10 Meeting fees, training rees or honorarium 10% 12%
11 Mobile network operator, technical support service provider or service delivery agents engaged in mobile banking operations 10% 12%
12 Credit rating agency 10% 12%
13 Motor garage or workshop 6% 8%
14 Provate container port or dockyard service 6% 8%
15 Shipping agency commission 6% 8%
16 Stevedoring/berth operation commission 12%
17 Transport service, car rental 3% 4%
18 Any other service which is not mentioned in Chapter VII of this Ordinance and is not a service provided by any bank, insurance or financial institutions 10% 12%


Payment এর সময় পরিশোধের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি (the person responsible for making payment) যাচাই করে দেখবেন যে প্রাপক ১২-ডিজিট টিআইএনধারী কি-না । যদি প্রাপক ১২-ডিজিট টিআইএন ধারী না হন তাহলে উৎস করের হার নিধাৃরিত হার অপেক্ষা ৫০ শতাংশ বেশি হবে।
সেবা প্রদান কারীর নিকট হতে লিখিত আবেদন পাওয়ার প্রেক্ষিতে Board যদি এ মর্মে সনদ প্রদান করে যে, কোন আয় বছরে সেবা প্রদান কারীর আয় আয়কর অধ্যাদেশের কোন বিধান অনুযায়ী কর অব্যাহতি প্রাপ্ত তাহলে ঐ আয় বছরে উক্ত ব্যক্তির নিকট থেকে Board এর সনদে উল্লিখিত মতে আয়কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে আয়কর কর্তন করে (Board এর সনদ অনুযায়ী যেটি প্রযোজ্য এবং সনদে যেভাবে উল্লেখ থাকবে) ধারা 52AA তে উল্লিখিত অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
ধারা 52AA এর specified person হবে ধারা 52 এর উপধারা (2) তে উল্লিখিত specified person এর অনুরূপ।
লিখিত বা অলিখিত কোন সাব-কান্ট্রাক্ট (sub-contract) বা পরবর্তী চুক্তি (subsequent contract), সম্মতি (agreement) বা ব্যবস্থা (arrangement) চুক্তি (contract) এর সংজ্ঞাভুক্ত হবে।
উৎস করের হার নির্ধারিত হবে ভিত্তি অংক (base amount) এর ভিত্তিতে। চুক্তি মূল্য, বিল বা ইনভয়েস অংক এবং পরিশোধ-এ তিনটি মধ্যে যেটি বেশি তাই হবে উৎস করহার নির্ধারণের ভিত্তি অংক।
ট্রান্সফার, ক্রেডিট বা সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদানও পরিশোধ (payment) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উৎস কর প্রযোজ্য হবে।
কোন অর্থ বছরে একজন নিবাসীকে ধারা 52AA এর আওতাভুক্ত খাতে একাধিক payment করা হলে তার সমষ্টি ঐ অর্থ বছরে প্রাপকের payment বলে গণ্য হবে এবং সে অনুযায়ী ভিত্তি অংক গণনা হবে ও উৎস কর প্রযোজ্য হবে।
ধারা 52AA তে professional বলতে কি বুঝাবে তা উপধারা (2) এর ক্লজ (e) এর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ক্লজ (e) অনুযায়ী বলতে বুঝাবে –
(অ) ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত সেবা
(আ) অন্য কোন পেশায় নিয়োজিত কোন কর্তৃক প্রদত্ত সেবা person বা পেশাগত জ্ঞান প্রয়োগ করে প্রদত্ত অন্যান্য সেবা ।
Professional service প্রদান কারীর বিলে যদি নিজের ফি(তা যে নামেই থাকুক) ছাড়াও reimbursable খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে তাহলে উক্ত reimbursable খরচ বাদ দিয়ে ধারা 52AA (টেবিলের ক্রমিক ২) এর আওতায় Professional service প্রদান কারীর ফি, কমিশন ইত্যাদির উপর উৎস কর প্রযোজ্য হবে।
ধারা 52,52A এরং 52AA এর এর ক্ষেত্রে-
(১) পরিশোধের বিপরীতে কোন অগ্রিম গ্রহণও পরিশোধ (pryment) বলে বিবেচিত হবে এবং সে ক্ষেত্রেও উৎস কর প্রযোজ্য হবে। অগ্রিমের উপরে একবার উৎসে কর কর্তন করা হয়ে থাকলে অগ্রিম সমন্বয়ের সময় আর উৎস কর প্রযোজ্য হবে না।
(২) যে ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রযোজ্য সেক্ষেত্রে যদি চুক্তিতে বা বিলে মূল্য সংযোজন কর আলাদা করা থাকে তাহলে মূসক বাদ দিয়ে ভিত্তি অংক হিসেব করা হবে। আর যদি মূসক প্রযোজ্য না থাকে, অথবা যদি চুক্তিতে বা বিলে মূসকের পরিমাণ আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকে তাহলে ভিত্তি অংক হিসেবের ক্ষেত্রে সূসক বাদ যাবে না।
মূসক প্রযোজ্য এরুপ ক্ষেত্রে Payment এর সময় যদি উৎসে মূসক বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংক প্রাপককে দেয়া হয় অথবা প্রাপক যদি মূসক পরিশোধ করে প্রমাণ উপস্থাপন করে বা মূসক পরিশোধের উপযুক্ত ব্যবস্থা সম্পন্ন করে তাহলে মূসক বাদে (VAT excluded) পরিশোধের অংকের উপর উৎসে আয়কর কর্তনযোগ্য হবে।
ধারা 52, 52A এবং 52AAA এর আওতায় ভিত্তি অংক ও তার ভিত্তিতে উৎস করহার কিভাবে নির্ধারিত হবে তার কয়েকটি উদহরণ নিম্নে দেয়া হলো।
উদাহরণ ১৬-১
ধরা যাক একটি নির্মাণ কাজের মূসকবাদে চুক্তি মূল্য ছিল ২ কোটি টাকা । আংশিক কাজ করার পর ঠিকাদার কর্তৃক ৮০ লক্ষ টাকার বিল দাখিল করা হলো এবং উক্ত বিলো মধ্যে ৪০ লক্ষ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলো, যার মধ্যে প্রথম কিস্তির পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা ও দ্বিতীয় কিস্তির পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকা।
প্রথম কিস্তির ক্ষেত্রে:
(১) ভিত্তি অংক (base amount): ২ কোটি টাকা (চুক্তি মূল্য, বিল এবং পরিশোধ- এ তিনটির মধ্যে সর্বোচ্চ অংক)
(২) ভিত্তি অংক অনুযায়ী উৎস কর হার: ৫%
(৩) পরিশোধ (Payment) অংক: ১০,০০,০০০/-
(৪) ধারা 52 অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন: (১০,০০,০০০x৫%)= ৫০,০০০/-টাকা, যা যথানিয়মে সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে।
(৫) ঠিকাদারকে আয়কর বাদে পরিশোধ করা হবে: (১০,০০,০০০-৫০,০০০) =৯,৫০,০০০/-টাকা
দ্বিতীয় কিস্তির ক্ষেত্রে:
(১) ভিত্তি অংক: ২ কোটি টাকা
(২) ভিত্তি অংক অনুযায়ী উৎস কর হার: ৫%
(৩) পরিশোধ (Payment) অংক: ৩০,০০,০০০/-
(৪) ধারা 52 অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন: (৩০,০০,০০০x৫%)= ১,৫০,০০০/-টাকা, যা যথানিয়মে সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে।
(৫) ঠিকাদারকে আয়কর বাদে পরিশোধ করা হবে: (৩০,০০,০০০-১,৫০,০০০) =২৮,৫০,০০০/-টাকা
উদাহরণ ১৬-২
ধরা যাক Y,Z কোম্পানী নিয়মিত সরবরাহকারী। Y ১২-ডিজিট টিআইএনধারী। Y পৃথক পৃথক কার্যাদেশের ভিত্তিতে Z কোম্পানীকে দ্রব্যাদি সরবরাহ করে। ২০ জুলাই ২০১৬ তারিখে Y ১৮,০০,০০০/- টাকার স্টেশনারি সরবরাহ করে , যার উপর Z কোম্পানী ধারা 52 ও বিধি 16 এর ক্লজ (b) অনুযায়ী ৩% হারে ৫৪,০০০/- টাকা উৎসে কর কর্তন করে। ১ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে Y, Z কোম্পানীকে আবার ২০,০০,০০০/-টাকার ইউনিফরম সরবরাহ করে। দ্বিতীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎস করের পরিমাণ হবে নিম্নমূপ:
(১) ভিত্তি অংক: এ ক্ষেত্রে-
(অ) চুক্তিমূল্য: শূন্য,
(আ) বিলের পরিমাণ ২০,০০,০০০/- টাকা এবং ।
(ই)Payment এর পরিমাণ ১৮,০০,০০০+২০,০০,০০০ =৩৮,০০,০০০/-টাকা । ফলে ভিত্তি অংক হবে ৩৮,০০,০০০/-টাকা। ।
(২) ভিত্তি অংক অনুযায়ী উৎস কর হার: ৪% ।
(৩) পরিশোধ (Payment) অংক: ৩৮,০০,০০০/- ।
(৪) ধারা ৫২ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন: (৩৮,০০,০০০x৪%) = ১,৫২,০০০/- টাকা । ।
(৫) পূর্বে কর্তিত কর: ৫৪,০০০/- ।
(৬) এ বিলে কর্তন করতে হবে: ১,৫২,০০০-৫৪,০০০ =৯৮,০০০/- টাকা। ।
(৭) সরবরাহকারীকে পরিশোধ করা হবে: (২০,০০,০০০-৯৮,০০০) =১৯,০২,০০০/- টাকা। ।
উদাহরণ ১৬-৩ ।
কোম্পানী A জনাব শান্ত সিনহাকে তার উদ্ভাবিত ডিজাইন ব্যবহারের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা পরিশোধের জন্য চুক্তি বদ্ধ হলো এবং প্রথম কিস্তিতে ১০ লক্ষ টাকা জনাব শান্ত সিনহাকে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলো। এ ক্ষেত্রে প্রথম কিস্তিতে উৎস করের পরিমাণ হবে নিম্নমূপ: ।
(১) ভিত্তি অংক: ৩০,০০,০০০/- ।
(২) ভিত্তি অংক অনুযায়ী উৎস কর হার: ১২% ।
(৩) পরিশোধ (Payment) অংক: ১০,০০,০০০/- ।
(৪) উৎস কর: (১০,০০,০০০১২%) =১,২০,০০০/- টাকা, যা যথানিয়মে সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে। ।
(৫) জনাব শান্তা সিনহাকে পরিশোধ করা হবে: (১০,০০,০০০-১,২০,০০০ = ৮,৮০,০০০/- টাকা । ।
উদাহরণ ১৬-৪ ।
কোম্পানী B বিভিন্ন দপ্তরে ক্লিনিং সার্ভিস প্রদান করে । একটি হাসপাতালে ক্লিনিং সার্ভিস প্রদানের জন্য কোম্পানী B নিম্নরূপ বিল দাখিল করে-
এ ক্ষেত্রে ভিত্তি অংক ২৫ লক্ষ টাকার নীচে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধারা 52AA অনুযায়ী উৎসে নিম্নরূপ কর করর্তন করবেণ: (gross amount) ৮,০০,০০০/- টাকার উপর উৎস কর: (৮,০০,০০০x১.৫%) =১২,০০০/- ।
কমিশন ৮০,০০০/- টাকার উপর ১০% হারে উৎস কর: (৮০,০০০x১০%) = ৮,০০০/-টাকা ।
ধারা 52AA অনুযায়ী প্রযোজ্য উৎস কর (১২,000+৮,000)=২0,000/- টাকা

ধারা 52,52AA এবং 52AA এর বিষয়ে প্রায়শঃ জিজ্ঞাসিত (Frequently Asked Questions)

 

প্রশ্ন ১৬-১:আমার কোম্পানী একটি অফিসে শীতাতপ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ পাওয়ার পর তা স্থপনের কাজ যথাযথভাবে সম্পাদন করেছে ।শীততিপ ব্যবস্থার জন্য যাবতীয় যন্ত্রপাতি আমার কোম্পানী থেকে সরবরাহ করা হয়েছে । এক্ষেত্রে উৎস করের হার কি হবে?
উত্তর ১৬-১: আপনার কোম্পানী শীতাতপ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ সম্পাদন করেছে । এটি চুক্তি সম্পাদন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বিধি 16 এ ক্লজ (a) তে নির্ধারিত উৎস করহার প্রযোজ্য হবে ।

প্রশ্ন ১৬-২: আমার কোম্পানী একটি অফিসে সরবরাহ চুক্তির আওতায় ৫০০ পিস ইউনিফর্ম সরবরাহ করেছে । এক্ষেত্রে উৎস করের হার কি হবে?
উত্তর১৬-২:এক্ষেত্রে দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্য বিধি 16 এর ক্লজ (b)তে নির্ধারিত উৎস করহার প্রযোজ্য হবে ।

প্রশ্ন ১৬-৩: আমি প্রিন্টিং এর টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে একটি সরকারী দপ্তরে ৫ লক্ষ টাকার বুকলেট সরবরাহ করেছি ।আমার বিলের ক্ষেত্রে উৎস করের হার কত হবে?
উত্তর ১৬-৩: একই দপ্তরে একই অর্থ বছরে আপনার আর কোন বিল না থাকলে আপনার বিলের উপর বিধি 16 এর ক্লজ (b)তে নির্ধারিত ৩% হারে উৎস কর প্রযোজ্য হবে ।

প্রশ্ন ১৬-৪:আমি চুক্তির আওতায় একটি কোম্পনীতে ক্যাটারিং সার্ভিস প্রদান করেছি, যার গ্রস বিল ছিল ১,৫০,০০০/- টাকা । আমার ক্ষেত্রে বিধি 16 এর ক্লজ (a) অনুযায়ী “শূন্য” উৎস কর প্রযোজ্য হবে কি-না ।
উত্তর ১৬-৪: চুক্তির আওতায় ক্যাট াারিং সার্ভিস প্রদান করলেও আপনি ধারা 52AA এর আওতাভুক্ত একটি সেবা সরবরাহ করেছেন । ফলে আপনার নিকট থেকে ধারা 52AA অনুযায়ী উৎস কর কর্তন করা হবে । এক্ষেত্রে ধারা 52 ও বিধি 16 প্রযোজ্য হবে না ।
ধারা 52, 52A এবং 52AAএর পরিবর্তিত বিধানসমূহ ১ জুলাই ২০১৬ তারিখ ও তদপরবর্তী সমযের payment এর জন্য প্রযোজ্য হবে ।

১৭। সিগারেট প্রস্তুতকারীর নিকট হতে উৎসে কর আদায় সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52B প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52B প্রতিস্থপন করা হয়েছে ।ধারা 52B এর নতুন বিধানে উক্ত ধারার আগের উপধারা (2)বিলোপ করে আগের উপধারা (1) এর সমুদয় বিধান বহাল রাখা হয়েছে । এর ফলে ধারা 52B এর আগের উপধারা (1) এর সমুদয় বিধান বহাল রাখা হয়েছে ।
আগের উপধারা (2)বিলোপের ফলে মূ্যৈ সংযোজন কর আদায়কারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত কর আদায়কালে সিগারেট প্রস্তূতকারীর কাছ থেকে সিগারেটের বিক্রয়যোগ্য সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (NRP) এর উপর ৩% হারে অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করা সংক্রান্ত বিধানটি আর বলবৎ রইল না ।
১৮। সঞ্চয়পত্রের সুদ হতে উৎসে আয়কর কর্তন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেমের ধারা 52D এর প্রতিস্থাপন
(ক) অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধার 52D প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ।ধারা 52D এর নতুন বিধান অনূযায়ী, এঅধ্যাদেশের অপর কোন বিধানে অথবা বর্তমানে কলবৎ অন্য আইনে approved superannuation fund বা gratuity fund বা recognized provident fund বাworkers’ participation fund এর কর অব্যাহতির বিষয়ে যা-ই বলা থাকুক না কেন, কোন সেভিংস ইন্সট্রুমেন্টসের সুদ প্রদান কালে উক্ত সুদ প্রদানের দয়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি সুদের উপর ৫% হারে উৎসে কর কর্তন করবেন । এর ফলে ব্যক্তি শ্রেণীর পাশপাশি বর্ণিত ফান্ডসমূহের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সেভিংস ইন্সট্রুসেন্টসে বিনিয়োগে প্রাপ্ত সুদের উপরও উৎস কর প্রযোজ্য হবে ।
নতুন বিধানটি ১ জুলাই, ২০১৬ তারিখ বা তদপরবর্তী সময়ে সেভিংস ইন্সট্রুমেন্টমের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে ।
(খ) উল্লেখ্য, কোন আয় বছরে কোন করদাতার পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জভূত বিনিয়োগের পরিমাণ ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করলে উক্ত বিনিয়োগের উপর অর্জিত সুদ/মুনাফা পরিশোধালে ৫% হারে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য না হওয়ার বিধানটি বলবৎ আছে ।
(গ)এছাড়া ধারা 52D এর দ্বিতীয় প্রোভাইসোর বিধানটি পূর্বের ন্যায় বলবৎ রয়েছে । এ প্রোভাইসোর বিধান অনুসারে Wage earners development bond, US dollar premium bond, US dollar investment bond, Euro premium boud,Euro investment bond, Pound sterling investment bond এবং Pound sterling premium bond এর অর্জিত সুদ বা মুনাফা পরিশোধালে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না । অর্থাৎ ১ জুলাই, ২০১৫ তারিখ হতে উপরোল্লিখিত সকল প্রকার বন্ড এর সুদ বা মুনাফা পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তন না করার বিধান অদ্যাবধি চালু আছে ।
১৯। শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল (WPF) হতে সুবিধাভোগীকে অর্থ পরিশোধের বেলায় উৎসে কর কতন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের নুন ধারা 52DD সংযোজন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 52DD সংযোজন করা হয়েছে । নতুন সংযোজিত এ ধারার বিধান মোতাবেক এই অধ্যাদেশের অপর কোন বিধানে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে যা-ই থাকুক না কেন, workers’ participation fund থেকে কোন সুবিধাভোদী (beneficiary)কে অর্থ পরিশোধের সময় পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (the person responsible for making payment)উক্ত অর্থের উপর ৫% হারে উৎসে কর কর্তন করবেন ।
নতুন বিধানটি ১ জুলাই, ২০১৬ তারিখ বা তদপরবর্তী সময়ে অর্থ পরিমোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে ।
প্রশ্ন ১৯-১: workers’ partivipation fund থেকে একজন সুবিধাভোগীকে ৫০,০০০/- টাকা পরিশোধ করা হবে । এ ক্ষেত্রে উৎসে কর্তনের পরিমাণ কত হবে?
উত্তর ১৯-১: এ ক্ষেত্রে ধারা 52DD অনুযায়ী ৫% হারে ২,৫০০/- টাকা উৎসে কর কর্তন করতে হবে ।
২০। ট্রাভেল এজেন্ট হতে উৎসে কর আদায় সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52JJ এর প্রতিস্থপন
অর্থ আিইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52JJ এর উপধারা (1) এর বিধান মোতাবেক, এই অধ্যাদেশের অপর কোন বিধানে যা-ই বলা থাকুক না কেন, কোন নিবাসীকে যাত্রী পরিবহনজনিত টিকেট বিক্রয়ের বিপরীতে কমিশন অথবা ডিসকাউন্ট অথবা অর্থ মূ্ল্যে রূপান্তরযোগ্য কোন সুবিধা, তা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, পরিশোধকালে টিকেট মূল্যর উপর অথবা কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে কার্গো পরিবহন চার্জ (Charges)এর উপর পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (the person responsible for making payment)কর্তৃক ০.৩০% হারে উৎসে কর কর্তৃন করতে হবে।
উপধারা (2)তে বলা হয়েছে, বিমানের বিক্রয় বা কার্গো পরিবহনের কারণে নিবাসীকে উপধারা (1) তে উল্লিখিত অর্থের অতিরিক্ত কোন incentive bonus, performance bonus অথবা অন্য কোন সুবিধা, তা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, প্রদান করা হলে পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উপধারা (1) তে উল্লিখিত ০.৩০% হারে উৎস করের অতিরিক্ত হিসেবে (A/B)x C এর সমপরিমাণঅংক উৎসে কর্তন করতে হবে, যেখানে-
A = উপধারা (2) তে বর্ণিত আথবা অন্য যে কোন সুবিধার পরিমাণ;
B = উপধারা (1) তে বর্ণিত কমিশন বা ডিসকাউন্ট বা অর্থ মূল্যে রূপান্তরগোগ্য সুবিধার পরিমাণ; এবং
C = উপধারা (1) তে বর্ণিত কমিশন বা ডিসকাউন্ট বা অন্য কোন সুবিধার উপর প্রযোজ্য উৎস করের পরিমাণ।
উপধারা (2) এর আওতায় প্রদত্ত সুবিধা অর্থমূল্যে পরিশোধ না করে তা যদি কোন সুবিধা আকারে প্রদান করা হয় তাহলে সুবিধার আর্থিকমূল্য বিবেচনায় নিয়ে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।
উদাহরণ ২০-১
ধরা যাক একজন ট্রাভেল এজেন্ট উপধারা (3) তে বর্ণিত হিসাব অনুযায়ী ৮০ লক্ষ টাকার টিকেট বিক্রয় করে ৫ শতাংশ হারে কমিশন এবং তার অতিরিক্ত হিসেবে ২ শতাংশ হারে উনসেনটিভ বোনাস লাভ করেছেন। এ ক্ষেত্রে উধারা (1) অনুযায়ী কমিশনের উৎস করের পরিমাণ হবে (৮০,০০,০০০X০.৩%) =২৪,০০০/- টাকা। উপধারা (2) অনুযায়ী ইনসেনটিভ বোনাসের উপর উৎস করের পরিমাণ হবে:

৮০,০০,০০০X২% X২৪,০০০/-
৮০,০০,০০০X৫%
=৯,৬০০/-
উপধারা (3) এর বিধান মোতাবেক কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে কার্গো পরিবহন চার্জ (charges) পরিগণনার ক্ষেত্রে embarkation fees, travel tax, flight safety insurance, security tax এবং airport tax বাদ যাবে। অর্থাৎ টিকেট মূল্য বা কার্গো চার্জ হতে প্রযোজ্যতা অনুযায়ী embarkation fees, travel tax, flight safety insurance, security tax এবং airport tax বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংকের উপর ০.৩০% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।
উক্ত ধারায় বর্ণিত অর্থ কোন ট্রান্সফার, ক্রেডিট বা সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হলেও তা payment হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তা উৎস করের আওতায় আসবে।
২১। আন্তর্জাতিক ফোন কল বাবদ প্রাপ্তির উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52R এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52R এর উপধারা (1) এবং উপধারা (2) সংশোধন করে আন্তর্জাতিক কল সংশ্লিষ্টি ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক International Gateway (IGW) Services Operator কে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে sউৎসে করের হার ১% হতে ১.৫% এবং International Gateway (IGW) Servicesw Operator কর্তৃক কোন Interconnection Exchange (ICX), Access Network Services (ANS) আথবা Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BRTC) এর সাথে চুক্তিভুক্ত অন্য যে কোনো ব্যক্তিকে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ৫% হতে বৃদ্ধি করে ৭.৫% করা হয়েছে।

নতুন বিদানটি ১ জুলাই, ২০১৬ তারিখ বা তদপরবর্তী সময়ে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
২২। আয়কর অধ্যাদেধের ধারা 53BB এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53BB সংশোধন করে উক্ত ধারায় বর্ণিত উৎস করহার ০.৮০% (যা এস, আর,ও এর মাধ্যমে ১ জুলাই ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ সময়ের জন্য ০.৬০% এ হ্রাসকৃত) থেকে ১% এ বৃদ্ধি করা হয়েছে। হবে এস, আর, ও নং ২৫৭-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ১০ আগস্ট, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাদ্যমে পাটজাত দ্রব্য ব্যতীত অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০১৭ সময়ের জন্য এ হার ০.৭০% -এ হ্রাস করা হয়েছে।
এস, আর, ও নং ২০৭ আইন/আয়কর /২০১৬,তারিখ ২৯ জুন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে পাটজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০১৯ সময়ের জন্য এ ধারার আওতায় উৎস কর্তনের হার ০.৬০%-এ হ্রাস করা হয়েছে।
২৩। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53BBBB এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53BBBB সংশোধন করে উক্ত ধারায় বর্ণিত উৎস করহার ০.৮০%(যা এস, আর, ও এর মাধ্যমে ১ জুলাই ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ সময়ের জন্য ০.৬০% এ হ্রাসকৃত) থেকে ১% এ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এস, আর, ও নং ২৫৭-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ১০ আগষ্ট, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাদ্যমে ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০১৭ সরয়ের জন্য এ হার ০.৭০% এ হ্রাস করা হয়েছে।
২৪। অনিবাসী কুরিয়ার ব্যবসা হতে উৎসে কর কর্তন বা আদায় সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধার 53CCC এর সিন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাধেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 53CCC সন্নিবেশ করা হয়েছে। সন্নিবেশিত নতুন এ ধারার বিধান মোতাবেক, কোন অনিবাসী কুরিয়ার কোম্পানীর স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রমরত এবং The Companies Act,1913 বা কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীন নিবন্ধিত কোন কোম্পানী দেশের বাইরে পণ্য, দলিলাদি, পার্সেল বা অন্য যে কোন শিপমেন্ট সংশ্লিষ্টি কারণে অনিবাসী কুরিয়ার কোম্পপানীকে সার্ভিস চার্জ বাবদ কোন অর্থ প্রদান করলে তার উপর ১৫% হারে উৎসে কর কর্তন বা আদায় যোগ্য হবে।
২৫। কমিশন, ডিসকাউন্ট বা ফিস হতে উৎসে কর কর্তন বা আদায় সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধার 53E সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53E এর উপধারা (2) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত উপধারার বিধান মোতাবেক,oil mardeting company নয় এরূপ কোন company (সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানী ব্যতীত) যদি কোন পরিবেশকের নিকট বা চুক্তি (contract) এর অধীন কোন person এর নিকট উক্ত company কের্তৃক নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কোন পণ্য বিক্রি করে, তবে উক্ত কোম্পানী ঐ পরিবেশক বা person এর নিকট হতে BxC এর সমান অংকের ৫% হারে উৎসে কর আদায় করবে। এক্ষেত্রে-

B= কোম্পানী কর্তৃক পরিবেশকের নিকট বা চুক্তির অধীন কোন person এর নিকট পণ্যের বিক্রয়মূল্য;
C= ৬%

উদাহরণ ২৫-১
ধরা যাক একটি কোম্পানীর কোন একটি পণ্য বাজারে প্রতি ইউনিট ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। কোম্পানী পরিবেশক Y এর নিকট পণ্যটি প্রতি ইউনিট ১০০ টাকায় বিক্রি করে। ধরা যাক একটি চালারে পরিবেশকের নিকট ৮,০০,০০০/- টাকার পণ্য বিক্রি করা হলো । এক্ষেত্রে পরিবেশকের নিকট তেকে উৎসে কর কর্তনের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ:

(BxC) =৮,০০,০০০×৬% = ৪৮,০০০
ধারা 53E এর উপধারা (2) অনুযায়ী উৎস কর: ৪৮,০০০x৫%=২,৪০০/-টাকা ।
সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানীর জন্য পরিবেশকের নিকট হতে উৎস কর আদায়ের ক্ষেত্রে পূর্বের হার বহাল রাখা হয়েছে। অর্তাৎ কোন সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানী পূর্বের মতোই কোম্পানী কর্তৃক নির্ধারিত খূচরা মূল্য এবং পরিবেশক বা ঐ person এর নিকট বিক্রয় মূল্যের পার্তক্যের উপর ৩% হারে উৎসে কর আদায় করবে।
উপধারা (2) তে একটি ব্যাখ্যা সংযোজন করে দারা 53E তে “চুক্তি (contract)” বলতে কি বুঝাবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংযোজিত ব্যাক্যা অনুযায়ী, কোন সম্মতি বা কোন ব্যবস্ত, তা লিখিত হোক বা না হোক, ধারা 53E এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে চুক্তির অন্তর্ভূক্ত হবে।
কোন company কর্তৃক ১ জুলাই ২০১৬ তারিখ থেকে সকল পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশোধিত এ বিধান কার্যকর হবে।
২৬।সঞ্চয়ী আমানত এবং স্থায়ী আমানত, ইত্যাদির সুদ আয় হতে উৎসে কর কতৃন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53F সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53অ সংশোধনপূর্বক উপধারা (2) এর পরিবর্তে উপধারা (2) এবং উপধারা (3) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে । সংশোধিত ধারায় উপধারা (2) এর মাধ্যমে নতুন বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং পূর্বের উপধারা (2) নতুন উপধারা (3) হিসেবে সংখ্যায়িত হয়েছে।
প্রতিস্তাপিত উপধারা(2) এর বিধানমতে, কোন ফান্ডের কর অব্যাহতির বিষয়ে এই অধ্যাদেশে অতবা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে যা-ই বলা থাকুক না কেন, কোন তপসিলি ব্যাংক বা সমবায় ব্যাংক বা ইসলামি নীতি অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংক অথবা কোন অ-ব্যাংকিং আর্তিক প্রতিষ্ঠান বা কোন লিজিং কোম্পানী বা কোন গৃহায়নে অর্থায়নকারী কোম্পানীতে কোন ফান্ডের দ্বারা বা নামে পরিচালিত বা রক্ষিত কোন সঞ্চয়ী আমানত বা মেয়াদী আমানতের সুদ বা মুনাফার অংশ (share of profit) পরিশোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, তিনি উক্ত সুদ বা মুনাফার অংশ ফান্ডের হিসেবে ক্রেডিটের সময় বা পরিশোধের সময়, দুটির মধ্যে যেটি আগে ঘটে, উক্ত সুদ বা মুনাপার অংশের উপর ৫% হারে উৎসে কর কতৃন করবেন।

উপধারা (2) তে ‘ফান্ড’ বলতে approved superannuation fund বা pension fund বা gratuity fund বা recognized provident fund বা workers’ participation fund সহ আইনে র দ্বারা সৃষ্ট বা আইন দ্বারা পরিচালিত ফান্ডকে বুঞাবে, যা কৃত্রিম আইনী সত্তা হিসেবে পরিগণিত হয় এবং যাদের নামে আইনানুগভাবে পৃথক হিসাব (account) সংরক্ষণ করা যায়।
নতুন বিধান প্রবর্তনের মাধ্যমে আইনের দ্বারা সৃষ্ট বা আইন দ্বারা পরিচালিত Board কর্তৃক অনুমোদিত কোন ফান্ড , যার সঞ্চয়ী আমানত বা স্থায়ী আমানত বা মেয়াদী আমানতের সুওদর উপর আগে উৎস কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছিল, তার উক্ত সুদের উপর ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৫% হারে উৎস কর আরোপিত হবে।
যে সকল ফান্ড ৩০ জুন ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত উৎস করের আওতাভুক্ত ছিল সে সকল ফান্ডের ক্ষেত্রে উপধার (2) এর বিধা কার্যকর হবে না। অর্থাৎ এরূপ ফান্ডের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত সময়ে যে তারে উৎস কর কর্তিত হতো এখনো সে হারে উৎস কর আরোপ হব।
পূর্বের উপধারা (2) নতুন উপধারা (3) হিসেবে সংখ্যায়িত হওয়ায় পূর্বের উপধার (2) এর সকল বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।
প্রশ্ন ২৬-১: আমার কোম্পানীর কর্মচারিদের কল্যাণের জন্য আমি একটি Employees Welfare Fund গঠন করে উক্ত ফান্ডের টাকা ব্যাংকে এফডিআর করেছি। আমার কোম্পানীর এ ফান্ডের এফডিআর সুদের ক্ষেত্রে ধারা 53F এর উপধারা (2) এর বিধান প্রযোজ্য হবে কি-না ?
উত্তর : না। আপনার কর্ণিত ফান্ডের সুদের ক্ষেত্রে ধারা 53F এর উপধারা (1) এর বিধান প্রযোজ্য হবে ।
ধারা 53F এর উপধারা (2) সংশোধিত ধারা 53F তে উপধারা (3) হিসেবে সংখ্যায়িত হয়েছে।
২৭। রিয়েল এস্টেট বা ভুমি উন্নয়ন ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তির নিকট হতে উৎসে কর আদায় সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53FF সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53FF এর ক্লজ (a) এর উপ-ক্লজ (iii) এবং ক্লজ (aa) এর উপ-ক্লজ (iii) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।সংশোধিত বিধানমতে ধারা 53FF অনুযায়ী উৎস কর হার হবে নিম্নরূপ:

আবাসিক উদ্দেশ্যে নিমিৃত (constructed for residential purposes) দালান বা এপার্টমেন্টর ক্ষেত্রে:

এলাকা প্রতি বর্গমিটারে উৎস কর (টাকায়)
(ক) ঢাকা’র গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা ১,৬০০/-
(খ) ঢাকা’র ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, কারওয়ানবাজার বাণিজ্যিক এলাকা এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, খুলশী আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ ১,৫০০/-
(গ) (ক)ও (খ) ব্যতীত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন , ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য এলাকা ১,০০০/-
(ঘ) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকা ৭০০/-
(ঙ) উপরের (ক), (খ), (গ) এবং (ঘ) ব্যতীত অন্যান্য এলাকা ৩০০/-


তবে, অনধিক ৭০ বর্গমিটার পর্যন্ত (কমন স্পেসসহ) আয়তনবিশিষ্ট আবাসিক এপার্টমেন্টের জন্য উৎস করের হার ২০% কম হবে এবং অনদিক ৬০ বর্গমিটার পর্যন্ত (কমন স্পেসসহ) আয়তনবিশিষ্ট আবাসিক এপার্টমেন্টের জন্য উৎস করের হার ৪০% কম হবে।
আবাসিক ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে নির্মিত (constructed not for the residential purposes) দালান বা এপার্টমেন্ট বা কোন স্পেস(space)এর ক্ষেত্রে :

এলাকা প্রতি বর্গমিটারে উৎস কর (টাকায়)
(ক) ঢাকা’র গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা ৬,৫০০/-
(খ) ঢাকা’র ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, কারওয়ানবাজার বাণিজ্যিক এলাকা এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, খুলশী আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ ৫,০০০/-
(গ) (ক)ও (খ) ব্যতীত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন , ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য এলাকা ৩,৫০০/-
(ঘ) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকা ২,৫০০/-
(ঙ) উপরের (ক), (খ), (গ) এবং (ঘ) ব্যতীত অন্যান্য এলাকা ১,২০০/-

২৮। অনিবাসীর নিকট থেকে উৎস কর কর্তন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 56 প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে অনিবাসীর নিকট থেকে উৎস কর্তন সংক্রান্ত ধারা 56 এর আওতাভুক্ত উৎস করের খাত ও হার পূর্নগঠন করা হয়েছে এবং কর্তনকারীর আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোন অনিবাসীকে specified person বা অর্থ পরিশোদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যে কোন ব্যক্তি (person responsible for making payment) কর্তৃক যদি এমন কোন অর্থ পরিশোধ করা হয় যা উক্ত অনিবাসীর আয়, তাহলে নিম্নবর্ণিত হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে-

SL. No Description of services or payments Rate of deduction of tax
1 Advisory or consultancy service 20%
2 Pre-shipment inspection service 20%
3 Professional service, technical services, technical know-how or technical assistance 20%
4 Architecture, interior design or landescope design, fashion design or process design 20%
5 Certification, rating etc. 20%
6 Charge or rent for satellite, airtime or frequency, rent for channel broadcast 20%
7 Legal service 20%
8 Management service including even management 20%
9 Commission 20%
10 Royalty, license fee or payments related to intangibles 20%
11 Interest 20%
12 Advertisement broadcasting 20%
13 Advertisement making 15%
14 Air transport or water transport 7.5%
15 Contractor or sub-contractor of manufacturing,process or conversion,civil work, construction, engineering or works of similar nature 7.5%
16 Supplier 7.5%
17 Capital gain 15%
18 Insurance premium 10%
19 Rental of machinery, equipment etc. 15%
20 Dividend-
(a)Company—
(b) Any other person, not being a company–
20%
30%
21 Artist, singer or player 30%
22 Salary or remuneration 30%
23 Exploration or drilling in petroleum operations 5.25%
24 Survey for oil or gas exploration 5.25%
25 Any service for making connectivity between oil or gas field and its export point 5.25%
26 Any payments against any services not mentioned above 20%
27 Any other payments 30%

তবে, যেক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধকারী ব্যক্তি (person) বর্ণিত অনিবাসীর এজেন্ট হিসেবে অনিবাসীকে পরিশোদকৃত অর্থের উপর নিজে কর পরিশোধের জন্য দায়ী, সেক্ষেত্রে ধারা 56 অনুযায়ী উপর্যুক্ত উৎস কর প্রযোজ্য হবে না।

তবে কোন লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে Board যদি এ মের্মে সনদ প্রদান করে যে, Board এর সর্বোত্তম বিশ্বাসমতে কোন অনিবাসীর কোন আয়ের উপর আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় কোন আয়কর প্রযোজ্য নয় বা উক্ত আয়ের উপর আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় কোন আয়কর প্রযোজ্য নয় বা উক্ত আয়ের উপর সর্বোচ্চ হার অপেক্ষা কম হারে আয়কর প্রযোজ্য তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ অনিবাসীর নিকট থেকে এর সনদে উল্লিখিত মতে আয়কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে আয়কর কর্তন করে ধারা 56 তে উল্লিখিত অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

ধারা 56 এর Specifed Person হবে ধারা 52 এর উপধারা (2) তে উল্লিখিত specified person এর অনুরূপ।
কোন ট্রান্সফার, ক্রেডিট বা সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধারায় বর্ণিত অর্থ প্রদান করা হলে তাও পরিশোধ (payment) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উৎস করের আওতায় আসবে।

২৯। উৎস কর কর্তন, আদায় ইত্যাদির ব্যর্থতার দায় (liability) আরো সুনির্দিষ্টকরণ: আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 57 এর প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 57 প্রতিস্থাপন করে উৎসে কর কতৃন, আদায়, ইত্যাদির ব্যর্থতায় কর্তন/আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব আরো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ধারা 57 এর উপধারা (1) এর নতুন বিধান অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি আয়কর অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী উৎস কর কর্তন/আদায় না করেন বা কম কর্তন/আদায় করেন বা কর্তিত/আদায়কৃত কর সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত সময়ে জমা প্রদান না করেন অথবা কম জমা করেন তাহলে ঐ ব্যক্তি খেলাপী করদাতা (assessee in default) বলে গণ্য হবেন এবং তার ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের অন্যত্র বর্ণিত বিধান মতে ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও তাকে নিম্নোক্ত অংক পরিশোধ করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে সে অর্থ তার নিকট থেকে আদায় করা যাবে-
(১) যে পরিমাণ উৎস কর কর্তন বা আদায় করা হয়নি:
(২) যে পরিমাণ উৎস কর কম কর্তন বা আদায় করা হয়েছে:
(৩) উৎস কর কর্তন বা আদায়ের পর যে পরিমাণ অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি।
দায়ী ব্যক্তির নিকট থেকে উপধারা(1) বর্ণিত অংক ছাড়াও মাসিক ২% হারে নিম্নবর্ণিত অতিরিক্ত অংক(additional amount) আদায়যোগ্য হবে-

ক্ষেত্র যে পরিমাণের উপর অতিরিক্ত অংক পরিগণনা করা হবে যে সময়ের জন্য সাসিক ২% হারে অতিরিক্ত অংক পরিগণনা করা হবে
(ক) উৎস কর কর্তন বা আদায় করা হয়নি অকর্তিত বা অনাদায়কৃত উৎস করের উপর উৎস কর কতৃন বা আদায়ের নির্ধারিত তারিখ (due date) থেকে শুরু করে উক্ত করের অংক সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত
(খ) নির্ধারিত তারিখে উৎস কর কর্তন বা আদায় করা হলেও নির্ধারিত হারর বা অংক অপেক্ষা কম কর্তন বা আদায় করা হয়েছে। কম কর্তিত বা কম আদায়কৃত উৎস করের উপর উৎস কর কর্তন বা আদাযের তারিখ(due date)থেকে শুরু করে উক্ত করের অংক সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত
(গ) কর্তন কৃত বা আদায়কৃত উৎস কর সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি কর্তনকৃত বা আদায়কৃত উৎস করের মধ্যে যে পরিমাণ অংক সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি উক্ত অংক কর্তন বা আদায়ের তারিখ থেকে শুরু করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত


অতিরিক্ত অংক (additional amount) পরিগণনার সমযকাল ২৪ মোসের বেশি হবেনা।

উদাহরণ ২৯-১

ধরা যাক, ১৫ মার্চ ২০১৬ তারিকে একজন সরবরাহকারীকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে যার উপর ১০,০০০/- টাকা উৎস কর প্রযোজ্য ছিল। বিষয়টি উপ কর কমিশনারের নজরে আসার পর উৎস কর কর্তনের জন্য দায়ী ব্যক্তি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে ১০,০০০/- টাকা সরকারি কোষাগারে জমার ব্যবস্থা করেন।

এক্ষেত্রে,

অতিরিক্ত অংক পরিগণনার সময়কাল হবে ১৫ মার্চ ২০১৬ হতে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ মাস ১৬ দিন।

ফলে অতিরিক্ত অংকের পরিমাণ হবে:

৬ মাসের উপর ১০,০০০X২%X৬ ১,২০০/-

১৬ দিনের উপর ১০,০০০X২%(১৬÷৩১) ১০৩/-

মোট ১,৩০৩/-

উদাহরণ ২৯-২

উপ কর কমিশনারের গোচরীভুত হলো যে ১৫ মার্চ ২০১৪ তারিখে একজন সরবরাহকারীকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে যার উপর ১০,০০০/-টাকা উৎস কর প্রযোজ্য ছিল কিন্তু তা কর্তন করা হয়নি। কর্তনের জন্য দায়ী ব্যক্তি উক্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানেরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। উপকর কমিশনার যথানিয়মে দায়ী ব্যক্তির নিকট থেকে অকর্তিত কর ১০,০০০/- টাকা এবং তার উপর মাসিক ২% হারে অতিরিক্ত অংক আদায়ের জন্য ১৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে দাবীনামা জারী করছেন। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংকের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ:

১৫ মার্চ ২০১৪ হতে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ ৩০ মাস ১৬ দিন। অতিরিক্ত অংক পরিগণনার সর্বোচ্চ সময়কাল: ২৪ মাস

ফলে, অতিরিক্ত অংকের পরিমাণ হবে(১০,০০০X২%X২৪)= ৪,৮০০/-টাকা।

উৎস কর কর্তন/আদায় না করা, কম কর্তন /আদায় করা বা কর্তিত/আদায়কৃত কর সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান না করার জন্য দায়ী ব্যক্তির নিকট থেকে উপধারা(1) তে বর্ণিত অংক বা উপধারা (2) তে বর্ণিত অতিরিক্ত অংক আদায়ের ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার উক্ত ব্যক্তিকে শুনাণীর যৌক্তিক সুযোগ প্রদান পূর্বক শুনানীর বক্তব্য (যদি পাওয়া যায়) বিবেচনান্তে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

যদি প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তির নিকট থেকে উৎস কর কর্তন/আদায় করা হয়নি বা কম কর্তন/আদায় করা হয়েছিল সে ব্যক্তির নিকট থেকে উতোমধ্যে উৎস করের বর্ণিত অর্থ আদায় করা হয়েছে তাহলে উপকর কমিশনার কর্তন/আদায়ের জন্য দায়ী ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণিত উৎস কর পুনরায় আদায় করবেন না।

কোন উপ কর কমিশনার কর্তৃক এবং কি পদ্ধতিতে উপধারা(1) বা উপধারা (2) তে বর্ণিত অর্থ আদায় হবে সে বিষয়টি বোর্ড নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

৩০। উৎসে কর কর্তন, আদায় বা সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান না করে কর কর্তনের সার্টিফিকেট প্রদানের দায়(liability) সুনির্দিষ্টকরণ: আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা 57A এর সন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 57A সন্নিবেশ করে উৎসে কর কর্তন, আদায় বা সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান না করে কর কর্তনের সার্টিফিকেট প্রদানের দায় সুনিদিৃষ্ট করা হয়েছে। সন্নিসশিত ধারা 57A এর উপধার (1) এর বিধানমতে, যদি কোন ব্যক্তি উৎসে কর কর্তন, আদায় বা সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান না করে কাউকে উৎসে কর কতৃন বা আদায়ের সার্টিফিকেট প্রদান করেন তাহলে এরূপ সার্টিফিকেট প্রদান কারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য বিধানের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও তাকে সার্টিফিকেটে উল্লিখিত অর্থের মধ্যে যে পরিমাণ অংক সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি সে পরিমাণ অংক পরিশোধের জন্য ব্যক্তি গতভাবে দায়ী করে তার নিকট থেকে সে অর্থ আদায় করা যাবে।
উপধারা (1) তে বর্ণিত অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার সার্টিফিকেট প্রদানকারীকে শুনানীর যৌক্তিক সুযোগ প্রাদান পূবৃক শুনানীর বক্তব্য (যদি পাওয়া যায়) বিবেচনান্তে পয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করবেন।
৩১। উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট, ইত্যাদি সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 58 এর প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ৫৪ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুসারে প্রত্যেক ব্যক্তি যিনি এ অধ্যায়ের অধীন উৎসে কর কর্তন বা আদায় করেছেন, তিনি যে ব্যক্তির নিকট হতে উৎসে কর কতৃন বা আদায় করেছেন সে ব্যক্তিকে উৎসে কর কতৃন বা আদায়ের একটি সার্টিফিকেট (certificate) প্রদান করবেন। উক্ত সার্টিফিকেট নিম্ন লিখিত তথ্যাদির উল্লেখ থাকবে-
(১) যে ব্যক্তির নিকট হতে উৎসে কর কতৃন বা আদায় করা হয়েছে তার নাম ও টিআইএন (যদি থাকে)
(২) উৎসে কর্তিত বা আদায়কৃত করের পরিমাণ;
(৩) যে ধারা বা দারাসমূহের অধীন উৎসে কর কর্তন বা আদায় করা হয়েছে তার তথ্য;
(৪) উৎসে কর্তিত বা আদায়কৃত কর সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের তথ্যাদি;
(৫) এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য তথ্যাদি।

বোর্ড, সরকারী গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্দেশনা জারী করে-
(১) কর কতর্তন বা আদায়ের সার্টিফিকেট electronically বা অন্য কোন machine readable বা computer readable মাধ্যমে প্রস্তুত(generate) বা প্রদান করতে হবে মর্মে নির্ধারণ করতে পারবে;
(২) উক্ত electronic বা machine readable বা computer readable সার্টিফিকেট কিভাবে দেয়া হবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

৩২। উৎসে কর্তিত বা আদায়কৃত করের ক্রেডিট প্রদান সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের 62 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 62 সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান মোতাবেক উৎসে কর্তিত বা আদায়কৃত করের ক্রেডিট গ্রহণের জন্য উৎ করের সার্টিফিকেটের সাথে উক্ত উৎস কর সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করার প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
৩৩। নির্দিষ্ট আয়ের ক্ষেত্রে অগ্রিম কর প্রদান সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশে ধারা 68A এর সন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 68A সন্নিবেশ করা হয়েছে । সন্নিবেশিত ধারার বিধানমতে প্রত্যেক সিগারেট প্রস্তুতকারককে প্রতিমাসে তার প্রণ্যের নীট বিক্রয় মূল্য (net sale) এর উপর ৩% হারে অগ্রিম কর জমা দিতে হবে। ধারা 68A তে নীট বিক্রয় মূল্য বলতে (A-B) এর সমপরিমাণ কংক বুঝাবে, যেখানে-
A= মোট বিক্রয় (gross sale), এবং
B= মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে)।
প্রতিমাসে প্রদত্ত এ অগ্রিম কর ধারা 66 এর অধীন প্রদেয় ত্রৈমাসিক অগ্রিম করের কিস্তির বিপরীতে সমন্বয়যোগ্য হবে।

৩৪। মোটর গাড়ির মালিকানাজনিত অনুমিত আয়ের উপর অগ্রিম কর আরোপ সংক্রান্ত আযকর অধ্যাদেশে নতুন ধারা 68B সন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 68B সন্নিবেশ করা হয়েছে। নতুন ধারাটিতে প্রাইভেট মোটর গাড়ি (motor car) এর মালিকানাজনিত অনুমিত আয় (যা দ্বারা উক্ত মোটরগাড়ি পরিচালনা ও রক্ষাণাবেক্ষণজনিত ব্যয় নির্বাহ হয়) এর উপর অগ্রিম কর আরোপের বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।
এ বিধান প্রবর্তনের ফলশ্রুতিতে মোটর কার, জীপ বা মাইক্রোবাসের মালিকানাজনিত অনুমিত আয় সংক্রান্ত এস, আর, ও নং ৯৯-আইন/ ২০১৫, তারিখ ১৭ মে, ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ রহিত করা হয়েছে।
ধারা 68B এর উপধারা (1) এর বিধানমতে, কোন আয় বছরে কোন ব্যক্তি মোটর গাড়ি (জীপ বা মাইক্রোসাসহ) এর মালিক হলে ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে উক্ত আয় বছরে অনুমিত আয়ধরে উপধারা (2) এ বর্ণিত হারে অগ্রিম কর আদায়যোগ্য হবে।

উপধারা (2) অনুযায়ী অগ্রিম করের হার হবে নিম্নরূপ:

ক্রমিক নং গাড়ীল ধরণ ও ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি অগ্রিম কর (টাকা)
(১) ১৫০০সিসি পর্যন্ত প্রতিটি মোটরকার বা জীপ এর জন্য ১৫,০০০/-
(২) ২০০০সিসি পর্যন্ত প্রতিটি মোটরকার বা জীপ এর জন্য ৩০,০০০/-
(৩) ২৫০০সিসি পর্যন্ত প্রতিটি মোটরকার বা জীপ এর জন্য ৫০,০০০/-
(৪) ৩০০০সিসি পর্যন্ত প্রতিটি মোটরকার বা জীপ এর জন্য ৭৫,০০০/-
(৫) ৩৫০০সিসি পর্যন্ত প্রতিটি মোটরকার বা জীপ এর জন্য ১,০০,০০০/-
(৬) ৩৫০০সিসি উপর প্রতিটি মোটরকার বা জীপ এর জন্য ১,২৫,০০০/-
(৭) মাইক্রোবাস প্রতিটির জন্য ২০,০০০/-


তবে, কোন ব্যক্তির একক বা যৌথ মালিকানায় একের অধিক মোটর কার (জীপ বা মাইক্রোবাসসহ) থাকলে পরবর্তী প্রতিটির ক্ষেক্রে উপর্যুক্ত হার অপেক্ষা ৫০% বেশি হারে অগ্রিম কর প্রদেয় হবে।
মোটর কার, জীপ বা মাইক্রোবাসের রেজিস্ট্রেশনের সময় অথবা ফিটনেস নবায়নের তারিখ উত্তীর্ণে হওয়ার পূর্বে উক্ত অগ্রিম কর প্রদান করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সনদ প্রদানের পূর্বে নিশ্চিত হবেন যে সংশ্লিষ্ট মোটর কার, জীপ বা মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রেও উক্ত ধারায় বর্ণিত হারে অগ্রিম কর পরিশোধ করা হয়েছে।
যেক্ষেত্রে প্রতি বছর ফিটনেস নবায়ন হয়না সে ক্ষেত্রে করদাতার প্রত্যেক আয় বছর শেষ হওয়ার পূর্বে উক্ত অগ্রিম কর প্রাদান করতে হবে এবং কর পরিশোধের প্রমাণ পরবর্তী ফিটনেস নবায়নের সময় তা ফিটনেস সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করতে হব।
মোটর কার, জীপ মাইক্রোবাসের নিম্নবর্ণিত মালিকের ক্ষেত্রে উক্ত ধারায় উল্লিখিত অগ্রিম কর প্রযোজ্য হবে
না-
(১) সরকার বা স্থানীয় সরকার:
(২) সরকারের বা স্থানীয় সরকারের কোন প্রকল্প, কর্মসূচি বা কার্যক্রম;
(৩) কোন বিদেশী কূটনীতিক, বাংলাদেশে অবস্থিত কোন বিদেশী কুটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও এর অংগ সংগঠনের দপ্তর;
(৪) বাংলাদেশের কোন বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী ও তার সংযুক্ত দপ্তর;
(৫) সরকারের Monthly Payment Order (MPO) এর অধীনে সুবিধাপ্রাপ্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(৬) কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;
(৭) এমন কোন সত্তা(entity) যা আয়কর অধ্যাদেশ,১৯৮৪ এর ধারা 2 এর ক্লজ (46) অনুযায়ী ব্যক্তি (person) এর সংজ্ঞাভুক্ত নয;
(৮) কোন গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা;
(৯) এমন কোন প্রতিষ্ঠান (institution) যার নিকট হতে এ ধারায় অগ্রিম কর আদায় হবে না মর্মে বোর্ড কর্তৃক সনদ প্রদান করা হয়েছে।
উপধার (2) এর অধীনে অগ্রিম কর প্রযোজ্য-এমন ব্যক্তির কোন আয় বছরে নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য করদায় যদি উপধারা(2) এর অধীনে প্রদত্ত অগ্রিম কর অপেক্ষা কম হয় তাহলে ধরে নেয়া হবে যে ঐ ব্যক্তির উক্ত আয় বছরে এরূপ আয় ছিল যার উপর গণনাকৃত করদায় উপধারা(2) এর অধীনে আদায়কৃত করের সমান।
উপধার (2) এর অধীনে পরিশোধকৃত কর নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য করের বিপরীতে ক্রেডিট পাওয়া যাবে। তবে উক্ত করের কোন অংশ ফেরৎযোগ্য হবে না বা এরূপ কর পূর্ববর্তী কোন কর বছরের করদাবীর বিপরীতে সমন্বয় করা যাবে না।
ধারা 68B তে-
(১) মোটরগাড়ি (motor car) বলতে বুঝাবেMotor Vehicles Ordinance 1983 (L V of 1983) এর ধারা 2 এর ক্লজ (25) অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত মোটর গাড়ি, যার মধ্যে জীপ এবং মাইক্রোবাসও অন্তর্ভুক্ত হবে।
(২) নিয়মিত উৎসের আয় (income from regular source) বলতে ধারা 82C এর উপধারা (2) এ উল্লিখিত উৎস ব্যতীত অন্য কোন উৎসের আয়কে বুঝাবে।

প্রশ্ন ৩৪-১:প্রশ্ন ৩৪-১: আমার নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর আয়কর ২৫,০০০/- টাকা । সংশ্লিস্ট আয় বছরে আমি বেতন খাতে ১৮,০০০/- টাকা উৎস কর এবং আমার ১৪৯০ সিসি মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় ১৫,০০০/- টাকা অগ্রিম কর প্রদান করেছি। আমার অতিরিক্ত পরিশোধিত ৮,০০০/-টাকা কি ফেরতযোগ্য হবে?
উত্তর ৩৪-১: আপনার নিয়মিত উৎসের বিপরীতে উৎস কর এবং ১৪৯০ সিসি মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় প্রদত্ত অগ্রিম করের সমষ্টি (১৮,০০০+১৫,০০০) = ৩৩,০০০/- টাকা। আপনার নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর আয়কর মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় প্রদত্ত অগ্রিম কর অপেক্ষা বেশি। ফলে নিয়মিত উৎসের আযের উপর প্রযোজ্য আয়কর ২৫,০০০/- টাকা হবে আপনার করদায়। এক্ষেত্রে ২৫,০০০/- টাকার অতিরিক্ত অংক অর্থাৎ ৮,০০০/- টাকা ফেরতযোগ্য হবে।

প্রশ্ন ৩৪-২: আমার নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর আয়কর ৫,০০০/- টাকা। সংশ্লিস্ট আয় বছরে আমি বেতন খাতে ৩,০০০/- টাকা উৎস কর এবং আমার ১৪৯০ সিসি মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় ১৫,০০০/- টাকা অগ্রিম কর প্রদান করেছি। আমার অতিরিক্ত পরিশোদিত ১৩,০০০/- টাকা কি ফেরতযোগ্য হবে?
উত্তর ৩৪-২: আপনার নিয়মিত উৎসের বিপরীতে উৎস কর এবং মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় প্রদত্ত অগ্রিম করের সমষ্টি (৩,০০০+১৫,০০০) =১৮,০০০/-টাকা। ১৪৯০ সিসি মোটর গাড়ির মালিক হওয়ায় নিয়মিত উৎসের আয় (অনুমিত আয়সহ) এর উপর আপনার ন্যূনতম করদায় হবে ১৫,০০০/- টাকার অতিরিক্ত অংক অর্থাৎ ৩,০০০/- টাকা ফেরতযোগ্য হবে।

প্রশ্ন ৩৪-৩: আমার নিয়মিত উৎসের কোন আয় নেই। সংশ্লিস্টি আয় বছরে আমি ১৪৯০ সিসি মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় ১৫,০০০/- টকাকা অগ্রিম কর প্রদান করেছি। আমার পরিশোধিত ১৫,০০০/- টাকা কি ফেরতযোগ্য বা সমন্বয়যোগ্য হবে?
উত্তর ৩৪-৩: আপনার পরিশোধিত ১৫,০০০/- টাকা ফেরতযোগ্য বা সমন্বয়যোগ্য হবে না।

প্রশ্ন ৩৪-৪: সংশ্লিস্টি আয় বছরে আমি প্রসাধনসামগ্রী আমদানি বাবদ ১৮,০০০/- টাকা উৎস কর এবং আমার ১৪৯০ সিসি মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় ১৫,০০০/- টাকা অগ্রিম কর প্রদান করেছি। আমার আমদানি ব্যবসায়ের আয়ের উপর করদায় ১৮,০০০/-টাকা। আমার অতিরিক্ত পরিশোধিত ১৫,০০০/- টাকা কি ফেরতযোগ্য হবে? ।
উত্তর ৩৪-৪: আপনার আমদানি ব্যবসায়ের আয়ের উপর পরিশোধিত আয়কর ধারা 82 অনুযায়ী ন্যূনতম কর; তা ফেরতযোগ্য নয় বা সমন্বয়যোগ্য নয়। আপনার নিয়মিত উৎসের আয় না থাকায় মোটর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় প্রদত্ত অগ্রিম কর ফেরতগোগ্য হবে না।
ধারা 68B এর বিধান ১ জুলাই ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে। ২০১৬-১৭ কর বছরের করদায় পরিগণনা ও কর ক্রেডিট প্রদানের ক্ষেত্রে এস, এর, ও ন্য ৯৯-আইন/২০১৫, তারিখ ১৭মে, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ এর আওতায় পরিশোধিত কর ধারা 68B এর উপধারা (2) এর আওতায় পরিশোধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

৩৫। অগ্রিম আয়কর পরিশোধে ঘাটতিতে সুদ আরোপ: ধারা 73 এর প্রতিস্থাপন
অর্খ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 73 প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ধারা 73 এর নতুন বিধানমতে, কোন অর্থ বছরে কোন করদাতা কর্তৃক অধ্যায় VII এর আওতায় প্রদত্ত অগ্রিম কর ও উৎস করের সমষ্টি যদি সংশ্লিষ্টি কর বছরে regular assessment এর মাধ্যমে নিরূপিত করদায়ের ৭৫% এর কম হয় তাহলে বর্ণিত অগ্রিম কর ও উৎস করের সমষ্টি উক্ত ৭৫% অপেক্ষা যতটুকু কম তার উপর করদাতাকে বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে সরল সুদ পরিশোধ করতে হবে।
করদাতা Tax Day এর পরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে এ সরল সুওদর হার ৫০% বেশি হবে।

যে অর্থ বছরে অগ্রিম কর প্রযোজ্য তার পরবর্তী ১ জুলাই থেকে Regular assessment এর তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য সরল সুদ গণনা করা হবে। তবে সরল সুদ গণনার কাল দুই বছরের বেশি হবে না।
উদাহরণ ৩৫-১
৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে জনাব মারূফ খানের বেতন আয়ের পরিমাণ ছিল ৪,০০,০০০/- টাকা এবং গৃহ-সম্পত্তি খাতের আয় ছিল ৬,০০,০০০/- টাকা । জনাব খানের নিকট থেকে নিয়োগকর্তা কর্তৃক ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে উৎসে ১৫,০০০/- টাকা উৎসে কর কতৃন করা হয়েছে। এছাড়া জনাব মারূফ খান উক্ত অর্থ বছরে ১৬,০০০/- টাকা অগ্রিম কর প্রদান করেছেন।
জানাব মারুফ খান তার আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্র সময়ের আবেদন করলে উপকর কমিশনার একমাস সময় মঞ্জুর করেন। সে অনুযায়ী তিনি ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ধারা 74 অনুযায়ী ৬১,৫০০/- টাকা স্বীকৃত দায় পরিশোধ করে সাধারণ পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। উপকর কমিশনার তার প্রদর্শিত আয় সঠিক পান এবং কর মামলাটি ৩১ মার্চ ২০১৭ তারিখে নিষ্পন্ন করেন।
জনাব মারূফ খানের ক্ষেত্রে ধারা 73 অনুযায়ী সরল সুদের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ:
(৪,০০,০০০+৬,০০,০০০) =১০,০০,০০০/- টাকার উপর নিয়মিত করহার প্রয়োগে করদায় হয় ৯২,৫০০/- টাকা
Regular assessment এর মাধ্যমে নিরূপিত করদায়ের ৭৫% :
(৯২,৫০০x৭৫%) =৬৯,৩৭৫/- টাকা
৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত সময়ের মোট কর পরিশোধ:
(১৫,০০০+১৬,০০০) = ৩১,০০০/- টাকা ।
করদাতা ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে সমুদয় স্বীকৃত দায় ৬১,৫০০/- টাকা পরিশোধ করায় উক্ত তারিখের পর আর ঘাটতি নেই। ফলে ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত সময়কালের জন্য অর্থাৎ ১৮২ দিনের জন্য সরল সুদ পরিগণনা করা হবে।

জনাব মারুফ খান Tax Day এর পরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করায় সরল সুদের হার ৫০% বেশি হবে। অর্থৎ এ ক্ষেত্রে সরল সুদের হার হবে ১৫%।
ফলে, সরল সুদের পরিমাণ হবে (৩৮,৩৭৫x১৫%x(১৮২÷৩৬৫) =২,৮৭০/-টাকা
কোন করদাতিা ধারা 65 এর বিধান অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধ করলেও ধারা 73 এর উপধারা (1) এর বিধান প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, কোন করদাতা ধারা 65 এর বিধান অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হলে ধারা 125 অনুযায়ী জরিমানা আরোপসহ আয়কর অধ্যাদেশেরেআওতায় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান বহাল থাকছে।
প্রতিস্থাপিত ধারা 73 এর উপধার (3) এবং (4) পূর্ববর্তী ধারা 73 এর উপধার (3) এবং (4) এর অনুরূপ।
ধারা 73 এর ব্যাখ্যা (explanation) তে বলা হয়েছে regular assessment বলতে ধারা 82BB (3) এর অধীনে কর নির্ধারণও অন্তর্ভুক্ত হবে। কোন করদাতা ধারা 82BB এর আওতায় সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করলে রিটার্ন দাখিলের সময় বা রিটার্ন করার সময় সরল সুদ পরিগণনা করা হবে না: করদাতার 82BB ধারার রিটার্ন 82BB(3) ধারায় অডিটের জন্য নির্বাচিত হলে তার ফলশ্রুতিতে কর নির্ধারণের সময় সরলসুদ আরোপযোগ্য হবে।
৩৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিরে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে বিলম্ব সুদ আরোপ: আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা 73A এর সন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 73A সন্নিবেশ করে বিধান করা হয়েছে যে, কোন করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ধারা 2 এর ক্লজ (62A) তে সংজ্ঞায়িত Tax Day এর মধ্যে ধারা 75 তে বর্ণিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে করদাতার উপর মাসিক ২% হারে বিরম্ব সুদ (delay interest) আরোপযোগ্য হবে। এ ছাড়া, এরূপ করদাতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মসয়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতায় জরিমানাসহ আয়কর অধ্যাদেশের অধীন অন্যান্য বিধানও যথারীতি প্রয়োগযোগ্য হবে।
বিলম্ব সুদ পরিগণনা করা হবে সংশ্লিষ্ট কর বছরে করদাতার মোট আয়ের উপর নিরূপিত কর (tax assessed on total income) এবং উৎস করসহ অগ্রিম করের পাথর্তক্যের উপর।
মোট আয়ের উপর নিরূপিত কর (tax assessed on total income) বলতে বুঝাবে-
(ক) ধারা 82BB এর আওতায় দাকিলকৃত এবং উক্ত ধারার আওতায় নিষ্পতিকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে, উক্ত উপধারা (1) এর অধীন প্রদেয় করদায়, উপধারা (2) এর অধীন পরিগণনাকৃত করদায় বা উপধার (3) এর অধীনে নিরূপিত মোট আয়ের ভিত্তিতে নিরূপিত করদায়-এ তিনটির মধ্যে যেটি বেশী হয়, তা;
(খ) ধারা 82BB এর আওতায় নিষ্পত্তিকৃত নয় এরূপ রিটার্নের ক্ষেত্রে, উপ কর কমিশনার কর্তৃক নিরূপিত মোট আয়ের ভিত্তিতে পরিগণনাকৃত করদায়।
বিলম্ব সুদ পগিণনার সময়কাল হবে Tax Day এর পরবর্তী দিবস থেকে শুরু করে-
(ক) যেক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের দিন পর্যন্ত:
(খ) যেক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা হয় নি, সেক্ষেত্রে নিয়মিত কর নির্ধারণের দিন পর্যন্ত।
বিলম্ব সুদ পরিগণনার সর্বোচ্চ সময়কাল হবে ১ বছর ।
যে সকল ক্ষেত্রে ধারা 75 এর উপধারা (5)proviso এর এর বিধান প্রযোজ্য সে সকল ক্ষেত্রে এ ধারায় বর্ণিত বিলম্ব সুদ প্রদেয় হবে না ।
উদাহরণ ৩৬-১
৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে মিজ মৌলি হাসানের মোট আয় ছিল ৬,০০,০০০/-টাকা । তিনি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১২,০০০/- টাকা অগ্রিম কর ও ৪,০০০/- টাকা উৎস কর প্রদান করেছেন।
মিজ্ হাসান আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করলে উপকর কমিশনার দুই মাস সময় মঞ্জুর করেন। মিজ্ মৌলি হাসান ১৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে ১৪,০০০/- টাকার পে-অর্ডারসহ ধারা 82BB অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। উপকর কমিশনার ৩০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে ধারা 82BB এর উপধারা (2) এর আওতায় মিজ্ হাসানের রিটার্নটি process করেন, যাতে কোন গাণিতিক ক্রটি পাওয়া যায়নি । রিটার্নটি ধারা 82BB এর উপধারা (3) এর আওতায় অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়নি।
এক্ষেত্রে,
মোট আয়ের উপর নিরূপিত কর (tax assessed on total income) = ৩০,০০০/-
অগ্রিম কর ও উৎস করের সমষ্টি : (১২,০০০+৪,০০০)=১৬,০০০/- টাকা ।
পার্থক্য: ৩০,০০০-১৬,০০০=১৪,০০০ টাকা
বিলম্ব সুদ পরিগণনার সময়: ১ডিসেম্বর ২০১৬ হতে ১৫ জানুয়ারী ২০১৭ =১ মাস ১৫দিন ।
ফলে, মাসিক ২% হারে বিলম্ব মুদ
=[১৪,০০০x২%x১]+[১৪,০০০x২%x(১৫÷৩১)] = ৪১৫/-টাকা
কোন করদাতার ক্ষেত্রে বিলম্ব সুদ প্রযোজ্য হলে করদাতা বিলম্ব সুদ ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। উপ কর কমিশনার রিটার্ন process বা কর নির্ধারণের সময় বিলম্ব সুদ অন্তর্ভূক্ত করে দাবীনামা জারী করবেন।
বিলম্ব সুদের এ বিধান ১ জুলাই ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে।
৩৭।আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 74 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ন্যূনতম কর সংক্রান্ত ধারা 16CCC বিলোপ করে উক্ত ধারার বিধান সমূহ ধারা 82C তে অন্তর্ভুক্ত করায় ধারা 74 এর উপধারা (1) বর্ণিত তে “ section 16CCC ” শব্দগুলির পরিবর্তে “sub-section(4) of section 82C” প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
৩৮। আয়ের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 75 এর প্রতিস্থাপন
(ক) যদি আয় বছরে ঐ person এর মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে:

(খ) যদি আয় বছরের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন বছরের কোন একটিতে ঐ person এর কর নির্ধারণ (সার্বজনীন স্বনির্ধারণী কর নির্ধারণসহ) ও তার ফলে করদায় সৃষ্টি হয়ে থাথে;
(গ) যদি ঐ person নিম্নের কোন একটি হয়ে থাকে-
(১) কোন কোম্পানী;
(২) এনজিও এ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে নিবন্ধিত কোন এনজিও;
(৩) কোন সমবায় সমিতি:
(৪) কোন ফার্ম;
(৫) কোন ব্যক্তি-সংঘ;
(৬) কোন কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার employee;
(৭) কোন ফার্মের অংশীদার;
(৮) সরকার অথবা সরকারের কোন কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের বা প্রচলিত কোন আইন, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কোন কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের কর্মচারী (employee) যিনি সংশ্লিষ্ট আয় বছরের যে কোন সময় ১৬,০০০/- টাকা বা তদূর্ধ্বে পরিমাণ মূল বেতন আহরণ করেছেন;
(ঘ) যদি আয় বছরে ঐ person এর ধার 44 এর আয়তায় কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য কোন আয় থাকে। তবে কেবল দাতব্য উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে গঠিত কোন প্রতিষ্ঠান অথবা কোন ফান্ডের জন্য এ বিধান প্রযোজ্য হবে না;
(ঙ) যদি আয় বছরের কোন এক সময়ে নিম্নবর্ণিত শর্তের যে কোনটি ঐ person এর জন্য প্রযোজ্য হয়-
(১) মোটর গাড়ির মালিকানা থাকা (মোটর গাড়ি বলতে জীপ বা মাইক্রোবাসকেও বুঝাবে);
(২) মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর অধীন নিবন্ধিত কোন ক্লাবের সদস্যপদ থাকা;
(৩) কোন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোন ব্যবসা বা পেশা পরিচালনা;
(৪) চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক, আইনজীবী , চার্টার্ড একাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থাপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোন স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধন থাকা;
(৫) আয়কর পেশাজীবী (income tax proctioner)হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিবন্ধন থাকা;
(৬) কোন বণিক বা শিল্প চেম্বার বা ব্যবসয়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্যপদ থাকা;
(৭) কোন পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কোন পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া ;
(৮)কোন সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা কোন স্থানীয় সরকারের কোন টেন্ডরে অংশগ্রহণ করা;
(৯) কোন কোম্পানীর বা কোন গ্রুপ অব কোম্পানীজের পরিচালনা পর্ষদে থাকা।

কোন অনিবাসী বাংলাদেশী তার আয়ের উপর পরিশোধযোগ্য করের (যদি থাকে) সমপরিমাণ অংকের ব্যাংক ড্রাফটসহ তার রিটার্ন বিদেশে তার নিকটস্থ বাংলাদেশি মিশনে দাখিল করতে পারেন। এরূপ রিটার্ন পাওয়া গেলে বাংলাদেশি মিশন অপিসিয়াল সীলসহ রিটার্নের একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র প্রদান করবে এবং রিটার্নটি বোর্ডের নিকট প্রেরণ করবে।
উপধারা (2) অনুযায়ী নিম্নোক্ত person এর জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক (mandatory) হবে না-
(১) সরকারের Monthly Payment Order (MPO) এর অধীনে সুবিধা প্রাপ্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(২) কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;
(৩) কোন ফান্ড;
(৪) কোন class of persons যাদেরকে অফিসিয়াল গেজেটে আদেশ জারীর মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল থেকে বোর্ড অব্যাহতি প্রদান করেছে।
উপধারা (3) এর ক্লজ (a) তে বিধান করা হয়েছে যে আয়ের রিটার্নটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে প্রযোজ্য সকল বিবরণ ও তথ্য সন্নিবেশ করে দাখিল করতে হবে। রিটার্নের সাথে প্রযোজ্য সকল তফসিল, বিবরণী, হিসাব, সংযোজনী এবং দলিলাদিও দাখিল করতে হবে।
রিটার্ন স্বাক্ষরিত (signed) ও সত্য-প্রতিপাদিত (verified) হওয়ার শর্তাদি আগের মতো রাখা হয়েছে।
Individual এর ক্ষেত্রে রিটার্নের সাথে ধারা 80 তে বর্ণিত বিধানমতে সম্পদ ও দায়ের বিবরণী এবং জীবন যাত্রা সম্পর্কিত বিবরণী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) দাখিল করতে হবে।
Company এর ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী এবং হিসাব বিবরণীর লাভ লোকসান হিসাব বা আয় বিবরণীতে প্রদর্শিত মুনাফার সাথে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত মুনাফার পার্থক্যের ব্যাখ্য সন্নিবেশ করে একটি পরিগণনা পত্র (Computation sheet) রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে।
উপধারা (4) তে বিধান করা হয়েছে যে, বোর্ড সরকারী গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্দেশনা জারী করে-
(১) ধারা 75 তে বর্ণিত রিটার্ন electronically বা অন্য কোন machine readable বা computer readableমাধ্যমে দাখিলযোগ্য হবে মর্মে বলে দিতে পারবে;
(২) উক্ত electronic বা machine readable বা computer readable রিটার্ন কিরূপে এবং কিভাবে দাখিল করা হবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে ।
উপধারা (5) তে বিধান করা হয়েছে যে, উপধারা (6) এর আওতায় সময় বাড়ানো না হলে ধারা 75 এর অধীনে দাখিলযোগ্য সকল রিটার্ন Tax Day বা তার পূর্বে দাখিল করতে হবে। ধারা 2 এর ক্লজ(62A) তে Tax Day এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
তবে, কোন সরকারী কর্মকর্তা প্রেষণে বিদেশে উচ্চ শিক্ষারত থাকলে বা লিয়েনে বাংলাদেশের বাইরে কর্মরত থাকলে উক্ত প্রেষণ বা লিয়েন সমাপ্তিতে দেশে আসার তিন মাসের মধ্যে তার প্রেষণ বা লিয়েনকালীন সময়ের সকল রিটার্ন একত্রে দাখিল করবেন।

উপধারা (6) এ বলা হয়েছে উপ কর কমিশনার কোন Person এর নিকট থেকে নির্ধারিত পরমে আবেদন পাওয়ার প্রেক্ষিতে রিটার্ন দাখিলের সময় দুই মাস পর্যন্ত এবং পরিদর্শী যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে আরো দুই মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবেন।
রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির জন্য আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর বিধি 24 এর উপবিধি (6) তে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট ২২দ্রষ্টব্য) আবেদন করতে হবে।

এস,আর,ও নং ২৫৯-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ১০ আগস্ট, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমাল, ১৯৮৪ সংশোধন করে নিম্নরূপ ৩ ধরণের নতুন রিটার্ন ফরম প্রবর্তন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট অংশে সন্নিবেশিত), যা নিম্নরূপ;
(১) ব্যক্তি-করদাতার জন্য-ফরম IT-11GA2016
(২)কোম্পানী করদাতার জন্য –ফরম IT-11GHA2016
(৩) অন্যান্য সকল শ্রেণির করদাতার জন্য-ফরম IT-11CHA2016
২০১৬-১৭ কর বছরে নতুন রিটার্ন ফরমের পাশামাশি আগের রিটার্ন ফরমগুলোও বহাল থাকবে।
ধারা 75 এর বিধান ১ জুলাই ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে।

প্রশ্ন ৩৮-১:প্রশ্ন ৩৮-১:Tax Day এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা বিধায় আমি আমার রিটার্ন দাখিলের সময় দু’মাস বাড়ানোর জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করি। উপ কর কমিশনার আমাকে দু’মাস সময় প্রদান করেন। আমি ১৫ ডিসেম্বর তারিখে আয়কর রিটার্নে দাখিল করি, যা উপ কর কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত সময়ের মধ্যে। আমার ক্ষেত্রেও কি ধারা 73 অনুযায়ী ৫০% অতিরিক্ত সরল সুদ এবং ধারা 73A অনুযায়ী বিলম্ব সুদ (delay interest) আরোপযোগ্য হবে?
উত্তর ৩৮-১: হ্যাঁ, হবে। উপকর কমিশনার কর্তৃক সময় দেয়া হলেও Tax Day এর পরে রিটার্ন দাখিল করার কারণে আপনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরল সুদ ও বিলম্ব সুদ আরোপযোগ্য হবে। তবে আপনি চাইরে অতিরিক্ত সরল সুদ ও বিলম্ব সুদ ছাড়াই সাধারণ বা স্বার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে আপনার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। পরবর্তীতে উপ কর কমিশনার প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরল সুদ ও বিলম্ব সুদ আরোপ করে আপনার নিকট দাবীনামা প্রেরণ করবেন।

৩৯। উৎস করের রিটার্ন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 75A এর প্রতিস্থাপনঃ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 75A প্রতিস্থাপন করে উৎস করের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধান অনুযায়ী কোম্পানীর পাশাপাশি প্রত্যেক সমবায় সমিতি এবং এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত প্রত্যেক এনজিওর জন্য উৎস করের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোম্পানী, সমবায় সমিতি এবং এনজিও এর কর নির্ধারণ (assessment) যে উপ কর কমিশনারের অধিক্ষেত্রাধীন তা নিকট উৎস করের রিটার্ন দাখিল করতে হবে
উৎস করের রিটার্ন বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে প্রযোজ্য সকল বিবরণ ও তথ্য সন্নিবেশ করে দাখিল করতে হবে। রিটার্নের সাথে প্রযোজ্য সকল তফসিল, বিবরণী, হিসাব, সংযোজনী এবং দলিলাদি দাখিল করতে হবে। কোম্পানীর ক্ষেত্রে প্রধান কার্মকর্তা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যক্তি রিটার্নে স্বাক্ষর ও সত্য-প্রতিপাদন করবেন।
প্রতি অর্থ বছরের জন্য দু’টি উৎস করের রিটার্ন দাখিল করতে হবে-

ক্রম উৎসে কর কর্তন/আদায়ের সময় উৎস কর রিটার্ন রিটার্ন দাখিলের শেষে তারিখ
১ জুলাই- ৩১ ডিসেম্বর প্রথম রিটার্ন একই অর্থ বছরের ৩১ জানুয়ারি
১ জানুয়ারি-৩০ জুন দ্বিতীয় রিটার্ন পরবর্তী অর্থ বছরের ৩১ জুলাই


উদাহরণ ৩৯-১
১ জুলাই ২০১৬ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত সময়কালে কতৃনকৃত ও আদায়কৃত উৎস করের জন্য উৎস করের রিটার্নটি হবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম রিটার্ন (First Return) । প্রথম রিটার্নটি ১ জানুয়অরি ২০১৭ হতে ৩১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
১ জানুয়ারি ২০১৭ হতে ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত সময়কালে কর্তনকৃত ও আদায়কৃত উৎস করের জন্য উৎস করেরর রিটার্নটি হবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের দ্বিতীয় রিটার্ন (Second Return) ।দ্বিতীয় রিটার্নটি ১ জুলাই ২০১৭ হতে ৩১ জুলাই ২০১৭ তারিখের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
তবে, রিটার্ন দাখিলকারীর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে উপ কর কমিশনার রিটানৃ দাখিলের সময়সীমা ১৫ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবেন।
উপধারা (3) তে বিধান করা হয়েছে যে, বোর্ড সরকারী গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্দেশনা জারী করে-
(১) এ ধারায় বর্ণিত উৎস কর রিটার্ন electronically বা অন্য কোন machine readable বা computer readable মাধ্যমে দাকিলযোগ্য হবে মর্মে বলে দিতে পারবে;
(২) উক্ত electronic বা machine readable বা computer readable রিটার্ন কিরূপ ফরমে এবং কিভাবে দাখিল করা হবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে।
এস, আর, ও নং ২৫৯-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ১০ আগস্ট, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর রিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধন করে উৎস করের নতুন রিটার্ন ফরম প্রবতৃন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট ২৬ দ্রষ্টব্য)।
ধারা 75A এর বিধান ১ জুলাই ২০১৬ তেকে কার্যকর হবে।
৪০। উৎস কর রিটার্ন অডিটের বিধান প্রবর্তন: আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা 75AA এর সন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে ধারা 75AA সন্নিবেশ করে উৎস কর রিটার্ন অডিটের বিধান প্রবতৃন করা হয়েছে। সন্নিবেশিত ধারার বিধানে বলা হয়েছে বোর্ডের অনুমোদনক্রমে উপকর কমিশনার ধারা 75A এর আওতায় দাখিল কৃত রিটার্ন হতে অডিটের জন্য রিটার্ন নির্বাচন করে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে অডিট পরিচালনা করবেন-
(১) আয়কর অধ্যাদেশের অধ্যায় VII এবং বিধিমালায় বর্ণিত হারে ও পদ্ধতিতে উৎসে কর কতৃন বা সংগ্রহ করা হয়েছে কি-না;
(২) উৎসে কর্তিত বা আদায়কৃত কর যথানিয়মে ও যথাসময়ে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে কি-না।
(৩) আয়কর অধ্যাদেশে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী উৎস করের সনদ প্রদান করা হয়েছে কি-না।
অডিট কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে যদি দেখা যায় উৎস কর কর্তন, আদায়, সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান বা উৎস করের সনদ প্রদানের ক্ষিত্রে কর আইনের বিধান যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়নি তাহলে উপ কর কমিশনার দায়ী ব্যক্তির বিষয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ধারা 57,57A ও 124 এর আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণসহ আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় প্রযোজ্য অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
কোন রিটার্ন যে অর্থ বছরে দাখিল করা হয়েছে সে অর্থ বছর শেষ হওয়ার ৪ বছর অতিক্রান্ত হলে ঐ রিটার্ন আর অডিটের জন্য নির্বাচন করা যাবে না।
ধারা 75AA এর বিধান ১ জুলাই ২০১৬ তেকে কার্যকর হবে। ৩০ জুন ২০১৬ সালের মধ্যে দাখিলকৃত ত্রৈমাসিক রিটার্ন উপধারা (4) এর শর্ত পালন সাপেক্ষে ধারা 75AA এর আওতায় অডিটযোগ্য হবে।
৪১। আয়ের রিটার্নের পরিবর্তে সার্টিফিকেট দাখিল সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 76 এর বিলোপ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 76 বিলোপ করা হয়েছে । এর ফলে নির্দিষ্টকয়েকটি ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নের পরিবর্তে সার্টিফিকেট দাখিলের যে বিধান ছিল তা আর বহাল থাকলো না । এখন থেকে ঐ সকল করদাতাকেও যথানিয়মে আয়কর রিটার্ন দাকিল করতে হবে।
৪২। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 80 এর প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 80 প্রতিস্তাপন করা হয়েছে। ধারা 80 এর উপধারা (1) এর নতুন বিধান অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি করদাতা (person being an individual assessee) নিম্নোক্ত শতৃসমূহ পূরণ করেন তাহলে আয় বছরের শেষ তারিখে তার নিজের, spouse এর (spouse করদাতা না হয়ে থাকলে ) এবং নির্ভর শীল সন্তানদের পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী ঐ ব্যক্তির আয়কর রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে। শর্তসমূহ হলো।
(১) আয় বছরের শেষ তারিখে মোট পরিসম্পদ (gross wealth) এর পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকার অদিক হলে; অথবা
(২) আয় বছরের শেষ তারিখে মোটর গাড়ি (জীপ বা মাইক্রোবাসসহ) এর মালিকানা থাকলে ; অথবা
(৩) আয় বছরে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোন গৃহ-সম্পত্তি বা এপার্টমেন্টের মালিক হলে অথবা গৃহ-সম্পত্তি বা এপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করল।
কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ না হলে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাকিল করা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে বর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ না করা সত্বেও কোন ব্যক্তি-করদাতা চাইলে স্বপ্রণোদিতভাবে (voluntarily) পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করতে পারবেন।
পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী বিদি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে দাখিল করতে হবে। এস, আর, ও নং ২৬৯- আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ১০ আগষ্ট, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী ফরম (IT-10B2016) প্রবর্তন করা হয়েছে। যে সকল করদাতা নতুন রিটার্ন ফরম (IT-11GA2016) ব্যবহার করবেন তাদেরকে IT-10B2016 ফরম ব্যবহার করতে হবে।
২০১৬-১৭ কর বছরে নতুন IT-10B2016 ফরমের পাশাপাশি আগের IT-10B ফরমও বহাল থাকবে।
ধারা 80 এর উপধারা (2) এর বিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতা (person being an individual assessee) কে তার আয়কর রিটার্নের সাথে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে জীবনযাত্রা সংশ্লিস্ট ব্যয়ের বিবরণী দাখিল করতে হবে।
তবে বেতন অথবা ব্যবসা বা পেশা খাতের আয় রয়েছে এরূপ ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টি আয় বছরের মোট আয় ৩ লক্ষ টাকার বেশি না হয়ে থাকলে উক্ত ব্যয়ের বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক হবে না। তবে কোন কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হলে তার আয়ের উৎ বা মোট আয়ের পরিমাণ যা-ই হোক, আয়কর রিটার্নের সাথে জীবনযাত্রা সংশ্লিস্ট ব্যয়ের বিবরণী দাখিল করা তার জন্য বাধ্যতামূলক।
ধারা 80 এর উপধারা (1) এর বিধান অনুযায়ী পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করেননি এমন যেকোন ব্যক্তিকে উপকর কমিশনার উপধারা (3) অনুযায়ী নোটিশ প্রেরণ করে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করার জন্য বলতে পারবেন। যে ব্যক্তি-করদাতার ক্ষেত্রে উপধারা (1) এর বিধান অনুযায়ী পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক নয় তার উপরও এ নোটিশের আদেশ প্রযোজ্য হবে।
ধারা 80 এর নতুন বিধান ১ জুলাই ২০১৬ তেকে কার্যকর হব।
৪৩। সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতি সম্পার্কিত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82BB এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 82BB তে সংশোধনী এনে elctronically দাখিল কৃত রিটার্ন বলতে কি বুঝাবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে । এছাড়া উপধারা (2) এর রির্টান process এর আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
ধারা 82BB এর উধারা (1) তে সংযোজিত explanation অনুযায়ী, electronically দাখিলকৃত রিটার্ন বলতে ধারা 75 এর উপধারা (4) এর বিধান অনুযায়ী দাখিল কৃত রিটার্নকে বুঝাবে।
আগে দাখিলকৃত রিটার্নের কোন তথত্য থেকে কোন “incorrect claim ” পরিদৃষ্ট হলে তা উপধারা (2) অনুযায়ী রিটার্ন process কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হতো। পরিবর্তিত বিধান অনুযায়ী, রিটার্নের সাতে দাখিলকৃত কোন বিবরণী বা দলিলাদি থেকে কোন “ incorrect claim” পরিদৃষ্ট হলে তাও রিটার্ন process কার্যক্রমের আওতায় আসবে।
৪৪। ন্যূনতম করের নতুন বিধান প্রবর্তন: আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 82C প্রতিস্থাপন করে ন্যূনতম কর (minimum tax) এর নতুন বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে আয়কর অধ্যাদেশের অন্য কোন বিধানে যা কিছু বলা থাকুক না কেন, একজন করদাতাকে এ ধারার বিধানের আওতায় ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে।
ন্যূনতম কর (minimum tax) আয়ের উৎস (source of income) এবং করদাতা-ভিত্তিতে আরোপিত হবে।
কোন কোন আয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হবে তা উপধারা (2) তে বলা হয়েছে। উপধারা (2) এর বিধান অনুযায়ী-
(ক) ধারা 52, 52A, 52AAA, 52B, 52C, 52D, 52JJ, 52N, 52O, 52R, 53, 53AA, 53B, 53BB, 53BBB, 53BBBB, 53C, 53CCC, 53DDD, 53EE, 53F, 53FF, 53G, 53GG, 53H, 53M, 53N, ও 55 এর আওতায় উৎসে কর্তিত বা আদায়কৃত কর শ্রেণি নির্বিশেষে সকল করদাতার ক্ষেত্রে কর্তন বা সংগ্রহ সংশ্লিষ্ট উৎস বা উৎসসমূহের জন্য করদাতার ন্যূনতম করদায় বলে বিবেচিত হবে।
তবে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে উৎসে কর্তিত/ আদায়কৃত কর ধারা 82C এর আওতাভুক্ত হবেনা-
(১) ধারা 52 এর অধীনে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি(person) এর নিকট তেকে বর্ণিত উৎসের জন্য কর্তিত/আদায়কৃত কর –
(অ) কোন তেল কোম্পানীর ঠিকাদার বা ঠিকাদারের উপ-ঠিকাদার, যার ক্ষেত্রে এতদসংশ্লিষ্ট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর কর্তন বা আদায় হয়;
(আ) কোন তেল বিপণকানী কোম্পানী এবং পেট্রোল পাম্প ব্যতীত তার কোন ডিলার বা এজেন্ট;
(ই) কোন অয়েল রিফাইনারী কোম্পানী;
(ঈ) গ্যাস ট্রান্সমিশন বা বিতরণে নিয়োজিত কোন কোম্পানী।
(২) কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান (industrial undertaking)এর নিজস্ব উৎপাদনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনীত কাঁচামাল বিপরীতে ধারা 53 এর অধীনে উৎসে কর্তিত/আদায়কৃত উৎস কর।
(৩) ধারা 53F এর উপধারা (1) এর ক্লজ (C) এবং উপধারা (2) তে বর্ণিত উৎস থেকে কর্তিত কর ব্যতীত উক্ত ধারার অধীনে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে কর্তিত/ আদায়কৃত উৎস কর।
(খ) উপধারা (2) অনুযায়ী ন্যূনতম করের বিধান প্রযোজ্য এরূপ সকল উৎসের হিসাবের বইপত্র সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে ধারা 35 তে বর্ণিত মতে নিয়মিত পদ্ধতি (regular manner) অনুসরণ করতে হবে।

প্রশ্ন ৪৪-১: : আমার কোম্পানী বাজারে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে Finished goods আমদানি করে, যার উপর আমদানি পর্যায়ে ধারা 53 অনুযায়ী উৎসে কর আদায় হয়। আমার কোম্পানী কি আগের মতো back-calculation করে মোট আয় নিরূপন করব এবং সংক্ষিপ্ত নিরীক্ষিত হিসাব দাখিল করতে পারবে?
উত্তর ৪৪-১: আপনার কোম্পানীর আমদানি ব্যবসায়ের আয়ের ক্ষেত্রে ধারা 82C এর ন্যূনতম কর এর বিধান প্রযোজ্য। আপনার কোম্পানীর আমদানি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে back-calculation করে মোট আয় নিরূপণের পরিবর্তে ধারা 82C এর নতুন প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী মোট আয় নিরূপণের পরিবর্তে ধারা 82C এর নতুন প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী মোট আয় ও করদায় নিরূপন করতে হবে। এ ছাড়া, আপনার কোম্পানীকে ধারা 35 এর বিধান মোতাবেক পূণাঙ্গ নিরীক্ষিত হিসাব দাখিল করতে হবে। সংক্ষিপ্ত নিরীক্ষিত হিসাব দাখিলের কোন আইনানুগ সুযোগ নেই।
(গ) উপধারা (2) অনুযায়ী ন্যূনতম করের বিধান প্রযোজ্য এরূপ সকল উৎসের ক্ষেত্রেও নিয়মিত পদ্ধতিতে (In the regular manner) মোট আয় নিরূপন ও প্রযোজ্য করহার প্রয়োগ করে করদায় পরিগণনা করতে হবে। অর্থাৎ কোনরূপ back-calculation পদ্ধতি অনুসরণ করে অনুমিত (presumptive) মোট আয় নিরূপণ করা হবে না। যদি কোন উৎসের ক্ষেত্রে উক্তরূপে পরিগণিত করদায়ের অংক ন্যূনতম করের অংক অপেক্ষা বেশি হয় তাহলে উক্ত বেশি অংকটি হরে উক্ত উৎসের জন্য ন্যূনতম কর।
উদাহরণ ৪৪-১
ধর যাক, জনাব ইকবাল প্রসাধনসামগ্রী আমদানি করে বাজারে বিক্রি করেন। ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে করদাতা মোট ৪০,০০,০০০/- টাকার প্রসাধনসামগ্রী আমদানি বাবদ আমদানি পর্যায়ে ৫% হারে উৎসে মোট ২,০০,০০০/- টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। উক্ত করদাতা ২০১৬-১৭ কর বছরে উক্ত ব্যবসায়ের আয় ১৬,০০,০০০/- টাকা প্রদশর্ন করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। উপ কর কমিশনার করদাতার ক্ষেত্রে ধারা 30 অনুযায়ী কোন খরচ অগ্রাহ্য করার মতো বা তৃতীয় তফসিল অনুযাযী অবচয় খাতে যোগ করার মতো কিছু পাননি। ফলে করদাতার প্রদর্শিত মোট আয় গ্রহণ করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে,
উৎসে কর্তিত কর: ২,০০,০০০/- টাকা
নিয়মিত পদ্ধতিতে নিরূপিত মোট আয়: ১৬,০০,০০০/- টাকা
আয়ের উপর আয়কর: ২,০৫,০০০/- টাকা।

করদাতার ক্ষেত্রে ধারা 82C এর উপধারা (2) অনুযায়ী করদায় হবে ২,০৫,০০০/- টাকা। অর্থাৎ করদাতাকে উৎস করের অতিরিক্ত আরো (২,০৫,০০০ – ২,০০,০০০)= ৫,০০০/- টাকা আয়কর বাবদ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া করদাতার ক্ষেত্রে সারচার্জসহ অন্যান্য খংক প্রযোজ্য হলে তা-ও পরিশোধ করতে হবে।

উদাহরণ ৪৪-১
ধরা যাক, উদাহরন ৪৪-১ তে উল্লিখিত করদাতা ব্যবসায় আয় ১২,৫০,০০০/- টাকা প্রদর্শন করেছেন। এক্ষেত্রেও উপ কর কমিশনার ধারা 30 অনুযায়ী কোন খরচ অগ্রাহ্য করার মতো বা তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী অবচয় খাতে যোগ করার মতো কিছু পাননি।
ফলে করদাতার প্রদর্শিত মোট আয় প্রহণ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে,
উৎসে কর্তিত কর: ২,০০,০০০/- টাকা
নিয়মিত পদ্ধতিতে নিরূপিত আয়: ১২,৫০,০০০/- টাকা
আয়ের উপর আয়কর: ১,৩৫,০০০/- টাকা।

করদাতার ক্ষেত্রে ধারা 82C এর উপধারা (2) অনুযায়ী ন্যূনতম করদায় হবে ২,০০,০০০/- টাকা। করদাতার ক্ষেত্রে সারচার্জসহ অন্যান্য অংক প্রযোজ্য হলে তা-ও পরিশোধ করতে হবে।
তবে, নিম্নের ছকে বর্ণিত উৎসসমূহের ক্ষেত্রে ছকে বর্ণিত মতে আয় ও করদায়ের পরিমাণ নিরূপণ করা হবে:

Serial No. Sources of income as mentioned in Amount that will be taken as income Rate or amount of tax
(1) (2) (3) (4)
1 Section 52C Amount of compensation as mentioned in section 52C As mentioned in section 52C
2 Section 52D Amount of interest as mentioned in section 52D As mentioned in section 52D
3 Section 52DDD Amount of export cash subsidy as mentioned in section 53DDD As mentioned in section 53DDD
4 Section 53F(1)(c)and(2) Amount of interest as mentioned in Section 53F As mentioned in section 53F
5 Section 53H Deed value as mentioned in section 53H As mentioned in section 53H and the rule made thereunder

উদাহরণ 8৪-৩

ধরা যাক, ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে একজন করদাতা সঞ্চয়পত্রের সুদ প্রাপ্ত হয়েছেন ৪,০০,০০০/- টাকা, যার উপর ধারা 52D অনুযায়ী ৫% হারে উৎসে ২০,০০০/- টাকা কর্তন করা হয়েছে। করদাতার আর কোন উৎসের আয় নেই।

এক্ষত্রে, ২০১৬-১৭ কর বছরে করদাতার মোট আয় হবে ৪,০০,০০০/- টাকা এবং করদায়ের পরিমাণ হবে ২০,০০০/- টাকা।

যে ক্ষেত্রে ধারা 53H এর আওদায় উৎসে কর আদায় করা হয়েছে সে ক্ষেত্রে হস্তান্তরিত সম্পত্তির মূল যদি করদাতার পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে আগে প্রদর্শিনের ক্ষেত্রে হস্তান্তরিত সম্পত্তির দলিলমূল্য হতে আগের প্রদর্শিত মূল্য বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংক নেয়া হবে।

ধারা 82C এর উপধারা (2) এর আওতায় নিয়মিত পদ্ধতিতে মোট আয় নিরূপণের ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার সাধারণভাবে করদাতার প্রদর্শিত বিক্রয় বা প্রাপ্তি অপ্রাহ্য করে তা প্রাক্কলন করবেন না, অথবা প্রমাণযোগ্যতা না থাকার সূত্রে করদাতার দাবীকৃত খরচ অগ্রাহ্য করবেন না। তবে করদাতার কোন খরচ ধারা 30 অনুযাযী অননুমোদনযোগ্য হলে বা তৃতীয় তফসীল অনুযাযী অনুমোদনযোগ্য অবচয় অপেক্ষা বেশি অবচয় দাবী করা হলে অথবা অন্য কোন ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় অনুমোদনযোগ্য সীমার অতিরিক্ত খরচ দাবী করা হলে তা অগ্রাহ্য যাবে।

(ঘ) উপধারা (2) এর ক্লজ (d) বা ক্লজ (d) এর proviso অনুযায়ী নিরূপিত আয় নিয়মিত উৎসের লোকসানের বিপরীতে এবং উপধার (2) এর ক্লজ (d) বা ক্লজ (d) এর proviso অনুযায়ী নিরূপিত লোকসান নিয়মিত উৎসের আয়ের বিপিরীতে set off করা যাবেনা।

কোন করদাতার যদি উপধারা (2) তে উল্লিখিত উৎসের পাশাপাশি নিয়মিত উৎস (Regular source) থেকে আয় থাকে তাহলে করদায় কিভাবে নিরূপত হবে তা উপধারা (3) তে বলা হয়েছে। উপধারা (3) এর বিধান অনুযায়ী, এরূপ ক্ষেত্রে-

(অ) নিয়মিত উৎসের আয়ের জন্য নিয়মিত করদায় পরিগণনা করা হবে;
(আ) আক্তরূপে পরিগণনাকৃত নিয়মিত করদায়ের সাথে উপধারা (2) অনুযায়ী পরিগণনাকৃত ন্যৃনতম করের পরিমাণ যোগ করলে যে অংক পাওয়া যাবে তা হবে বর্ণিত করদাতার করদায়।

উদাহরণ ৪৪-৪

ধরা যাক, ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে জনাব অঞ্জল ব্যানার্জি সঞ্চয়পত্রের সুদ পাপ্ত হয়েছেন ৩,০০,০০০/- টাকা, যার উপর ধারা 52D অনুযায়ী ৫% হারে উৎসে ১৫,০০০/- টাকা, কর কর্তন করা হয়েছে। এছাড়া বর্ণিত আয় বছরে করদাতা ব্যাংক সুদ প্রাপ্ত হয়েছেন ৬,০০,০০০/- টাকা, যার উপর উৎসে কর কর্তন করা হয়েছে ৬০,০০০/- টাকা। করদাতার আর কোন উৎসের আয় বা রেয়াতযোগ্য ছিল না।

এক্ষত্রে, করদাতার মোট আয় ও করদায় হবে নিম্নরূপ:

নিয়মিত উৎস (ব্যাংক সুদ) হতে আয় ………. ৬,০০,০০০/-
ধারা 82C ভুক্ত আয় (সঞ্চয়পত্রের সুদ)…………. ৩,০০,০০০/-
৯,০০,০০০/-
মোট আয়

করদায়:
নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়কর …………. ৩৫,০০০/-
সঞ্চয়পত্রের সুদের উপর উৎসে কর্তিত কর ……… ১৫,০০০/-
৫০,০০০/-
মোট করদায়
করদাতার উৎসে পরিশোধিত কর ………. ৭৫,০০০/-

(১৫,০০০/- + ৬০,০০০/-)
ফেরৎযোগ্য (ন্যূনতম কর বহির্ভূত খাতের কর)…….. ২৫,০০০/-

উদাহরণ ৪৪-৪
ধরা যাক, জনাব জসীম হায়দার ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে মোট ২০,০০,০০০/- টাকার পণ্য আমদানি করে আমদানি পর্যায়ে ৫% হারে উৎসে মোট ১,০০,০০০/- টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। করদাতার উক্ত ব্যবসা খাতে আয়ের পরিমাণ ৬,০০,০০০/- টাকা। এছাড়া, উক্ত আয় বছরে করদাতার গৃহ- সম্পত্তি হতে আয় ছিল ৪,০০,০০০/- টাকা। জনাব জসীম ২০১৬-১৭ কর বছরে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করবেন। করদাতার মোট আয় ও করদায়েল পরিমাণ হবে নিম্নরূপ-

(১) নিয়মিত উৎসের (গৃহ-সম্পত্তি হতে) আয়: ৪,০০,০০০/- টাকা
নিয়মিত উৎসের জন্য করদায়: ১৫,০০০/- টাকা।

(২) আমদানি ব্যবসায়ের জন্য করদায়: …………… ৪,০০,০০০/-

নিয়মিত পদ্ধতিতে পরিগণনাকৃত আমদানি ব্যবসা খাতের আয়:……. ৬,০০,০০০/-

দু’উৎসের আয়ের সমষ্টি ……………….. ১০,০০,০০০/-

১০,০০,০০০/- টাকার উপর প্রযোজ্য আয়কর ………. ৯২,৫০০/-
বাদ: নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়কর …….. ১৫,০০০/-

৭৭,৫০০/-

আমদানি ব্যবসায়ের জন্য উৎসে কর্তিত কর ১,০০,০০০/-।
ফলে, উপধারা (2) অনুযায়ী আমদানি ব্যবসায়েল জন্য ন্যূনতম কর হবে
১,০০,০০০/- টাকা।

(৩) এক্ষেত্রে, ২০১৬-১৭ কর বছরে জনাব জসীমের মোট আয় হবে
(৪,০০,০০০+ ৬,০০,০০০)= ১০,০০,০০০/- টাকা
এবং করদায় হবে (১৫,০০০+ ১,০০,০০০)= ১,১৫,০০০/- টাকা।

উদাহরণ ৪৪-৬
জনাব অমিত কুমার ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে কমাপ্ত আয় বছরে মোট ২০,০০,০০০/- টাকার পণ্য আমাদানি করে আমদানি করে আমদানি পর্যায়ে ৫% হারে উৎসে মোট ১,০০,০০০/- টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। করদাতার উক্ত ব্যবসা খাতে আয়ের পরিমাণ ৮,০০,০০০/- টাকা। এছাড়া, উক্ত আয় বছরে করদাতার গৃহ-সম্পত্তি হতে আয় ছিল ৪,৫০,০০০/- টাকা এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ আয় ছিল ৪,০০.০০০/- টাকা, যার উপর ৫% হারে উৎসে ২০,০০০/- আয়কর কর্তন করা হয়েছে। জনাব অমিত ২০১৬-১৭ কর বছরে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করবেন। করদাতার মোট আয় ও করদায়ের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ-

(১) নিয়মিত উৎসের (গৃহ-সম্পত্তি হতে) আয়: ৪,৫০,০০০/- টাকা
নিয়মিত উৎসের জন্য করদায়: ২০,০০০/- টাকা।

(২) আমদানি ব্যবসায়ের জন্য করদায়:
নিয়মিত উৎসের (গৃহ-সম্পত্তি হতে) আয়: ……….. ৪,৫০,০০০/-
নিয়মিত পদ্ধিতিতে পরিগণানকৃত আমদানি ব্যবসা খাতের আয়: ৮,০০,০০০/-

দু’উৎসের আয়ের সমষ্টি ……………১২,৫০,০০০/-

১২,৫০,০০০/- টাকার উপর প্রযোজ্য আয়কর …………. ১,৩৫,০০০/-
বাদ: নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়কর …………. ২০,০০০/-

আমাদানি ব্যবসায়ের জন্য নিয়মিত করদায় ………….. ১,১৫,০০০/-

আমাদানি ব্যবসায়ের জন্য উৎসে কর্তিত কর ১,০০,০০০/-, যা নিয়মিত করদায় অপেক্ষা কম।

ফলে, উপধারা (2) অনুযায়ী আমদানি ব্যবসায়ের জন্য ন্যূনতম কর হবে ১,১৫,০০০/-

(৩) সঞ্চয়পত্রের সুদের উপর কর: ২০,০০০/-

(৪) ২০১৬-১৭ কর বছরে জনাব অমিতের মোট আয় হবে
(৪,৫০,০০০ + ৪,০০,০০০) = ১৬,৫০,০০০/- টাকা।
এবং করদায় হবে
(২০,০০০ + ১,১৫,০০০ + ২০,০০০= ১,৫৫,০০০/- টাকা)
এবং করদায় হবে
(২০,০০০, + ১,১৫,০০০ + ২০,০০০)= ১,৫৫,০০০/- টাকা।

সকল কোম্পানী করদাতা এবং আয় বছরে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি gross receipts ছিল এরূপ সকল ফার্ম উপধারা (4) অনুযায়ী ন্যূনতম করের আওতাভুক্ত হবে। উপধারা
(4) এর বিধান অনুযায়ী-

(ক) আয় বছরের gross receipts এর ভিত্তিতে উপধারা (4) অনুযায়ী ন্যূনতম করের পরিমাল হবে নিম্নরূপ:

Serial No. Classes of assessee Rate of minimum tax
1 Manufacturer of cigarette, bidi, chewing tobacco, smokeless tobacco or any other tobacco products 1% of minimum tax
2 Mobile phone operator 0.75% of the gross receipts
3 Any other cases 0.60% of the gross receipts:

তবে পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর প্রথম তিন আয় বছরের জন্য ন্যূনতম করহার gross receipts এর ০.১০% এ বহাল থাকবে।

(খ) করদাতার কর অব্যহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য কোন্ উৎসের আয় থাকলে উক্ত উৎসের gross receipts পৃথকভাবে দেখাতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর নিম্নরূপে পরিগণনা কর হবে-

(১) যে সকল উৎসের জন্য নিয়মিত করহার প্রযোজ্য (অর্থাৎ কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য নয়) সে সকল উৎসের gross receipts এর উপর উপধারা (4) এর ক্লজ (a) তে বর্ণিত করহার প্রয়োগ করে ন্যূনতম পরিগণিনা করা হবে;

(২) কর অব্যাহতি ব হ্রসকৃত করহার প্রযোজ্য-এরূপ উৎসের gross receipts এর উপর, উপধারা (4) এর ক্লজ (a) তে বর্ণিত করহারকে কর অব্যহতি বা করহার হ্রাসের অনুপাতে হ্রাস করে যে হার পাওয়া যায় তা প্রয়োগ করে ন্যূনতম কর পরিগণনা করা হবে;

(৩) উপধারা (4) এর আওতায় করের পরিমাণ হবে (১) এবং (২) অনুযায়ী পরিগণনাকৃত অংকর সমষ্টি।

উদাহরণ ৪৪-৪

ধরা য়াক, ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে স্টক-এক্সচেঞ্জে অ-তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানীর gross receipts ছিল ৫০,০০,০০০/- টাকা, যার মধ্যে ১৫% হারে করারোপযোগ্য উৎসের gross receipts ছিল ৪০,০০,০০০/- টাকা এবং নিয়মিত উৎসের gross receipts ছিল ১০,০০,০০০/- টাকা। করদাতার ক্ষেত্রে উপধারা (4) এর আওতায় ন্যূনতম করের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ:

(১) ১০,০০,০০০/- টাকা gross receipts এর উপর ন্যূনতম কর:
১০,০০,০০০/- x ০.৬% = ৬,০০০/- টাকা
(২) ৪০,০০,০০০/- টাকা gross receipts এর উপর ন্যূনতম কর:
৪০,০০,০০০/- x ০.৬% x (১৫%৩৫)= ১০,২৮৬/- টাকা
(৩) কোম্পানীটার ন্যূনতম করের পরিমাণ হবে ৬,০০০ + ১০,২৮৬ = ১৬,২৮৬/- টাকা।

উপধারা (4) এর জন্য gross receipts বলতে বুঝাবে-
(অ) sale of goods থেকে উদ্ভূত সকল প্রাপ্তি;
(আ) সেবা প্রদানের বিপরীতে বা কোন সুবিধা প্রদানের বিপরীতে প্রাপ্ত ফি বা চার্জ (কমিশন বা ডিসকাউন্টসহ);
(ই) যে কোন খাতের আয় থেকে উদ্ভূত সকল প্রাপ্তি।

উপধারা (5) এর বিধান অনুযায়ী, কোন করদাতার ক্ষেত্রে উপধারা (2) এবং উপধারা (4)- উভয় বিধানের আওতায় ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হলে উক্ত দুটি উপধারার আওতায় পরিগণনাকৃত ন্যূনতম করের অংকের মধ্যে যেটি বেশি তা-ই হবে করদাতার ন্যূনতম করদায়।

উদাহরণ ৪৪-৮

ধরা যাক, একটি প্রইভেট লিঃ কোম্পানী ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে মোট ৪০,০০,০০০/- টাকার পণ্য আমদানি করে আমদানি পর্যায়ে ৫% হারে উৎসে মোট ২,০০,০০০/- টাকা আয়কর প্রদান করেছে। করদাতা কোম্পানী উক্ত ব্যবসা খাতে ৮,০০,০০০/- টাকা আয় প্রদর্শিত হয়। করদাতার কোন খরচ ধারা 30 অনুযায়ী অননুমোদনযোগ্য নয় এবং করদাত অবচায় দাবীসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আইনানুগ সীমা অনুসরণ করেছেন।

করদাতা একটি আমদানি ব্যবসায়ে নিয়োজিত কোম্পানী বিধায় এ ক্ষেত্রে উপধারা (2) এবং উপধারা 82C অনুযায়ী ন্যূনতম করের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ-

উপধারা (2) অনুযায়ী ন্যূনতম কর:
উৎসে কর্তিত কর: ২,০০,০০০/- নিয়মিত পদ্ধতিতে নিরূপিত মোট আয়: ৮,০০,০০০/-
নিরুপিত মোট আয়ের উপর করদায়: (৮,০০,০০০ x ৩৫%)= ২,৮০,০০০/-
ফলে উপধারা (2) অনুযায়ী ন্যূনতম করদায় হবে ২,৮০,০০০/- টাকা।

উপধারা (4) অনুযায়ী ন্যূনতম কর:
gross receipts ( বিক্রয়): ৭৫,০০,০০০/-
উপধারা (2) অনুযায়ী ন্যূনতম করদায়: (৭৫,০০,০০০ x .০৬%)= ৪৫,০০০/-
ফলে, ২০১৬-১৭ কর বছরে বর্ণিত কোম্পানীর ক্ষেত্রে ধারা 82C অনুযায়ী ন্যূনতম করদায় হবে ২,৮০,০০০/- টাকা।
ধারা 82C অনুযায়ী প্রযোজ্য ন্যূনতম কর ফেলৎযোগ্য হবে না অথবা পূর্ববর্তী কোন কর বছর বা বছরসমূহের কর প্রত্যর্পণের সাথে বা কোন কর বছরের নিয়মিত উৎসের কর প্রদ্যর্পণের সাথে সমন্বয়যোগ্য হবে না।

কোন করদাতার ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের কোন বিধানের আওতায় কোন সারচার্জ, অতিরিক্ত সুদ, অতিরিক্ত অংক ইত্যাদি প্রযোজ্য হলে তা ন্যূনতম করের অতিরিক্ত হিসেবে প্রদেয় হবে।

উদহরণ ৪৪-৯
ধরা যাক, উদহরণ ৪৪-১ এ বর্ণিত করদাতা জনাব ইকবালের ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে প্রদর্শিত নীট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি টাকা । ফলে করদাতার ক্ষেত্রে ১০% হারে সারচার্জ প্রযোজ্য।
যেহেতু করদাতার করদায়ের পরিমাণ ২,০৫,০০০/- টাকা, করদাতার প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ হবে (২,০৫,০০০ x ১০%) = ২০,৫০০/- টাকা, যা আয়করের অতিরিক্ত হিসেবে প্রদেয় হবে। অর্থাৎ আয়কর ও সারচার্জসহ করদাতার মোট প্রদেয় অংকের পরিমাণ হবে (২,০৫,০০০ + ২০,৫০০) টাকা বা ২,২৫,৫০০/- টাকা।

কোন কর বছরের জন্য প্রদেয় নিয়মিত কর যদি ন্যূনতম কর অপেক্ষা বেশি হয় তাহলে নিয়মিত কর প্রদেয় হবে। আর যদি নিয়মিত কর, ন্যূনতম কর অপেক্ষা কম হয় তাহলে ন্যূনতম কর প্রদেয় হবে।

উদহরণ ৪৪-১০

ধরা যাক, একটি সেবা প্রদানকারী প্রাইভেট লিঃ কোম্পানীর ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে সমা্প্ত আয় বছরে প্রাপ্তি ৭৫,০০,০০০/- টাকা ছিল। করদাতার প্রস্তুতকৃত হিসাব বিবরনীতে উক্ত আয় বছরে ১,০০,০০০/- টাকা আয় প্রদর্শিত হয়। করদাতার কোন খরচ ধারা 30 অনুযায়ী অননুমোদনযোগ্য নয় এবং করদাতা অবচয় দাবীহস অন্যান্য ক্ষেত্রে আইনানুগ সীমা অনুসরণ করেছেন।

এক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য করদাতার-

নিয়মিত কর: (১,০০,০০০ x ৩৫%)= ৩৫,০০০/-
ন্যূনতম কর: (৭৫,০০,০০০ x ০.৬০%)= ৪৫,০০০/-
ফলে, করদাতার দরদায় হবে ৪৫,০০০/- টাকা।

উদাহরণ ৪৪-১১
উদহরণ ৪৪-১০ এ বর্ণিত কোম্পানীর আয় ২,০০,০০০/- টাকা হলে করদায় হতো নিম্নরূপ:
নিয়মিত কর: (২,০০,০০০ x ৩৫%)= ৭০,০০০/-
ন্যূনতম কর: (৭৫,০০,০০০ x ০.৬০%)= ৪৫,০০০/-
ফলে, ২০১৬-১৭ কর বছরে করদাতার করদায়: ৭০,০০০/- টাকা।

ধারা 82C তে,
(১) নিয়মিত উৎস (regular source) বলতে উপধারা (2) এর আওতায় ন্যূনতম কর প্রযোজ্য নয় এরূপ উৎসকে বুঝাবে।

(২) নিয়মিত কর (regular tax) বলতে নিয়মিত আয়ের উপর নিয়মিত হার প্রয়োগ করে পরিগণনাকৃত ককে বুঝাবে।
(৩) নিয়মিত হার (regular rate) বলতে কোন ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহার না থাকলে যে করহার প্রযোজ্য হতো সে হারকে বুঝাবে।

৪৫। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 1071 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এ ধারা 1071 তে উল্লিখিত “ from Chartered Accountant ” শব্দগুলি বিলোপ করে এ ধারার বিধানকে ধারা 107F এর বিধানের সাথে সংগতিপূর্ন করা হয়েছে।
৪৬। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 107A এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 117A এর “any other law for the time being in force,” শব্দগুলির পর “without prejudice to the provisions of section 75AA,” শব্দগুলি সন্নিবেশ করা হয়েছে। এর ফলে ধারা 117A এর আওতায় বোর্ড বা বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ধারা 117A এর আওতায় কার্যক্রম প্রহণের কারণে ধারা 75AA এর আওতায় উপ কর কমিশনারের অডিট করার ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হবে না।
৪৭। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 129A এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন,২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 35 তে যে সংশোধনী আনা হয়েছে তার সাথে সংগতি রাখার জন্য ধারা 129A এর সংশ্লিষ্ট বিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধার অনুযায়ী, যদি কোন অডিট রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট চার্টার্ড একাউন্টেন্ট কর্তৃত এ মর্মে প্রত্যয়ন করা না থাকে যে হিসাব সংরক্ষণ, বিবরণী(Statements) প্রস্তুত ও report করার ক্ষেত্রে Bangladesh Accounting Standard (BAS) এবং Bangladesh Financial Reporting Standard (BFRS) এবং অডিটের ক্ষেত্রে (Statements) Bangladesh Standards on Auditing (BSA)এর বিধানাবলী অনুসরণ করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট চার্টার্ড একাউন্টেন্টর উপর এ ধারার অধীনে জরিমানা আরোপযোগ্য হবে।
৪৮। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 134 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর অন্যান্য ধারায় আনীত পরিবর্তনের সাথে সংগতি রাখার জন্য ধারা 134 এর সংশ্লিষ্ট বিধানে সংশোধনী এনে “interest’’ শব্দের পর “delay interest, additional amount,’’ শব্দগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে অধ্যায় XVI এর সকল বিধানাবলী বিলম্ব সুদ বা অতিরিক্ত অংক আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
৪৯ । বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আওতা পম্প্রসারণ: আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 152J এর প্রতিস্হাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 152J প্রতিস্হাপন করে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগের বিধান অনুযায়ী, কোন কর বছরের জন্য আয়কর বিটার্ন দাখিল না করা হয়ে থাকলে সে বছরের কর মামলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আওতায় আসার সুযোগ ছিলনা। পরিবর্তিত বিধান অনুযায়ী কোন কর বছরের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা হয়ে থাকলেও সে বছরের রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে সে ক্ষেত্রে ধারা 74 এর বিধান অনুযায়ী কর পরিশাধ করা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর বছর বা বছরের কর মামলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) এর আওতায় আসার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
১ জুলাই ২০১৬ বা তারপরে দাখিলকৃত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) এর আবেদনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।
৫০। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 153 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 153 এর উপধারা (3) এর পর একটি proviso সংযোজন করে আপীল দায়েরের যোগ্যতার শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের বিধান অনুযায়ী, কোন কর বছরে ধারা 74 এর বিধান অনুযায়ী স্বীকৃত করদায় পরিশোধ করা না হয়ে থাকলে সে বছরের কর মামলা ধারা 153 অনুযায়ী আপীলযোগ্য ছিলনা পরিবর্তিত বিধান অনুযায়ী,দবি আপীল দায়েরের পূর্বে করদাতা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর মামলা স্বীকৃত দায় পরিশোধ করা হয় এবং যদি আপীলাত কর্তৃপক্ষ এ মর্মে সন্তুষ্ট হন যে করদাতা কর্তৃক বর্ণিত কর পরিশোধ না করার যৌক্তিক করণ ছিল, তাহলে অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষ আপীলাত কর্তৃপক্ষ মামলটি শুনানীল জন্য গ্রহণ করতে পারবেন।
51। আপীলাত কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল দায়েরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 154 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 154 এর উপধারা (1) এর পর নতুন উপধারা (1A) সন্নিবেশ করে আপীল দায়েরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। উপধারা (1A) এর বিধান অনুযুয়ী, বোর্ড সরকারী গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যামে নির্দ্যশনা জীরী করে-

(১) কোন করদাতাকে বা কোন শ্রেণির দরদাতাকে electronically বা অন্য কোন machine readable বা computer readable মাধ্যমে আপীল দায়ের করতে হবে মর্মে বলে দিতে পারবে;

(২) উক্ত electronic বা machine readable বা computer readable মাধ্যমের আপীল কিরূপে এবং কিভাবে দাখিল করা হবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে।
৫২। কর আপীলাত ট্রাইবুনালে আপীল দায়েরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার: আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 158 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 158 এর উপধারা (5) এর পর নতুন উপধারা (6) সংযোজন করে সিন্নবেশ করে কর আপীলাত ট্রাইবুরালে আপীল দায়েরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। উপধারা (6) এর বিধান অনুযায়ী, বোর্ড সরকারী গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্দেশনা জারী করে-

(১) কোন করদাতাকে বা কোন শ্রেণির করদাতাকে electronically বা অন্য কোন machine readable বা computer readable মাধ্যমে আপীল দায়ের করতে হবে মর্মে বলে দিতে পারবে;

(২) উক্ত electronic বা machine readable বা computer readable মাধ্যমের আপীল কিরূপে এবং কিভাবে দাখিল করা হবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে।
৫৩। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 163 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 163 এর উপধারা (3) এর ক্লজ (P) এর পর নতুন একটি ক্লজ (PP) সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত করা হয়েছে। সংযোজিত ক্লজ (PP) এর বিধান মোতাবেক, মানিলন্ডরিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত মামলার অনুমোদনকারী কোন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুরোধ পাওয়া গেলে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংক্রান্ত তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারীকে করদাতার তথ্য সরবরাহ করা যাবে।
৫৪। ১২-ডিজিট টি, আই, এর গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ: আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 184A এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 184A এর উপধারা (1) তে নতুন তিনটি ক্লজ (Y), (Z) এবং (za) সংযোজন করে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তির জন্য ১২-ডিজিট টি, আই, এন প্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে-

(১) সরকার অথবা করকারের কোন কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের বা প্রচলিত কোন আইন্, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কোন কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের কর্মচারী যদি তিনি সংশ্লিষ্ট আয় বছরের যে কান সময় ২০১৫ সালে ঘোষিত চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব গ্রেডে অথবা ২০১৫ সালে ঘোষিত যে কোন পে-স্কেলের দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের সমতুল্য কোন গ্রেডে বেতন- ভাতাদি প্র
হণ করেন;
(২) Monthly Payment Order (MPO) আওতায় সরকার থেকে মাসিক ১৬,০০০/- টাকার বেশি অর্থ পান এমন কোন ব্যক্তি;

(৩) ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক পদে বা উৎপাদনের সুপারভারইজরী পদে নিয়োজিত কোন employee,তার বেতন-ভাতাদি যা-ই হোক না কেন।
৫৫। কর আরোপ ও আদায়, কর অব্যাহতি, তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের গোপনীয়তা সংরক্ষণ ইত্যাতি ক্ষেত্রে অন্যান্য আইনের উপর আযকর অধ্যাদেশের প্রধান্য: আয়কর অধ্যাদেশের ধারা184F এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 184F সংশোধন করা হয়েছে। ষংশোধিত বিধান মোতাবেক, র্বতমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আয়কর আরোপ ও আদায়, আয়কর অব্যাহতি, করহার হ্রাসকরণ, করারোপণের স্বার্থে কোন তথ্য সংগ্রহ এবং এ অধ্যাদেশের আওতায় কর তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা সংশ্লিস্ট বিষয়ে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর বিধান বা উক্ত অধ্যাদেশের অধীন গৃহীত কার্যক্রম অপর সকল আইনের উপরে প্রাধান্য পাবে।

এ বিধান ১ জুলাই ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে বলবৎ বিভিন্ন আইন বা চার্টারের আওতায় বিভিন্ন আন্তঃরাষ্টীয় ও আন্তর্জাতিক সংঘ, সংস্থা, মিশন ও ব্যক্তিগণ বর্তমানে যে কর সুবিধা পাচ্ছেন, ধারা 184F এর পরিবর্তিত বিধান কার্যকর হওয়ার করণে তা রহিত হবে না।
৫৬। বোর্ড কর্তৃক পরিপত্র, স্পষ্টিকরণ ইত্যাদি জারীর ক্ষমতা সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশে ধারা 185A এর সন্নিবেশ
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 185A সন্নিবেশ করা হয়েছে। সন্নিবেশিত নতুন এ ধারার বিধান মোতাবেক বোর্ড লিখিত আদেশের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ ও এর আওতায় প্রণীত বিধি ও আদেশের ক্ষেত্র ও প্রয়োগ (scope and application) এর বিষয়ে পরিপত্র (circular), স্পষ্টীকরণ (clarification,) ব্যাখ্যা (explanation) এবং নির্দেশনা (directives) জারী করতে পারবে।
৫৭। বিশেষায়িত সেবা প্রদানকারী কোম্পানীর নির্দিষ্ট লাইসেন্স ফি এর ক্ষেত্রে amortization অনুমোদন: আয়কর অধ্যাদেশের এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে Third Schedule এর অনুচ্ছেদ 10A এর উপ- অনুচ্ছেদ (2) এর সংশোধন করা হয়েছে। সংশেধিত বিধান অনুযায়ী, বিশেষায়িত সেবা প্রদানে নিয়োজিত কোন কোম্পানী কর্তৃক যদি এরূপ কোন রাইসেন্স ফি পরিশোধ করা হয় যা উক্ত কোম্পানীর বিশেষায়িত সেবা প্রদান কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ তাহলে ঐ রাইসেন্স ফি এর ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ 10A অনুযায়ী amortization অনুমোদনযোগ্য হবে।
৫৮। আয়কর অধ্যাদেশের এর সংশোধন (ক) Workers’ Participation Fund থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর কর অব্যাহতির সীমা আরোপ: অনুচ্ছেদ 21 এর সংশোধন
আগে শ্রম আইন, ২০০৬ এর আওতায় গঠিত কোন workers’ participation fund থেকে উক্ত আইনের ধারা 2(65) অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত কোন শ্রমিক কর্তৃক যে কোন অংকের অর্থ প্রাপ্ত হলে সমুদয় অংক কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছিল। অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ 21 এর সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, অন্য কোন আইনে যা-ই বলা থাকুক না কেন, শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা কর্মী নির্বিশেষে যে কোন সুবিধাভোগী কর্তৃক শ্রম আইন, ২০০৬ এর আওতায় গঠিত কোন workers’ participation fund থেকে প্রাপ্ত অর্থ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। কোন সুবিধাভোগী ৫০ হাজার টাকার বেশি অর্থ প্রাপ্ত হলে ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত অংক করযোগ্য হবে। পরিবর্তিত বিধন ২০১৬-১৭ করবছর থেকে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, workers’ participation fund থেকে সুবিধাভোগীর প্রাপ্ত যে কোন অংকের উপর আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52 অনুযায়ী ৫% হারে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য।

প্রশ্ন ৫৮-১: workers’ participation fund থেকে আমার পাওনা ৪০,০০০/- টাকা। আমার এ টাকার উপর কি উৎসে কর কর্তন করা হবে?
উত্তর ৫৮-১: হ্যাঁ, আপনার ৪০,০০০/- টাকার উপর উৎসে ৫% হারে কর কর্তন করা হবে।

প্রশ্ন ৫৮-২ workers’ participation fund থেকে আমি ৫% কর বাদ দিয়ে ৯৫,০০০/-টাকা প্রাপ্ত হয়েছি। আয়কর রিটার্নে এ খাতে কত টাকা আয় প্রদর্শিত হবে?
উত্তর ৫৮-২: আপনার প্রস পাপ্তি ছিল ১,০০,০০০/- টাকা, যা থেকে ৫% হারে ৫,০০০/- টাকা উৎসে আয়কর কেটে রেখে অবশিষ্ট ৯৫,০০০/-টাকা আপনাকে পরিশোধ করা হয়েছে। আয়কর রিটার্নে আপনি এ খতে আয় প্রদর্শন করবেন (১০,০০,০০০ – ৫০,০০০)= ৫০,০০০/- টাকা। উৎসে কর্তিত ৫,০০০ টাকা আপনা করদায়ের বিপরীতে ক্রেডিট পাবেন।
(খ) অনুচ্ছেদ 32A এর প্রতিস্থাপন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ 32A প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধান অনুসারে কোন আয় বছর সমাপ্তির তারিখে কোন করদাতার কেবলমাত্র পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জিভূত বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করলে উক্ত বিনিয়োগ হতে অর্জিত সুদ/মুনাফা করমুক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ বিধান ২০১৬-১৭ করবছর থেকে কার্যকর হবে।

(গ) অনলাইন শপিং ও ই-কমার্সের কর অব্যাহতি প্রত্যাহার: অনুচ্ছেদ 33 এর সংশোধন
অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ 33 এ বর্ণিত Information Technology Enabled Services (ITES) এর Explanation সংশোধন করে অনলাইন শপিং এবং ই-কমার্স এর আওতা বহির্ভূত করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইন শপিং (online shopping) এবং ই-কমার্স (E-commerce) কে ITES এর আওতা বহির্ভূথ করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইন শপিং এবং ই-কমার্স (E-commerce) থেকে উদ্ভূত আয় করযোগ্য হবে।
তবে অনলাইন শপিং বা ই-কমার্সের জন্য সফটওয়্যার তৈরিসহ ITES ভূক্ত অন্যান্য কাজ থেকে উদ্ভূত আয় আগের মতে করমুক্ত থাকবে।
অপরদিকে, “digital archiving of physical records” কে ITES এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উক্ত খাত হতে অর্জিত আয় করমুক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
পরিবর্তিত বিধান ২০১৬-১৭ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

(ঘ) ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যেগ (SME) এর কর অব্যঅহতির সীমা বৃদ্ধি: অনুচ্ছেদ 39 এর সংশোধন
পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ(SME) এর বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে উক্ত SME এর আয় করমুক্ত ছিল। অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ 39 সংশোধন করে টার্নওভারের এ সীমা ৩০ লক্ষ টাকা থেকে ৩৬ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
পরিবর্তিত বিধান ২০১৬-১৭ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

৫৯। জারীকৃত প্রঙ্গাপনসমুহ
(ক) পন্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য উৎস কর হার হ্রাস

এস, আর, ও নং ২৫৭-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ১০ আগস্ট, ২০১৬ এর মাধ্যমে ধারা 53BB এবং ধারা 53BBBB তে উল্লিখিত পণ্যের (পাটজাত পণ্য ব্যতীত) রপ্তানি মূল্যের উপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার হ্রাসপূবক ০.৭০% এ নির্ধারণ করা হয়েছে। এস,আর,ও তে বর্ণিত হ্রাসকৃত উৎস কর ১ জুলাই ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত বলবৎ খাকবে। ১ জুলাই তারিখ থেকে কোন কারণে বর্ণিত ধারা সমূহের অধীনে ০.৭% এর বেশি হারে উৎস কর কর্তন করা হয়ে থাকলে অতিরিক্ত কর্তনকৃত উৎস কর ৩০ জুন ২০১৭ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে কোন কর্তনের বিপরীতে সমন্বয়যোগ্য হবে।
এস, আর, ও নং ২০৭-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ২৯ জুন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে ধারা 53BB তে উল্লিখিত পাটজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের হার হ্রাসপূর্বক ০.৬০% এ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উৎসে করহার ১ জুলাই ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

(খ) নীটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস রপ্তনির আয়ের ক্ষেত্রে করহার হ্রাস
এস, আর, ও নং ২০৮-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ২৯ জুন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে নীটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস উৎপাদন ও রপ্তানিতে নিয়োজিত করদাতার উক্ত পণ্য রপ্তানী হবে উদ্ভূত আয়ের উপর আয়করের হার নিম্নরূপে হ্রাস করা হয়েছে:
(১) কোম্পানীর করদাতার ক্ষেত্রে আয়করের হার হবে ২০% ;
(২) কোম্পানীর ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে আয়করের সর্বোচ্চ হার হবে ২০%
এ কর হার ২০১৬-১৭ করবছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।

(গ) পাট শিল্পের আয়ের ক্ষেত্রে করহার হ্রাস
(১) এস, আর, ও নং ২০৭-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ২৯ জুন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে পাট জাত দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত করদাতার উক্ত পণ্য রপ্তানি হবে উদ্ভূত আয়ের ক্ষেত্রে আয়করের হার নিম্নরূপে হ্রাস করা হয়েছে:
(ক) কোম্পানী করদাতার ক্ষেত্রে আয়করের হার হবে ১০%;
(খ) কোম্পানী ব্যতীত অন্যান করদাতার ক্ষেত্রে আয়করের সর্বোচ্চ হার হবে ১০।

(২) এছাড়া এস,আর ও নং ২৫৮-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখ ১০ আগস্ট, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোন শিল্প প্রতিষ্ঠনের কেবল উক্ত শিল্প হতেত অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে আয়করের হার নিম্নরূপে হ্রাস করা হয়েছে:
(ক) কোম্পানীর করদাতার ক্ষেত্রে আয়করের হার হবে ১০;
(খ) কোম্পানীর ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে আয়করের সর্বোচ্চে হার হবে ১০%।
এস,আর ও দুটিতে উল্লিখিত হ্রাসকৃত করহারের সুবিধা ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮,২০১৮-১৯, এবং ২০১৯-২০ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।
পাটশিল্পের আয়ের উপর আয়করের হার সংক্রান্ত এস, আর, ও নং ১৯৪-আইন/আয়কর/২০১৫,তারিখ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ রহিত করা হয়েছ।
(ঘ) মোটর কার, জীপ বা মাইক্রোবাসের মালিকানা জনিত অনুমিত আয়ের উপর আয়কর সংক্রান্ত এস, আর, ও নং ৯৯-আইন/২০১৫ খ্রিস্টাব্দ রহিত করা হয়েছে। মোটর গাড়ির উপর মালিকানাজনিত অনুমিত আয়ের উপর অগ্রিম কর আরোপের বিষয়ে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা 68B সন্নিবেশ করা হয়েছে।

৬০। আয়কর বিধামালা,১৯৮৪ এর সংশোধনীসমূহ
এস, আর ও নং ২৫৯-আইন/আয়কর/২০১৬, তারিখঃ ১০ আগস্ট, ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে নিম্নরূপ সংশোধনী আনা হয়েছে-

(ক) আয়কর বিধিমালার বিধি 11 এর বিলোপ
বিধি 11 সংশ্লিষ্ট আয়কর অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট বিধান ইতোপূর্বে বিলোপ হওয়ায় বিধিটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। ফলে তা বিলোপ করা হয়েছে।

(খ) উৎসে কর্তিত/আদায়কৃত কর সরকারী কোষাগারে পমা প্রদানের নির্ধারিত সময়সীমা পরিবর্তন: বিধি 13 এর প্রতিস্থাপন
আগের বিধি 13 এর প্রতিস্থাপন করে পরিবর্তিত বিধিতে বিধান কারা হয়েছে যে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর অধ্যায় VII অনুযায়ী উৎসে কর্তিত/আদায়কৃত কর নিম্নবণিত সময়সীমার মধ্যে সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে:

(১) অর্থ বছরের জুলাই থেকে মে মাসে উৎস কর কর্তন/আদায়ের ক্ষেত্রে: যে মাসে উৎস কর কর্তন/আদায় হবে যে মাস শেয় হওয়ার পরবর্তী দুই সম্তাহের মধ্যে;
(২) অর্থ বছরের জুন মাসের ১ হতে ২০ তারিখ পর্যন্ত উৎস কর কর্তন/আদায়ের ক্ষেত্রে: যে তারিখে উৎস কর কর্তন/আদায় হবে সে তারিখ হতে পরবর্তী ৭ (সাত) তিনের মাধ্যে;
(৩) অর্থ বছরের জুন মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে উৎস কর কর্তন/আদায়ের ক্ষেত্রে: যে দিন উৎস কর কর্তন/আদায় হবে তার পরের দিন।
তবে জুন মাসের শেষদুই কার্যদিবসে উৎস কর কর্তন/আদায়ের দিন তা সরকারী কোষগারে জমা দিতে হবে।

(গ) উৎসে কর্তিত/সংগৃহীত কর সরকারী কোয়াগারে জমা প্রদানের পদ্ধতি সুনির্দিষ্টকরণ: বিধি 14 এর প্রতিস্থাপন
আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধন করে বিধি 14 এর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
পরিবর্তিত বিধি 14 অনুযায়ী, উৎসে কর কর্তিত/আদায়কৃত কর বিধি13 তে বর্ণিত সময়সীমর মধ্যে নিম্নবর্নিত পদ্ধতিতে সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবেঃ
(১) আয়কর চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোরালী ব্যাংক (যেক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য) জমা করার মা্ধ্যমে; বা
(২) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক স্থানান্তরের মাধ্যমে।
যদি সরকারের কোন দপ্তর বা বিভাগ সরকারের কোন আদেশের প্রক্ষিতে উৎসে কর্তিত/আদায়কৃত কর আয়কর চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে জমা প্রদান করার পরিবর্তে বুক-ট্রান্সফার বা অন্যে কোনভাবে সরকারী কোষগারে জমা করে বা সরকারের সংশ্লিষ্ট হিসাবে স্থানানাতর করে তবে করকারের সে দপ্তর বা বিভাদের জন্য তা যথানিয়মে জমা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
উৎসে কর্তিত/আদায়কৃত কর ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরকারী কোষাগারে কি পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হবে তা কোর্ড সরকারী গেজেট প্রাজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

(ঘ) ঠিকাদার,ইত্যাদির বিলের উপর উৎসে কর কর্তনের হার পরিবর্তন: বিধি 16 এর প্রতিস্থাপনঃ
বিধি 16 ইর প্রতিস্থাপন করে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52 তে বির্ণিত কয়েকটি ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের নতুন হার নির্ধারণকরা করা হয়েছে। এ পরিপত্রের ধারা 52এর আলোচনায় উৎসে করের পরিবর্তিত হার উল্লেখ করা হয়েছে।
১ জুলাই ২০১৬ থেকে পরিশোধের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হার প্রযোজ্য হবে।

(ঙ) কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে ৫% হারে উৎক কর আদায়ের বিধান: বিধি 17A এর সংশোধন
বিধি 17A তে সংশোধনী এনে বিদেশ হতে কয়লা [Coal, whether or not pulverize, butnot agglomerated, other coal (H.S Code: 2701.19.00)] আমদানির ক্ষেত্রে ৫% হারে উৎসেআয়কর আদায়ের বিধান করা হয়েছে।
১ জুলাই ২০১৬ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হার প্রযোজ্য হবে।

(চ) উৎস করের সার্টিফিকেট যুগোপষোগীকরণ: বিধি 18 এর প্রতিস্থাপন
বিধি 18 প্রতিস্থাপন করে পরিবর্তিত নিধানে উৎব করের ক্ষেত্রে পূর্বর ২ ধরণের সার্টিফিকেটের পরিবর্তে নিম্নরূপ ৩ ধরণের সার্টিফিকেট প্রবর্তন করা হয়েছে:
(১) সরকারি বেতনভোগী ব্যতীত অন্যান্য বেতনভোগীর বেতন-ভাত হতে উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট;
(২) আয়কর অধ্যাদেশের আধ্যায় VIIএর অধীন কোন ধারায় উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট (নির্দিষ্ট ফরমে, পরিশিষ্ট ১০ মতে); এবং

(৩) আয়কর অধ্যাদেশের অধ্যায়VII এর অধীন কোন ধারায় উৎসে কর আদায়ের সার্টিফিকেট (নিদিষ্ট ফরমে, পরিশিষ্ট ১১ মেতে)

সরাকারি বেতনভোগী ব্যতীত অন্যান্য বেতনভোগীর বেতন-ভাতা হতে উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেটের নির্দিষ্ট কোন করম নেই। বেতন প্রদনিকারী দাপ্তরিক লেটারহেডে বা কাগজে সার্টিফিকেট ইস্যু করবেন। তবে সার্টিফিকেট নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকবে-
(১) বেতন প্রদানকারী ব্যক্তি (person) বা কর্তৃপক্ষের নাম ও ঠিকানা;
(২) কোন সময়ের জন্য বতেন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে;
(৩) বেতন প্রাপকের নাম, পদবী ও ১২-ডিজিট টিআইএন;
(৪) বেতন-ভাতা পরিশোধের খাত-ওয়ারী বিবরণ (যথা: মূল বেতন, ভাতাদি ও সুবিধদির নাম ও পরিমাণ);
(৫) উপরে উল্লিখিত বেতন-ভাতার বাইরে কোন সুবিধা দেয় হলে তার আর্থিকমূল্য;
(৬) বেতনভাতা থেকে কর্তনযোগ্য করের পরিমাণ;
(৭) আয়, করদায় বা রেয়াত পরিগণনার সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য;
(৮) উৎসে কর্তিত করের পরিমাণ;
(৯) নিম্নোক্ত ছকে উৎসে কর্তিত কর সরকারী কোষাগারে জমর বিবরণ

SI No Challan*Number Challan date Bank Name Total amount in the challan ৳ Amount relation to this certificate ৳ Remarks
1            
2          
Total  
In words:

*if payment is made in any other mode specified by the Board, provide information relevant to that mode.
(১০) সার্টিফিকেট প্রদানকারী ব্যক্তির নাম, পদবী, স্বাক্ষর ও তারিখ।
*বেতন ভাতা ব্যতীত আয়কর অধ্যাদেশের অধ্যায় VII এর অধীন অন্য কোন খাতের উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট নির্ধারিত ফরমে প্রদান করতে হবে।
আয়কর আধ্যাদেশের VII এর অধীনে কোন ধারায় উৎসে কর আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরমে সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে।
*বিশেষ ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন/আদায়ের পরিমাণ উল্লেখ রয়েছ এরূপ বিল অব এন্ট্রি, রেজিস্ট্রেশন দলিল, পেমেন্ট উনস্ট্রুমেনট বা অন্যান্য দলিলাদিকে উল্লিখিত সার্টিফিকেট হিসেবে। বিবেটন করার জন্য রাজস্ব বোর্ড নদের্শনা জারী করতে পাবে।
*উৎসে কর্তনকারী/আদায়কারী কর্তৃপক্ষ যে মাসে উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ করবেন তা শেষ হওয়ার পরবর্তী ০২ সপ্তাহের মধ্যে অথবা যে ব্যক্তির নিকট হতে উৎসে কর কর্তন/আদায় করা হয়েছে তার কর সংক্রান্ত বিষয়াদি নিষ্পাত্তিতে সুবিধিাজনক সময়সীমার মধ্যে উৎস করের সার্টিফিকেট প্রদান করবেন।
*উৎস করের সার্টিফিকেটের সাথে কর্তিত/ আদায়কৃত কর সরকারী কোয়গোরে জমা প্রদানের প্রামাণ্য দলিলাদি (যথা, ট্রেজারী চালানের কপি) পাদন করবেন।
*প্রতিমাসে কর্তিত/আদায়কৃত উৎস করের বিবরণী নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট ১২) পরবর্তী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্হ কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

(ছ) বেতন খাতে উৎসে কর কর্তনের মাসিক বিরণী যুগোপযোগীকরণ: 21 এর প্রতিস্থাপন
বিধি 21 এর প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বেতনখাতে উৎসে কর কর্তনের বিবরণী দাখিল সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তণ আনা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধান অনুযায়ী, সরকারি বেতনভোগী ব্যতীত অন্য যে কোন বেতনভোগীর ক্ষেত্রে বেতন খাতে উৎসে কর কর্তনের একটি বিবরণী নির্ধারিত ফরম(পরিশিষ্ট ১৩) উপবিধি (3) তে উল্লিখিত কর কর্তৃপক্ষের নিকট প্ররণ করতে হবে।
যে মাসে বেতনভাতা খাতে উৎসে কর কর্তন করা হবে তার পরবর্তী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে বিবরণীটি প্রেরণ করতে হবে।
কোন অনুমোদিত super annuation fund এর ট্রাস্টী (trustee) কর্তৃক employee কে চাঁদার টাকা ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে কর কর্তৃপক্ষের নিকট বিবরণী প্রদানের বিধান অপরিবর্তিত আছে।
বিধি 21 তে উল্লিখিত বিবরণীসমূহ যে উপ কর কমিশনারের অধিক্ষেত্রাধীন সে উপ কর কমিশনারের নিকট অথবা বোর্ড নির্দেশ দিলে অন্য আর কোন কর কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

(জ) বেতন-ভাতাদি পরিশোধের বার্ষিক বিবরণী প্রদান সংক্রান্ত বার্ষিক বিবরণী প্রদান সংক্রান্ত বিধি 23 এর সংশোধন
বিধি 23 তে সংশোধনী এনে বেতন-ভাতাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বার্ষিক বিবরণী ফরমটি (পরিশিষ্ট ১৪) যুগোপযোগী করা হয়েছে। পরিবর্তিত বিবরণীতে তিনটি অংশ রয়েছে:

Part I পূর্বের ন্যায় কর্মমর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ তথ্য, তাদেরকে পরিশোধিত বেতন-ভাতাদিক তথ্য এবং পরিশোধিন বেতন- ভাদাদি হতে উৎসে কর্তিত করের তথ্য
Part II ১২-ডিজিট টিআইএন বিহীন employee এবং বিদেশি employee দের পরিশোধিত বেতন/ভাতাদির তথ্য
Part III দের বেতন/ভাতাদির অতিরিক্ত পরিশোধিত নগদ পুনর্ভরণ (Cash reimbursement) এর তথ্য


বিধি 23 তে উল্লিখিত বিবরণীর একটি করে কপি প্রতি অর্থ বছরের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে নিম্নবর্ণিত কর কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করতে হবে:
(১) employee যে উপ কর কমিশনারের অধিক্ষেত্রাধীন সে উপ কর কমিশনার;
(২) employee এর নিয়োগকারীর কর নির্ধারণ () যে উপ কর কমিশনারের অধিক্ষেত্রাধীন সে উপ কর কমিশনার; এবং
(৩) বোর্ড নির্দেশিত অন্য কোন কর কর্তৃপক্ষ।

(ঝ) নতুন আয়কর রিটার্ন ফরম প্রবর্তন: বিধি 24 এর প্রতিস্থাপন
আয়কর রিটার্ন ফরম সংক্রান্ত বিধি 24 প্রতিস্থাপন করে ব্যক্তিশ্রেণি (individual), কোম্পানী (company) এবং ব্যক্তিশ্রেণি ও কোম্পানী ব্যতীত অন্যান্য (ther than individual and company)করদাতার (যমন-ফার্ম, ব্যক্তি-সংঘ, এনজিও ইত্যাদি) জন্য পৃথক তিনটি নতুন রিটার্ন ফরম প্রবর্তন করা হয়েছে।
ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য বিদ্যামান তিন ধরণের রিটার্নের পরিবর্তে একটি অভিন্ন রিটার্ন (IT-11GA2016) প্রবর্তন করা হয়েছে। মূল রিটার্নটি তিন পৃষ্ঠার। মূল রিটার্নের সাথে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বেতন, গৃহ-সংযুক্ত করতে হবে।
তিন পৃষ্ঠার মূল রিটার্ন পূরণ করা ব্যক্তি-করদাতাদের সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। এতে প্রথম পৃষ্ঠায় করদাতার বিষয়ে মৌলিক তথ্য, দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আয় ও করের হিসাব এবং তৃতীয় পৃষ্ঠায় সংলাগ, করদাতার প্রতিপাদন ও স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে।
করদাতার আয়ের উৎসের উপর নির্ভর করে মূল রিটার্নের সাথে তফসিল যোগ হবে। বেতন আয় থাকলে বেতন সংক্রান্ত তফসিল 24A, বাড়িভাড়া আয় থাকলে সে আয়ের তফসিল 24B এবং ব্যবসায় বা পেশাগত আয় থাকলে ব্যবসায় বা পেশাগত আয়ের তফসিল 24C মূল রিটার্নের সাথে যোগ হবে। যে করদাতার এসব কোন খাতের আয় নেই তার কেবল তিন পৃষ্ঠার মূল রিটার্ন দাখিল করলেই চলবে, তফসিল দাখিল করার প্রয়োজন হবে না।
কেউ বিনিয়োগ রেয়াত দাবী করলে মূল রিটার্নের সাথে বিনিয়োগ রেয়াত সংক্রান্ত তফসিল 24D দাখিল করতে হবে। করদাতা রেয়াত দাবী না করলে তফসিল 24D দাখিল করার প্রয়োজন হবে না।
ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতাগণকে রিটার্নের সাথে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী এবং জীবন যাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণীও দাখিল করতে হবে।
কোম্পানী করদাতার জন্য নতুন রিটার্ন ফরম এবং ফার্ম IT-11GHA2016 ব্যক্তি-সংঘ, এনজিওসহ অন্যান্য সকল শ্রেণির করদাতার জন্য নতুন রিটার্ন ফরম IT-11CHA2016 প্রবর্তন করা হয়েছে।

প্রতিটি রিটার্নের সাথে এক পাতার একটি প্রাপ্তি স্বীকারপএ সংযোজন করা হয়েছে।
২০১৬-১৭ কর বছরে আগের রিটার্নগুলোও বহাল থাকবে।
কোন করদাতা নতুন ফরমে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পেতে চাইলে তাকে নতুন ফরমে রিটার্ন, তফাসিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)ও বিবরণী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) দাখিল করতে হবে।
এছাড়াও কেবলমাত্র স্পট এ্যাসেসমেন্ট এর আওতাধীন ব্যবসা এবং ডাক্তার ও আইর পেশায় নিয়োজিত নতুন করদাতাদের জন্য প্রযোজ্য রিটার্ন ফরম (IT-11GAGA) পরিমার্জন করা হয়েছে।
নতুন প্রবর্তিত সকল আয়কর রিটার্ন, তফসিল ও বিবরণী পরিশিষ্ট অংশে সন্নিবেশ করা হয়েছে।
রিটার্ন দাখিলের সময় বড়ানোর জন্য উপ কর কমিশনারের নিকট আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনের ঢরম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এ পরিপত্র জারীর পর তেকে সকল সময়ের আবেদন নির্ধারিত ফরমে করতে হবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা না হলে সময় বাড়ানোর অনুরোধ বিবেটনাযোগ্য হবে না।

(ঞ) উৎস করের নতুন রিটার্ন ফরম প্রবর্তন: বিধি 24 এর প্রতিস্থাপন
বিধি 24A প্রতিস্থাপন করে উৎস করের নতুন রিটার্ন ফরম প্রবর্তন করা হয়েছে। মূল রিটার্নের সাথে তিনটি তফসিল রয়েছে। উৎস করের মূল খাতগুলো হতে কর্তিত/আদায়কৃত করের তথ্য মূল রিটার্নে রাখা হয়েছে। ধারা 52AA এর আওতাভুক্ত কোন খাত থেকে উৎসে কর কর্তন থাকলে তফসিল 24AA, ধারা 56 এর আওতাভুক্ত কোন খাত থেকে উৎসে কর কর্তন থাকলে তফসিল24AB এবং মূল রিটার্নে বর্ণিত খাতসমূহ ব্যতীত অন্যান্য উৎস হতে কতর্ন/আদায় থাকলে তফসিল 24AC দাখিল করতে হবে।
এ পরিপত্র জারীর পর থেকে সকল উৎস করের রিটার্ন নতুন প্রবর্তিত ফরমে দাখিল করতে হবে।

(ট) পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর নতুন ফরম প্রবর্তন: বিধি 25 এর প্রতিস্থাপন
বিধি 25 প্রতিস্থাপন করে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর নতুন ফরম IT-10B2016 প্রবর্তন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট ১৬)। ২০১৬-১৭ কর বছরে যে সকল করদাতা নতুন রিটার্ন ফরম (IT-11GA2016)ব্যবহার করবেন তাদেরকে IT-10B2016 ফরম ব্যবহার করতে হবে। আর যে সকল করদাতা আগের রিটার্ন ফরম ব্যবহার করবেন তারা পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর আগের ফরম (IT-10B) দাখিল করবেন।

(ঠ) জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণীর নতুন ফরম প্রবর্তন: বিধি 25A এর প্রতিস্থাপন
বিধি 25A প্রতিস্থাপন করে জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণীরন নতুন ফরম IT-10BB2016 প্রবর্তন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট ১৭)। ২০১৬-১৭ কর বছরে যে সকল করদাতা নতুন রিটার্ন ফরম (IT-11GA2016) ব্যবহার করবেন তাদেরকে IT-10BB2016 ফরম ব্যবহার করতে হবে। আর যে সকল করদাতা আগের বিটার্ন ফরম ব্যবহার করবেন তারা জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয বিবরণীর আগের ফরম (IT-10BB) দাখিল করবেন।

(ড) দাবি/প্রত্যর্পণ এর নোটিশ সংক্রান্ত বিধি 26 এর সংশোধন
বিধি 26 এর সংশোধনপূর্বক আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 135 এর অধীন কর দাবী/প্রত্যর্পন নোটিশ ফরমটি পরিমার্জন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট ২৭)।

(ঢ) চাকুরিজীবী করদাতার নগদ চিকিৎসাভাতা সংক্রান্ত বিধি 33I এর সংশোধন
বিধি 33I দে নদুন একটি proviso সন্নিবেশ করে বিধান করা হয়েছে যে-
(১) কোন employee প্রতিবন্ধী ব্যক্তি (serson with disability) হলে তার বেতন খাতে আয় নিরূপনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা হতে আয় বছরে প্রাপ্ত নগদ চিকিৎসা ভাতার ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অংক মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবেনা; <
(২) কোন employee এর হার্ট, কিডনি, চক্ষু, লিভার ও ক্যান্সার সার্জারির খরচ নিয়োগকর্তা কর্তৃক পুরর্ভরণ (reimburse) করা হলে উক্ত employee এর বেতনখাতে আয় নিরূপণে পুনর্ভরণ (reimburse) কৃত অর্থ মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে শেয়ারহোল্ডার পরিচালকগণ এ কর অব্যাহতির সুবধা প্রাপ্য হবেন না।
এ বিধান ২৯১৬-১৭ করবছর কার্যকর হবে।

(ণ) স্পট এসেসমেন্ট সংক্রান্ত বিধি 38B এর সংশোধন
বর্ণিত এস, আর ও এর মাধ্যমে বিদ্যমান বিধি 38B এর সংশোধনপূর্বক স্পট এসেসমেন্টের ক্ষেত্রে আয়করের হার নিম্নরূপে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে:

Intitial capital investment ot be shown Tate of Tax (TK.) Applicability
Upto Tk 6 lakh 3,000/- For the assessee not located under any city corportation or paurashava of district heabquarters;
Upto Tk 7 lakh 3,500/- For the assessee located at Paurashava in sistrict headquarters and other area excluding city corporation;
Upto Tk 8 lakh 4,000/- For assesse of any area;
Upto Tk 10 lakh 5,000/- For assesse of any area;
Upto Tk 15 lakh 10,000/- For assesse of any area;

(b) Where an assessee carries on profession as a lowyer or doctor-

Length of profession Tate of Tax (TK.) Applicability
Upto 3 years 3,000/- For the assessee not located under any city corporation or paurashava of district headquarters;
Upto 4 years 3,500/- For the assessee located at Paurashava in district headquarters and other area excluding city corporation;
Upto 5 years 4,000/- For assesse of any area;
Upto 10 years 5,000/- For assesse of any area;

(ত) ফ্রি-স্যাম্পল বিতরণ বাবদ খরচ অনুমোদন সংক্রান্ত বিধি 65C এর প্রতিস্থাপন
বিধি 65C এর প্রতিস্থাপন করে নতুন বিধি 65C এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ফ্রি স্যাম্পল বিতরণ বাবদ খরচ অনুমোদনের হার নিম্নমূপে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছেঃ
(a) in case of a pharmaceutical industry-
(i) for a turnover upto taka 5 crore, at the rate of 2%
(ii) for a turnover in excess of taka 5 crore but upto 10 crore, at the rate of 1%
(iii) for a turnover in excess of taka 10 crore, at the rate of 0.50%;
(b) in case of a food, cosmetics and toiletries industry-
(i) for a turnover upto taka 5 crore, at the rate of 1%
(ii) for a turnover in excess taka 5 crore but upto 10 crore, at the rate of 0.5%
(iii) for a turnover in excess of taka 10 crore, at the rate of 0.25%;
(c) in case of any other industries-
(i) for a turnover upto taka 5 crore, at the rate of 0.5%
(ii) for a turnover in excess of taka 5 crore but upto 10 crore, at the rate of 0.25%
(iii) for a turnover in excess of taka 10 crore, at the rate of 0.1%

৬১। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিদির সংশোধনী
এস, আর, ও নং ২০৪-আইন/আয়কর/২০১৬, তাকিখ: ২৯ জুন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে আয়কর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (পদ্ধতি) বিধিমালা, ২০১২ তে নিম্নরূপ সংশোধনী আনা হয়েছে-
(ক) বিদি ৭ সংশোধন করে কর কমিশনার কর্তৃক বিভাগীয় প্রতিনিধি মনোনয়নের সময়সীমা আবেদন প্রাপ্তির পরবর্তী কার্যদিবসের পরিবর্তে পরবর্তী ৩ (তিন) কার্যদিবস করা হয়েছে;
(খ) সহায়তাকারী কি সময়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করবেন তা সুনির্দিষ্ট করার জন্য বিধি ১২ এর দাফা (চ) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধান অনুযায়ী, সহায়তাকারী অবশ্যই আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 1520 এর উপধারা (8) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিরোধসমূহ নিষ্পন্ন করবেন।
এ পরিপত্রে অন্য কিছু সুনির্দিষ্টভাবে বলা না থাকলে অধ্যায় বলতে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর Chapter, ধারা বলতে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর section এবং বিধি বলতে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর rule কে বুঝাবে।
২০১৬-১৭ সালের বাজেট কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়কর ও সারচার্জের হার নির্ধারণ, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এবং আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর সংশোধনী / পরিবর্তন এবং নতুন জারীকৃত প্রজ্ঞাপনসমূহ স্পষ্টীকরণের উদ্দেশ্যে এ পরিপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পরিপত্রের কোন বক্তব্য বা উপস্থাপনা আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অথবা আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ অথবা জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে বা কোন মুদ্রণজনিত ক্রটির কারণে কোনরূপ অস্পষ্টতা দেখা দিলে অর্থ আইন, ২০১৬, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪, আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এবং মূল প্রজ্ঞাপনসমূহের ভাষ্য প্রাধান্য পাবে।

(মোঃ শব্বির আহমদ)
প্রথম সচিব (কর নীতি)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।

Paripatra- 2015-2016

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা।

নথি নং-০৮.০১.০০০০.০৩০.০৩.০০৯(অংশ-১).১৫/৫৬   তারিখঃ ০৩ ভাদ্র, ১৪২২ বঙ্গাব্দ / ১৮ আগস্ট, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ  
পরিপত্র-০১ (আয়কর )/২০১৫

বিষয়ঃ ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের বাজেট কার্যক্রমের আওতায় আয়কর আইন, বিধি ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনীত পরিবর্তন সম্পর্কিত স্পষ্টীকরণ।

সূচিপত্র

১। ২০১৫-২০১৬ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য আয়কর হারঃ 
২। সার্বজনীন Income Year এর প্রবর্তন- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 2 এর উপ-ধারা (35) এর প্রতিস্থাপনঃ 
৩। অতিরিক্ত কর আরোপ সংক্রান্ত-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16B এর প্রতিস্থাপনঃ 
৪। উৎপাদনমূখীনতুন industrial undertaking জন্য ন্যূনতম কর হার পুনঃনির্ধারণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16CCCএর সংশোধনঃ
৫। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ ঋণ গ্রহণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা  19 এর উপ- ধারা (21) এর সংশোধনঃ
৬। কোম্পানীর মোটর গাড়ী ক্রয়ে অনুমোদনযোগ্যসীমা বৃদ্ধিকরণ-আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা  19  এর  উপ-  ধারা  (27)এর  সংশোধনঃ 
৭। বাকীতে ক্রয়কৃত এবং দায় হিসাবে প্রদর্শিত নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য পরবর্তী বছরে পরিশোধ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এ উপ- ধারা (29) এর সংযোজনঃ 
৮। গৃহ-সম্পত্তির আয় গণনায় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ইত্যাদি খাতে  অনুমোদিত  খরচের  অব্যয়িত অংশ  আয়  হিসেবে বিবেচনাকরণ-  আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা 19  এ  উপ-ধারা(30) এর সংযোজনঃ
৯। মূল  আয়কর  রিটার্নে  প্রদর্শিত  আয়  অপেক্ষা  পরবর্তীতে দাখিলকৃত রিটার্ন বা সংশোধিত রির্টানে স্বল্প হারে করযোগ্য বা করমুক্ত  খাতের  অতিরিক্ত  প্রদর্শিত  আয়কে  করযোগ্য  আয় হিসেবে বিবেচনাকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এ নতুন উপ- ধারা (31) এর সংযোজনঃ
১০। আবাসিক ভবন এবং এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ/ক্রয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কর হার পুনর্বিন্যাস- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19BBBBB এর সংশোধনঃ
১১। স্বেচ্ছায়  পূর্বের  কর-অনারোপিত  আয়  ঘোষণার  পরিসীমা বহির্ভূত খাত সম্প্রসারণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19E এর সংশোধনঃ 
১২। Financial Institution এর ক্ষেত্রে   bad or doubtful শ্রেণীভুক্ত ঋণের সুদকে প্রকৃত প্রাপ্তির ভিত্তিতে আয় গণ বিধান সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 28 এর উপ-ধারা  (3) এর সংশোধনঃ 
১৩। আমদানীকৃত  সফট্ওয়্যার  ব্যতীত  অন্যান্য  স্থায়ী  সম্পদের ক্ষেত্রে   obsolescence allowance অনুমোদন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 29 এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (xi) এর সংশোধনঃ 
১৪। ব্যবসা  বা  পেশা  আয়ের  ক্ষেত্রে  পারকুইজিট  বাবদ অনুমোদনযোগ্য খরচের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 30 এর সংশোধনঃ 
১৫। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এ নব প্রবর্তিত উপ-ধারা (29)এবং (31) কে ধারা 33   এ  “অন্যান্য সূত্রের আয়” হিসাবে অন্তর্ভুক্তকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 33 এর সংশোধনঃ 
১৬। সিগারেট প্রস্তুতকারকের সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যবসায় অর্জিত আয় অন্য কোন উৎসের ক্ষতির সাথে সমন্বয়যোগ্য না হওয়া সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 37 এর সংশোধনঃ 
১৭। Industrial undertaking শিল্পের   কর  অবকাশ  সুবিধা সম্প্রসারণ   সংক্রান্ত-  আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা  46B  এর  সংশোধনঃ 
১৮। ভৌত অবকাঠামো (physical infrastructure facility) এর কর অবকাশ বাতিল সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা  46C এর সংশোধনঃ 
১৯। কো-অপারেটিভ সোসাইটির কর আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর  অধ্যাদেশের ধারা 47 এর সংশোধনঃ
২০। উৎসে  কর কর্তনের  পরিধি সম্প্রসারণ-আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা 49 এর সংশোধনঃ 
২১। সরকারি   চাকুরিজীবীদের  বেতন-ভাতার  উপর  উৎসে  কর  কর্তনের বিধান প্রবর্তন- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 50 এর  সংশোধনঃ 
২২। ট্রেজারী বন্ড ও ট্রেজারী বিলের উপর upfront উৎসে কর কর্তন এর বিধান রহিতকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 51 এর সংশোধনঃ  
২৩। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদিকে অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত উৎসে  কর কর্তনের খাত সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52 এর  সংশোধনঃ  
২৪। Professional বা Technical service প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন অব্যাহতি সংশ্লিষ্ট সনদপত্র ইস্যুকরণ- আয়কর  অধ্যাদেশের ধারা 52A এর প্রোভাইসো এর সংশোধনঃ  
২৫। বিভিন্ন সেবা প্রদান সম্পর্কিত উৎসে কর কর্তন খাত ও হার  সুনির্দিষ্টকরণ-  আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা  52AA  এর প্রতিস্থাপনঃ 
২৬। সিগারেট প্রস্তুতকারকের সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রয়ের উপর  উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তন-  আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52B এর সংশোধনঃ  
২৭। ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড হতে অর্জিত আয়কে উৎসে কর কর্তন হতে অব্যাহতি প্রদান- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা  52D এর বিদ্যমান প্রোভাইসো সংশোধন ও নতুন প্রোভাইসো সংযোজনঃ 
২৮। ট্রাভেল  এজেন্ট  হতে  উৎসে  কর  আরোপ  সংক্রান্ত  বিধান সংশোধন- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52JJ এর প্রতিস্থাপনঃ
২৯। কোমল পানীয়, ইত্যাদি উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন হার   পুনর্বিন্যাস-  আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা  52S  এর সংশোধনঃ
৩০। কম্পিউটার, কম্পিউটার এক্সেসরীজ, পাট, তুলা ও সূতাে লোকাল এলসি’র মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ে উৎসে কর কর্তন হতে  অব্যাহতি প্রদান সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52U এর  প্রোভাইসো সংশোধনঃ 
৩১। নিবাসী  শিপিং  ব্যবসায়  উৎসে  কর  কর্তন  সংশ্লিষ্ট  সনদপত্র  ইস্যুকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53AA এর সংশোধনঃ
৩২। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53CC এর বিলোপঃ 
৩৩। প্রস্তুতকৃত   পণ্য  বাজারজাতকরণ/বিতরণের  জন্য  প্রদেয়  কমিশন, ফি ইত্যাদি হতে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত- আয়কর  অধ্যাদেশের ধারা 53E এর উপ-ধারা (1) এর সংশোধনঃ 
৩৪। বিদেশী  ক্রেতার  এজেন্টকে  কমিশন/রেমুনারেশন  প্রদান সম্পর্কিত  উৎসে  কর  কর্তনের  হার  পুনর্বিন্যাস-  আয়কর  অধ্যাদেশের ধারা 53EE এর সংশোধনঃ 
৩৫। কয়েকটি  ক্ষেত্রে  সঞ্চয়ী  আমানত  এবং  মেয়াদী  আমানতের সুদের  উপর  উৎসে  কর  কর্তন  হার  পুনর্বিন্যাস- আয়কর  অধ্যাদেশের ধারা 53F এর সংশোধনঃ 
৩৬। দীর্ঘ মেয়াদী লীজ দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে উৎস করের পরিধি বিস্তৃতকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53HH এর সংশোধনঃ  
৩৭। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন বিজ্ঞাপনের উৎসে কর কর্তনের পরিধি সম্প্রসারণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53K এর সংশোধনঃ
৩৮। শেয়ার বাজারের মুনাফার উপর উৎসে কর আরোপ সংক্রান্ত-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53O এর বিলোপঃ
৩৯। রিয়েল  এস্টেট  ব্যবসায়ী  কর্তৃক  জমির  মালিককে  অথ পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তন- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 53P সংযোজনঃ 
৪০। নগদ লভ্যাংশ আয়ের উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 54 এর প্রতিস্থাপনঃ
৪১। অনিবাসীদের   (non-resident)  আয়ের  উপর  উৎসে  কর কর্তন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 56 এর উপ-ধারা (1)  এর প্রতিস্থাপনঃ 
৪২। করদাতার  আবেদনের  প্রেক্ষিতে  রিটার্ন  দাখিলের  সময়সীমা বৃদ্ধিকরণ  সংক্রান্ত-  আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা  75  এর সংশোধনঃ 
৪৩। সার্বজনীন স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82BB এর সংশোধনঃ 
৪৪। চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন- আয়কর  অধ্যাদেশের ধারা 82C এর সংশোধনঃ
৪৫। ফার্মের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 84 এর সংশোধনঃ
৪৬। ট্রান্সফার  প্রাইসিং  বিষয়ে  একাউন্টেন্টের  রিপোর্ট  দাখিল  সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 107F এর প্রতিস্থাপনঃ 
৪৭। ট্রান্সফার  প্রাইসিং  বিষয়ে  107EE   ধারায়  আন্তর্জাতিক  লেনদেনের তথ্য প্রদানে ব্যর্থতায় জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 107HH এর সংযোজনঃ 
৪৮। ব্যক্তি-করদাতার  রিটার্ন  দাখিলের  ব্যর্থতার  ক্ষেত্রে  জরিমানা  আরোপের   সর্বোচ্চ   সীমা   নির্ধারণ   সংক্রান্ত-   আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা  124  এর  উপ-ধারা  (1)  এ  proviso সংযোজনঃ 
৪৯। করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর যাচাইয়ে ব্যর্থতার জন্য জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 124AA এর সংযোজনঃ 
৫০। রিটার্নে  প্রদর্শিত  আয়ের  উপর     74  ধারায়  কর  পরিশোধে ব্যর্থতায় জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 127 এর সংশোধনঃ 
৫১। জাল বা নকল (fake) নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্ট দাখিলের কারণে জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা 129B এর সংযোজনঃ 
৫২। জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে শুনানীর সুযোগ প্রদানের পরিসর বৃদ্ধি- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 130 এর সংশোধনঃ 
৫৩। উপ কর কমিশনার বরাবর আপীলাত যুগ্ম কর কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত জরিমানার আদেশ প্রের  সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 132 এর সংশোধনঃ 
৫৪। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) তে আবেদন দাখিল সংক্রান্ত-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 152I এর সংশোধনঃ 
৫৫। উপ  কর  কমিশনার  এবং  পরিদর্শী  যুগ্ম  কর  কমিশনারের  আদেশের   বিরুদ্ধে   আপীল           দায়ের   সংক্রান্ত-আয়কর  অধ্যাদেশের ধারা 153 এর সংশোধনঃ 
৫৬। জাল বা নকল (fake) অডিট রিপোর্ট দাখিলকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনাকরণ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 165AA এর সংযোজনঃ 
৫৭। বিদেশী নাগরিককে অননুমোদিতভাবে কাজে নিয়োগের জন্য শাস্তিমূলক বিধান প্রবর্তন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুন   ধারা 165C এর সংযোজনঃ 
৫৮। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন, ইত্যাদি দাখিলের শর্ত সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 184A এর সংশোধনঃ 
৫৯। আয়কর অধ্যাদেশের   THE THIRD SCHEDULE এর  সংশোধনঃ 
৬০। আয়কর অধ্যাদেশের THE SIXTH SCHEDULE, PART-A এর সংশোধনঃ 
৬১। আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর সংশোধনীসমূহঃ
৬২। জারীকৃত প্রজ্ঞাপনসমূহঃ 

অর্থ আইন, ২০১৫ এবং বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এবং আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। নব প্রবর্তিত ও সংশোধিত আইন, বিধি ও প্রজ্ঞাপনসমূহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকল্পেও করদাতাদের সংশ্লিষ্ট বিধি বিধানসমূহ সহজভাবে অবহিত করার লক্ষ্যে আনীত সংযোজন/ সংশোধন/ পরিবর্তন/ পরিমার্জনসমূহনিম্নরূপে উপস্থাপন করা হলোঃ
১। ২০১৫-২০১৬ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য আয়কর হারঃ
(ক) ব্যক্তি শ্রেণীর কর হারঃ
(i) অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি-করদাতা (অনিবাসী বাংলাদেশীসহ), হিন্দু যে․থ পরিবার, অংশীদারী ফার্ম, ব্যক্তি-সংঘ এবং আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা ২,২০,০০০/-টাকা হতে বৃদ্ধি করে ২,৫০,০০০/- টাকা করা হয়েছে। ২০১৫-২০১৬ কর বছরের জন্য এরূপ করদাতাদের আয়ের উপর প্রযোজ্য কর হার নিম্নরূপে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছেঃ-

 

মোট আয়

কর হার

(ক)

প্রথম ২,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর

শূন্য

(খ)

পরবর্তী ৪,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর

১০%

(গ)

পরবর্তী ৫,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর

১৫%

(ঘ)

পরবর্তী ৬,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর

২০%

(ঙ)

পরবর্তী ৩০,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর

২৫%

(চ)

অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর

৩০%

তবে, উপরোল্লিখিত কর হার করদাতার মর্যাদা নির্বিশেষে সিগারেট প্রস্তুতকারকের উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(ii) মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ২,৭৫,০০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩,০০,০০০/- টাকা করা হয়েছে।
(iii) প্রতিবন্ধী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,৫০,০০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩,৭৫,০০০/- টাকা করা হয়েছে।
(iv) মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেরগেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪,০০,০০০/- টাকা হতে বৃদ্ধি করে ৪,২৫,০০/- টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং মুবিম/প্রঃ৩/মুক্তিযোদ্ধা/গেজেট/২০০৩/৪৭৯, তারিখঃ ২০শে ভাদ্র ১৪১০/ ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০০৩ এ উল্লিখিত তালিকায় যে সকল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে সকল করদাতা এ সুবিধা পাবেন।
(v) করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বের আয়ের ক্ষেত্রে প্রদেয় ন্যূনতম আয়করের পরিমাণঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতাদের জন্য ৫,০০০/- টাকা, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতাদের জন্য ৪,০০০/- টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত করদাতাদের জন্য ৩,০০০/- টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বে আয় আছে এমন করদাতার প্রদেয় আয়করের পরিমাণ বা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বিবেচনার পর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ ন্যূনতম আয়করেরচেয়ে কম, শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও তাঁকে প্রযোজ্যহারে ন্যূনতম আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
(খ) ব্যক্তি-করদাতার উপর প্রযোজ্য সারচার্জের হার পুনর্বিন্যাসঃ-
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ব্যক্তি-করদাতার প্রদেয় আয়করের উপর প্রযোজ্য সারচার্জ আরোপের বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আয়কর রিটার্নের সাথে দাখিলকৃত পরিসম্পদ, দায় ও খরচের বিবরণী (statement of assets, liabilities and expenses) তে প্রদর্শিত নীট পরিসম্পদের মূল্যমান (total net worth) ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার অধিক হলে নীট পরিসম্পদের উপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত হারে প্রদেয় আয়করের উপর সারচার্জ আরোপিত হবেঃ

 

নীট পরিসম্পদের মূল্যমান    

সারচার্জের হার

(ক)

দুইকোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত

শূন্য

(খ)

দুইকোটি পঁচিশ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু দশ কোটি টাকার অধিক নয়

১০%

(গ)

দশ কোটি টাকার অধিক কিন্তু বিশ কোটি টাকার অধিক নয়

১৫%

(ঘ)

বিশ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ত্রিশ কোটি টাকার অধিক নয়

২০%

(ঙ)

ত্রিশ কোটি টাকার অধিক যে কোন অংকের উপর

২৫%

(গ) নূ্যূনতম সারচার্জ নির্ধারণঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ব্যক্তি-করদাতার প্রদর্শিত নীট পরিসম্পদের মূল্যমানের উপর ন্যূনতম সারচার্জ আরোপের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। নব প্রবর্তিত এ বিধান অনুযায়ীউক্ত সারচার্জ বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বিবেচনা পরবর্তী প্রদেয় আয়করের উপর প্রযোজ্য হবে। উপরে বর্ণিত হার অনুযায়ী কোন ব্যক্তি-করদাতার প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ ৩,০০০/- টাকার কম হলেও তাঁকে ন্যূনতম ৩,০০০/-টাকা সারচার্জ বাবদ পরিশোধ করতে হবে। সারচার্জ কিভাবে আরোপিত হবে তা নিচের উদাহরণগুলোর মাধ্যমে স্পষ্টীকরণ করা হলোঃ-

    টাকা
(১) (i) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান     ২,২০,০০,০০০/-
  (ii) মোট আয় ৫,০০,০০০/-
  (iii) আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ  ২৫,০০০/-
  (iv) প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ     শূন্য 
(২)  (i) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান ২,৩০,০০,০০০/-
  (ii) মোট আয় ৫,০০,০০০/-
  (iii) আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ    ২৫,০০০/-
  (iv) প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১০%) ২,৫০০/-

এক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩,০০০/- টাকা সারচার্জ বাবদ পরিশোধ করতে হবে। তবে, কোন করদাতার আয় করযোগ্যসীমা অতিক্রম না করলে ন্যূনতম সারচার্জ পরিশোধ সংক্রান্ত এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

    টাকা
(৩) (i) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান     ১১,০০,০০,০০০/-
  (ii) মোট আয় ৫,০০,০০০/-
  (iii) আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ ২৫,০০০/-
  (iv) প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১৫%)    ৩,৭৫০/-
(৪) (i) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান ২০,৫০,০০,০০০/-
  (ii) মোট আয় ৫,০০,০০০/-
  (iii) আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ    ২৫,০০০/- 
  (iv) প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (২০%)  ৫,০০০/-

 

(৫) (i) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান ৩০,১০,০০,০০০/-
  (ii) মোট আয় ৫,০০,০০০/-
  (iii) আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ    ২৫,০০০/-
  (iv) প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (২৫%) ৬,২৫০/-

                    
উল্লেখ্য, ব্যক্তি-করদাতা (individual) ব্যতীত অন্য কোন শ্রেণীর করদাতার উপর এ সারচার্জ
আরোপযোগ্য নয়।
(ঘ) অনিবাসী ব্যক্তি-করদাতার করহারঃ
অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যতীত বাংলাদেশে অনিবাসী এমন ব্যক্তি-করদাতার কর হার ৩০% বলবৎ আছে। তবে অনিবাসী ব্যক্তি-করদাতা বাংলাদেশী নাগরিক হলে তাঁর আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য হারে অর্থাৎ ০%, ১০%, ১৫%, ২০%, ২৫% ও ৩০% আয়কর এবং সারচার্জ প্রদেয় হবে।
(ঙ) অবস্থান ভিত্তিক ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প থেকে উদ্ভূত আয়ের উপর আয়কর রেয়াতঃ
কোন ব্যক্তি-করদাতা যদি স্বল্প উন্নত এলাকা (less developed area)বা সবচেয়ে কম উন্নত এলাকায় (least developed area) অবস্থিত কোন ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পের মালিক হন এবং উক্ত কুটির শিল্পের দ্রব্যাদি উৎপাদনে নিয়োজিত থাকেন, তাহলে তিনি উক্ত ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প থেকে উদ্ভূত আয়ের উপর নিম্নবর্ণিত হারে আয়কর রেয়াত লাভ করবেন, যথা :-

 

বিবরণ রেয়াতের হার
(অ) যেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের উৎপাদনের পরিমাণ    পূর্ববর্তী  বছরের উৎপাদনের  পরিমাণেরতুলনায় ১৫% এর অধিক, কিন্তু ২৫% এর অধিক নয়  প্রদেয় আয়করের ৫%
(আ) যেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের উৎপাদনের পরিমাণ    পূর্ববর্তী  বছরের  উৎপাদনের  পরিমাণেরতুলনায় ২৫% এর অধিক হয় প্রদেয় আয়করের ১০%

    
(চ) কোম্পানীর কর হারঃ
পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর হার ২৭.৫% হতে হ্রাস করে ২৫% নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী ৩০% এর অধিক নগদ লভ্যাংশ প্রদান করলে ১০% হারে কর রেয়াত সুবিধা সংক্রান্ত পূর্বের বিধানটি রহিত করা হয়েছে। অপরদিকে ১০% এর কম লভ্যাংশ ঘোষণা করলে অথবা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশ প্রদান না করলে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর কর হার ৩৫% এ নির্ধারণ করার বিধানও রহিত করা হয়েছে।

তবে, নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর করহার গত বছরের ন্যায় ৩৫% বহাল রয়েছে।

২০১৫-২০১৬ কর বছরের জন্য কোম্পানীর আয়করের হার (লভ্যাংশ আয় ও মূলধনী আয় ব্যতীত) নিম্নরূপঃ

 

কোম্পানীর ধরণ কর হার মন্তব্য
(অ) নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী (স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানী)     ৩৫%  

(আ)

পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী (স্টকএক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানী) ২৫% শর্তঃ যদি এরূপ কোম্পানী যাচঁনষরপষু Publicly traded company নয়, তার পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২০% শেয়ার Initial Public Offerings (IPO) এর মাধ্যমে হস্তান্তর কর তাহলে এরূপ কোম্পানী উক্ত হস্তান্তর সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের উপর ১০% হারে আয়কর রেয়াত লাভ করবে।
(ই) ব্যাংক,  বীমা,  আর্থিক  প্রতিষ্ঠানসমূহ (মার্চেন্ট ব্যাংক ব্যতীত)
(i) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে
(ii) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত  হলে
(iii) সরকার  কর্তৃক  ২০১৩  সালে অনুমোদিত  ব্যাংক,  বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করের হার
৪০%
৪২.৫% ৪০% 
 
(ঈ) মার্চেন্ট ব্যাংক  ৩৭.৫%  
(উ) সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানী  ৪৫%   
(ঊ) মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানী    ৪৫% শর্তঃ (১)এরূপকোন কোম্পানী তার পরিশোধিত মূলধনের   কমপক্ষে ১০% শেয়ার,  যার  মধ্যে Pre  Initial Public Offering Placement ৫% এর অধিক হবে না; স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হস্তান্তর করে Publicly traded company তে রূপান্তরিত হলে  তার  কর  হার  হবে     ৪০%; (২) এরূপ কোন কোম্পানীযদিতারপরিশোধিতমূলধনের২০% শেয়ার Initial Public Offerings (IPO)এরমাধ্যমেহস্তান্তরকরে, তাহলেহস্তান্তরসংশ্লিষ্টবছরেপ্রযোজ্য আয়কর এর উপর১০%হারেকররেয়াতপাবে।

               

(ছ) অন্যান্য কর হারঃ                

(অ) কোন কোম্পানী কর্তৃক প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ের    ক্ষেত্রে/বিদেশী কোম্পানীর মুনাফা প্রত্যাবাসন, যা লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য, এর উপর ২০%
(আ) কোম্পানী ব্যতীত সিগারেট     প্রস্তুতকারক অন্যান্য শ্রেণীর করদাতার সিগারেট উৎপাদন   পূর্বক  বিক্রয় ব্যবসার আয়ের উপর ৪৫% 
(ই) সমবায় সমিতির আয়ের উপর ১৫%

    
অর্থ আইন, ২০১৫ অনুযায়ী ১ জুলাই, ২০১৫খ্রিস্টাব্দ তারিখে আরব্ধ কর বছরের জন্য আয়করের হার পরিশিষ্ট-১৯ এ দেখানো হয়েছে।
২। সার্বজনীন Income Year এর প্রবর্তন- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 2 এর উপ-ধারা(35) এর প্রতিস্থাপনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা2 এর উপ-ধারা (35) এ Income Year এর বিদ্যমান সংজ্ঞাটি অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী একজন করদাতা বছরের যে কোন দিনকেই হিসাব সমাপ্তির তারিখ হিসেবে গণ্য করে হিসাবের খাতাপত্র সংরক্ষণ এবং সে অনুযায়ী হিসাব বিবরণী ও আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন। প্রতিস্থাপিত সংজ্ঞা অনুযায়ীব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে হিসাব সমাপ্তির অভিন্ন তারিখ ৩০ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রতিস্থাপিত সংজ্ঞার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপঃ

  • ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য সকল করদাতার আয় বছরের হিসাব সমাপ্তির তারিখ হবে ৩০ জুন;
  • ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয় বছর হবে ১ জানুয়ারীহতে শুরু করে পরবর্তী ১২ মাস। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে হিসাব সমাপ্তির তারিখ হবে সংশ্লিষ্ট বছরের ৩১ ডিসেম্বর;

 

  • নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে আয় বছর হবে ব্যবসা শুরুর তারিখ হতে পরবর্তী ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কাল;
  • ব্যবসা বন্ধ, কোম্পানীর অবসায়ন বা কোন করদাতার মৃত্যুজনিত কারণে আয় বছর হবে ১ জুলাই হতে ব্যবসা বন্ধ, কোম্পানীর অবসায়ন বা করদাতার মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত সময়কাল।

 

  • নিবন্ধিত নয় এরূপ কোন unincorporated body বা সংস্থা (অংশীদারী ব্যবসা, ব্যক্তি-সংঘ, ইত্যাদি) এর কোন অংশগ্রহণকারীর অবসর গ্রহণ বা মৃত্যুরক্ষেত্রে আয়

     বছর হবে-

  • ১ জুলাই হতে ৩০ জুনের মধ্যে কোন অংশগ্রহণকারীর অবসর বামৃত্যু হলে ১ জুলাই হতে অবসর বা মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত সময়কাল;
  • কোন অংশগ্রহণকারীর অবসর বা মৃত্যুর তারিখের পরবর্তী ৩০ জুনের পূর্বে অপর কোন অংশগ্রহণকারীর অবসর বা মৃত্যু হলে, পূর্ববর্তী অংশগ্রহণকারীর
  • অবসর বা মৃত্যুর তারিখ হতে পরবর্তী অংশগ্রহণকারীর অবসর বা মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত; এবং
  • কোন অংশগ্রহণকারীর অবসর বা মৃত্যুর তারিখ হতে পরবর্তী ৩০ জুনের মধ্যে অন্য কোন অংশগ্রহণকারীর অবসর বা মৃত্যু না হলে উক্ত অংশগ্রহণকারীর অবসর বা মৃত্যুর তারিখ হতে পরবর্তী ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কাল।
  • তবে কোন ক্ষেত্রেই আয় বছরের পরিব্যাপ্তি বা সময়কাল ১২ মাসের বেশী হবে না।

প্রতিস্থাপিত উক্ত সংজ্ঞার ফলে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য যে সকল করদাতা ৩০ জুন ভিন্ন অন্য কোন তারিখকে হিসাব সমাপ্তির কাল হিসেবে গণ্য করে আসছেন, সে সকল করদাতা কিভাবে নতুন প্রবর্তিত বিধান অনুসারে ৩০ জুন তারিখকে হিসাব সমাপ্তির বা আয় বছর সমাপ্তির তারিখ গণ্য করে হিসাব বিবরণী প্রস্তুত এবং আয় বছর ও কর বছর নির্ধারণ করবেন, তা নীচের উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হলোঃ
উদাহরণ ঃ
ABC লিমিটেড কোম্পানীর (যা ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়) হিসাব সমাপ্তির তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে সমাপ্ত আয় বছর
( income year) সংশ্লিষ্ট কর বছর ( assessment year ) ২০১৬-২০১৭। আয়কর
অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৭৫ ধারার বিধান অনুযায়ী উক্ত কোম্পানী করদাতার ২০১৬-২০১৭ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ জুলাই, ২০১৬।প্রতিস্থাপিত বিধান
অনুযায়ী ৩০ জুনআয় বছরের হিসাব সমাপ্তির তারিখ বিধায় কর নির্ধারণে আয় বছরের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনে ১ জানুয়ারী, ২০১৬ হতে ৩০ জুন, ২০১৬ পর্যন্ত সময়কালের জন্য
ABC লিমিটেড কোম্পানীকে আরেকটি পৃথক হিসাব বিবরণী ও আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে। এক্ষেত্রেও ABC কোম্পানীর আয় বছর সংশ্লিষ্ট অভিন্ন কর বছর হবে ২০১৬-২০১৭। অর্থাৎ, একই কর বছর ২০১৬-২০১৭ তে ABC কোম্পানীর দু’টি কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে; প্রথমটি পূর্বের অনুসৃত হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী জানুয়ারী-ডিসেম্বর অর্থাৎ প্রথম ১২ মাসের জন্য এবং শেষোক্তটি নব প্রবর্তিত বিধানের আলোকে পরবর্তী জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। একই কর বছরের জন্য দুটি হিসাবকাল অনুসরণের কারণে এরূপ কোম্পানী করদাতাদের ক্ষেত্রে ৭৫ ধারায় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা হবে নিম্নরুপঃ
(১) ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত আয় বছরের ক্ষেত্রে পরবর্তী বছরের ১৫ জুলাই; এবং
(২) ৩০ জুন তারিখে সমাপ্ত আয় বছরের ক্ষেত্রে পরবর্তী ৩১ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য, কোম্পানী ব্যতীত অন্যান্য শ্রেণীর করদাতাদের ক্ষেত্রে উপরোক্ত উদাহরণ অনুযায়ী দুটি হিসাবকালের জন্য অভিন্ন কর বছরের ক্ষেত্রেআয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৭৫ ধারা অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় হবে ৩০ সেপ্টেম্বর।
অর্থাৎ, পরিবর্তিত এ বিধানের প্রয়োগিকতা বিবেচনায় এ বিধান কার্যকর সংশ্লিষ্ট কর বছরের ক্ষেত্রে ১২ মাসের অধিক সময়কাল বিবেচনায় প্রথম বারের মত দু’টি পৃথক সময়কালের জন্য হিসাব বিবরণী ও আয়কর রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তী কর বছর থেকে যথানিয়মে জুলাই- জুন সময়কালের তথা ১২ মাস ভিত্তিক আয় বছরের জন্য হিসাব বিবরণী ও রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
অর্থ আইন, ২০১৫ এর ধারা ১ এর উপ-ধারা (৩) মোতাবেক Income Year এর প্রতিস্থাপিত সংজ্ঞাটি ১ জুলাই, ২০১৬ হতে আয়কর অধ্যাদেশের যথাস্থানে প্রতিস্থাপিত মর্মে গণ্য হবে যা ২০১৬-২০১৭ কর বছর হতে কার্যকর হবে।
 ৩। অতিরিক্ত কর আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16B এর প্রতিস্থাপনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16B প্রতিস্থাপন করে এতে ক্লজ
(a) ও ক্লজ (b) সন্নিবেশ করা হয়েছে, যা নিম্নরূপঃ
(ক) লভ্যাংশ বা বোনাস শেয়ার ইস্যু, ঘোষণা বা বিতরণে ব্যর্থতাঃ
ধারা 16B এর ক্লজ (a) অনুযায়ী বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশে যা কিছুইবলা থাকুক না কেন ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ব্যতীত বাংলাদেশের কোনস্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন
পাবলিক লিঃ কোম্পানী যদি তার পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১৫% লভ্যাংশ নগদে বা বোনাস শেয়ার হিসেবে তার আয় বছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ইস্যু, ঘোষণ বা বিতরণ না করে তাহলে অবন্টিত মুনাফার(ফ্রি রিজার্ভসহ সঞ্চিত মুনাফা)উপর ৫% হারে অতিরিক্ত কর আরোপিত হবে।
(খ) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কোন বিদেশী নাগরিককে কাজেনিয়োগ সংক্রান্তঃ
ধারা 16B এর ক্লজ (b) অনুযায়ী বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশে যা কিছুইবলা থাকুক না কেন কোন ব্যক্তি (person) যদি বিনিয়োগ বোর্ড বা সরকারের কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীতকোন বিদেশী নাগরিককে কোন কাজে নিয়োগ প্রদান করে, সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী ব্যক্তির (person) এরূপ অ‣বধ নিয়োগ প্রদান সংশ্লিষ্ট কর বছর এবং অ‣বধ নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সংশ্লিষ্ট পরবর্তী কর বছরসমূহেরপ্রদেয় কর এর উপর অতিরিক্ত ৫০% কর আরোপিত হবে। তবে, এরূপ অতিরিক্ত কর এর পরিমাণ কোন ভাবেই ৫ লক্ষ টাকার কম হবে না।
৪। উৎপাদনমূখী industrial undertaking জন্য ন্যূনতম কর হার পুনির্ধারণঃ-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16CCC এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 16CCC এর বিদ্যমান বিধানে কোন ফার্ম বা কোম্পানীকে তার গ্রস প্রাপ্তি/টার্নওভারের উপর ০.৩০% হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হয়।অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে উক্ত ধারায় একটি প্রোভাইসো সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ প্রোভাইসোর বিধানমতে কেবলমাত্র পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে (industrial undertaking) তার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর প্রথম তিনটি আয় বছরে ০.৩০% এর পরিবর্তে ০.১০% হ্রাসকৃতহারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। তবেউক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শিত/নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় কর যদি ন্যূনতম করের বেশিহয় তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রদর্শিত/নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় কর পরিশোধ করতে হবে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর ৭৫ ধারায় রিটার্ন দাখিলযোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন সংযোজিত এ প্রোভাইসো অনুযায়ী ন্যূনতম কর রিগণনাপ কেবলমাত্র প্রথম তিনটি আয় বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ ধরনের নতুনশিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য কোম্পানী বা ফার্মের ক্ষেত্রে ০.৩০% হারে ন্যূনতম কর প্রদানের বিধান প্রযোজ্য হবে।
৫। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ ঋণ গ্রহণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এর উপ- ধারা (21)এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এর উপ-ধারা (21) অনুযায়ীআয় গণনায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির (person) কাছ থেকে crossed cheque‟ ব্যতীত অন্য কোন মাধ্যমে এক বা একাধিক উৎস হতে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে উক্ত গৃহীত ঋণ বা তার অপরিশোধিত অংককে অন্যান্য উৎস হতে আয় হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে “crossed cheque”এর সাথে “bank transfer”কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিধান ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে।

৬। কোম্পানীর মোটর গাড়ী ক্রয়ে অনুমোদনযোগ্য সীমাবৃদ্ধিকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এর উপ- ধারা (27) এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এর উপ-ধারা (27) এ কোন কোম্পানী paid up capital এর ১০ শতাংশের অধিক মূল্যে মোটরকার বা জীপ ক্রয় করলে, গাড়ীর ক্রয়মূল্য paid up capitalএর ১০% এর পার্থক্যের ৫০ শতাংশকে উক্ত কোম্পানীর “অন্যান্য সূত্রের আয়” হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে উক্ত ধারাটি সংশোধন করে উক্ত ১০ শতাংশ পরিগণনার ভিত্তি হিসেবে paid up capital Ges reserve and accumulated profit এর যোগফলকে বিবেচনা করার বিধান করা হয়েছে।

ধরা যাক, কোন একটি কোম্পানীর paid up capital ১,০০,০০,০০০/- টাকা এবং reserve and accumulated profit এর স্থিতি ১,০০,০০,০০০/- টাকা। উক্ত কোম্পানী যদি ৬০,০০,০০০/- টাকা মূল্যের একটিমোটর কার বা জীপ ক্রয় করে তবে পরিবর্তিত আইনের বিধান অনুযায়ী ধারা ১৯ এর উপ-ধারা (২৭) এর আয় নিম্নরুপে পরিগণনা করতে হবে-

Paid up Capital + Reserve and accumulated Profit =   ২,০০,০০,০০০/-

এর ১০%    

=    ২০,০০,০০০/-

গাড়ীর ক্রয়মূল্য      

=    ৬০,০০,০০০/-

পার্থক্য

=    ৪০,০০,০০০/-

পার্থক্যের ৫০%     

=    ২০,০০,০০০/-

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আনীত সংশোধনী মোতাবেক এক্ষেত্রে ২০,০০,০০০/- টাকা উক্ত করদাতা কোম্পানীর ধারা 19 এর উপ-ধারা (27) অনুসারে“অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে।
 ৭। বাকীতে ক্রয়কৃতএবং দায় হিসাবে প্রদর্শিত নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য পরবর্তী বছরে পরিশোধ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এ উপ-ধারা (27) এর সংযোজনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে ধারা 19 এ একটি নতুনউপ-ধারা (29) সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ নতুন উপ-ধারার বিধান অনুসারে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নিয়োজিত কোন করদাতা ব্যতীত অন্য কোন করদাতা যদি কোন দালান বা গৃহ-সম্পত্তি বা তার কোন ইউনিট নির্মাণের ব্যাখ্যায় উৎস হিসেবে বাকীতে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় এবং তা দায় (liabilities) হিসেবে প্রদর্শন করে, তাহলে যে কর বছরে এরূপ দায় প্রদর্শিত হবে তার পরবর্তী কর বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় অপরিশোধিত দায়ের সম্পূর্ণ অংশ উক্ত আয় বছর সংশ্লিষ্ট কর বছরে করদাতার “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে।
ধরা যাক, এরূপ কোন করদাতা ২০১৫-২০১৬ কর বছরে দালান নির্মাণের বিপরীতে ৬০,০০,০০০/- মূল্যের নির্মাণ সামগ্রী বাকীতে ক্রয়হিসেবে তার দাখিলকৃত আইটি-১০বি/ স্থিতিপত্রে দায় বাবদ প্রদর্শন করে। পরবর্তী কর বছরে অর্থাৎ ২০১৬-২০১৭ কর বছরে এ দায় হতে তিনি ২০,০০,০০০/- টাকা পরিশোধ করেন এবং আইটি-১০বি/ স্থিতিপত্রে ৪০,০০,০০০/- টাকা দায়ের স্থিতি হিসেবে প্রদর্শন করেন। ধারা 19 এর উপ-ধারা (29) এর বিধান অনুসারে অপরিশোধিত দায়ের স্থিতি অর্থাৎ ৪০,০০,০০০/- টাকা ২০১৬-২০১৭ কর বছরে “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে।
৮। গৃহ-সম্পত্তির আয় গণনায় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ইত্যাদি খাতে অনুমোদিত খরচের অব্যাহতি অংশ আয়    হিসেবে বিবেচনাকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এর উপ- ধারা (30) এর সংযোজনঃ
গৃহ-সম্পত্তি খাতের আয় নিরূপণে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 25 এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ
(h) অনুযায়ী আবাসিকভবনের বার্ষিক ভাড়া মূল্যের ২৫% এবং বাণিজ্যিক ভবনের ৩০% আইনানুগভাবে মেরামত, আদায়, ইত্যাদি খরচ হিসেবে অনুমোদন করা হয়।গৃহ-সম্পত্তির আয় গণনায় এরূপ ব্যয় দাবী সত্বেও কোন করদাতা আইনানুগভাবে অনুমোদিত এ খরচের সম্পূর্ণ বাঅংশ বিশেষ মেরামত বাবদ খরচ হয়নি- এ যুক্তিতেযদি কোন অংক তার সম্পদ পরিবৃদ্ধিরতহবিলের উৎস হিসেবে প্রদর্শন করেন, তবে সমপরিমাণ অংক অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এ সংযোজিত উপ-ধারা (30) এর বিধানমতে “গৃহ-সম্পত্তি খাতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে।
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি-করদাতা একটি আবাসিক ভবন ভাড়ায় প্রদান হতে আয় অর্জন করেন। উক্ত ভবনের বার্ষিক ভাড়ামূল্য ১২,০০,০০০/- টাকা। আয়কর রিটার্নে তিনি গৃহ-সম্পত্তির আয় গণনায় আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 25 এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (h) অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য খরচ ৩,০০,০০০/- টাকা দাবী করেন। কিন্তু উক্ত অংক খরচ হয়নি দাবী করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর বছরের সম্পদ পরিবৃদ্ধির উৎস ব্যাখ্যায় তা তহবিল হিসেবে প্রদর্শন করেন । এ ক্ষেত্রে নব প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী বিধিবদ্ধ ব্যয়ের অব্যয়িত সমুদয় অংক আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 19 এর উপ- ধারা (30) এর বিধান অনুসারে“গৃহ-সম্পত্তির আয়” হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, দাবী অনুযায়ী এ ধরণে অব্যয়িত সমুদয় অংক বা অংশ বিশেষের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।
ব্যক্তি-করদাতা ব্যতীত অন্যান্য পর্যায়ের করদাতাও যদি হিসাব বিবরণীতে গৃহ-সম্পত্তি খাতের আয় গণনায় দাবীকৃত এরূপ খরচ অব্যয়িত অংক হিসেবে প্রদর্শন করে, সেক্ষেত্রেও এ ধারার বিধানটি সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
৯।মূল আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত আয় অপেক্ষা পরবর্তীতে দাখিলকৃত রিটার্ন বা সংশোধিত রির্টানে স্বল্প হারে করযোগ্য বা করমুক্তখাতের অতিরিক্ত প্রদর্শিত আয়কে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনাকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের নতুন ধারা 19 এর উপ- ধারা (31) এর সংযোজনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19 এ একটি নতুনউপ-ধারা (31) সংযোজন করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত এর ধারার বিধান অনুযায়ী কোন করদাতা তার মূলআয়কর রিটার্নে করমুক্ত বাহ্রাসকৃতহারে কর আরোপযোগ্য খাতে যে পরিমাণ আয় প্রদর্শন করবেন, পরবর্তীতে ৭৮ ধারা অনুযায়ীসংশোধিত অথবা কর মামলা পুনঃউন্মোচন জনিত ৯৩ ধারার নোটিশ জারীর প্রেক্ষিতে বা অন্য কোন প্রেক্ষিতে দাখিলকৃত রিটার্ন/সংশোধিত রিটার্ন/রিটার্নে করমুক্ত বা হ্রাসকৃতকর হার সংশ্লিষ্ট খাতে যে পরিমাণ অংক অতিরিক্ত আয় হিসেবে প্রদর্শন করবেন তার সম্পূর্ণ অংশই (একই খাতে মূল আয়কর রিটার্নে ও সংশোধিত আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত করমুক্ত বাহ্রাসকৃতহারে কর আরোপযোগ্য আয়ের পার্থক্য) করদাতার “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে এবং করমুক্ত/হ্রাসকৃত হারের পরিবর্তে তফসিলে বর্ণিত হারে কর আরোপযোগ্য হবে।
ধরা যাক, কোন করদাতা ২০১২-২০১৩ কর বছরে গৃহ-সম্পত্তি খাতে ৩,০০,০০০/- টাকা এবং ব্যবসা খাতে ৪,০০,০০০/- টাকা সর্বমোট করযোগ্য আয় ৭,০০,০০০/- এবং পোল্ট্রি খাতে ২০,০০,০০০/- টাকা করমুক্তআয় প্রদর্শন করে মূলআয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। পরবর্তীতে তিনি স্বপ্রণোদিতভাবে ৭৮ ধারায় অথবা কর বছরের কর মামলাটি ৯৩ ধারায় পুনঃউন্মোচরে প্রেক্ষিতে বা অন্য কোন প্রেক্ষিতে পোল্ট্রি খাতে ৩৫,০০,০০০/- টাকা করমুক্ত আয় প্রদর্শনকরে সংশোধিত রিটার্ন/রিটার্ন দাখিল করেন বা উৎসের সম্পদ পরিবৃদ্ধির ব্যাখ্যায় উক্ত পোল্ট্রি খাতের আয়কে উৎস হিসেবে প্রদর্শন করেন। অর্থাৎ, পোল্ট্রি খাতে করমুক্ত বর্ধিত আয়/তহবিলের উৎস প্রদর্শন করেন ১৫,০০,০০০/-। নতুন সংযোজিতউপ-ধারা (31) এর বিধান অনুসারে এ ১৫,০০,০০০/- টাকা করদাতার এরূপ আয় প্রদর্শন সংশ্লিষ্ট কর বছর অর্থাৎ ২০১২-২০১৩ কর বছরে “অন্যান্য উৎস” হতে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
১০। আবাসিক ভবন এবং এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ/ক্রয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কর হার পুনর্বিন্যাস- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19BBBBB এর সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৩ এর মাধ্যমে আবাসিক ভবন/এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ/ক্রয়ে বিনিয়োগকারী করদাতাগণের জন্য বিশেষ কর ব্যবস্থা সংক্রান্ত ধারা 19BBBBB আয়কর অধ্যাদেশে সংযোজিত হয়। অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বিদ্যমান এ ধারাটির উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (d) এর সাব-ক্লজ (i) ও সাব-ক্লজ (ii) তে এবং ক্লজ (e) এর সাব-ক্লজ (i) এর ও সাব-ক্লজ (ii) তে পরিবর্তন আনয়নের মাধ্যমে আবাসিক ভবন/ এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ/ক্রয়ের জন্য পরিমাপের ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য কর এর পরিমাণ হ্রাস করা হয়েছে। ক্লজ (d) তে আনীত পরিবর্তন অনুযায়ী জেলা সদরের পে․র এলাকায় অবস্থিত ২০০ বর্গমিটার পর্যন্ত আয়তনের দালান এবং এ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি ১০০০/- টাকার পরিবর্তে ৬০০/- টাকা হারে এবং ২০০ বর্গমিটারের অধিক আয়তনের দালান এবং এ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি ১৫০০/- টাকার পরিবর্তে ৮০০/- টাকা হারে কর পরিশোধ করতে হবে। একই আইনের মাধ্যমে আনীত সংশোধনী অনুযায়ী ক্লজ (e) তে বর্ণিত এলাকায় দালান এবং এ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে আয়তন ২০০ বর্গমিটারের কম হলে বর্গমিটার প্রতি ৭০০/- টাকার পরিবর্তে ৪০০/- টাকা হারে এবং ২০০ বর্গমিটারের অধিক আয়তনের দালান এবং এ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি ১০০০/- টাকার পরিবর্তে ৬০০/- টাকা হারে কর পরিশোধ করতে হবে। এ বিধানের অন্যান্য শর্তাবলী পূর্বের ন্যায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
১১। স্বেচ্ছায় পূর্বের কর অনারোপিত আয় ঘোষণার পরিসীমা বহির্ভূত খাত সম্প্রসারণ-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 19E এর সংশোধনঃ
স্বেচ্ছায় পূর্বের কর অনারোপিতআয় ঘোষণা সংক্রান্ত ধারা 19E অর্  আইন, ২০১২ এর মাধ্যমে আ য়কর অধ্যাদেশে সংযোজিত হয়। উক্ত ধারার উপ-ধারা (3) অনুযায়ীকয়েকটি ক্ষেত্রকে উক্ত ধারার অধীনে স্বেচ্ছায় পূর্বের কর অনারোপিত আয় ঘোষণার পরিসীমার বহির্ভূত রাখা হয়েছে। অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে 19E ধারার উপ-ধারা (3) এর ক্লজ (d) এর পর  ক্লজ (e) সংযোজন করে তাতে দুটি সাব-ক্লজ যথা সাব-ক্লজ (i) ও সাব-ক্লজ (ii) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত এ দু’টিসাব-ক্লজ অনুযায়ী ধারা 19E এর অধীনে স্বেচ্ছায় পূর্বের কর অনারোপিতআয় ঘোষণার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর বছরের করমুক্ত কোন খাতের আয় কিংবা আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 44 অনুসারে হ্রাসকৃতহারে কর আরোপযোগ্য কোন খাতের আয় প্রদর্শন করে এ বিধানের সুযোগ গ্রহণ করা যাবে না। এ বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যদি এরূপ কোন করমুক্ত আয় বা হ্রাসকৃত হারে কর আরোপযোগ্য কোন খাতের আয়কে ধারা 19E এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে রিটার্নে প্রদর্শন করা হয় তাহলে প্রদর্শিত এরূপ আয় আয়ক র অধ্যাদেশের ধারা 33 অনুযায়ী “অন্যান্য উৎস হতে আয়” হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তফসিলে নির্ধারিত হারে কর আরোপযোগ্য হবে।
১২। Financial Institution এর ক্ষেত্রে bad or doubtful শ্রেণীভুক্ত ঋণের সুদকে প্রকৃত প্রাপ্তির ভিত্তিতে আয় গণনার বিধান সংক্রান্ত-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 28 এর উপ-ধারা (3) এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 28 এর উপ-ধারা (3) এ বিদ্যমান “Investment Corporation of Bangladesh” শব্দগুলির পর “any financial institution” শব্দগুলি সংযোজন করা হয়েছে। পরিবর্তিত এ বিধান অনুযায়ী আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 28 এর উপ-ধারা (3) এ বিদ্যমান বিধানাবলী Bangladesh Development Bank, Bangladesh Krishi Bank সহ যে কোন Commercial Bank এবং Rajshahi Krishi Unnayan Bank এর সাথে financial institution সমূহের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর মাধ্যমে financial institution সমূহের ক্ষেত্রেও bad or doubtfu শ্রেণীভুক্ত ঋণেরসুদকে প্রকৃত প্রাপ্তির ভিত্তিতে আয় হিসাবে গণনা করা যাবে।
১৩। আমদানীকৃত সফটওয়্যার ব্যতীত অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের ক্ষেত্রে obsolescenceallowance অনুমোদনসংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 29 এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (xi) এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 29 এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (xi) অনুসারে কোন করদাতা কর্তৃক ব্যবসায় ব্যবহৃত হওয়ার পরপরিত্যক্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ব্যবহার অনুপযোগীবা বিক্রিত বা হস্তান্তরিত, ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিল্ডিং, মেশিনারী অথবা প্লান্ট এর উপর obsolescence allowance অনুমোদন করার বিধান বিদ্যমান আইনে আছে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে অনুরূপ সুবিধা আমদানীকৃত সফটওয়্যার ব্যতীত অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের ক্ষেত্রে বিস্তৃত করা হয়েছে। এর ফলেকোন করদাতা কর্তৃক ব্যবসায় ব্যবহৃতঅন্যান্য স্থায়ী সম্পদের (আমদানীকৃত সফট্ওয়্যার ব্যতীত) ক্ষেত্রেও আয়কর অধ্যাদেশের তৃতীয় তফসিলের অনুচ্ছেদ (১০)obsolescence allowance প্রযোজ্য হবে।
১৪। ব্যবসা বা পেশা আয়ের ক্ষেত্রে পারকুইজিট বাবদ অনুমোদনযোগ্য খরচের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধিসংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 30 এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 30 এর ক্লজ (e) এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে কোন করদাতা কর্তৃক তার কোন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বাৎসরিক ৩,৫০,০০০/- টাকার অধিক পারকুইজিট [আয়কর অধ্যাদেশের 2(45) ধারায় সংজ্ঞায়িত] বাবদ প্রদান করলে উক্ত অংকের অতিরিক্ত অংশ করদাতার আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বর্ণিত সীমা ৩,৫০,০০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে৪,৫০,০০০/- টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, নিয়োগকারী করদাতা কর্তৃক তার কোন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে প্রদত্ত বাৎসরিক পারকুইজিট ৪,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে। উক্ত নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত পারকুইজিটপ্রদান করা হলে অতিরিক্ত অংক নিয়োগকারীর হাতে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
১৫। নব প্রবর্তিত ধারা 19 এর উপ-ধারা (29) এবং (31) কে ধারা 33অন্যান্য সূত্রের আয়হিসাবে অন্তর্ভুক্তকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 33 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রবর্তিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ব্যতীত অন্যান্য করদাতা কর্তৃকবাকীতে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়কে দায় হিসেবে প্রদর্শন সংক্রান্ত ধারা 19 এর উপ-ধারা (29) এবং সংশোধিত আয়কর রিটার্ন/রিটার্ন/ব্যখ্যায় প্রদর্শিত অতিরিক্ত করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপনযোগ্য আয়কে করারোপন সংক্রান্ত ধারা 19 এর উপ-ধারা (31) কে 33 ধারার বিধানের আওতায় “অন্যান্য সূত্রের আয়” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১৬। সিগারেট প্রস্তুতকারকের সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যবসায় অর্জিত আয় অন্য কোন উৎসের ক্ষতির সাথে সমন্বয়যোগ্য না হওয়া সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 37 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 37 এ বিদ্যমান তিনটি প্রোভাইসো’র পর আরও একটি নতুন প্রোভাইসোসংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ প্রোভাইসো’র বিধান অনুসারে কোন করদাতার অন্যকোন উৎসের অর্জিত ক্ষতি জনিত আয়কে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যবসা খাতের আয়ের সাথে সমন্বয় করা যাবে না। তবে, সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যবসা খাতের ক্ষতি অন্য ব্যবসা খাতের আয়ের সাথে সমন্বয় করা যাবে।
১৭। Industrial undertaking এর  কর  অবকাশ  সুবিধা সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 46B এর সংশোধনঃ
(ক) অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 46B এর উপ-ধারা (2) তে বর্ণিত কর অবকাশযোগ্য বিদ্যমান খাত সমূহের সাথে নতুন ৪ (চার) টি খাত সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন এ ৪ (চার)টি খাত হলোঃ automobile manufacturing industry, bi-cycle manufacturing industry, brick made of automatic Tunnel Kiln technology এবং tyre manufacturing industry| এর ফলে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 46B এর শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে বর্ণিত ৪ (চার)টি খাতের শিল্পসমূহ উক্তধারায় বর্ণিত সময়সীমা ও হার অনুযায়ীজন্য কর অবকাশ সুবিধা প্রাপ্ত হবে।

(খ) অর্থ  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 46B এর উপ-ধারা (11) তে বর্ণিত বিদ্যমান বিধানটি পুনর্বিন্যাস করে এতেএকটি নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশী নাগরিক ব্যতীত বিনিয়োগ বোর্ড বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নুমোদনঅ ব্যতিরেকে কোন বিদেশী নাগরিককে কর অবকাশ সুবিধা ভোগরত কোন industrial undertaking এ কাজে নিয়োগ করা হলে উক্ত industrial undertaking এর কর অবকাশ সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। Industrial
undertaking কর্তৃক এ ধরনের অ‣বধ নিয়োগ প্রদান সংশ্লিষ্ট কর বছর এবং যদি পরবর্তীতে এ অ‣বধ নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট পরবর্তী কর বছর সমূহের কর অবকাশ সুবিধা বাতিলের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য হবে।

১৮। ভৌত অবকাঠামো (physical infrastructure facility) এর কর অবকাশ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 46C এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 46C অনুযায়ীকয়েক শ্রেণীর ভে․ত অবকাঠামো (physical Infrastructure) কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অর্জিত আয়ের উপর কর অবকাশ সুবিধা পেয়ে থাকে।শর্ত পরিপালনে ব্যর্থতা বা ভঙ্গের কারণে ধারা 46C এর উপ-ধারা (9) অনুসারে উপ কর কমিশনারকে উক্ত ধারার অধীনে প্রদত্ত কর অবকাশ সুবিধা বাতিল করে কর আরোপের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ভে․ত অবকাঠামোর কর অবকাশ সুবিধা বাতিল করারজন্য বর্ণিত ধারার বিদ্যমান বিধান পুনর্বিন্যাস করে এতেএকটি নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ নতুন বিধান অনুযায়ীবাংলাদেশী নাগরিক ব্যতীত বিনিয়োগ বোর্ড বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন বিদেশী নাগরিককে কর অবকাশ সুবিধাভোগরত কোন ভে․ত অবকাঠামো এর কাজে নিয়োগ করা হলে উক্ত ভে․ত অবকাঠামো এর কর অবকাশ সুবিধাবাতিল বলে গণ্য হবে। ভে․ত অবকাঠামো কর্তৃক এ ধরনের অ‣বধ নিয়োগ প্রদান সংশ্লিষ্ট কর বছর এবং যদি পরবর্তীতে এ অ‣বধ নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট পরবর্তী কর বছর সমূহের কর অবকাশ সুবিধা বাতিলের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। কর অবকাশ বাতিল সংক্রান্ত বিদ্যমান অন্যান্য বিধানও কার্যকর থাকবে।

১৯। কো-অপারেটিভ সোসাইটির কর আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 47 এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 47 এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে কো-অপারেটিভ সোসাইটির ব্যাংকিং ব্যবসা ব্যতীত অন্য সকল কার্যক্রম হতে অর্জিত আয় কর অব্যাহতি প্রাপ্ত। অর্থ
আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ধারা 47 এর উপ-ধারা (1) এর clause (a) এবং clause
(c) বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে কোন কো-অপারেটিভ সোসাইটির কেবলমাত্র ধারা 47 এর উপ-ধারা (1) এর clause (b) এবং clause (d) খাতে বর্ণিত আয়ের উপর কর অব্যাহতি সুবিধা বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ উক্তধারা এর উপ-ধারা (1) এর clause (b) এবং clause (d) এর আওতা বহির্ভূত খাতের অর্জিত আয়ের উপর ১৫% হারে কর আরোপিত হবে।
২০। উৎসে কর কর্তনের পরিধি সম্প্রসারণ-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 49 এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 49 এ যে সকল আয় উৎসে কর কর্তনযোগ্য তার উল্লেখ রয়েছে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে উৎসে কর কর্তনের পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে। নব প্রবর্তিত ধারা 53P অনুযায়ী রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কর্তৃক জমির মালিককে পরিশোধকৃত যে কোন অংকের উপর ১৫% হারে উৎসে কর কর্তনের বিষয়টি ধারা 49 এ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
২১। সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন-ভাতার উপর উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তন-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 50 এর সংশোধনঃ
ক. (ক) অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 50 এর উপ-ধারা (1) এর পরে উপ-ধারা (1A) সংযোজন করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত আইনের বিধানঅনুসারে একজন সরকারি চাকুরিজীবী, যিনি নিজে Drawing and Disbursing Officer, তিনি আয় বছরের শুরুতে তাঁর প্রাপ্য বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাসের পরিমাণ এর ভিত্তিতে বেতন খাতে করযোগ্য আয় নিরূপন করবেন। বেতন খাতে করযোগ্য আয়ের উপর বিদ্যমান কর হার প্রয়োগ করে মোট প্রদেয় কর এর পরিমাণ নিরূপন এবং তা হতে বিদ্যমান হারে কর রেয়াত বাদ নিয়ে নীট প্রদেয় কর এর পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত গাড়ীর মালিক হলে গাড়ীর ফিটনেস নবায়নকালে পরিশোধকৃতঅগ্রিম আয়কর বাদ দিয়ে নীট প্রদেয় কর এর পরিমাণ নিরূপন করবেন। উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে নিরূপিত নীট প্রদেয় কর ১২ (বার) দিয়ে ভাগ করে মাসিক প্রদেয় কর এর পরিমাণ নির্ধারণ করতঃ এবং প্রতি মাসের বেতন বিলে উক্ত পরিমাণ অর্থ কর পরিশোধ হিসেবে বাদ দিয়ে নীট প্রাপ্য বেতন ভাতার পরিমাণ নিরূপন করে বেতন বিল প্রণয়ন করবেন। কোন Drawing and Disbursing Officer, তাঁর অধীনস্থদের বেতন বিল স্বাক্ষরের সময়েও উপরে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।
ক. (খ) অর্থ আইন ২০১৫ এর মাধ্যমে সংযোজিত ধারা 50 এর উপ-ধারা (1B) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আয় বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী জুলাই মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে ধারা 50 এর উপ-ধারা (1A) অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের পরিমাণ উল্লেখ করেবিধি ১৮অ অনুসারে নিম্নবর্নিত ছকে একটি সনদপত্র প্রদান করবেনঃ

 

 

Certificate of deduction of tax under section 50(1B) on income chargeable
under the head “Salaries” for the year ended as on …………..

Name of the
employee

Name of
the office

Designation

Taxpayer‟s
Identification
Number

Amount of
tax
deducted

Remarks

1

2

3

4

5

6

 

Date ………………………                                                       Signature, name and designation
of the Accounts Officer/any
other authorized officer  

  
২২। ট্রেজারী বন্ড ও ট্রেজারী বিলের উপর upfront উৎসে কর কর্তন এর বিধান রহিতকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 51 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 51 এর পরে একটি প্রোভাইসো সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ প্রোভাইসো অনুযায়ীসরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারী বন্ড ও ট্রেজারী বিলের সুদ বা মুনাফার upfront উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না।
১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে এ বিধান কার্যকর হবে।
২৩। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদিকে অর্  পরিশোধ সম্পর্কিত উৎসে কর কর্তনের খাত সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 52 সংশোধন করা হয়েছে। উক্ত ধারায় বর্ণিত indenting commissionএবং shipping agency commission- দু’টি খাতের উৎসে কর কর্তনের বিষয়টিঅর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত ধারা 52AA তে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।এ পরিপ্রেক্ষিতে ধারা 52 কেবলমাত্র বা supply of goods বা execution of contract এর ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় প্রযোজ্য হবে।
২৪। Professional বা Technical service প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন অব্যাহতি সংশ্লিষ্ট সনদপত্র ইস্যুকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52A এর প্রোভাইসো এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52A এর উপ-ধারা (3) এর বিদ্যমান প্রোভাইসোটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রোভাইসোর বিদ্যমান বিধান অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড professional অথবা technical services প্রদানকারীর কর আরোপযোগ্য আয় নেই অথবা উক্ত সেবা প্রদানকারীর আয় অধ্যাদেশের অন্য কোন বিধান অনুযায়ীকর অব্যাহতিপ্রাপ্ত মর্মে বিবেচনা করলে উক্ত ধরনের সেবা প্রদানকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উৎসে কর কর্তন ব্যতিরেকে সংশ্লিষ্ট সেবার বিপরীতে প্রদেয় বিল পরিশোধের সনদপত্র প্রদান করতে পারে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আনীত সংশোধনী অনুসারে কোন ঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষ অথবা ঃবপযহরপধষ ংবৎারপব প্রদানকারীর আয় কেবলমাত্র কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হলেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সেক্ষেত্রে আবেদন বিবেচনায় উৎসে কর কর্তন ব্যতিরেকে বর্ণিত সেবার বিপরীতে প্রদেয় বিল পরিশোধের সনদপত্র প্রদান করতে পারবে।
২৫। বিভিন্ন সেবা প্রদান সম্পর্কিত উৎসে কর কর্তন খাত ও হার সুনির্দিষ্টকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52AA এর প্রতিস্থাপনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52AA সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত ধারার বিধান মতে সরকার অথবা কোন কর্র্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন অথবা এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বা এর অধীন ইউনিট/প্রতিষ্ঠানসমূহ,যার গঠন ও কার্যাবলী কোন আইন দ্বারা অনুমোদিত, আয়কর অধ্যাদেশেরধারা 2 এর উপ-ধারা (20) দ্বারা সংজ্ঞায়িত কোম্পানী অথবা কোন ব্যাংকিং কোম্পানী অথবা কোন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী অথবা কোন কো-অপারেটিভ ব্যাংক অথবা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা এনজিও এ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে নিবন্ধিত কোন বেসরকারী সংস্থা, অথবা কোন স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কোন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার যদি নিম্নরুপ ‘ছক’ এ বর্ণিত কোন সেবা গ্রহণের বিপরীতে অর্  পরিশোধ করে সেক্ষেত্রে অর্  পরিশোধকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিম্নবর্ণিত হারে উৎসে কর কর্তন করবেঃ

SL.
No
Description of payment Rate of
deduction
1. Catering service 10%
2. Cleaning service
(a) commission
(b) gross receipts
10%
1.5%

3.

Collection and Recovery agency-
(a) commission
(b) gross receipts
10%
1.5%

4.

Contract or toll manufacturing 10%

5.

Credit rating agency 10%

6.

Event management-
(a) commission
(b) gross receipts
10%
1.5%

7.

Indenting commission 7.5%

8.

Meeting fees, training fees or honorarium 10%

9.

Mobile network operator, technical support
service provider or service delivery agents
engaged in mobile banking operations
10%

10.

Motor garage or workshop 5%

11.

Printing service 3%

12.

Private container port or dockyard service 5%

13.

Private security service provider-
(a) commission
(b) gross receipts
10%
1.5%

14.

Product processing charge 10%

15.

Shipping agency commission 5%

16.

Stevedoring/berth operation commission 10%

17.

Supply of manpower-
(a) commission
(b) gross receipts
10%
1.5%

18.

Transport provider 3%

19.

Any other service which is not mentioned in
Chapter VII of this Ordinance and is not a
service provided by any bank, insurance or
financial institutions
10%

প্রতিস্থাপিত ধারা 52AA এর প্রোভাইসো অনুযায়ী উপরের ‘ছকে’ বর্ণিত কোন সেবা প্রদানকারীর আয় আয়কর অধ্যাদেশের যে কোন বিধানের আওতায় কেবলমাত্র কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হলেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আবেদন বিবেচনায় স্বল্প হারে অথবা কর কর্তন ব্যতিরেকে বর্ণিত সেবার বিপরীতে প্রদেয় অংক পরিশোধের সনদপত্র প্রদান করতে পারবে।
২৬। সিগারেট প্রস্তুতকারকের সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রয়ের উপর উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তন- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52B এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 52B কে ধারা 52B এর উপ-ধারা (1) হিসেবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে এবং একই সাথে একটি নতুনউপ -ধারা (2) সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন বিধান অনুসারে মূল্য সংযোজন করআইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২২ নং আইন) অনুযায়ী মূল্য সংযোজন করআদায়কারী কর্তৃপক্ষ উক্ত কর আদায়কালে কোন সিগারেট প্রস্তুতকারক উৎপাদন ও বিক্রয়কারীর কাছ থেকে সিগারেটের বিক্রয়যোগ্য সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) এর উপর ৩% হারে অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করবে। উক্তরূপে সংগৃহীতআয়কর সিগারেট প্রস্তুতকারক ও বিক্রয়কারী করদাতার অগ্রিম কর পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রদেয় আয়কর এর সাথে সমন্বয়যোগ্য হবে।
উৎসে কর কর্তনের এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে প্রযোজ্য হবে।
২৭। ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড হতে অর্জিত আয়কে উৎসে কর কর্তন হতে অব্যাহতি প্রদান- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52D এর বিদ্যমান প্রোভাইসো সংশোধন ও নতুন প্রোভাইসো সংযোজনঃ
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের বিদ্যমান ধারা 52D অনুসারে সকল ধরনের সঞ্চয়পত্রের অর্জিত সুদের উপর ৫% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান আছে।অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52D এর দ্বিতীয় প্রোভাইসো হতে “or wage earners development bond”শব্দগুলো বাদ দেয়া হয়েছে। এর ফলে wage earners development bond এবং pensioners savings certificate এ দু’টির মধ্যে pensioners savings certificate হতে অর্জিত সুদেরক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য যে, Pensioners savings certificate এ কোন করদাতার কোন আয় বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করলে উক্তবিনিয়োগের উপর অর্জিত সুদ/মুনাফাপরিশোধকালে ৫% হারে উৎসে কর কর্তন না করার বিধানটি বলবৎ আছে।

(খ) অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52D এর দ্বিতীয় প্রোভাইসোর পর নতুন একটিপ্রোভাইসো সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন এ প্রোভাইসোর বিধান অনুসারেডধমব Wage earners development bond, US dollar premium bond, US dollar investment bond, Euro premium bond, Euro investment bond, Pound sterling investment bond Ges Pound sterling premium bond এর অর্জিত সুদ বা মুনাফা পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ১ জুলাই, ২০১৫ তারিখ হতে উপরোল্লিখিত সকল প্রকার বন্ড এর সুদ বা মুনাফা পরিশোধকালেউৎসে কর কর্তন করতে হবে না।

২৮। ট্রাভেল এজেন্ট হতে উৎসে কর আরোপ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52JJএর প্রতিস্থাপনঃ
Collection of tax from travel agent সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52JJ অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত বিধান অনুসারে কোন এয়ারলাইন্স এর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কোন নিবাসী ট্রাভেল এজেন্টকে যাত্রী পরিবহন জনিত টিকিট বিক্রয়ের বিপরীতে কমিশন অথবা ডিসকাউন্ট অথবা ইনসেনটিভ বোনাস অথবা অর্  মূল্যে পরিবর্তনশীলঅন্য যে কোন নামে অভিহিত করা হোক না কেন কোন অর্  পরিশোধকালে টিকিট মূল্যঅথবা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কার্গো ভাড়া মূল্যের((charges)উপর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস্ কর্তৃপক্ষ,General Sales Agent (GSA) বা অনুরূপ অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে ০.৩০% হারে উৎসে কর কর্র্তন করতে হবে। প্রতিস্থাপিত নতুন বিধানে টিকিট মূল্য বা কার্গো ভাড়ামূল্যের একটি ব্যাখ্যা সংযোজন করা হয়েছে। এ ব্যাখ্যা অনুসারে ০.৩০% হারে কর্তনযোগ্য অংক নির্ধারণে টিকিটমূল্য বা কার্গো ভাড়ামূল্য হতেপ্রযোজ্যতা অনুযায়ী embarkation fees, travel tax, flight safety insurance, security tax এবং airport tax বাদ যাবে। এভাবে টিকিট মূল্য বা কার্গো ভাড়া মূল্য হতে প্রযোজ্যতা অনুযায়ী উপরোক্ত embarkation fees, travel tax, flight safety insurance, security tax এবং embarkation fees, travel tax, flight safety insurance, security tax বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংকের উপর ০.৩০% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে। এ খাতে কর্তনকৃত কর করদাতার চূড়ান্ত করদায় হিসাবে বিবেচ্য হবে।

০.৩০% হারে উৎসে কর কর্তনের এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে কার্যকর হবে।

২৯। কোমল পানীয়, ইত্যাদি উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন হার পুনর্বিন্যাস- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52S এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52S এ বর্ণিত উৎসে কর কর্তনের হার ৩% এর পরিবর্তে ৪% এ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধান অনুসারে ব্যান্ডরোল সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিঃ বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কোমল পানীয় বা মিনারেল ওয়াটার প্রস্তুতকারকের নিকট ব্যান্ডরোল সরবরাহকালে ৩% এর স্থলে ৪% হারে উৎসে কর কর্তন করবে।
কর কর্তনের নতুন এ হার ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে কার্যকর হবে।
৩০। কম্পিউটার, কম্পিউটার এক্সেসরীজ, পাট, তুলা ও সূতাকে লোকাল এলসির মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ে উৎসে কর কর্তন হতে অব্যাহতি প্রদান সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52U এর প্রোভাইসো সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52U এর বিদ্যমান বিধান অনুসারেকতিপয় পণ্য ব্যতীত লোকাল এলসি’র মাধ্যমে ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৩% হারে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য। তবে উক্ত ধারার প্রোভাইসোতে উল্লিখিত পণ্যসমূহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বিদ্যমান প্রোভাইসোতে কয়েকটি নতুন পণ্যসংযোজন করা হয়েছে যাদের ক্ষেত্রেও উৎসে কর কর্তনের বিধানটি প্রযোজ্য হবে না। সংযোজিত পণ্যগুলো হচ্ছে কম্পিউটার অথবা কম্পিউটার এক্সেসরীজ, পাট, তুলা ও সূতা। এর ফলে, ধারা 52U এর প্রোভাইসোতে বিদ্যমান পণ্যসহ কম্পিউটার বা কম্পিউটার এক্সেসরীজ, পাট, তুলা ও সূতা লোকাল এলসি’র মাধ্যমে যে কোন অংকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কোন কর কর্তন করতে হবে না।
নতুন প্রবর্তিত এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে কার্যকর হবে।
৩১। নিবাসী শিপিং ব্যবসায় উৎসে কর কর্তন সংশ্লিষ্ট সনদপত্র ইস্যুকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53AA এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53AA এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী নিবাসী করদাতার মালিকানাধীন বা চার্টার্ড জাহাজ কর্তৃক বিদেশে মালামা পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত জাহাজ ভাড়ার উপর ৫% অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৩% হারে উৎসে কর পরিশোধ করতে হয় যা চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচ্য। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার কর্তৃক উৎসে কর কর্তনের সনদপত্র প্রদান এবং তা পোর্ট ক্লিয়ারেন্সের জন্য কমিশনার অব কাস্টমস্ এর নিকট দাখিলের বিধান থাকলেও উপ কর কমিশনার কর্তৃক এরূপ সনদ প্রদানের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন ফরম ছিল না। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে উপ কর কমিশনার কর্তৃক ইস্যুযোগ্য এরূপ ঢ়ৎবংপৎরনবফ ভড়ৎস সংযোজন করা হয়েছে। নির্ধারিত ফরমটি বিধি 62A সংশ্লিষ্ট পরিশিষ্ট-০৪ এ সংযুক্ত আছে।
৩২। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53CC এর বিলোপঃ
অর্থ আইন, ২০০৬ এর মাধ্যমে অনিবাসী কুরিয়ার ব্যবসায়ের উপর উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তন করা হয়। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত ধারা 56 তে এ খাতের উৎসে কর কর্তনের বিধান ও হার অন্তর্ভুক্ত করায় 53CC ধারাটি বিলোপ করা হয়েছে।

৩৩। প্রস্তুতকৃত পণ্য বাজারজাতকরণ/বিতরণের জন্য প্রদেয় কমিশন, ফি ইত্যাদি হতে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53E এর উপ-ধারা (1) এর সংশোধনঃ
আয়কর  অধ্যাদেশের  ধারা  53E  এর  উপ-ধারা  (1)  এর  বিদ্যমান  বিধান  অনুযায়ী কোম্পানী/কর্পোরেশন/সংস্থা তাদের প্রস্তুতকৃত পণ্য বিতরণ বা বাজারজাতকরণের জন্য বিপণনকারী/বাজারজাতকারীকে প্রদেয়/প্রদত্ত কমিশন, ডিসকাউন্ট বা ফিস এর উপর ১০% হারে উৎসে কর কর্তন করে থাকে। অর্থ  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে কমিশন, ডিসকাউন্ট বা ফিস এর পর “or dealer’s promotional charges or fees or commission or any other payment called by whatever name” শব্দগুলো সংযোজন করা হয়েছে। বর্ণিত খাতসমূহসংযোজনের প্রেক্ষিতে কোন কোম্পানী/ কর্পোরেশন/সংস্থা তাদের প্রস্তুতকৃতপণ্যসামগ্রী বিতরণ বা বাজারজাতকরণের জন্য তাদের নিয়োজিত বিপণনকারী অথবা বাজারজাতকারীকে কমিশন, ডিসকাউন্ট, ফিস, ডিলার’স প্রোমোশনাল চার্জেস, ইত্যাদি বাবদ, তা যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, যে কোন অর্থ সংশ্লিষ্টের খাতে ক্রেডিট প্রদান বা অর্থ পরিশোধ, এ দু’টির যেটি আগে ঘটবে, সেক্ষেত্রে১০% হারে উৎসে কর কর্তন করবে।

নতুন প্রবর্তিত এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে কার্যকর হবে।

৩৪। বিদেশী ক্রেতার এজেন্টকে কমিশন/রেমুনারেশন প্রদান সম্পর্কিত উৎসে কর কর্তনের হার পুনর্বিন্যাস- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53EE এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53EE এর বিদ্যমান বিধান অনুসারেবায়িং হাউজসহ বিদেশী ক্রেতার এজেন্টকে কমিশন, চার্জেস বা রেমুনারেশন পরিশোধের ক্ষেত্রেপ্রদত্ত এরূপ কমিশন, ইত্যাদির উপর ৭.৫% হারে উৎসে কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করতে হয়। অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে কর কর্তনের এ হার পুনর্বিন্যাসকরে ৭.৫% এর পরিবর্তে ১০% এ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত হার অনুসারে ব্যাংকসমূহ কোন রপ্তানীকারকের ব্যাংক হিসাবে রপ্তানী মূল্য (export proceeds) ক্রেডিট করার সময় তার অংশ বিশেষ উক্ত পণ্যের বিদেশী ক্রেতার কোন স্থানীয় এজেন্ট বা প্রতিনিধিকে পরিশোধকালে বা তার ব্যাংক হিসাবে এরূপ অর্  ক্রেডিট প্রদানকালে ১০% এর সমপরিমাণ অর্থ উৎসে কর বাবদ কর্তন করে তা সরকারী কোষাগারে জমা করবে। উৎসে কর্তিত এ করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করেধারা 82C তে সংশোধনী আনা হয়েছে।
উৎসে কর কর্তনের পরিবর্তিত এ হার ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিঃ হতে প্রযোজ্য হবে।
৩৫। কয়েকটি ক্ষেত্রে সঞ্চয়ী আমানত এবং মেয়াদী আমানতের সুদের উপর উৎসে কর কর্তন হার পুনর্বিন্যাস- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53F এর সংশোধনঃ
(ক) অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53F এর উপ-ধারা (1) এ একটি নতুন ক্লজ (c) সংযোজন করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত এ বিধান অনুসারে টিআইএন থাকুক বা না থাকুক নিম্নবর্ণিত গ্রাহকগণের হিসাবে সুদ বা মুনাফা প্রদানকালে উক্ত সুদ বা মুনাফার উপর সুদ/মুনাফা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ১০% হারে উৎসে কর কর্তন করবে এবং উক্ত উৎসে কর্তিত কর চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবেঃ
(i)   পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;
(i i) এরূপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদের শিক্ষকগণ এমপিওভুক্ত (MPO), যারা সরকার অনুমোদিত কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান করোকে এবং যাদের পরিচালনা পর্ষদ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত হয়; অথবা

(iii) আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং পেশাজীবী পর্ষদ কর্তৃক পরিচালিত যথা Institute of Chartered Accountants of Bangladesh, Institute of Cost and Management Accountants of Bangladesh এবং Institute of Chartered Secretaries|

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর উপ-ধারা (2) এর সাথে একটি নতুনক্লজ (mmmm) সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন এ বিধান অনুসারেউপরে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহের সঞ্চয়ী/মেয়াদী আমানতের উপর প্রাপ্ত সুদ বা মুনাফার ক্ষেত্রে কর্তিত উৎসে কর চূড়ান্ত করদায়পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের THE SIXTH SCHEDULE, PART-A তে দু’টি নতুনঅনুচ্ছেদ 52 ও অনুচ্ছেদ 53 সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ দু’টি নতুনঅনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে উপরে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহেরনামে পরিচালিত কোন হিসাবে প্রাপ্ত সুদ বা মুনাফাএবং লভ্যাংশ খাতের অর্জিত আয় ব্যতীত অন্য সকল খাতের আয় কর অব্যাহতি প্রাপ্ত মর্মে গণ্য হবে।

(খ) অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ধারা 53F এর উপ-ধারা (2) এর ক্লজ (b) তে সংশোধনী আনয়ন করা হয়েছে। আনীত সংশোধনী অনুযায়ীসঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত বা মেয়াদী আমানত, ইত্যাদি খাতে অর্জিত সুদ বা মুনাফা গ্রাহকের (payee) হাতে কর অব্যাহতিযোগ্য হলে উক্ত গ্রাহকের আবেদনক্রমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ খাতের উৎসে কর কর্তন কে অব্যাহতি প্রদান করে সনদপত্র প্রদান করতে পারবে।
৩৬। দীর্ঘ মেয়াদী লীজ দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে উৎস করের পরিধি বিস্তৃতকরণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53HH এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53HH এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) বা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ)ই এ৫ টি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক১০ (দশ) বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের জন্য কোনস্থাবর সম্পত্তির লীজ দলিল সম্পাদনকালে রেজিষ্ট্রেশন কর্তৃপক্ষলীজদাতার কাছ থেকে লীজ মূল্যের উপর ৪% হারে উৎসে কর সংগ্রহ করে থাকে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে উক্ত ধারার বিদ্যমান বিধান অপরিবর্তিত রেখে লীজদাতার পরিধি বিস্তৃত করে ব্যক্তি, ফার্ম, ব্যক্তি-সংঘ, হিন্দু যে․থ পরিবার, কোম্পানী বা আইনের দ্বারা সৃষ্ট কোন কৃত্রিম ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ফলে, বিদ্যমান আইনে বর্ণিত কর্তৃপক্ষসমূহের পাশাপাশি কোন ব্যক্তি, ফার্ম, ব্যক্তি-সংঘ, হিন্দু যে পরিবার, কোম্পানী বা অন্য কোন কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বা (যেমন কো-অপারেটিভ সোসাইটি) কর্তৃক ১০ (দশ) বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের জন্য স্থাবর সম্পত্তির লীজ দলিল সম্পাদনকালে রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষলীজদাতার কাছ থেকে ৪% হারে উৎসে কর সংগ্রহ করে পূর্বের অনুসৃত পন্থায় তা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করবেন।
নতুন প্রবর্তিত এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিঃ হতে কার্যকর হবে।
৩৭। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন বিজ্ঞাপনের উৎসে কর কর্তনের পরিধি সম্প্রসারণ- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53K এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53K এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল, প্রাইভেট রেডিও স্টেশন ও ওয়েব সাইটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার বাবদ প্রদেয় বিল এবং প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল ও প্রাইভেট রেডিও স্টেশনের এয়ারটাইম ক্রয়জনিত প্রদেয় বিলের উপর ৩% হারে উৎসে কর কর্তনযোগ্য। অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে এই কর কর্তনের আওতা সম্প্রসারণ করে যে কোন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যে কাউকে অর্থ পরিশোধ করা হলে তা উৎসে কর কর্তনযোগ্য করা হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট সকল খাতে বিল পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তনের হার ৩% এর স্থলে ৪% এ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিল বোর্ড, নিয়ন সাইনসহ যে কোন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হতে এ সংক্রান্ত বিল বা অর্  যে কাউকে পরিশোধকালে উক্ত বিল বা অর্থের উপর ৪% হারে উৎসে আয়কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করতে হবে।
৩৮। শেয়ার বাজারের মুনাফার উপর উৎসে কর আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53O এর বিলোপঃ
কোম্পানী ও ফার্ম শ্রেণীর করদাতা কর্তৃক শেয়ার বাজার থেকে অর্জিত মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত বিদ্যমান ধারা 53O অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বিলোপ করা হয়েছে। তবে এস,আর,ও নং ১৯৬-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিঃ অনুযায়ী এ সকল করদাতার শেয়ার বাজার হতে অর্জিত মুনাফার উপর রিটার্ন দাখিলকালে ১০% হারে আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
৩৯। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কর্তৃক জমির মালিককেঅর্  পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তন- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 53P সংযোজনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে একটি নতুনধারা 53P সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ ধারার বিধান অনুসারে রিয়েল এস্টেট বা ভূমি উন্নয়নব্যবসায় নিয়োজিত কোন ব্যক্তি (person) পাওয়ার অব এ্যাটর্নী বা কোন চুক্তি বলে বা লিখিত চুক্তিমতে কোন জমিতে ভবন নির্মাণ বা জমি উন্নয়ন বাবদ signing money, subsistence money, house rent বা অন্য যে কোন নামে অভিহিত করা হোক না কেন উক্ত জমির মালিককে যে পরিমাণ অর্  পরিশোধ করবেন তার সমুদয় অংকের উপর ১৫% হারে উৎসে কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করবেন। এক্ষেত্রে কর্তনযোগ্য অংক নির্ধারণে কোন অংক বিয়োজন করা যাবে না। রিয়েল এস্টেট বা ভূমি উন্নয়নকারী যদি জমির মালিককে বর্ণিত খাত/খাতসমূহেএককালীন অর্  পরিশোধ না করে কিস্তি বা মাসিক ভিত্তিতে তা পরিশোধ করে, সেক্ষেত্রে প্রতিটি অর্থ পরিশোধের সময় পরিশোধিত অংকের উপর ১৫% হারে উৎসে কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করবেন।
নতুন প্রবর্তি এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে কার্যকর হবে।
৪০। নগদ লভ্যাংশ আয়ের উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 54 এর প্রতিস্থাপনঃ
নগদ লভ্যাংশ আয়ের উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 54 অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত এ ধারাটিতে ক্লজ (a) ও ক্লজ (b) সংযোজন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত ধারা 54 এর বিধান অনুসারেবাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন কোম্পানী বা অন্য কোন কোম্পানী কর্তৃক কোন নিবাসী বা অনিবাসী বাংলাদেশী শেয়ারহোল্ডারকে লভ্যাংশ প্রদানকালে লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানীর প্রিন্সিপ্যাল অফিসার নিম্নবর্ণিত হারে উৎসে কর কর্তনপূর্বকসরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করবেনঃ
(i) লভ্যাংশ গ্রহীতা কোম্পানী হলে কোম্পানীর জন্য প্রযোজ্য হারে;
(ii) লভ্যাংশ গ্রহীতা কোম্পানী ব্যতীত অন্য যে কোন পর্যায়ভুক্ত হলে এবং ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিল করা হলে প্রদেয় লভ্যাংশের উপর ১০% হারে। তবে, এরূপ কোন করদাতা ১২ ডিজিটের টিআইএন দাখিলে ব্যর্থ হলে উৎসে কর কর্তনের হার হবে ১৫%।
৪১। অনিবাসীদের (non-resident) আয়ের উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 56 এর উপ-ধারা (1) এর প্রতিস্থাপনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 56 এর উপ-ধারা (1) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত এ ধারার মাধ্যমে সরকার বা কোন কোম্পানী বা কোন প্রতিষ্ঠান বা ধারা 2 এর উপ-ধারা (46) অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত কোন person কর্তৃক কোন অনিবাসীকে কোন অর্  পরিশোধকালে এরূপ পরিশোধযোগ্য অর্থের উপর উৎসে কর কর্তনের হার খাত ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।তবে পরিশোধকারী অনিবাসীর পক্ষে নিজে এজেন্ট হিসেবে আয়কর অধ্যাদেশের অধীনে কর পরিশোধে বাধ্য থাকলে সেক্ষেত্রে এ ধারায় উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রযোজ্য হবে না। সরকার বা যে কোন ব্যক্তি (any person)অর্থাৎ যে কোন শ্রেণীর করদাতা কর্তৃক কোন অনিবাসীকে র্অ পরিশোধকালে নিম্নবর্ণিত ছকে বিবৃত খাত ও হার অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন করতে হবেঃ

SL.
No

Description of Payment

Rate of deduction

1

Accounting or tax consultancy

20%

2

Advertisement making

15%

3

Advertisement broadcasting

20%

4

Advisory or consultancy service

30%

5

Air transport or water transport

7.5%

6

Architecture, interior design or landscape
design

20%

7

Artist, singer or player

30%

8

Capital gain received-
(a) from capital assets (not being securities listed with stock exchange)—

(b) by a company or firm if such gain is arisen from securities listed with any
stock exchange in Bangladesh which is not exempted from tax in the country
of such non-resident—–

15%

 

10%

9

Certification

30%

10

Charge or rent for satellite, airtime or
frequency

20%

11

Contractor, sub-contractor or supplier

5%

12

Courier service

15%

13

Dividend-
(a) company——

(b) any other person, not being a company-

20%

30%

14

Insurance premium

10%

15

Interest, royalty or commission

20%

16

Legal service

20%

17

Machinery rent

15%

18

Management or event management

20%

19

Pre-shipment inspection service

30%

20

Professional service, technical services fee, technical know how fee or technical assistance fee

20%

21

Salary or remuneration

30%

22

Exploration or drilling in petroleum operations

5.25%

23

Survey for oil or gas exploration

5.25%

24

Any service for making connectivity between
oil or gas field and its export point

5.25%

25

Any other payments

30%

                    
উৎসে কর কর্তনের নব প্রবর্তিত এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে কার্যকর হবে।
৪২। করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 75 এর সংশোধনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 75 এর উপ-ধারা (3) এর বিদ্যমান প্রোভাইসোটি অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত প্রোভাইসো’র মাধ্যমে করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির বিদ্যমান সময়সীমা হ্রাস করা হয়েছে। বিদ্যমান প্রোভাইসো অনুসারে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 75 এর উপ -ধারা (2) এর ক্লজ (c) তে বর্ণিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপ কর কমিশনার উপ-ধারা (3) অনুযায়ীনিজ ক্ষমতাবলে ৩ (তিন) মাস এবং পরিদর্শী অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে আরও ৩ (তিন) মাসঅর্থাৎ সর্বমোট ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করতে পারেন। কিন্তু পরিবর্তিত বিধান অনুসারে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য আইনানুগ সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপ কর কমিশনার নিজ ক্ষমতাবলে ২ (দুই) মাস এবং পরিদর্শী অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে আরও ২ (দুই) মাসঅর্থাৎ সর্বমোট ৪ (চার) মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করতে পারবেন।
পরিবর্তিত এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫খ্রিস্টাব্দ থেকে কার্যকর হবে।
৪৩। সার্বজনীন স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82BB এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের বিদ্যমান ধারা 82BB এর উপ-ধারা (1) এবং উপ-ধারা (2) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত বিধান অনুসারে কোন করদাতা ১২ ডিজিটের টিআইএন (e-TIN) দাখিল, ধারা 74 অনুযায়ী কর পরিশোধ এবং ধারা 75 এ বর্ণিত শর্তাদি পূরণপূর্বকনর্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল- এ তিনটি শর্ত পূরণ করে ধারা 82BB উল্লেখপূর্বক রিটার্ন দাখিল করলে উপ কর কমিশনার নিজে অথবা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষর প্রদানপূর্বকপ্রাপ্তি স্বীকার পত্র প্রদান করবেন, যা উপ-ধারা (2) ও (3) এর বিধান সাপেক্ষে উপ কর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত করনির্ধারণী আদেশ হিসেবে গণ্য হবে।
(২) ধারা  82BB  এর উপ-ধারা (1) এর আওতায় দাখিলকৃত রিটার্ন এর ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার প্রতিস্থাপিত উপ-ধারা (2) এর বিধান অনুযায়ী process এর কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। তাছাড়া বিদ্যমান বিধান অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনক্রমে উপকর কমিশনার উপ-ধারা (3) এর বিধান অনুযায়ী উক্ত রিটার্ন এর audit কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবেন। অধিকন্তু আয় গোপন বা কর ফাঁকির কোন তথ্য পাওয়া গেলে ধারা 93 অনুযায়ী কার্যক্রমও গ্রহণ করা যাবে।
(৩) উপ কর কমিশনার return processএর ক্ষেত্র এবং পরিসর এর বিষয়টি নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
Return process কার্যক্রমে উপ কর কমিশনার পরীক্ষা করে দেখবেন যে দাখিলকৃত রিটার্নে কোন গাণিতিক ত্রুটি (arithmetic error) আছে কি না বা করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্যের আলোকে দৃশ্যমান কোন অশুদ্ধ দাবী (incorrect claim) আছে কি না।
গাণিতিক ত্রুটি (arithmetic error) বা অশুদ্ধ দাবী (incorrect claim) এর কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
(ক) প্রদর্শিত খাতভিত্তিক আয়ের যোগফল সঠিক না হওয়াঃ উদাহরণস্বরূপ, একজন করদাতা রিটার্নের আয় বিবরণী অংশে বেতনাদি কলামে ২,৫০,০০০/- টাকা ও গৃহ-সম্পত্তি কলামে ২,০০,০০০/- টাকা আয় প্রদর্শন করেছেন, কিন্তু মোট আয় কলামে ৩,৫০,০০/- টাকা প্রদর্শন করেছেন। এক্ষেত্রে করদাতার মোট আয় হবে ৪,৫০,০০০/- টাকা, কিন্তু করদাতা গাণিতিক ভুলেরকারণে মোট আয় প্রদর্শন করেছেন ৩,৫০,০০০/- টাকা। ফলে রিটার্নটির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (2) অনুযায়ী process এর কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
(খ) আয়কর অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী দাবীকৃবিনিয়োগজনিত কর রেয়াত গণনা সঠিক না হওয়াঃ উদাহরণস্বরূপ, একজন করদাতা ১০,০০,০০০/- টাকা মোট আয় এবং কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ ২,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শনপূর্বক বিনিয়োগের উপর ৪০,০০০/- টাকা কর রেয়াত দাবী করেন। এক্ষেত্রে করদাতার দাখিলকৃত তথ্য অনুযায়ীকর রেয়াতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০,০০০/- টাকা (২,০০,০০০/- টাকার ১৫%), অথচ করদাতা কর রেয়াত গ্রহণ করেছেন ৪০,০০০/- টাকা। এরূপ ক্ষেত্রেও উপ-ধারা (2) অনুযায়ী process এর কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
(গ) গৃহ সম্পত্তি খাতের আয় নিরূপণে মেরামত, আদায়, ইত্যাদি বাবদ বিধিবদ্ধ সীমার বাইরে অনুমোদনযোগ্য খরচ দাবী করাঃ উদাহরণস্বরূপ, কোন করদাতা যদি আবাসিক ভবনের বার্ষিক ভাড়া মূল্যেরপরিমাণ ২০,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শন করে ৮,০০,০০০/- টাকা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দাবী করেন তাহলে তার দাবীকৃতখরচ বিধিবদ্ধ অনুমোদিত সীমা (২০,০০,০০০/- টাকার ২৫% = ৫০০,০০০/- টাকা) থেকে বেশি হবে এবং রিটার্নটি উপ-ধারা (2) অনুযায়ী process যোগ্য হবে।
গাণিতিক ত্রুটি বা অশুদ্ধ দাবী এর আরো কয়েকটি নমুনা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

  • অনুমোদিত খাতসমূহে বিনিয়োগ না করেও তার উপর কর রেয়াত দাবী;
  • ব্যবসা খাতে প্রদর্শিত আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 30 এর ক্লজ (g), (h), (j), (k) এবং আয়কর বিধিমালার বিধি 65 এবং 65C তে বর্ণিত অনুমোদনযোগ্য খরচের সর্বোচ্চ সীমার অধিক খরচ দাবী;
  • অবচয় ভাতার ক্ষেত্রে তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত হার অপেক্ষা অধিক হারে অবচয় দাবী; বেতন খাতে আয় প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালার বিধি 33A, 33B,
  • 33C, 33D, 33E, 33G, 33H, 33Iও 33J এর বিধানাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কম আয় পরিগণনা করা, ইত্যাদি।

উপরে উল্লিখিত ক্ষেত্র ছাড়াও আরো অনেক ক্ষেত্রে রিটার্নে গাণিতিক ত্রুটি বা অশুদ্ধ দাবী থাকতে পারে, যা উপ-ধারা (2) অনুযায়ী process এর কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হবে।
উল্লেখ্য, উপ-ধারা (2) এর আওতায় গাণিতিক ত্রুটি বা অশুদ্ধ দাবী চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র করদাতার দাখিলকৃত তথ্যের উপরইনির্ভর করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোন করদাতার কর রেয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে করদাতা কর্তৃক দাবীকৃত বা প্রদর্শিত বিনিয়োগের সমর্থনে প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা হয়নি-এরূপ বিবেচনায় প্রদর্শিত বিনিয়োগ সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপন করে উপ-ধারা (2) এর আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। অনুরূপভাবে, কোন করদাতা দাবীকৃত সম্পদ ক্রয় বা সংযোজনের প্রমাণ দাখিল করেন নি- এ বিবেচনায় অবচয়ের যাচাইযোগ্যতার প্রশ্ন উত্থাপন করে উপ-ধারা (2) এর আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। এ সকল ক্ষেত্রে উপ-ধারা (3) এর আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ অবারিত থাকছে।
(4) রিটার্নে কোন গাণিতিক ত্রুটি ও অশুদ্ধ দাবী পাওয়া গেলে উপ কর কমিশনার তা সমন্বয় করে করদাতার আয় নিরূপণ ও কর পরিগণনার কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। সমন্বয়ের কারণে যদি করদাতার করদায় বৃদ্ধি পায় তাহলে আয়নিরূপণ ও কর পরিগণনার পূর্বেযুক্তিসংগত সময় দিয়ে করদাতাকে লিখিতভাবে বক্তব্য প্রদানের জন্য পত্র প্রেরণ করতে হবে। করদাতার নিকট প্রেরিত পত্রে গাণিতিক ভুল বা অশুদ্ধ দাবীর বিবরণ, সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে নিরূপণযোগ্য আয়ের পরিমাণ, প্রযোজ্য করের পরিমাণ, কর রেয়াত বা ক্রেডিটের পরিমাণ, পরিশোধিত করের পরিমাণ, নীট প্রদেয়/ফেরৎযোগ্য করের পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। করদাতার বক্তব্য চাওয়ার ক্ষেত্রে করদাতা বা তার প্রতিনিধিকে শুনানীতে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাবে না।
প্রেরিত পত্রে করদাতাকে যে তারিখের মধ্যে তার বক্তব্য দাখিল করতে বলা হবে উক্ত তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আয় ও কর পরিগণনা পত্র এবং নির্ধারিত ফরমে দাবীর নোটিশ যথাযথভাবে করদাতার নিকট প্রেরণ করতে হবে।
(৫) করদাতা যে অর্থ বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন সে অর্থ বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ১২ (বার) মাস পর্যন্ত উপ-ধারা (2) এর আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। উক্ত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোন রিটার্ন process করা যাবে না।
(৬) যে ক্ষেত্রে রিটার্নে কোন গাণিতিক ভুলঅথবা অশুদ্ধ দাবী নেই সে ক্ষেত্রে ধারা 82BB এর উপ-ধারা (2) এর আওতায় রিটার্ন process সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
(৭) অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ধারা 82BB এর উপ-ধারা (3) এ কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে উপ-ধারা (1) এর আওতায় দাখিলকৃত রিটার্ন পূর্বের ন্যায়উপ-ধারা (3) এ বর্ণিত বিধান অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অডিটের জন্য নির্বাচনযোগ্য হবে। এক্ষেত্রে কোন রিটার্নের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (2) এর আওতায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি হয়নি তা বিবেচনায় আসবে না।
পরিবর্তিত এ বিধান ২০১৫-১৬ কর বছর হতে প্রযোজ্য হবে।
৪৪। চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন-আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর উপ-ধারা (2) তে বিদ্যমান clauses এ কিছু পরিবর্তন/সংযোজন করাহয়েছে যার বিবরণ নিম্নরূপঃ
(ক) বিড়ির ব্যান্ডরোল বিক্রয় সম্পর্কিত বিধানঃ আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 52B এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে হাতে প্রস্তুতকৃত সিগারেট, যা বিড়ি নামে পরিচিত, এর ব্যান্ডরোল বিক্রয়কালে ব্যান্ডরোল বিক্রেতা ১০% হারে উৎসে কর সংগ্রহ করেন যা উক্ত ব্যবসায় চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ধারা 52B এর বিদ্যমান বিধানটি ধারা 52B এর উপ-ধারা (1) হিসেবে সংখ্যায়িত করার প্রেক্ষিতে ধারা 82C এর উপ-ধারা (2) এর ক্লজ (d) তে ধারা 52B এর স্থলে ধারা 52B এর উপ-ধারা (1) সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে, বিড়ির ব্যান্ডরোল সরবরাহকালে উৎসে সংগৃহীত কর উক্ত ব্যবসায় আয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হবে।
(খ)Savings instrument এর আয় সম্পর্কিতঃ আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর উপ-ধারা (2) এর ক্লজ (eee) এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে pensioners savings certificate ও wage earners development bond হতে অর্জিত সুদের উপর উৎসে কর্তিত কর উক্ত সুদ আয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে “pensioners savings certificate or wage earners development bond” শব্দগুলোকে “savings instruments” শব্দগুলো দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত যে কোন savings instrument এর অর্জিত সুদ আয়ের উপর উৎসে কর্তিত কর উক্ত সুদ আয়ের উপর চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন এ বিধান প্রবর্তনের ফলে পূর্বে যেকোন সময়ে ক্রয়কৃত উক্তরূপ savings instruments এর অর্জিত সুদ আয় ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে।

(গ) ট্রাভেল এজেন্ট এর আয় সম্পর্কিতঃ অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর উপ-ধারা (2) এর ক্লজ (eee) এর পর একটি নতুনক্লজ (eeee) সংযোজন করা হয়েছে। নতুন প্রবর্তিত এক্লজ এর বিধান অনুসারে আয়করঅধ্যাদেশের ধারা 52JJ অনুযায়ী travel agent এর ক্ষেত্রে ০.৩০% হারে উৎসে কর্তিত কর উক্ত ব্যবসা আয়ের ক্ষেত্রে ২০১৬-২০১৭ কর বছর হতে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে।
২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে এ খাতে ৩% হারে যে উৎসে কর কর্তন করা হয়েছে তা চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে না।
(ঘ) সকল রপ্তানী পণ্যের উপর উৎসে কর্তিত কর সংক্রান্তঃ অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর উপ-ধারা (2) এর ক্লজ (k) এর পরে একটি নতুন ক্লজ (kk) সংযোজন করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত এ বিধান অনুযায়ী আয়কর অধ্যাদেশের 53BB ধারায় ক্সতরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানী খাতসহ ধারা 53BBBB তে বর্ণিত সকল প্রকার রপ্তানীর ক্ষেত্রে উৎসে কর্তিত কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ সংক্রান্ত নতুন প্রবর্তিত এ বিধানটি ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে।
(ঙ) বায়িং হাউস কমিশন এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইত্যাদি সংক্রান্তঃ অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর উপ-ধারা (2) এর ক্লজ (mm)) এর পর দুটি নতুন ক্লজ (mmm) এবং ক্লজ (mmmm) সংযোজন করা হয়েছে।
(i) সংযোজিত নতুনক্লজ (mmm) অনুযায়ী বায়িং হাউজ কমিশনের উপরধারা 53EE এর বিধান অনুসারেউৎসে কর্তনকৃত করহার ৭.৫% হতে ১০% শতাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে যা চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে। ১০% শতাংশ হারে উৎসে কর্তিত কর উক্ত ব্যবসা আয়ের ক্ষেত্রে ২০১৬-২০১৭ কর বছর হতে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে এ খাতে ৭.৫% হারে যে উৎসে কর কর্তন করা হয়েছে তা চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবেবিবেচিত হবে না।

(ii) সংযোজিত নতুন ক্লজ (mmmm) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি প্রফেশনাল বডি কর্তৃক সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানতের উপর অর্জিত সুদ বা মুনাফার ক্ষেত্রে ১০% হারে উৎসে কর কর্তন সংশ্লিষ্ট। সংযোজিত ক্লজ অনুযায়ী বর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রে উৎসে কর্তিত কর ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
(চ) Gas distribution কোম্পানীর আয় সংক্রান্তঃ অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82C এর উপ- ধারা (2) এর বিদ্যমান proviso এর ক্লজ (d) তে Ògas transmissionÓ শব্দগুলোর পর Ò or gas distributionÓ শব্দগুলো সংযোজন করা হয়েছে। পরিবর্তিত এ বিধান অনুসারে gas distribution ব্যবসায় নিয়োজিত কোম্পানী কর্তৃক গ্যাস সরবরাহের বিপরীতে সরবরাহ গ্রহণকারী বা ভোক্তাগণ কর্তৃক ৫২ ধারার অধীনে উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধের আওতা হতে বাদ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে উৎসে কর্তিত কর স্বাভাবিক নিয়মে করারোপনে বিবেচিত হবে।

নতুন এ বিধান ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে।

৪৫। ফার্মের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 84 এর সংশোধনঃ

আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 84 এর উপ-ধারা (1) এ বিদ্যমান “;and in the case of firm, may refuse to register it or may cancel its registration if it is already registered,” শব্দগুলো অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বিলোপ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে অর্থ আইন, ১৯৯৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশেরধারা 84 এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (a) এর registered firm সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী বিলোপ করা হয়। ফলে, ধারা 84 এর উপ-ধারা (1) এর কোন প্রাসঙ্গিকতা না থাকায় বর্ণিত শব্দগুলো বিলোপ করা হয়েছে।

৪৬। ট্রান্সফার প্রাইসিং বিষয়ে একাউন্টেন্টের রিপোর্ট দাখিল সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 107F এর প্রতিস্থাপনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ এর ধারা 107F প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত এ বিধান অনুযায়ী কোন করদাতার কোন আয় বছরে আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিমাণ ৩ কোটি টাকার বেশি হলে উপ কর কমিশনার নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট বা কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট এর কাছ থেকে রিপোর্ট দাখিল করার জন্য করদাতাকে নোটিশ ইস্যু করতে পারবেন। এক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার কর্তৃক লিখিত নোটিশের মাধ্যমে উক্ত রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হলে করদাতাকে তা দাখিল করতে হবে।

৪৭। ট্রান্সফার প্রাইসিং বিষয়ে 107EE ধারায় আন্তর্জাতিক লেনদেনের তথ্য প্রদানে ব্যর্থতায় জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 107HH এর সংযোজনঃ

বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর বছরে কোন করদাতার আন্তর্জাতিক লেনদেন থাকলে আয়কর রিটার্নের সাথে ধারা 107EE অনুযায়ী statement of international transactions দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্   আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে নতুনধারা 107HH সংযোজন করে এরূপ বিধান করা হয়েছে যে, কোন করদাতা ধারা 107EE এর বিধান পরিপালনে ব্যর্  হলে উপ কর কমিশনার উক্ত করদাতার সংশ্লিষ্ট কর বছরের প্রত্যেক আন্তর্জাতিক লেনদেনের অনধিক ২% পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

৪৮। ব্যক্তি-করদাতার রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 124 এর উপ-ধারা (1) এ proviso সংযোজনঃ

আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-করদাতার উপর জরিমানা আরোপের সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 124 এর উপ-ধারা (1) এ ক্লজ (a) ও ক্লজ (b) সম্বলিত একটি নতুন proviso সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ proviso এর ক্লজ দুটি কেবলমাত্র ব্যক্তি-করদাতাগণের জন্য প্রযোজ্য হবে। ধারা 124 এর উপ-ধারা
(1)এ সংযোজিত প্রোভাইসোর শর্তানুযায়ী-

 (১)কোন নতুন ব্যক্তি-করদাতা, যিনি ইতোপূর্বে কখনো করারোপিত হন নাই, তাঁর ক্ষেত্রে ধারা 124 এর উপ-ধারা (1) অনুযায়ী আরোপযোগ্য মোট জরিমানার পরিমাণ ৫,০০০/- টাকার বেশি হবে না;

 (২)ইতোপূর্বে করারোপিত হয়েছেন এমন কোন পুরোনো ব্যক্তি-করদাতার ক্ষেত্রে এরূপ জরিমানার পরিমাণ তাঁর সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ৫০% বা ১,০০০/- টাকা, দু’টির মধ্যে যেটি বেশি, তা আরোপযোগ্য হবে।

৪৯। করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর যাচাইয়ে ব্যর্থতার জন্য জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 124AA এর সংযোজনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে একটি নতুনধারা 124AA সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন এধারার বিধান অনুসারে আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 184A এর উপ-ধারা (1) অনুযায়ী সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দাখিলকৃত ১২ ডিজিটের টিআইএন (e-TIN) এর যথার্থতা ধারা 184A এর উপ-ধারা (2) অনুযায়ী যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি যদি যে․ক্তিক কারণ ব্যতিরেকে উক্ত দায়িত্ব পরিপালনে ব্যর্  হন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্তৃপক্ষ ঐ ব্যক্তির উপর ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

৫০। রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের উপর ৭৪ ধারায় কর পরিশোধে ব্যর্থতায় জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 127 এর সংশোধনঃ

আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 127 এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে কোন করদাতা যদি আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের ভিত্তিতে ধারা 74 অনুসারে প্রদেয় করের ৮০% অপেক্ষা কম কর পরিশোধপূর্বক রিটার্ন দাখিল করে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনারধারা 74 অনুযায়ী প্রদেয় কর ও পরিশোধিত করের পার্থক্যের উপর ২৫% পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারেন। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বিদ্যমান ধারা 127 সংশোধন করে ৮০% কর পরিশোধের শর্তটি বিলোপ করা হয়েছে। এর ফলে কোন করদাতা যদি রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের ভিত্তিতে ধারা 74 অনুসারে প্রদেয় সম্পূর্ণ কর পরিশোধ ব্যতিরেকে রিটার্ন দাখিল করে তাহলে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার ধারা 74 অনুসারে প্রদেয় কর ও করদাতার পরিশোধকৃত করের পার্থক্যের উপর ২৫% পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

সংশোধিত এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ হতে দাখিলকৃত যে কোন কর বছরের রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

৫১। জাল বা নকল (fake) নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্ট দাখিলের কারণে জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 129B এর সংযোজনঃ

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে একটি নতুনধারা 129B সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন এ ধারার বিধান অনুসারে আয়কর অধ্যাদেশের বিধানাবলী প্রয়োগের কোন পর্যায়ে উপ কর কমিশনার, আপীলাত যুগ্ম কর কমিশনার, কর কমিশনার (আপীল) অথবা আয়কর আপীলাত ট্রাইবুনালের কাছে যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট কর বছরে বা অন্য কোন কর বছরে করদাতার দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নের সাথে সংযুক্ত বা পরবর্তীতে দাখিলকৃত audit report এ প্রদত্ত স্বাক্ষর কোন Chartered Accountant এর নয় অথবা দাখিলকৃত audit report এ প্রদত্ত Chartered Accountant এর স্বাক্ষরটি জাল বা নকল (fake) সেক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত আয়কর কর্তৃপক্ষ বা ট্রাইবুনাল করদাতার উপর সংশ্লিষ্ট আয় বছরের জন্য ১,০০,০০০/- টাকা জরিমানা আরোপ করবেন।

৫২। জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে শুনানীর সুযোগ প্রদানের পরিসর বৃদ্ধি- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 130 এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 130 এ বর্ণিত “under this chapter” শব্দগুলোর পর “or chapter XIA” শব্দগুলো সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে আয়কর অধ্যাদেশের chapter XV এবং chapter XIA তে বিদ্যমান কোন ধারার আলোকে কোন জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আবশ্যিকভাবে ধারা 130 অনুসারে নোটিশ জারী করতে হবে। অর্থাৎ, সংশোধিত এ বিধানের প্রেক্ষিতে জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে শুনানীর সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্র বিস্তৃত করা হয়েছে।

৫৩। উপ কর কমিশনার বরাবর আপীলাত যুগ্ম কর কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত জরিমানার আদেশ প্রেরণ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 132 এর সংশোধনঃ

আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 132 এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে আপীলাত যুগ্ম কর কমিশনার, কর কমিশনার (আপীল) অথবা কর আপীলাত ট্রাইবুনাল কর্তৃক কোন করদাতার পরউ chapter XV অনুসারে কোন জরিমানা আরোপ করা হলে জরিমানা আরোপকারী কর্তৃপক্ষ জরিমানার আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনারের নিকট প্রেরণ করেন, যা সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ মর্মে গণ্য হয় এবং উক্ত জরিমানা আদায়ের জন্য আয়কর অধ্যাদেশে বর্ণিত দাবী আদায়ের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে উপরে বর্ণিত বিধানে দু’টি পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমতঃ জরিমানা আরোপকারী কর্তৃপক্ষের তালিকায় উপরে বর্ণিত তিনটি কর্তৃপক্ষের সা“ any other income tax authority” সংযুক্ত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়তঃ জরিমানাধার্যের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করে chapter XV এর সাথে chapter XIA যোগ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনের অন্যান্য বিধানাবলী অপরিবর্তিত আছে।

৫৪। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) তে আবেদন দাখিল সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 152ও এর সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (alternative dispute resolution) সংশ্লিষ্ট আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 152I এর উপ-ধারা (3) এ বর্ণিত “income tax authority or the court” শব্দগুলোকে  “income tax authority, tribunal or the court” শব্দগুলো দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ গ্রহনে আগ্রহী করদাতাগণ উক্ত ধারার উপ-ধারা (2) অনুযায়ী আবেদনকালে ট্রাইবুনালে নিষ্পন্নের জন্য অপেক্ষমান কোন মামলার ক্ষেত্রেও ট্রাইবুনালের অনুমতি বা অনাপত্তি গ্রহণ করতে পারবেন।

৫৫। উপ কর কমিশনার এবং পরিদর্শী যুগ্ম কর কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 153 এর সংশোধনঃ
(ক) ফার্মের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত আপীলের বিধান বিলোপঃ অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 153 এর উপ- ধারা (1) এর ক্লজ (d) বিলোপ করা হয়েছে। Registered firmসংশ্লিষ্ট ধারা 85 এর বিধানাবলী অর্থ আইন, ১৯৯৫ এর মাধ্যমে বিলোপ করার প্রেক্ষিতে উক্ত ক্লজ (d) অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ায় তা বিলোপ করা হয়েছে।
(খ) জরিমানা সংক্রান্ত  আপীলযোগ্য মামলার পরিধি সম্প্রসারণঃ উপ কর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলাত যুগ্ম কর কমিশনার বা কর কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল মামলা দায়ের সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 153 এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (e) এবং একই ধারার উপ- ধারা (1A) এর ক্লজ (b) অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন/সংশোধন করে জরিমানা সংক্রান্ত আপীলযোগ্য মামলার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধান এর ফলে আয়কর অধ্যাদেশের chapter XIA, chapter XV এর অধীন যে কোন ধারায় এবং chapter XVI এর অধীন ধারা 137 এ উপ কর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলাত যুগ্ম কর কমিশনার বা কর কমিশনার (আপীল) বরাবর আপীল মামলা দায়ের করা যাবে।

(গ) রিটার্ন দাখিলের পূর্বে বা সময়েধারা 74 অনুযায়ীসমুদয় কর পরিশোধ ব্যতিরেকে আপীল দায়েরকে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনাঃ আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 153 এর উপ- ধারা (3) এর বিধানে উপ কর কমিশনার কর্তৃক প্রণীত কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে আপীলাত যুগ্ম কর কমিশনার বা কর কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে করদাতার দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের ভিত্তিতেধারা 74 অনুযায়ী প্রদেয় কর বর্ণিত আপীল কর্তৃপক্ষের কাছে মামলা দায়ের করার পূর্বে পরিশোধের শর্ত বিদ্যমান আছে। অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে বর্ণিত উপ-ধারা (3) এর শেষ বাক্য হতে  “before filing that appeal” শব্দগুলো বিলোপ করা হয়েছে। এর ফলে ধারা 153 তে বর্ণিত কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল মামলা দায়েরে পূর্বশর্তটি পরিবর্তিত হয়েছে। পরিবর্তিত শর্তানুসারে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 74 অনুযায়ী প্রদেয় কর এর সমুদয় অংক আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্বে বা সময় পরিশোধ করা না হলে উক্ত কর বছর সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে আপীল মামলা আইনসম্মতভাবে দাখিলকৃত বা গ্রহণযোগ্য মর্মে গণ্যহবে না।
সংশোধিত এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে যে কোন আপীল মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

৫৬। জাল বা নকল (fake) অডিট রিপোর্ট দাখিলকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনাকরণ সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 165AA এর সংযোজনঃ

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 165A এর পরে একটি নতুনধারা 165AA সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন এধারার বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তির (person) দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নের সাথে সংযুক্ত অডিট রিপোর্ট বা পরবর্তীতে দাখিলকৃত অডিট রিপোর্টে Chartered Accountant এর প্রদত্ত স্বাক্ষর জাল বা নকল (fake) প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড প্রযোজ্য হবে। এক্ষেত্রে কারাদন্ডের মেয়াদ সর্বনিম্ন তিন মাস হতে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক দন্ড অথবা উভয় প্রকার দন্ড আরোপযোগ্য।

৫৭। বিদেশী নাগরিককে অননুমোদিতভাবে কাজে নিয়োগের জন্য শাস্তিমূলক বিধান প্রবর্তন সংক্রান্ত- আয়কর অধ্যাদেশে নতুনধারা 165C এর সংযোজনঃ

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান ধারা 165B এর পরে একটি নতুন ধারা 165C সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ নতুন ধারার বিধান অনুসারে বিনিয়োগ বোর্ড বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন বিদেশী নাগরিককে কাজে নিয়োগ আয়কর আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোন ব্যক্তি (person) বর্ণিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনবিহীন কোনবদেশীি নাগরিককে কাজে নিয়োগ করলে উক্ত নিয়োগকারীর সর্বনিম্ন তিন মাস হতে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক দন্ড অথবা উভয় প্রকার দন্ড আরোপযোগ্য হবে।

৫৮। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন, ইত্যাদি দাখিলের শর্ত সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 184A এর সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 184A এর নিম্নরূপ সংশোধন/সংযোজন করা হয়েছেঃ

 (ক) ISD টেলিফোন সংযোগ সংক্রান্তঃ

উক্ত ধারা এর উপ- ধারা (1) এর ক্লজ (k) বিলোপ করা হয়েছে। এর ফলে, ১ জুলাই, ২০১৫ তারিখ হতে টেলিফোনের ISD সংযোগের জন্য আবেদনকালে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিলের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না ।

(খ) বিদেশী নাগরিকের কোম্পানীর পরিচালক পদ গ্রহণ সংক্রান্তঃ

উক্ত ধারা এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (l) এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে কোন শেয়ার হোল্ডার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আছে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে সংযোজিত ক্লজ (ll) এর বিধান অনুসারে ১ জুলাই, ২০১৫ হতে কোন অনিবাসী বিদেশী নাগরিকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোন কোম্পানীর পরিচালক বা স্পন্সর শেয়ার হোল্ডারের পদের জন্য বাধ্যতামূলক ১২ ডিজিটের টিআইএন গ্রহণ করতে হবে না।

(গ) ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষাথী ভর্তি সংক্রান্তঃ
উক্ত উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (w) এর পর একটি নতুন ক্লজ (x) সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ নতুন বিধান অনুসারে ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিঃ তারিখ হতে কোন সিটি কর্পোরেশন অথবা জেলা সদরের পে․রসভা এলাকায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষাদানরত কোন ইংলিশ মিডিয়াম ¯‥ুলে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে উক্তশিক্ষার্থীর মাতা বা পিতা বা অভিভাবকের ১২ ডিজিটের টিআইএন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন প্রাপ্তির বিধানটি কার্যকর করবেন।

৫৯। আয়কর অধ্যাদেশের THE THIRD SCHEDULE এর সংশোধনঃ

(ক)অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের তৃতীয় তফসিলে বিদ্যমান অনুচ্ছেদ3 এর Table এর কলাম 1 এর ক্রমিক নং 3 এর বিপরীতে কলাম 2 এ উল্লিখিত ক্লজ (2)(b) এর এন্ট্রি (vi) এর পর একটি নতুন এন্ট্রি (vii) সংযোজন করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত এই এন্ট্রির বিধান অনুসারে আমদানীকৃত কম্পিউটার সফট্ওয়্যার এর উপর ১০% হারে অবচয় ভাতা অনুমোদনযোগ্য হবে।
(খ)অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে একই তফসিলের অনুচ্ছেদ11 এর ক্লজ (6) এর সাব-ক্লজ (a) তে ব্যবসা বা পেশায় ব্যবহৃত মোটর গাড়ীর অনুমোদনযোগ্য সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য সীমার পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তিত বিধানে অবচয় পরিগণনার জন্য গাড়ীর সর্বোচ্চ অনুমোদনযোগ্য ক্রয়মূল্য ২০ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

পরিবর্তিত এ বিধান দু’টি ২০১৫-২০১৬ কর বছর থেকে প্র্রযোজ্য হবে।

৬০। আয়কর অধ্যাদেশের THE SIXTH SCHEDULE, PART-Aএর সংশোধন :

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ষষ্ঠ তফসিল, পার্ট-এ তে আনীত পরিবর্তন/সংযোজনসমূহ নিম্নরূপঃ

(ক) উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ11A প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত বিধান অনুসারে বাংলাদেশের যে কোন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানী হতে ডিভিডেন্ড হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রাপকের হাতে করমুক্ত থাকবে। কোন করদাতা কর্তৃক প্রাপ্ত এরূপ ডভিডেন্ডের পরিমাণ ২৫ হাজার টাকার অধিক হলে ২৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত অংক করযোগ্য আয় হিসেবে মোট আয়ের সাথে যোগ হবে। উল্লেখ্য, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোন কোম্পানী হতে প্রাপ্ত সমুদয় লভ্যাংশ আয় করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে।

(খ)উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ 20 প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত বিধান অনুসারে কোন করদাতা কর্তৃক ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্তগ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রাপ্ত অর্  করমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হবে। কোন করদাতা কর্তৃক এরূপ খাতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বেশি হলে অতিরিক্ত অংক করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

(গ)উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ21 এর উপ-অনুচ্ছেদ (d) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত এ বিধান অনুসারে কোন শ্রমিক কর্তৃক workers participation fund হতে প্রাপ্ত সমুদয় অংক করমুক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রেবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর ২(৬৫) ধারায় প্রদত্ত সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত  ব্যক্তিগণই কেবলমাত্র শ্রমিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে বর্ণিত শ্রম আইনের উল্লিখিত সংজ্ঞা বহির্ভূত কোন ব্যক্তি কর্তৃক workers participation fund হতে প্রাপ্ত যে কোন অংক প্রাপকের হাতে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

(ঘ)উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ22A হতে “ডিভিডেন্ড” শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ডিভিডেন্ড শব্দটি বিলোপের প্রেক্ষিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড অথবা ইউনিট ফান্ড হতে কোন করদাতা কর্তৃক বছরে প্রাপ্ত যে কোন আয় তা সুদ, মুনাফা বা ডিভিডেন্ড, ইত্যাদি যে নামেই অভিহিত হোক না কেন ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। কোন করদাতা কর্তৃক বর্ণিত খাত হতে বছরে প্রাপ্ত আয় ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে অতিরিক্ত অংক করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

(ঙ) উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ 24 এর পর একটি নতুন অনুচ্ছেদ 24A সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ নতুনধারার বিধান অনুসারে কোন করদাতা কর্তৃক ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও পাউন্ড স্টার্লিং প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ হতে অর্জিত সমুদয় আয় করদাতার করমুক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

উপরোক্ত (ক), (খ), (গ), (ঘ) এবং (ঙ) উপ-অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিধানসমূহ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে প্রযোজ্য হবে।

(চ)উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ 33 এ বর্ণিত সফট্ওয়্যার এবং সফট্ওয়্যার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় আয়ের কর অব্যাহতির সময়সীমা ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে কোন করদাতার Software Development ev Nationwide Telecommunication Transmission Network (NTTN) ev Information Technology Enabled Services (ITES) সংশ্লিষ্ট ব্যবসা  খাতের অর্জিত আয় ৩০ জুন, ২০১৯ তারিখের পরিবর্তে ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, উল্লিখিত ব্যবসাসমূহ থেকে অর্জিত আয়ের উপর ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত কোন আয়কর প্রদেয় হবে না।

(ছ)উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ 35 এ বর্ণিত কর অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংযোজিত এ বিধান অনুসারে হস্ত শিল্পজাত পণ্য রপ্তানী থেকে কোন করদাতার অর্জিত আয় ৩০ জুন, ২০১৫ তারিখের পরিবর্তে ৩০ জুন, ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। ফলে ৩০ জুন, ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত এ শিল্পের রপ্তানী আয়ের উপর কোন আয়কর প্রদেয় হবে না।

(জ)উল্লিখিত তফসিলের অনুচ্ছেদ 49, 50 ও 51 এ বিদ্যমান crossed cheque শব্দগুলির পর crossed cheque শব্দগুলি বর্ণিত অর্  আইনের মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে। পরিবর্তিত এ বিধান অনুসারে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত দেশের কোন গার্লস স্কুল বা গার্লস কলেজ; টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট; এবং কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পোন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে গবেষণারত গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) প্রতিষ্ঠানে কোন আয় বছরে কোন করদাতা তার আয় বা আয়ের অংশ বিশেষ ক্রসড্ চেকের পাশাপাশি ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমেও অনুদান হিসেবে প্রদান করতে পারবেন। বর্ণিত যে কোন মাধ্যমে এরূপ অনুদান প্রদান করা হলে অনুদানকৃত অংকের উপর করদাতার কোনআয়কর প্রদেয় হবে না।

(ঝ) উল্লিখিত তফসিলে একটি নতুন অনুচ্ছেদ 52 সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ নতুন বিধান অনুসারে যে সকল ক্ষাশি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, যারা সরকারি

কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান করে থাকে এবং যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি-বিধান দ্বারা পরিচালিত হয়, এরূপ সকল শর্ত পালনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সুদ ও লভ্যাংশ আয় ব্যতীত অন্য সকল খাতের আয় করমুক্ত বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ধারা 53F এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (b) এর পর নতুনক্লজ (c) সংযোজন করে উপরে বর্ণিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যাংক আমানত হতে অর্জিত সুদ বা মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তনের হার, ১২ ডিজিটের টিআইএন/টিআইএন থাকা বা না থাকা নির্বিশেষে, ১০% হারে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একই সাথে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্জিত ব্যাংক সুদ বা মুনাফার উপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনার বিধানধারা 82C তে সংযোজন করা হয়েছে। তবে, এ সকল প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ খাতে কোন আয় থাকলে তা স্বাভাবিক নিয়মে করারোপিত হবে।

(ঞ) উল্লিখিত তফসিলে অনুচ্ছেদ 52 এর পর আরো একটি নতুন অনুচ্ছেদ 53 বর্ণিত অর্থ আইনের মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ নতুন বিধান অনুসারে যে কোন public university, Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB), Institute of Cost and Management
Accountants of Bangladesh (ICMAB)এবং Institute of Chartered Secretaries of Bangladesh (ICSB) কর্তৃক অর্জিত ব্যাংক সুদ ও লভ্যাংশ আয় ব্যতীত অন্য সকল খাতের আয় করমুক্ত বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, অর্   আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ধারা 53F এর উপ-ধারা (1) এর ক্লজ (b) এর পর নতুনক্লজ (c) সংযোজন করে public university সহ উপরে বর্ণিত পেশাজীবী সংগঠনসমূহের ব্যাংক আমানত হতে অর্জিত সুদ/ মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তনের হার, ১২ ডিজিটের টিআইএন/টিআইএন থাকা বা না থাকা নির্বিশেষে, ১০% হারে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একই সাথে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্জিত ব্যাংক সুদ বা মুনাফার উপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে বিবেচনার বিধানধারা ৮২c তে সংযোজন করা হয়েছে। তবে, এ সকল প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ খাতে কোন আয় থাকলে তা স্বাভাবিক নিয়মে করারোপিত হবে।

৬১। আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর সংশোধনীসমূহঃ

(i) ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন এর যথার্থতা যাচাই সংক্রান্ত rule-64BB এর সংযোজনঃ

এস,আর,ও নং ৭৬-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ০৫ এপ্রিল, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে rule-64BB নামে একটি নতুন বিধি সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত এ বিধির মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 184A তে উল্লিখিত ব্যাংক, বীমা, রাজউকসহ ২৫টি ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকালে দাখিলকৃত ই-টিআইএন যাচাই সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে পরিপালনের লক্ষ্যে কার্যপ্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-০২)।
(ii) আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংক্রান্তঃ

এস, আর, ও নং ১৯২-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে কতিপয় বিধি সংযোজন/ সংশোধন/ পরিমার্জন/ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে যা এ পরিপত্রের পরিশিষ্ট অংশে সংযুক্ত করা হয়েছে(পরিশিষ্ট-০৪)। এ সকল সংযোজন/ সংশোধন/ পরিমার্জন/ প্রতিস্থাপনের বিষয়াবলী নিম্নরূপে উপস্থাপন করা হলোঃ

(ক) সরবরাহ ও ঠিকাদারী বিলের উপর উৎসে কর কর্তনের হার সংক্রান্ত rule-16 এ নতুন খাত সংযোজনঃ
বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর বিদ্যমান rule-16 এ উৎসে কর কর্তনের নতুন একটি খাত ও উক্ত খাতে উৎসে কর কর্তনের হার সংযোজন করা হয়েছে। নতুন খাত হিসেবে সংযোজিত গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনে নিয়োজিত কোম্পানী শ্রেণীর করদাতার যে কোন অংকের গ্যাস বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ৩% হারে উৎসে কর কর্তনযোগ্য হবে। তবে এরূপ কর্তিত/সংগৃহীত কর 82C ধারায় আনীত সংশোধনীর প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

 (খ) ইন্ডেন্টিং কমিশন ও শিপিং এজেন্সী কমিশন খাতে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত Rule-17 এর বিলোপঃ

বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে বিদ্যমান rule-17 বিলোপ করা হয়েছে। rule-17 তে ইন্ডেন্টিং কমিশন ও শিপিং এজেন্সী কমিশন খাতে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কর্তনযোগ্য উৎসে করের হার উল্লেখ ছিল। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে ধারা 52AA প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত ধারার 7 ও 15 নং ক্রমিকে ইন্ডেন্টিং কমিশন ও শিপিং এজেন্সী কমিশন খাতে উৎসে কর কর্তনের হার যথাক্রমে ৭.৫% এবং ৫% হারে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

(গ) আমদানিকারকদের কাছ হতে আমদানি পর্যায়ে উৎসে কর সংগ্রহের হার সম্পর্কিত Rule -17Aএর প্রতিস্থাপনঃ
বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে আমদানি পর্যায়ে উৎসে কর সংগ্রহ সংক্রান্ত Rule-17A প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53 এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ীRule-17A অনুসারে Commissioner of Customs আমদানী পর্যায়ে উৎসে কর সংগ্রহ করে থাকেন। প্রতিস্থাপিত Rule-17A তে আমদানিযোগ্য সকল পণ্য সামগ্রীকে (a), (b), (c) এবং proviso এর মাধ্যমে 04 টি ক্যাটাগরীভুক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিধির (a), (b), (c) ক্রমিকে বর্ণিত পণ্য আমদানি পর্যায়ে উৎসে কর সংগ্রহের হার যথাক্রমে ৫%, ২% এবং টন প্রতি টাকা ৮০০/- হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে proviso দুটিতে উল্লিখিত কোন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান প্রযোজ্য হবে না।

(ঘ) উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহের সার্টিফিকেট প্রদানের সময়সীমা সংক্রান্ত Rule-18 এর সংশোধনঃ

আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর Rule-18 এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে উৎসে কর্তনকারী/সংগ্রহকারী কর্তৃপক্ষ উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ সম্পর্কিত সনদপত্র প্রদান করে থাকেন। Rule-18 তে আনীত সংশোধনীতে যে মাসে উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ করা হবে তার পরবর্তী মাসের ০২ (দুই) সপ্তাহের মধ্যেএরূপ সনদ প্রদানের বিধান করা হয়েছে। সময়সীমা পরিবর্তন ব্যতীত Rule-18 তে অন্য কোন পরিবর্তন আনা হয়নি।

(ঙ) সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ভাতার উপর উৎসে কর্তিত করের সনদপত্র প্রদান সম্পর্কিত Rule -18A এর সংযোজনঃ

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে ধারা 50 এ একটি নতুন উপ-ধারা (1A) সংযোজন করা হয়েছে। সংযোজিত নতুন এ উপ-ধারায় সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন উত্তোলনের সময় উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। উৎসে কর্তিত করের বিষয়ে Accounts Officer/any other
authorised officer এর স্বাক্ষরে rule-18A অনুযায়ী অর্ বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩১ জুলাই তারিখের মধ্যে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত সনদপত্র ইস্যুর বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এ পরিপত্রের ২১ অনুচ্ছেদেএরূপ সনদপত্রের ছক উল্লেখ করা হয়েছে।

(চ)Return of withholding taxসংক্রান্ত Rule -24Aএর প্রতিস্থাপনঃ

বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে return of withholding tax সংক্রান্ত বিধি-24A প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের chapter VII এ উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহের কতিপয় নতুন খাত সংযোজন ও বিদ্যমান খাত পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সংযোজিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহের খাতসমূহ প্রতিস্থাপিত বিধি-24A তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

(ছ) নগদ বাড়ী ভাড়া ভাতা প্রাপ্তির করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি- Rule 33A এর সংশোধনঃ

বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে নগদ বাড়ী ভাড়া ভাতার করমুক্ত সুবিধা সংক্রান্ত Rule -33A সংশোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করমুক্ত মাসিক নগদ বাড়ী ভাড়া প্রাপ্তির পরিমাণ ২০,০০০/- টাকা হতে ২৫,০০০/- টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অন্য শর্ত অর্থাৎ মূল বেতনের ৫০% এর অতিরিক্ত অংক করারোপনযোগ্য হিসেবে গণ্য করার বিধানটি পূর্বের ন্যায় বহাল আছে। পরিবর্তিত এ বিধান ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে।

(জ) নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মকর্তা/কর্মচারীকে প্রদত্ত যাতায়াত সুবিধা সংক্রান্ত- Rule- 33D এর সংশোধনঃ

Rule-33D এর বিদ্যমান বিধান অনুসারে কোন করদাতা তার নিয়োগকর্তা থেকে যানবাহন সুবিধা প্রাপ্তহলে উক্ত করদাতার বাৎসরিক মূল বেতনের ৫% বেতন খাতের করযোগ্য আয়ের সাথে যোগ করা হয়। বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে বিধি-33D এর উক্ত বিধান অপরিবর্তিত রেখে একটি নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। নতুন বিধানমতে মূল বেতনের ৫% যদি ৬০,০০০/- টাকার কম হয় সেক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬০,০০০/- টাকা এ খাতের আয় হিসেবে করযোগ্য আয়ের সাথে যোগ হবে। তবে, মূল বেতনের ৫% যদি ৬০,০০০/- টাকার বেশি হয় সেক্ষেত্রে মূল বেতনের ৫% সমপরিমাণ অংক করযোগ্য আয়ের সাথে যোগ হবে। পরিবর্তিত এ বিধান ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে।

(ঝ) চাকুরিজীবী করদাতার নগদ চিকিৎসাভাতা সংক্রান্ত- Rule-33I এর সংশোধনঃ

বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে কোন চাকুরিজীবী করদাতা কর্তৃক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রাপ্ত নগদ চিকিৎসা ভাতাকে মূল বেতনের ১০% অথবা বার্ষিক ১,২০,০০০/- টাকা, দু’টির মধ্যে যেটি কম, পর্যন্ত কর অব্যাহতি প্রদান করে আয়কর বিধিমালা এর বিধি -33I সংশোধন করা হয়েছে। করমুক্ত নগদ চিকিৎসা ভাতা সংশ্লিষ্ট বিধি-33I তে বর্ণিত অন্যান্য শর্তাবলী পূর্বের ন্যায় বলবৎ আছে। পরিবর্তিত এ বিধান ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে।

(ঞ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত association of accountants  সংক্রান্ত Rule-37 এর সংশোধনঃ

আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 174 এর উপ-ধারা (2) এর ক্লজ (e) অনুযায়ী association of accountants এর তালিকা বিধি-37 এর উপবিধি-(1) এ উল্লেখ আছে। বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে উক্ত উপবিধি (1) সংশোধন করে কেবলমাত্র দুটি professional body যথা Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB) এবং Institute of Cost and Management Accountants of Bangladesh (ICMAB) কে উক্ত ধারার বিধান অনুসারে Òassociation of accountantsÓহিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এ দুটি পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোন প্রতিষ্ঠান ধারা 174 এর অধীনে association of Accountants বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে Rule-37 সংশোধন করে association of ccountants এর আওতা থেকে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে বাদ দেয়া হয়েছেঃ

1.            The Institute of Chartered Accountants in England and Wales.

2.            The Institute of Chartered Accountants in Scotland.

3.            The Society of Incorporated Accountants and Auditors, London.

4.            Institute of Chartered Accountants of Pakistan and India.

5.            Institute of Cost and Management Accountants of
Pakistan.

(ট) নিবাসী শিপিং ব্যবসার উৎসে কর সংগ্রহের সনদপত্র প্রদান সংক্রান্ত নতুন Rule- 62A এর সংযোজনঃ

আয়কর অধ্যাদেশের 53AA ধারার বিদ্যমান বিধান অনুসারে নিবাসী করদাতার মালিকানাধীন বা চার্টার্ড জাহাজ কর্তৃক বিদেশে মালামাল পরিবহজনিত প্রাপ্ত জাহাজ ভাড়ার উপর ৫% অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৩% হারে উৎসে কর পরিশোধের ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার কর্তৃক সনদপত্র প্রদানের জন্য একটি নির্ধারিত ফরম নব প্রবর্তিত বিধি-62A তে সংযোজন করা হয়েছে। কমিশনার অব কাস্টমস্ এর নিকট পোর্ট ক্লিয়ারেন্সের জন্য ১ জুলাই, ২০১৫ তারিখ হতে বিধি-62A অনুযায়ী ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।

(ঠ)Transfer pricing সংক্রান্ত Rule-73 এর সংশোধনঃ

বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 107F G transfer pricing এর ক্ষেত্রে maintenance and keeping of information, documents and records সংক্রান্ত বিধি-73 এর উপবিধি-(1) এর ক্লজ (q) প্রতিস্থাপন করে “the list of database utilized” শব্দগুলো সংযোজন করা হয়েছে।

 (ড)Transfer pricing সংক্রান্ত Rule-74 এর বিলোপঃ

বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের 107F ধারায় transfer pricing এর ক্ষেত্রে report from a certified accountant to be furnished সংক্রান্ত বিধি-74 এর কার্যকারিতা না থাকায় উক্ত বিধিটি বিলোপ করা হয়েছে।

(ঢ)Transfer pricing সংক্রান্ত Rule-75 এর প্রতিস্থাপনঃ
বর্ণিত এস, আর, ও এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের 107F ধারায় transfer pricing এর ক্ষেত্রে form of report from a certified accountant to be furnished সংক্রান্ত বিধি-75 অধিকতর কার্যকর ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে নতুন একটি form দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

৬২। জারীকৃত প্রজ্ঞাপনসমূহঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ সংশ্লিষ্ট আয়কর পরিপত্র নং-১, ২, ৩ (পরিপত্র-২০১৪) জারীর পর হতে অদ্যাবধি জারীকৃত উল্লেখযোগ্য প্রজ্ঞাপনসমূহ(এস,আর,ও) এ পরিপত্রের পরিশিষ্ট অংশে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ সকল প্রজ্ঞাপনেরসংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদান করা হলোঃ

 (ক) এস,আর,ও নং ৯৯-আইন/২০১৫, তারিখঃ ১৭ মে, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের দফা ৭(গ) এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০ শে ভাদ্র ১৪১০/৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০০৩ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নং মুবিম/প্রঃ৩/মুক্তিযোদ্ধা/ গেজেট/২০০৩/

                ৪৭৯ অনুসারে গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মালিকানাধীন মোটরকার, জীপ বা মাইক্রোবাসের রেজিস্ট্রেশনের সময় অথবা ফিটনেস নবায়নকালে অগ্রিম আয়কর প্রদানের বিধান প্রত্যাহার করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-৩)। মোটরকার, জীপ বা মাইক্রোবাসের মালিকদের অনুমিত আয়কে অগ্রিম আয়কর প্রদান সাপেক্ষে কর প্রদান সম্পর্কিত ইতঃপূর্বেকার সকল প্রজ্ঞাপনকে বাতিল করেএ নতুন প্রজ্ঞাপনটি জারী করা হয়েছে যেখানে গাড়ীর ধরণ, প্রদেয় আয়করের হার, অব্যাহতি, ইত্যাদি বর্ণিত আছে।

 (খ) এস,আর,ও নং ১৯২-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনটি আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধন/ সংযোজন/ পরিমার্জন সংশ্লিষ্ট। এ

পরিপত্রের ৬১(ii) অনুচ্ছেদে উক্ত প্রজ্ঞাপনের বিষয়াবলী বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-০৪)।

 (গ) এস,আর,ও নং ১৯৩-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বস্ত্র উৎপাদনের সাথে জড়িত সুতা উৎপাদন, সুতা ডাইয়িং, ফিনিশিং, কোনিং, কাপড় ক্সতরী, কাপড় ডাইয়িং, ফিনিশিং, প্রিন্টিং অথবা উক্তরূপ এক বা একাধিক প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কোন কোম্পানীর উল্লিখিত শিল্পের ব্যবসা হতে অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হার ১৫% এ হ্রাস করা হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত কর হার ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ৩০ জুন, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বহাল থাকবে (পরিশিষ্ট-০৫)। এ ধরণের শিল্পের ব্যবসায় আয়ের উপর ২০১৫-২০১৬ কর বছরের প্রযোজ্য কর হার হবে
১৫%।
(ঘ) এস,আর,ও নং ১৯৪-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কেবল উক্ত শিল্প হতে অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হার ১৫% এ হ্রাস করা হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত কর হার ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ৩০ জুন, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে (পরিশিষ্ট-০৬)। এ ধরণের ব্যবসা হতে অর্জিত আয়ের উপর ২০১৫-২০১৬ কর বছরে ১৫% কর হার প্রযোজ্য হবে।

(ঙ) এস,আর,ও নং ১৯৫-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর আয়কে নিম্নবর্ণিত মেয়াদ ও হারে আয়কর হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছেঃ

কর অব্যাহতির মেয়াদ

কর অব্যাহতির হার

প্রথম বৎসর

১০০%

দ্বিতীয় বৎসর

৮০%

তৃতীয় বৎসর

৬০%

চতুর্থ বৎসর

৪০%

পঞ্চম বৎসর

২০%

এ প্রজ্ঞাপনের বিধান ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে (পরিশিষ্ট-০৭)।

(চ) এস,আর,ও নং ১৯৬-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইতোপূর্বে জারীকৃতএস,আর,ও নং ২১৭-আইন/আয়কর/২০১৪, তারিখঃ ১৮ আগস্ট, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ এর কার্যকারিতা রহিত করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত কোন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সরকারী সিকিউরিটিজ ব্যতীত অন্য কোন সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের বিভিন্ন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপনের বিধান ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে কার্যকর হবে (পরিশিষ্ট-০৮)। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কয়েকটি ক্ষেত্র ব্যতীত ব্যক্তি-করদাতাগণ কর্তৃক পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ার -দেনলেন হতে অর্জিত মুনাফা পূর্বের ন্যায় সম্পূর্ণ করমুক্ত রয়েছে।

(ছ) এস,আর,ও নং ১৯৭-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৬ জুন, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনএস,আর,ও নং ১৫৮-আইন/আয়কর/২০১৪, এর দফা (দ) ও (ন) রহিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রাসকৃত হারে কর প্রদান সম্পর্কিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা হতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে বাদ দেয়া হয়েছে (পরিশিষ্ট-০৯)।

(জ) এস,আর,ও নং ১৯৮-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইতোপূর্বে জারীকৃত এস,আর, ও নং ২২৮-আইন-আয়কর/২০১১, তারিখঃ ৪ জুলাই, ২০১১ খ্রিস্টাব্দ রহিতক্রমেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মূল বেতন( basic salary ), উৎসবভাতা এবং বোনাস ব্যতীত সকল প্রকার ভাতা ও সুবিধাদিকে আয়করপ্রদান হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ এ প্রজ্ঞাপন অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ কর্তৃক প্রাপ্ত মূল বেতন ( basic salary ),   উৎসব ভাতা ও বোনাস ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে (পরিশিষ্ট-১০)।

(ঝ) এস, আর, ও নং ১৯৯-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে pelleted poultry feed উৎপাদন, গবাদি পশু, চিংড়ি ও মাছের pelleted feed উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প (horticulture), তুঁত গাছের চাষ, মে․মাছির চাষ প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রাক  (mushroom)  উৎপাদন  খামার  এবং  ফুল  ও  লতাপাতার  চাষ 12345(floriculture) হতে অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হার হ্রাস করে নিম্নরূপে ধার্য করা হয়েছেঃ

আয়ের পরিমাণ

আয়করের হার

প্রথম ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত

৩%

পরবর্তী ২০ লক্ষ টাকা

১০%

অবশিষ্ট আয়ের উপর

১৫%।

               
প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত কর হার ২০১৬-২০১৭ কর বছর হতে কার্যকর হবে (পরিশিষ্ট-১১)। উল্লেখ্য, ২০১৫-২০১৬ কর বছরের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী এ খাতে অর্জিত আয়ের উপর ৩% হারে কর প্রদেয় হবে।

 (ঞ) এস,আর,ও নং ২২৪-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ০২ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 53BB ও ধারা 53BBBB তে বর্ণিত ক্সতরী পোশাকসহ সকল প্রকার পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানি মূল্যের (export proceeds)উপর উৎসে কর কর্তনের হার ০.৬০% এ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত উৎসে কর কর্তনের হার ১ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ৩০ জুন, ২০১৬

খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে (পরিশিষ্ট-১২)।

 (ট) এস,আর,ও নং ২২৬-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ০৮ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থ‣নতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪২ নং আইন) এর ধারা ৫ ও ৪ এর বিধান অনুযায়ী যথাক্রমে ঘোষিত ও প্রতিষ্ঠিত অর্থ‣নতিক অঞ্চলে পণ্য উৎপাদন বা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরিচালিত এবং আয়কর অধ্যাদেশের ২(২০) ধারা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত কোম্পানীকে উক্ত অর্ ‣নতিক অঞ্চলে পরিচালিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম হতে উদ্ভূত সকল প্রকার আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হতে ১০ বছরের জন্য যথাঃ ১ম, ২য় ও ৩য় বছরের জন্য ১০০%, ৪র্  বছরের জন্য ৮০%, ৫ম বছরের জন্য ৭০%, ৬ষ্ঠ বছরের জন্য ৬০%, ৭ম বছরের জন্য ৫০%, ৮ম বছরের জন্য ৪০%, ৯ম বছরের জন্য ৩০% এবং ১০ম বছরের জন্য ২০% হারে কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-১৩)।

(ঠ) এস,আর,ও নং ২২৭-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ০৮ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থ‣নতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪২ নং আইন) এর ধারা ৫ ও ৪ এর বিধান অনুযায়ী যথাক্রমে ঘোষিত ও প্রতিষ্ঠিত অর্থ‣নতিক অঞ্চলে উক্ত আইনের ধারা ৮ অনুসারে নিয়োগকৃত অর্ ‣নতিক অঞ্চল ডেভেলপারকে অর্ ‣নতিক অঞ্চলে পরিচালিত তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম হতে উদ্ভূত সকল প্রকার আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হতে ১২ বছরের জন্য যথাঃ প্রথম ১০ বছর ১০০%, ১১ তম বছর ৭০% এবং ১২ তম বছর ৩০% হারে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-১৪)।

 (ড) এস,আর,ও নং ২২৮-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ০৮ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৮ নং আইন) এর ধারা ২২ এর বিধান অনুযায়ী ঘোষিত পার্কে পণ্য উৎপাদন বা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরিচালিত এবং আয়কর অধ্যাদেশের ২(২০) ধারা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত কোন কোম্পানীর উক্ত হাই-টেক পার্কে পরিচালিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম হতে উদ্ভূত সকল প্রকার আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হতে ১০ বছরের জন্য যথাঃ ১ম, ২য় ও ৩য় বছরের জন্য ১০০%, ৪র্  বছরের জন্য ৮০%, ৫ম বছরের জন্য ৭০%, ৬ষ্ঠ বছরের জন্য ৬০%, ৭ম বছরের জন্য ৫০%, ৮ম বছরের জন্য ৪০%, ৯ম বছরের জন্য ৩০% এবং ১০ম বছরের জন্য ২০% হারে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে
(পরিশিষ্ট-১৫)।

 (ঢ) এস,আর,ও নং ২২৯-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ০৮ জুলাই, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৮ নং আইন) এর ধারা ২০ অনুসারে নিয়োগকৃত ডেভেলপারকে পার্কে পরিচালিত তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম হতে উদ্ভূত সকল প্রকার আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হতে ১২ বছরের জন্য যথাঃ প্রথম ১০ বছর ১০০%, ১১তম বছর ৭০% এবং ১২ তম বছর ৩০% হারে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-১৬)।

 (ণ) এস,আর,ও নং ২৫৪-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ১৬ আগস্ট, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাঁস-মুরগীর খামার হতে অর্জিত আয়ের উপর হ্রাসকৃত হারে কর ধার্য করা হয়েছে যা নিম্নরূপঃ

আয়ের পরিমাণ

আয়করের হার

প্রথম ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর

শূন্য

পরবর্তী ১০ লক্ষ টাকা আয়ের উপর

৫%

অবশিষ্ট আয়ের উপর

১০%।

               
এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ধার্যকৃত করহার ২০১৬-২০১৭ কর বছর হতে কার্যকর হবে

(পরিশিষ্ট-১৭)।

(ত) এস,আর,ও নং ২৫৫-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ১৬ আগস্ট, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দঃ

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাঁস-মুরগী, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারী এবং মৎস্য চাষ হতে অর্জিত আয়ের উপর হ্রাসকৃত হারে কর ধার্য করা হয়েছে যা নিম্নরূপঃ

আয়ের পরিমাণ

আয়করের হার

প্রথম ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর

শূন্য

পরবর্তী ১০ লক্ষ টাকা আয়ের উপর

৫%

অবশিষ্ট আয়ের উপর

১০%।

 

এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ধার্যকৃত কর হার ২০১৫-২০১৬ কর বছর হতে কার্যকর হবে

(পরিশিষ্ট-১৮)।

অর্  আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আনীত আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ ও আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর সংশোধনী/পরিবর্তনসমূহ এবং নতুন জারীকৃত প্রজ্ঞাপনসমূহ স্পষ্টীকরণের উদ্দেশ্যে এ পরিপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পরিপত্রের কোন বক্তব্য বা উপস্থাপনা আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অথবা আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ অথবা জারীকৃত নতুন প্রজ্ঞাপনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে বা কোন মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণে অস্পষ্টতা দেখা দিলে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪, আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এবং মূল প্রজ্ঞাপনসমূহ প্রাধান্য পাবে।

 

 

(জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ)
প্রথম সচিব (কর নীতি)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।

Paripatra 2009-2010

Paripatra 2009-2010 - Index

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা।

নথি নং- জারাবো/আঃআঃবিঃ/কর-৭/বাজেট-২০০৯-১০/ তারিখঃ ২২/০৭/২০০৯ইং।
  1. ১। ২০০৯-১০ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য কর হার:
  2. ২। Annual Value এর গৃহ-সম্পত্তির সংজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে গৃহ-সম্পত্তি হতে আয় নিরূপণের ক্ষেত্রে ফার্নিচার, ফিটিংস, ফিকচারস ইত্যাদিকে গৃহ-সম্পত্তির সংজ্ঞার অন্তর্ভূক্ত করার বিধান প্রবর্তন [Section 2(3) এবং Section 24]:
  3. ৩। ট্রাইব্যুনালের সদস্য পদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যগণকে নিয়োগ দেয়ার বিধান প্রবর্তন [Section 11 (3) (i)]:
  4. ৪। নগদে গৃহীত ঋণের অংকের নির্ধারিত পরিমাণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনয়ন [section 19(21)]:
  5. ৫। নতুন শিল্প স্থাপন ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে অপ্রদর্শিত আয়ের উপর ১০% হারে কর প্রদানের শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের বিধান প্রবর্তন [Section 19A]:
  6. ৬। পুরাতন শিল্পের মেরামত, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে অপ্রদর্শিত আয়ের উপর ১০% হারে কর প্রদানের শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের বিধান প্রবর্তন (Section 19AA):
  7. ৭। পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানীর শেয়ার ক্রয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুবিধা প্রদান [Section 19AAA]:
  8. ৮। একটি ফ্লাট বা একটি ফ্লোর নির্মাণের জন্য অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের বিধান প্রবর্তন [Section 19BBBB]:
  9. ৯। গৃহ-সম্পত্তির ভাড়া আয়ের পরিধি সম্প্রসারণ [Section 24(1)]:
  10. ১০। রয়্যালটি, টেকনিক্যাল সার্ভিস ফি, টেকনিক্যাল-নো-হাউ ফি অথবা টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্স ফি বাবদ অনুমোদনযোগ্য খরচের সীমা বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত সুযোগ প্রদানের বিধান প্রবর্তন [Section 30 এর clause(h)]:
  11. ১১। ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ লক্ষ টাকা হতে বাড়িয়ে দশ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা [Section 44 (3)(a)]:
  12. ১২। তৈরী পোষাক শিল্পের কর অবকাশ সুবিধার শর্ত সংশোধন [Section 46A (2)(c)]:
  13. ১৩। তৈরী পোষাক শিল্পের কর অবকাশ সুবিধার শর্ত সংশোধন [Section 46B(4)(b)]:
  14. ১৪। ভূমি হুকুম দখল বাবদ প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ অর্থের উপর উৎসে কর কর্তনের হার হ্রাস করণঃ
  15. ১৫। ডায়মন্ড কাটিং শিল্পে বিদেশী টেকনিশিয়ানদের বেতন-ভাতার উপর পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রবর্তনঃ
  16. ১৬। বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ কর্তৃক দেশের বাইরে অর্জিত ফ্রেইট ভাড়ার উপর উৎসে আয়কর কর্তনের বিধান প্রবর্তনঃ
  17. ১৭। রপ্তানী ক্ষেত্রে চুড়ান্ত করদায় হিসেবে নতুন কিছু খাতকে অন্তর্ভূক্ত করার বিধানঃ
  18. ১৮। স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনের উপর বিদ্যমান উৎসে কর কর্তনের হার বৃদ্ধিঃ
  19. ১৯। Section 53DD বিলোপ করে রপ্তানীর বিপরীতে প্রদত্ত ক্যাশ সাবসিডি’র উপর উৎসে কর কর্তনের বিধান বাতিলঃ
  20. ২০। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ে নিয়োজিত কোম্পানী কর্তৃক জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর হারের পরিবর্তন:‌
  21. ২১। উৎসে আয়কর সংগ্রহ/ আদায়ের বিধান প্রবর্তন করে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে নতুন Section 62A সন্নিবেশঃ
  22. ২২। আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে Section 74 এর কর পরিশোধের ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে Section 74 সংশোধনঃ
  23. ২৩। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 82BB অর্থাৎ সর্বজনীন স্বনির্ধারনী পদ্ধতির ক্ষেত্রে নতুন দুটি sub-section সংযোজনঃ
  24. ২৪। আয়কর অধ্যাদেশের Section 82C সংশোধন:
  25. ২৫। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর Section 93 এর সংশোধনঃ
  26. ২৬। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর Section 94 এর সংশোধনঃ
  27. ২৭। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে নতুন Section 121A সন্নিবেশঃ
  28. ২৮। আপীলাত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আপীল আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা পরিবর্তন করে Section 156 সংশোধনঃ
  29. ২৯ । ট্রাইবুনালে আপীল দায়েরের পূর্বশর্ত হিসেবে কর পরিশোধের হার পরিবর্তন [Section 158(2)]:
  30. ৩০। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কর পরিশোধের বিধান করে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪এর Section 160 সংশোধনঃ
  31. ৩১। টিআইএন ব্যবহারের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করে Section 184A সংশোধন।
  32. ৩২। নতুন করদাতা কর্তৃক টিআইএন গ্রহণের পূর্বে কর পরিশোধ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (National Identity Number) উলে-খের বিধান করে Section 184B এবং Rule 64B সংশোধন।
  33. ৩৩। আয়কর অধ্যাদেশের প্রথম তফসিল, পার্ট-C এর সংশোধনঃ
  34. ৩৪। আয়কর অধ্যাদেশের তৃতীয় তফসিল এর সংশোধন
  35. ৩৫। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফসিল, পার্ট A-এর সংশোধনঃ
  36. ৩৬। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফসিল পার্ট B তে নতুন অনুচ্ছেদ সংযোজনঃ
  37. ৩৭। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে THE EIGHTH SCHEDULE শিরোনামে উৎসে কর কর্তন সম্পর্কিত নতুন তফসিল সংযোজনঃ
  38. ৩৮। Income-tax Rules, 1984 এর বিভিন্ন বিধি সংশোধন ও সংযোজন সংক্রান্ত :
  39. ৩৯। অর্থ আইন, ২০০৯ এ প্রজ্ঞাপনের (এস, আর, ও) মাধ্যমে আনীত পরিবর্তন সমূহঃ
  40. ৪০। সংশোধিত ও পরিমার্জিত টিআইএন আবেদন ফরমঃ
  41. ৪১। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এ নতুন সন্নিবেশিত অষ্টম সিডিউলঃ
  42. ৪২। সংযোজনী (এস, আর, ও সমূহ)
    1. সংযোজনী -১
    2. সংযোজনী -২
    3. সংযোজনী -৩
    4. সংযোজনী -৪
    5. সংযোজনী -৫
    6. সংযোজনী -৬

Paripatra-1 2010-2011

রিপত্র-১ অর্থ বছর ২০১০-২০১১

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
নথি নং জারাবো/আঃআঃবিঃ/কর-৭/আয়কর বাজেট/২০১০(অংশ-১) তারিখঃ ০১/০৮/২০১০

পরিপত্র-১

বিষয়ঃ অর্থ বছর ২০১০-২০১১ এর বাজেট কার্যক্রমের আওতায় আয়কর আইন ও বিধির পরিবর্তনসম-হের ব্যাখ্যা।
অর্থ আইন, ২০১০ এবং প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়কর আইন ও বিধির কতিপয় পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া ৫টি এসআরও সংশোধন এবং ৩টি নতুন এসআরও জারি করা হয়েছে। নতুন প্রবর্তিত ও সংশোধিত আইন, বিধি ও প্রজ্ঞাপনসমূহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকল্পে নিম্নরূপ ব্যাখ্যা প্রদান করা হলোঃ
১। ২০১০-২০১১ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য আয়কর হারঃ
সকল শ্রেণীর করদাতাদের জন্য বিদ্যমান আয়কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে অর্থাৎ ২০০৯-২০১০ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য আয়করের হার ২০১০-২০১১ কর বছরের জন্য বহাল থাকবে (পরিশিষ্ট-১) । নিম্নে সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো:
(ক) ব্যক্তি শ্রেণীর আয়কর হারঃ
২০১০-২০১১ কর বছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের আয়ের উপর প্রযোজ্য করহার নিম্নরূপঃ

মোট আয় হার
(ক) প্রথম ১,৬৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য
(খ) পরবর্তী ২,৭৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০%
(গ) পরবর্তী ৩,২৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫%
(ঘ) পরবর্তী ৩,৭৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২০%
(ঙ) অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ২৫%:

তবে মহিলা এবং ৬৫ বৎসর বা তদুর্ধ বয়সের করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা হবে ১,৮০,০০০/- টাকা। এতদ্ব্যতীত প্রতিবন্ধী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা হবে ২,০০,০০০/-টাকা।
যে সকল করদাতা ২০০৯-২০১০ করবর্ষে সর্বোচ্চ ২৫% হারে কর প্রদান করেছেন, তাঁরা ২০১০-২০১১ করবর্ষে কমপক্ষে ১০% অধিক হারে আয় প্রদর্শন করলে সেক্ষেত্রে প্রদর্শিত অতিরিক্ত আয়ের জন্য পরিশোধযোগ্য করের উপর ১০% কর রেয়াত প্রাপ্ত হবেন।
করমুক্ত সীমার উর্ধের আয়ের বেলায় প্রদেয় আয়করের পরিমাণ কোনভাবেই ২,০০০/- টাকার কম হবে না।
(খ) কোম্পানী নহে, বাংলাদেশে অনিবাসী (অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যতীত) এরূপ ব্যক্তি শ্রেণীভুক্ত করদাতার ক্ষেত্রে আয়ের উপর প্রযোজ্য কর ------------- ২৫%
(গ) কোম্পনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ করদাতার আয়কর হার-
(অ) লভ্যাংশ আয়ের ক্ষেত্রে লভ্যাংশের ২০%
(আ) লভ্যাংশ ব্যতীত অন্যান্য আয়ের উপর
(১) মোবাইল ফোন কোম্পানী (স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ব্যতীত) ৪৫%
(২) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানী------৩৫%
(৩) ব্যাংক,বীমা,লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হোক বা না হোক) --------------------৪২.৫%
(৪) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানী---------------২৭.৫%
(৫) অন্যান্য কোম্পানী----------------------------৩৭.৫%
উপরোক্ত (গ)(আ) (৪)উপ-অনুচ্ছেদে বর্ণিত স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানী যদি ২০% এর চেয়ে বেশী লভ্যাংশ প্রদান করে তাহলে প্রযোজ্য আয়করের উপর ১০% হারে আয়কর রেয়াত পাবে। তবে এরূপ কোম্পানী যদি ১০% এর কম লভ্যাংশ ঘোষণা করে অথবা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ
কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশ প্রদান না করে তাহলে তাদের কর হার হবে ৩৭.৫%
তবে লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে সকল কোম্পানীর ক্ষেত্রে ন্যুনতম করের পরিমাণ হবে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা।
২। প্রশাসনিক সংস্কারঃ
আয়কর আইনে কতিপয় বিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং কর আপীলাত ট্রাইব্যুনাল এর প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কিত আইনে পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের পরিবর্তন সমূহ নিম্নরূপঃ
(ক) Section 2এর clause (25AA) সংশোধনের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর মহাপরিচালকের সংজ্ঞায় অতিরিক্ত মহাপরিচালককে অনত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(খ) section 4 এর sub-section (2)সংশোধনের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর মহাপরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিকট অর্পন করা হয়েছে।
(গ) section 4A এ নতুন clause (c) সংযোজনের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর অতিরিক্ত/যুগ্ম মহাপরিচালককে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক উক্ত সেলের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনের জন্য ক্ষমতা অর্পনের বিধান করা হয়েছে। এ সংশোধনের ফলে মহাপরিচালকের অনুপস্থিতিতে এ সেলের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর অতিরিক্ত/যুগ্ম মহাপরিচালককে উক্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা অর্পন করতে পারবে।
(ঘ) section 11 এর sub-section (3) তে নতুন sub-section (3) সংযোজনের ফলে বিচার বিভাগে জেলা জজ হিসেবে কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন কর্মকর্তা কর আপীলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হবেন।
(ঙ) section 11 এর sub-section (4) সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য বা চলতি দায়িত্বে সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন এরূপ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে কর আপীলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিধান করা হয়েছে।
৩। কোম্পানীর শেয়ার অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে (প্রিমিয়াম) বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম মূল্যের উপর আয়কর আরোপের বিধান [section 16E সংযোজন]:
আয়কর অধ্যাদেশে নতুন section 16E সংযোজনের মাধ্যমে কোন কোম্পানীর মূলধন share capital) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শেয়ারের অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যে (প্রিমিয়াম) শেয়ার বিক্রয় করলে গৃহীত অতিরিক্ত মূল্য বা প্রিমিয়ামের উপর আয়কর আরোপের বিধান করা হয়েছে। Book building বা public offering বা rights offering বা placement বা preference share বা অন্য যে কোন পদ্ধতিতে শেয়ার ক্যাপিটাল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শেয়ারের অভিহিত মুল্যের অতিরিক্ত হিসেবে প্রাপ্ত মূল্যের উপর কর আরোপের বিধান করা হয়েছে। এরূপ কর কোম্পানীর মোট আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের অতিরিক্ত হবে। ১ জুলাই, ২০১০ হতে এ বিধান কার্যকর হবে।
৪। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ কোম্পানীর পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শেয়ার মূল্য বাবদ অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধের বিধান [section 19(24) সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 19 এর sub-section (24) সংশোধনের মাধ্যমে বিদ্যমান পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী কর্তৃক শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যতীত নগদে বা অন্য কোনভাবে শেয়ারহোল্ডারদের নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করলে উক্ত গৃহীত অর্থ সংশ্লিষ্ট আয় বছরে উক্ত কোম্পানীর অন্যান্য সূত্রের আয় হিসেবে গণ্য করার বিধান করা হয়েছে। নতুন কোম্পানী হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন বাবদ প্রদত্ত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বা বিদ্যমান কোম্পানী কর্তৃক বোনাস শেয়ার এর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত কোম্পানীর ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
৫। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর section 19A বিলোপঃ
আয়কর অধ্যাদেশের section 19A বিলোপ করা হয়েছে। এ ধারায় ১ জুলাই, ২০০৯ থেকে ৩০ জুন, ২০১০ পর্যন্ত সময়কালে নতুন শিল্প স্থাপন বা ভৌত অবকাঠামো নির্মান সংশ্লিষ্ট কোন কোম্পানীতে বিনিয়োগ করলে এবং ১০% হারে কর প্রদান সাপেক্ষে ঘোষণা করলে তা কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে গ্রহন করার বিধান ছিল। এ ধারাটি বিলুপ্ত হওয়ায় ৩০ জুন, ২০১০ এর পরে এ আইনের আর কার্যকারিতা থাকবে না। তবে, এ ধারায় নির্দিষ্টকৃত সময়সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে এবং সংশ্লিষ্ট কর বৎসরে রিটার্ণ দাখিলের পূর্বে নির্ধারিত মধ্যে বিনিয়োগ করলে এবং সংশ্লিষ্ট কর বৎসরে রিটার্ণ দাখিলের পূর্বে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করলে, এরূপ ঘোষিত বিনিয়োগ কোন প্রশ্ন ব্যতীরেকে আয়কর বিভাগ কর্তৃক গৃহিত হবে। যেহেতু বিনিয়োগের সর্বশেষ তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩০/৬/২০১০, সেহেতু করদাতার এরূপ ঘোষণা ও কর পরিশোধ সাপেক্ষে ৩০/৬/২০১০ সংশ্লিষ্ট কর বছরের রিটার্ণে প্রদর্শন করতে হবে। বিলুপ্ত এ ধারার proviso অনুযায়ী বিধি 25AA এর আওতায় প্রদত্ত ঘোষণা বাস্তবায়িত না হলে এ ধারার সুবিধা প্রযোজ্য হবে না এবং এ ধারার শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে গণ্য করে প্রদত্ত সুবিধা প্রত্যাহারযোগ্য এবং আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য হবে।
৬। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর section 19AA বিলোপঃ
আয়কর অধ্যাদেশের section 19AA বিলোপ করা হয়েছে। ১ জুলাই, ২০০৯ থেকে ৩০ জুন, ২০১০ পর্যন্ত সময়কালে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন বা সংস্কার কাজে বিনিয়োগ করলে এবং ১০% হারে কর প্রদান সাপেক্ষে ঘোষণা করলে, তা কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে গ্রহন করার বিধান ছিল। এ ধারাটি বিলুপ্ত হওয়ায় ৩০ জুন, ২০১০ এর পরে এ আইনের আর কার্যকারিতা থাকবে না। তবে,এ ধারায় নির্দিষ্টকৃত সময়সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে এবং রিটার্ণ দাখিলের পূর্বে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ সাপেক্ষে এরূপ ঘোষিত বিনিয়োগ কোন প্রশ্ন ব্যতীরেকে আয়কর বিভাগ কর্তৃক গৃহিত হবে। যেহেতু বিনিয়োগের সর্বশেষ তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩০/৬/২০১০, সেহেতু করদাতার এরূপ ঘোষণা ও কর পরিশোধ ৩০/৬/২০১০ সংশ্লিষ্ট করবছরের রিটার্ণে প্রতিফলিত হতে হবে।
৭। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর section 19AAA বিলোপঃ
আয়কর অধ্যাদেশের section 19AAA বিলোপ করা হয়েছে। এ বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই, ২০০৯ থেকে ৩০ জুন, ২০১০ পর্যন্ত সময়কালে ১০% হারে আয়কর পরিশোধ সাপেক্ষে ব্যক্তি, ফার্ম, ব্যক্তি সংঘ বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীকর্তৃক স্টক এক্সেচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানীর স্টক ও শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ ঘোষণা করলে তা কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে গ্রহন করার বিধান ছিল। এ ধারাটি বিলুপ্ত হওয়ায় ৩০ জুন, ২০১০ এর পরে এই আইনের আর কার্যকারিতা থাকবে না। তবে,এ ধারায় নির্দিষ্টকৃত সময়সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে এবং রিটার্ণ দাখিলের পূর্বে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করলে,এরূপ ঘোষিত বিনিয়োগ কোন প্রশ্ন ব্যতীরেকে আয়কর বিভাগ কর্তৃক গৃহিত হবে। যেহেতু বিনিয়োগের সর্বশেষ তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩০/৬/২০১০, সেহেতু করদাতার এরূপ ঘোষণা ও কর পরিশোধ ৩০/৬/২০১০ সংশ্লিষ্ট করবছরের রিটার্ণে প্রতিফলিত হতে হবে। এ বিধান অনুযায়ী ঘোষিত বিনিয়োগ দুই বছরের মধ্যে উত্তোলন বা স্থানান্তর না করার শর্তটি সংশ্লিষ্ট করদাতার জন্য বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ বিলুপ্ত এ ধারার শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগকৃত মূল অংক দুই বছরের মধ্যে উত্তোলন বা স্থানান্তর করা যাবে না। তবে মুনাফা উত্তোলনে কোন বাধা নেই। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে বিনিয়োগকৃত অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর করা হলে এ ধারার শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে গণ্য করে এ ধারার আওতায় প্রদত্ত সুবিধা প্রত্যাহার পূর্বক আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য হবে।
৮। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর section 19BBBB বিলোপঃ
আয়কর অধ্যাদেশের section 19BBBB বিলোপ করা হয়েছে। এ বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই, ২০০৯ থেকে ৩০ জুন, ২০১০ পর্যন্ত সময়কালে বাড়ী বা এ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বা নির্মাণে বিনিয়োগ প্রতি বর্গফুট অনুযায়ী নির্ধারিত হারে আয়কর প্রদান সাপেক্ষে ঘোষণা প্রদান করলে তা কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে গ্রহন করার বিধান ছিল। এ ধারাটি বিলুপ্ত হওয়ায় ৩০ জুন, ২০১০ এর পরে এ আইনের আর কার্যকারিতা থাকবে না। তবে, এ ধারায় নির্দিষ্টকৃত সময়সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে এবং রিটার্ণ দাখিলের পূর্বে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করলে এরূপ ঘোষিত বিনিয়োগ কোন প্রশ্ন ব্যতীরেকে আয়কর বিভাগ কর্তৃক গৃহিত হবে। তবে যেহেতু বিনিয়োগের সর্বশেষ তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩০/৬/২০১০, সেহেতু করদাতার এরূপ ঘোষণা ও কর পরিশোধ ৩০/৬/২০১০ সংশ্লিষ্ট কর বছরের রিটার্ণে প্রতিফলিত হতে হবে।
৯। Bangladesh Infrastructure Finance Fund এর আওতায় ইস্যুকৃত বন্ডে বিনিয়োগ ঘোষণার সুযোগ প্রদান সংক্রান্ত [section 19C সংযোজন]:
আয়কর অধ্যাদেশে নতুন section 19C সংযোজনের মাধ্যমে Bangladesh Infrastructure Finance Fund এর আওতায় ইস্যুকৃত বন্ডে বিনিয়োগ করলে এবং ১০% হারে আয়কর প্রদান সাপেক্ষে ঘোষণা করলে তা কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে গ্রহন করার বিধান করা হয়েছে। এ বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই, ২০১০ থেকে ৩০ জুন, ২০১২ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে এ ফান্ডের আওতায় ইস্যুকৃত বন্ডে বিনিয়োগ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর বছরে রিটার্ণ দাখিলের পূর্বে বিনিয়োগের উপর ১০% হারে আয়কর প্রদান করতে হবে। যে কোন ব্যক্তি (person) এরূপ বিনিয়োগ ঘোষণা করতে পারবে।
১০। Physical Infrastructure যথাঃ সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভার থেকে অর্জিত আয় হতে অবচয় ভাতা অনুমোদনের বিধান [section 29(viii) সংশোধন এবং ৩য় তফসিলের paragraph 3 এ নতুন আইটেম (e) সংযোজন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 29(viii) সংশোধন করে ভৌত অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান বা physical infrastructure undertaking এর সেতু বা সড়ক ও ফ্লাইওভারের আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভারের জন্য অবচয় (depreciation) ভাতা অনুমোদনের বিধান করা হয়েছে। সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভার হতে আয় আছে এরূপ physical infrastructure undertaking এর ব্যবসায়ের আয় নিরূপণের ক্ষেত্রে নতুন বিধান অনুযায়ী অবচয় অনুমোদনযোগ্য হবে। physical infrastructure undertaking ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি (person) যার সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভার হতে প্রত্যক্ষভাবে অর্জিত আয় নেই অথচ স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে এরূপ সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভার রয়েছে, সেসকল করদাতার সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভারের জন্য কোন অবচয় ভাতা অনুমোদন যোগ্য হবে না। যেমন- এক্স টি এস্টেট লিঃ চা উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যবসায় নিযোজিত। এ কোম্পানীর চা বাগানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি সড়ক রয়েছে। এ সড়ক চা বাগানের অংশ হলেও চা বাগানের আয় হতে এরূপ সড়কের জন্য অবচয় ভাতা অনুমোদনযোগ্য হবে না।
১১। ব্যবসা বা পেশার আয়ের ক্ষেত্রে পারকুইজিট বাবদ অনুমোদনযোগ্য খরচের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি [section 30(e) সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 30(e) সংশোধনের মাধ্যমে প্রতি কর্মকর্তা/ কর্মচারীর জন্য পারকুইজিট বাবদ নিয়োগকারীর হাতে অনুমোদনযোগ্য ব্যয় সীমা ২,০০,০০০/- টাকা হতে বৃদ্ধি করে ২,৫০,০০০/- টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে নিয়োগকারী তার নির্দিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী প্রতি সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত পারকুইজিট প্রদান করলে তা অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে। ২,৫০,০০০/- টাকার অতিরিক্ত দাবীকৃত অংক নিয়োগকারীর হাতে করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে। ২০১০-২০১১ কর বছর থেকে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।
১২। পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিধানঃ
স্টকস এবং শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয়ের উপর করারোপনের লক্ষ্যে আয়কর আধ্যাদেশে আনীত সংশোধনী ও জারিকৃত এসআরও এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপঃ
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের section 32(7) সংশোধনের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর সিকিউরিটিজ,স্টকস বা শেয়ার লেনদেন হতে মূলধনী আয় সাধারণভাবে কর আরোপযোগ্য করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বিধান অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর স্টকস ও শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয় করমুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট ধারার এ সম্পর্কিত অংশ বিলোপ করায় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর শেয়ার লেনদেন হতে উদ্ভূত আয় করযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সরকারী সিকিউরিটিজ হতে অর্জিত মূলধনী আয় পূর্বের ন্যায় করমুক্ত থাকবে। এ বিধান ১ জুলাই, ২০১০ হতে লেনদেনকৃত সিকিউরিটিজ স্টকস বা শেয়ারের বেলায় প্রযোজ্য হবে।
(খ) আয়কর অধ্যাদেশে নতুন section 53L সংযোজনের মাধ্যমে অভিহিত মূল্যের (face value) চেয়ে বেশী মূল্যে কোন কোম্পানীর শেয়ার বিক্রয় করা হলে উক্ত অতিরিক্ত মূল্যের (প্রিমিয়াম) উপর ৩% হারে উৎসে আয়কর সংগ্রহের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। কোন কোম্পানী book building বা public offering বা rights offering বা placement বা preference share বা অন্য যে কোন পদ্ধতিতে শেয়ার বিক্রয়কালে অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্য (প্রিমিয়াম) গ্রহণ করলে, সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্যের উপর ৩% হারে উৎসে আয়কর সংগ্রহ করা হবে। সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রিমিয়ামের উপর এ উৎসে আয়কর সংগ্রহ করবে এবং এরূপ সংগৃহীত উৎসে আয়কর সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর জন্য বর্ণিত খাতের আয়ের উপর চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে। ১ জুলাই, ২০১০ হতে এ বিধান কার্যকর হবে।
(গ) আয়কর অধ্যাদেশে নতুন section 53M সংযোজনের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক বা প্লেসমেন্ট হোল্ডার অথবা মিউচুয়াল ফান্ডের স্পন্সর বা প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হস্তান্তর কালে অর্জিত আয়ের উপর ৫% হারে উৎসে আয়কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে করদাতা যে কোম্পানীর স্পন্সর শেয়ার হোল্ডার বা ডিরেক্টর বা প্লেসমেন্ট হোল্ডার কেবলমাত্র সেই কোম্পানীর শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হস্তান্তররের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে বর্ণিত করদাতাগণ যে কোম্পানীর স্পন্সর শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হোল্ডার বা ডিরেক্টর, সেই কোম্পানী ব্যতীত স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অন্য কোন কোম্পানীর শেয়ার বা সিকিউরিটিজ লেনদেন করলে সেক্ষেত্রে এরূপ অর্জিত আয়ের উপর উপ-অনুচ্ছেদ (ঙ) তে বর্ণিত এস আর ও অনুযায়ী কর আরোপিত হবে।
সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা ষ্টক এক্সচেঞ্জ সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হস্তান্তরকালে বা হস্তান্তরর অনুমোদনকালে এরূপ উৎসে আয়কর সংগ্রহ করবে যা সংশ্লিষ্ট করদাতার চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য যে, section 53M এ সংযোজিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হস্তান্তরর বলতে এটির বিক্রয়সহ দান বা অন্য যে কোনভাবে হস্তান্তরকে বুঝাবে। সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট এর হস্তান্তর মূল্য’ বলতে নিম্নোক্ত তিনটির মধ্যে যেটি প্রযোজ্য সেটি বুঝাবে-
(১) সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হস্তান্তরের দিনে সমাপনী মূল্য; বা
(২) সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক হস্তান্তরের অনুমোদনের দিনে অথবা হস্তান্তরকালে সমাপনী মূল্য; বা
(৩) সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হস্তান্তর অনুমোদনের দিনে উক্ত সিকিউরিটজ লেনদেন না হয়ে থাকলে সর্বশেষ যেদিন উক্ত সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে সেদিনের সমাপনী মূল্য।
এ বিধান ১ জুলাই, ২০১০ হতে হস্তান্তরকৃত সিকিউরিটিজ বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট এর বেলায় প্রযোজ্য হবে।
(ঘ) আয়কর অধ্যাদেশের section 64(2) সংশোধনের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানীর শেয়ার লেনদেন হতে উদ্ভূত আয়ের উপর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর প্রদানের বিধান করা হয়েছে।
(ঙ) এসআরও নং-২৬৯-আইন/আয়কর/২০১০, তারিখ ০১/০৭/২০১০ এর মাধ্যমে (পরিশিষ্ট-২) কতিপয় শ্রেণীর করদাতার শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয়ের উপর করারোপনের বিধান করা হয়েছে যা নিম্নরূপঃ
(১) কোম্পানী ও ফার্ম শ্রেণীর করদাতাদের ক্ষেত্রেঃ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর section 2 এর clause (20) অনুযায়ী কোম্পানী বা clause (32) অনুযায়ী ফার্ম পর্যায়ভুক্ত করদাতাদের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর সিকিউরিটজ লেনদেন হতে উদ্ভূত আয়ের উপর ১০% হারে আয়কর আরোপিত হবে। ব্যাংক, বীমাসহ সকল কোম্পানী বা ফার্ম শ্রেণীর করদাতার সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে অর্জিত মুনাফার উপর করারোপনের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র এ বিধান প্রযোজ্য হবে। আয়কর নির্ধারণী পর্যায়ে বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর হিসেবে এরূপ কর পরিশোধ করতে হবে। তবে শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয় ব্যতীত অন্য উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য হারে আয়কর আরোপিত হবে। এক্ষেত্রে যৌথনামে বিও (beneficiary owner's) এ্যাকাউন্ট ধারীগণ ফার্ম হিসেবে বিবেচিত হবে না।
করদাতা কোম্পানী যদি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অন্য কোন কোম্পানীর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হয় এবং যে কোম্পানীর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার সে কোম্পানীর শেয়ার হস্তান্তর করে, সেক্ষেত্রে এরূপ হস্তান্তর হতে অর্জিত আয়ের উপর সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জ আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৫৩গ অনুযায়ী ৫% হারে উৎসে আয়কর সংগ্রহ করবে এবং উক্ত সংগৃহীত আয়কর উক্ত কোম্পানীর এ খাতের জন্য চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে।
(২) কতিপয় কোম্পানীর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রেঃ যে সকল ব্যক্তি কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানী, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী, স্টক ডিলার বা স্টক ব্রোকার কোম্পানী এর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক, সে সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয়ের উপর ৫% হারে আয়কর আরোপিত হবে। তবে এক্ষেত্রে উক্ত স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার যদি কোম্পানী বা ফার্ম শ্রেণীর করদাতা হয়, সেক্ষেত্রে তার এ খাতের অর্জিত আয়ের উপর ১০% হারে আয়কর আরোপিত হবে। আয়কর নির্ধারণী পর্যায়ে বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর হিসেবে এরূপ কর প্রদান করতে হবে। সিকিউরিটজ লেনদেন হতে অর্জিত আয় ব্যতীত অন্যান্য উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য/সাধারণ আয়কর হার আরোপিত হবে।
উপরে বর্ণিত শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালকগণ যে কোম্পানীর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক সেই কোম্পানীর শেয়ার হস্তান্তর করলে সেক্ষেত্রে উক্ত হস্তান্তরিত শেয়ার হতে অর্জিত আয়ের উপর আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩গ অনুযায়ী কর আরোপিত হবে (উপ-অনুচ্ছেদ-গ দ্রষ্টব্য) ।
(৩) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানীর ১০% এর অধিক সিকিউরিটেজের অধিকারী করদাতার ক্ষেত্রেঃ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানী, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী, স্টক ডিলার বা স্টক ব্রোকার কোম্পানী এর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক নন এরূপ করদাতা যদি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন একটি কোম্পানীর ১০% এর অধিক পরিমাণ সিকিউরিটেজের অধিকারী হন, সেক্ষেত্রে বর্ণিত করদাতার উক্ত কোম্পানীর শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয়ের উপর ৫% হারে আয়কর আরোপিত হবে। আয় বছরের যে কোন সময়ে যে কোন একটি কোম্পানীর ১০% এর অধিক শেয়ারের অধিকারী হলেই বর্ণিত করদাতার উক্ত সিকিউরিটজ লেনদেন (যে কোম্পানীর ১০% অধিক শেয়ারের অধিকারী) হতে অর্জিত আয়ের উপর কর আরোপিত হবে। আয়কর নির্ধারণী পর্যায়ে বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর হিসেবে এরূপ কর প্রদান করতে হবে। সিকিউরিটজ লেনদেন হতে অর্জিত আয় ব্যতীত অন্যান্য উৎসের আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য/সাধারণ আয়কর হার আরোপিত হবে।
(৪) বর্ণিত এসআরও এর আওতায় আয়কর আরোপনের ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ বলতে সরকারী সিকিউরিটিজ ব্যতীত বাংলাদেশের যে কোন স্টক এক্সেচেঞ্জে লেনদেনযোগ্য এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের স্টকস, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট, বন্ড, ডিবেঞ্চার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ বুঝাবে।
(৫) উপরোক্ত উপ-অনুচ্ছেদ-(১), (২), (৩) ও (৪) ক্রমিকে বর্ণিত করদাতা ব্যতীত অন্যান্য সকল শ্রেণীর করদাতার শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয় পূর্বের মত আয়কর মুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।
(৬) এ এসআরও টি ১ জুলাই, ২০১০ হতে কার্যকর হবে। অর্থাৎ এ বিধান ১ জুলাই, ২০১০ হতে লেনদেনকৃত সিকিউরিটিজের বেলায় প্রযোজ্য হবে।
১৩। এনার্জি সেভিং বাল্ব, সোলার এনার্জি প্যানেল ও জন্ম নিরোধে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানকে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান [section 46B]:
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের section 46B এর sub-section (2) এর clause (a)(i) সংশোধনের মাধ্যমে কর অবকাশ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শিল্পের পাশাপাশি নতুন তিনটি খাত- এনার্জী সেভিং বাল্ব, সোলার এনার্জী প্যানেল ও জন্ম নিরোধে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি (barrier contraceptive or rubber latex) উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসম-হকে অনত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(খ) আয়কর অধ্যাদেশের section 46B এর sub-section (4) এ নতুন clause (f) সংযোজনের মাধ্যমে কর অবকাশ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে করদাতা কোম্পানীকে প্রত্যেক বছরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সংগ্রহের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
উপরোক্ত বিধানটি ১/৭/২০১০ বা তৎপরবর্তিতে দাখিলকৃত কর অবকাশের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
১৪। কতিপয় ক্ষেত্রে উৎসে কর আহরণের হার বৃদ্ধি বা আওতা সম্প্রসারণ বা বিলোপঃ
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের Chapter VII এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর সংশ্লিষ্ট বিধিতে বর্ণিত কতিপয় উৎসে আয়কর কর্তনের/সংগ্রহের বিধানসমূহ সংশোধন করে হার বৃদ্ধি বা আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া দু’টি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এ বিধানসমূহ ১ জুলাই, ২০১০ থেকে কার্যকর। নিম্নে অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা, খাতসমূহের নাম ও উৎসে আয়কর কর্তনের/সংগ্রহের সংশোধিত হার সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলোঃ

ক্র:নং: সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধি খাত সংশোধিত হার
১। section 52/
rule 16
ঠিকাদার ও সরবরাহকারী ৫ লক্ষ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শূন্য। ২ লক্ষ টাকার বেশী থেকে ৫ লক্ষ পর্যন্ত ১%। টাকার বেশী থেকে ১৫ লক্ষ পর্যন্ত ২.৫% ১৫ লক্ষ টাকার বেশী থেকে ২৫ লক্ষ পর্যন্ত ৩.৫% ২৫লক্ষ টাকার বেশী থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত ৪% ৩ কোটি টাকার উপরে ৫%
২। section 52(1) ইন্ডেন্টিং কমিশন ৭.৫%
৩। section 52AA স্টিভেডরিং এজেন্সি কমিশন ও প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস ফিস ১০%
৪। section 52AAA সিএন্ডএফ এজেন্সি কমিশন ১০%
৫। section 52C সরকার কর্তৃক সম্পত্তি অধিগ্রহণ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার বাইরে ক্ষতিপুরণ মূল্যের উপর ১%। উলেস্নখ্য সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ক্ষতিপূরণ মূল্যের উপর ২% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান অপরিবর্তিত আছে।
৬। section 52D সঞ্চয়পত্র সুদ/মুনাফা যে কোন পরিমাণ সুদ প্রাপ্তির উপর ১০% হারে। পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য নয়। এছাড়া, অনুমোদিত সুপারএ্যানুয়েশন ফান্ড,পেনশন ফান্ড, গ্রাচুইটি ফান্ড, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।
৭। section 52F ইট ভাটা এক সেকশন-৩০,০০০/- টাকা, দুই সেকশন-৪৫,০০০/- টাকা এবং তিন সেকশন-৬০,০০০/-
৮। section 52M ফ্রেইট ফরোয়ার্ড এজেন্সি কমিশন ১৫%
৯। section 53/rule 17A আমদানী ৫% উৎসে আয়কর কর্তন মুক্ত পণ্যের তালিকা ও এ সংক্রান্ত বিধি সংশোধন করা হয়েছে।
১০। section 53BB গার্মেন্টস রপ্তানীকারকের রপ্তানী মূল্য ০.৫০%
১২। section 53BBBB গার্মেন্টস ব্যতীত অন্যান্য রপ্তানীকারকের রপ্তানী মূল্য ০.৫০%
১৩। section 53CC নন-রেসিডেন্টের কুরিয়ার ব্যবসা ১৫%
১৪। section 53EE ফরেন বায়ার্স এজেন্ট কমিশন ৭.৫%
১৫। section 53FF রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের বিল্ডিং/ এ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তর (ক) ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএস,ধানমন্ডি, লালমাটিয়া,উত্তরা, বসুন্ধরা, মতিঝিল,দিলকুশা,ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও কারওয়ান বাজার এবং চট্টগ্রামের খুলশী,আগ্রাবাদ ও পাঁচলাইশ এলাকার জন্য প্রতি বর্গমিটার ২,০০০/- টাকা। (খ) অন্যান্য সকল এলাকার জন্য প্রতি বর্গমিটার ৮০০/- টাকা।
১৬। section 53G ইন্স্যুরেন্স কমিশন ৫%
১৭। section 53GG জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সার্ভেয়ারের কমিশন ১৫%
১৮। section 53I পোষ্ট অফিস সেভিংস হিসাবের সুদ সুদের পরিমাণ নির্বিশেষে প্রাপ্তির উপর ১০% হারে।
১৯। section 53L (নতুন সংযোজিত) প্রিমিয়ামসহ শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানীর নিকট থেকে প্রিমিয়ামের উপর ৩%
২০। section 53M (নতুন সংযোজিত) স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার বা ডিরেক্টরদের শেয়ার হস্তান্তর ৫%


(খ) section 49 Gi sub-section (1) এর clause (zn) Ges section 52L বিলোপের মাধ্যমে ট্রাস্টি ফিস হতে উৎসে আয়কর কর্তনের বিধান বাতিল করা হয়েছে। এ বিধান ১ জুলাই, ২০১০ থেকে কার্যকর হবে।

(গ) Income-tax (Amendment) Act, 2010:
অর্থ বছর ২০১০-২০১১ এর বাজেট কার্যক্রমের বাইরে বিগত ০২ জুন, ২০১০ তারিখে আয়কর অধ্যাদেশের section 53FF এবং section 53H সংশোধনের লক্ষ্যে উত্থাপিত বিল পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং ১৬ জুন, ২০১০ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এ আইন Income-tax (Amendment) Act, 2010 (২০১০ সনের ২৭ নং আইন) নামে অভিহিত (পরিশিষ্ট-৩)। এ আইনের মাধ্যমে নিম্নরূপ বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে, যথা:-
(১) আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর Income-tax (Amendment) Act, 2010 সংশোধনের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাইরে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ে নিয়োজিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যে কোন মূল্যের অকৃষি জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জমির দলিল মূল্যের উপর ১% হারে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে।

(২) আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর section 53H এর-

  • sub-section (2) এর clause (e) বিলোপ করার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের আওতা বহির্ভুত এলাকায় অবস্থিত যে কোন মূল্যের অকৃষি সম্পত্তি হস্তান্তর ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর বিধি ১৭ও সংশোধন করা হয়েছে। ফলে যে কোন মূল্যের অকৃষি সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ১% হারে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে।
  • ব্যাংক সহ যেকোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট সম্পত্তি বন্ধকের ক্ষেত্রে উৎসে কর সংগ্রহ প্রযোজ্য হবে না।
  • এ ধারার ব্যাখ্যায় “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা এর পরিবর্তে বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, section 53FF বা section 53H ধারার সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ২% হারে উৎসে আয়কর সংগ্রহের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত আছে।

১৫। অগ্রিম আয়কর প্রদানের জন্য সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের সীমা বৃদ্ধি [section 64]:

আয়কর অধ্যাদেশ এর section 64-

(ক) এর sub- section (1) সংশোধনের মাধ্যমে অগ্রিম কর প্রদানের জন্য ন্যুনতম আয়সীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৪ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে;

(খ) এর sub- section (2) সংশোধনের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর শেয়ার লেনদেন জনিত আয়কে অগ্রিম করের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী বিধান অনুযায়ী কৃষি আয় বা মূলধনী মূনাফা হতে অর্জিত আয়ের জন্য অগ্রিম আয়কর প্রদেয় ছিল না। সংশোধিত আইন অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানীর শেয়ার লেনদেন হতে করযোগ্য আয়সহ যে কোন করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয় ৪ লক্ষ টাকার বেশী হলে সেক্ষেত্রে উক্ত করদাতাকে শেয়ার লেনদেনের অর্জিত আয়ের ভিত্তিতে চার কিস্তিতে অগ্রিম আয়কর প্রদান করতে হবে। উল্লেখ্য,যে সকল করদাতার স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানীর শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত আয় কর অব্যাহতি প্রাপ্ত তাদের ক্ষেত্রে এ খাতের আয়ের উপর অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য হবে না।

১ জুলাই, ২০১০ বা তৎপরবর্তীতে প্রদেয় অগ্রিম আয়করের বেলায় এ বিধান প্রযোজ্য হবে।

১৬। নতুন করদাতার ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যুনতম আয়সীমা বৃদ্ধি [section 68 সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 68 সংশোধনের মাধ্যমে নতুন করদাতাদের ক্ষেত্রেও অগ্রিম আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয়সীমা ৩ লক্ষ টাকা হতে ৪ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

১৭। প্রদেয় অগ্রিম আয়কর পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সরল সুদ গণনার নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন [section 73 সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 73(2) সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রদেয় অগ্রিম আয়কর পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সরল সুদ গণনা শুরুর নির্ধারিত তারিখ আয় বছরের ‘১লা জুলাই’ এর পরিবর্তে ‘১লা এপ্রিল’ করা হয়েছে। ২০১০-২০১১ কর বছর থেকে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।

১৮। সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ণ দাখিল সংক্রান্ত বিধান সংশোধন [section 75(3) এর দ্বিতীয় proviso বিলোপ এবং [section 82BB সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 75(3) এর দ্বিতীয় proviso বিলোপ এবং section 82BB এর sub-section (2) সংশোধনের মাধ্যমে নিম্নোক্ত বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে-
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের section 75(3) এর দ্বিতীয় proviso বিলোপের মাধ্যমে সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ণ দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য উপ কর কমিশনারকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে উপ কর কমিশনার নিজ ক্ষমতাবলে সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ণ দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩ মাস পর্যন্ত এবং পরিদর্শী যুগ্ম/অতিরিক্ত কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে আরও ৩ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবেন।

(খ) আয়কর অধ্যাদেশের section 82BB(2) সংশোধনপূর্বক section 75এর sub-section (3) অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে উপ কর কমিশনার কর্তৃক বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে দাখিলকৃত রিটার্ণ আয়কর অধ্যাদেশের section 74 এর শর্ত অনুযায়ী কর পরিশোধ সাপেক্ষে সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতির আওতায় রিটার্ণ হিসেবে গণ্য করার বিধান করা হয়েছে।

তবে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখ বা সরকার কর্তৃক বর্ধিত সময়ের মধ্যে করদাতা কর্তৃক সময় বৃদ্ধির আবেদন না করা হলে বা উপ কর কমিশনার কর্তৃক বর্ধিত সময়ের পর দাখিলকৃত রিটার্ণ সর্বজনীন স্বনির্ধারণী রিটার্ন বলে গণ্য হবে না।

উপরের বিধানাবলী ২০১০-২০১১ কর বছর থেকে প্রযোজ্য হবে।

১৯। তিনটি নতুন খাতে উৎসে কর্তিত বা সংগৃহীত আয়কর চুড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার বিধান প্রবর্তন ও একটি খাত বিলোপ [section 82C সংশোধন]:
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের section 82C এর sub-section (2) এ নতুন ৩টি clause সংযোজন এবং sub-section (4) সংশোধনের মাধ্যমে চুড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার জন্য নিম্নোক্ত তিনটি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যথা:-
(১) সরকার কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের প্রেক্ষিতে প্রদত্ত ক্ষতিপুরণের উপর উৎসে কর্তিত কর [section 52C];

(২) প্রিমিয়ামসহ শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম মূল্যের উপর উৎসে সংগৃহীত কর [section 53L]; এবং

(৩) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত কোন কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডারের/ মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হোল্ডার/প্লেসমেন্ট হোল্ডার কর্তৃক শেয়ার/ মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট/প্লেসমেন্ট শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তরজনিত আয়ের উপর উৎসে সংগৃহীত আয়কর [section 53M];

(খ) আয়কর অধ্যাদেশের section 82C এর sub-section (2) এর clause (e) বিলোপ এবং sub-section (4) সংশোধনের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র হতে প্রাপ্ত সুদ/মুনাফার বিপরীতে কর্তিত কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান আইন অনুযায়ী যে কোন সময়ে ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত সুদ/মুনাফার উপর সাধারণ হারে কর আরোপন হবে। আয়কর অধ্যাদেশের Sixth Schedule এর paragraph 31B অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ প্রাপ্ত ২৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। তবে ২৫,০০০/- টাকার বেশী সুদ প্রাপ্ত হলে সম্পূর্ণ সুদ মোট আয়ের সাথে যুক্ত হবে এবং প্রযোজ্য হারে কর আরোপিত হবে।

২০১০-২০১১ কর বছর থেকে এ বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

২০। সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্ণ নিরীক্ষাপূর্বক এ্যাসেসমেন্ট সম্পন্নের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধান [section 94 সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 94 এর sub-section (1A) এর clause (b) বিলোপের মাধ্যমে সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্ণ কর বছর সমাপ্তির পরবর্তী সর্বোচ্চ ২ বছরের মধ্যে নিরীক্ষাপূর্বক এ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম সম্পন্নের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। পূর্বের আইন অনুযায়ী রিটার্ণ দাখিলের তারিখ হতে ১৫ মাসের মধ্যে নিরীক্ষাপূর্বক এ্যাসেসমেন্ট সম্পন্নের বিধানটি বিলোপ করা হয়েছে। ২০১০-২০১১ কর বছর থেকে এ বিধানটি প্রযোজ্য হবে।

২১। হিসাবের খাতাপত্রের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা সিস্টেম তল্লাশী অথবা জব্দ করার ক্ষমতা সংক্রান্ত বিধান [section 117 সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 117 এর sub-section (1), (2), (4), (5), (6), (7), (8) ও (9) সংশোধনের মাধ্যমে করদাতাদের হিসাবের খাতাপত্রের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক রেকর্ডস বা সিস্টেম তল্লাশী অথবা জব্দ করার ক্ষমতা আয়কর কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। ০১/০৭/২০১০ থেকে এ বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

২২। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর সাক্ষ্য প্রমান গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান সংক্রান্ত বিধান [section 122 সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 122 সংশোধনের মাধ্যমে তথ্য উদ্‌ঘাটন ও পরিদর্শন, বক্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য যে কোন ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, হিসাব ও প্রমানাদি উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট করদাতা বা তার প্রতিনিধির শপথ গ্রহণপূর্বক বক্তব্য নেয়ার ক্ষমতা অন্যান্য আয়কর কর্তৃপক্ষের ন্যায় সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলকেও দেয়া হয়েছে। ০১/০৭/২০১০ থেকে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।

২৩। জাল করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ব্যবহারের জন্য জরিমানা/ শাস্তির বিধান [section 124A এবং section 165A]:
জাল করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীর উপর আর্থিক জরিমানা আরোপ সহ কারাদশের বিধান করা হয়েছে। এলক্ষ্যে অধ্যাদেশে নতুন দুটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে,যা নিম্নরূপঃ
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের section 124A সংযোজনের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া যদি কোন ব্যক্তি অন্যের টিআইএন ব্যবহার করেন অথবা জাল টিআইএন ব্যবহার করেন বা আয়কর আইন অনুযায়ী যে সব ক্ষেত্রে টিআইএন ব্যবহার বাধ্যতামূলক, সেসব ক্ষেত্রে জাল প্রমাণপত্র ব্যবহার করলে, জাল টিআইএন ব্যবহারকারীর উপর সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার কর্তৃক সর্বোচ্চ ২০,০০০/- টাকা জরিমানা আরোপের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। তবে জরিমানা আরোপের পূর্বে section 130 এর বিধান পরিপালন করতে হবে।

(খ) আয়কর অধ্যাদেশের section 165A সংযোজনের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে (deliberately) যদি কোন ব্যক্তি জাল টিআইএন ব্যবহার করেন বা অন্যের টিআইএন ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদন্ড বা ৫০,০০০/- টাকা অর্থন্দ বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।

০১/০৭/২০১০ থেকে এ বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

২৪। টিআইএন সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত তিনটি নতুন বিধান [section 184A]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 184A তে ৩টি নতুন clause সংযোজনের মাধ্যমে তিনটি ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা নিম্নরূপঃ
(ক) সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এর আওতাধীন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে [clause (q)];

(খ) সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এর আওতাধীন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে [clause (r)]; এবং

(গ) ভাড়ায় চালিত বাস, ট্রাক, প্রাইম মুভার, লরী বা এরূপ পরিবহনের রেজিষ্ট্রেশন বা ফিটনেস নবায়নের সময় বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে [clause (s)]|
০১/০৭/২০১০ থেকে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।

২৫। Spot assessment সংক্রান্ত বিধান [section 184B এবং rule 24, rule 38B সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 82D অনুযায়ী spot assessment এর আওতাভুক্ত করদাতাদের জন্য বিদ্যমান বিধান সংশোধন করা হয়েছে, যা নিম্নরূপঃ
(ক) আয়কর অধ্যাদেশের section 184B তে নতুন proviso সংযোজনের মাধ্যমে section 82D অনুযায়ী spot assessment এর আওতাভূক্ত নতুন করদাতাদেরকে টিআইএন এর জন্য আলাদাভাবে আবেদন দাখিল বা ১,০০০/- টাকা আয়কর পরিশোধ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে;

(খ) আয়কর বিধিমালার rule 24 G sub-rule (1aaa) সংযোজনের মাধ্যমে Spot assessment এর আওতাভুক্ত করদাতাদের জন্য দুই পৃষ্ঠার রিটার্ণ ফরম (IT-11GAGA) চালু করা হয়েছে।

(গ) আয়কর বিধিমালার rule 38B সংশোধন করে spot assessment এর আওতাভুক্ত করদাতাদের জন্য করহার ও ভিত্তি নিম্নরূপভাবে সংশোধন করা হয়েছেঃ
(১) ব্যবসায় নিয়োজিত করদাতাদের ক্ষেত্রেঃ
এলাকা নির্বিশেষে যাদের প্রারম্ভিক পুঁজি অনুর্দ্ধ ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তাদের জন্য প্রদেয় আয়কর ২,০০০/- টাকা এবং এলাকা নির্বিশেষে যাদের প্রারম্ভিক পুঁজি ৮ লক্ষ টাকার বেশী কিন্তু ১০ লক্ষ টাকার উর্দ্ধে নয় তাদের জন্য প্রদেয় আয়কর ৪,০০০/- টাকা।

(২) পেশার (ডাক্তার ও আইনজীবীদের জন্য প্রযোজ্য) ক্ষেত্রেঃ
এলাকা নির্বিশেষে যে সকল পেশাজীবী অনুর্ধ ৫ বছর পর্যন্ত পেশায় নিয়োজিত আছেন তাদের জন্য প্রদেয় আয়কর ২,০০০/- টাকা এবং এলাকা নির্বিশেষে যে সকল পেশাজীবী ৫ বছরের বেশী কিন্তু ১০ বছরের কম সময়কাল পেশায় নিয়োজিত আছেন তাদের জন্য প্রদেয় আয়কর ৪,০০০/- টাকা;

উভয় ক্ষেত্রে প্রদত্ত করের বিপরীতে সাধারণ পদ্ধতিতে আয় পরিগণনা করতে হবে। অর্থাৎ ৬৫ বছর বয়সের নীচের একজন পুরুষ করদাতা যদি ২,০০০/- টাকা আয়কর পরিশোধ করেন, তাহলে তার আয় প্রদর্শিত/নিরূপিত হবে (১,৬৫,০০০/- + ২০,০০০) ১,৮৫,০০০/- টাকা। কেননা ১,৬৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত পরবর্তী ধাপে ১০% হারে প্রদত্ত ২,০০০/- টাকা করের বিপরীতে আয় দাঁড়ায় ২০,০০০/- টাকা। তেমনিভাবে, একজন মহিলা করদাতা ২,০০০/- টাকা আয়কর পরিশোধ করলে তাঁর ক্ষেত্রে আয় প্রদর্শিত/নিরূপিত হবে (১,৮০,০০০/- + ২০,০০০) ২,০০,০০০/- টাকা। তেমনিভাবে ৬৫ বছরের নিচের একজন পুরুষ করদাতা বা ৬৫ বছরের উপরের পুরুষ করদাতা এবং মহিলা করদাতা ৪,০০০/- টাকা আয়কর প্রদান করলে তাদের ক্ষেত্রে মোট আয় প্রদর্শিত/নিরূপিত হবে যথাক্রমে ২,০৫,০০০/- এবং ২,২০,০০০/- টাকা।

(৩) এ পদ্ধতির আওতায় নির্ধারিত আয়করের পরিমাণ পরবর্তী ২টি কর বছরের জন্য একই থাকবে।

২০১০-২০১১ কর বছর থেকে এ বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

২৬। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কার সংক্রান্ত [section 184D সংশোধন]:
আয়কর অধ্যাদেশের section 184D সংশোধনের মাধ্যমে নিম্নরূপভাবে আর্থিক পুরস্কার দেয়ার বিধান করা হয়েছে-
(ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং এর অধীন আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কর ফাঁকি উদঘাটন ও আদায়ের জন্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিদেরকে আয়কর ফাঁকি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য;

(খ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং এর অধীন আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সংশ্লিষ্ট অর্থ বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের জন্য।

(গ) এ বিষয়ে প্রণীত বিধি দ্বারা উপরোক্ত পুরস্কার নির্ধারিত হবে।

২৭। আয়কর কর্তৃপক্ষকে আইন শৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রদানের নতুন বিধান [section 184E]:
আয়কর অধ্যাদেশে section 184E সংযোজনের মাধ্যমে আয়কর আইন অনুযায়ী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য আয়কর কর্তৃপক্ষকে শুল্ক ও মূসক কর্তৃপক্ষ, দুর্ণীতি দমন কমিশন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, অন্যান্য সরকারী দপ্তর, পরিদপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার সিকিউরিটি গার্ড, র‌্যাপিড একশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সহ অন্যান্য বেসরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান নিশ্চিতকল্পে বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।

২৮। আয়কর অধ্যাদেশের Third Schedule এর সংশোধন:
আয়কর অধ্যাদেশের Third Schedule এর ক্ষেত্রে নিম্নরূপ সংশোধনী আনা হয়েছে-
(ক) paragraph (2) এর sub-paragraph (1), (2) ও (3) সংশোধনের মাধ্যমে ব্যবসায়/পেশার আয় নিরূপনের ক্ষেত্রে "physical infrastructure undertaking" এর সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভারের উপর অবচয় ভাতা প্রদানের বিধান করা হয়েছে;
(খ) paragraph (3) সংশোধনের মাধ্যমে physical infrastructure undertaking এর সেতু বা সড়ক বা ফ্লাইওভারের উপর প্রতিটির জন্য ১% হারে অবচয় ভাতা প্রদানের বিধান করা হয়েছে; এবং

(গ) paragraph (7) সংশোধনের মাধ্যমে মেশিনারী ও প্লান্টের উপর ত্বরায়িত অবচয় অনুমোদনের বিধান জুন, ২০১০ হতে বৃদ্ধি করে জুন, ২০১২ পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০১০-২০১১ কর বছর থেকে এ বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

২৯। আয়কর অধ্যাদেশের Sixth Schedule এর Part-A সংশোধন:
আয়কর অধ্যাদেশের Sixth Schedule এর Part-A এর-
(ক) Paragraph (34) সংশোধনের মাধ্যমে নিম্নোক্ত বিধান করা হয়েছে-
(১) Pelleted poultry feed উৎপাদন থেকে উদ্ভূত আয় করমুক্ত রাখার বিধান বিলোপ করা হয়েছে। তবে ৩০ জুন, ২০১০ পর্যন্ত এ খাতের উদ্ভূত আয় করমুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

(২) কোম্পানীশ্রেণীর করদাতাদের মৎস্য খামার হতে উদ্ভূত আয় করমুক্ত রাখার বিধান বিলোপ করা হয়েছে। তবে ৩০ জুন, ২০১০ পর্যন্ত এ খাতের উদ্ভূত আয় করমুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের এ খাতের আয় পূর্বের ন্যায় করমুক্ত থাকবে।

(খ) Paragraph (41) বিলোপের মাধ্যমে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ করমুক্তের বিধান বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ ১ জুলাই, ২০১০ বা তৎপরবর্তীতে প্রাপ্ত সুদ গ্রহীতার হাতে করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে।

৩০। আয়কর অধ্যাদেশের Eighth Schedule G এ সংশোধন:
আয়কর অধ্যাদেশের Chapter VII এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিধিমালায় উৎসে আয়কর কর্তন সম্পর্কিত বিধি বিধানের পরিবর্তন অনুযায়ী আয়কর অধ্যাদেশের Eighth Schedule সংশোধন করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য,Eighth Schedule এর বিষয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হলে Chapter VII এ বর্ণিত ধারা বা আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর সংশ্লিষ্ট বিধি প্রাধান্য পাবে।

(মোঃ রুহুল আমিন)
প্রথম সচিব (আয়কর নীতি)।

Paripatra-2 2014-2015

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।

নথি নং- ০৮.০১.০০০০.০৩০.০৩.০০৮.২০১৪ তারিখঃ ২২/০৭/২০১৪ খ্রিঃ।
পরিপত্র নং- ২ (আয়কর)/২০১৪

বিষয়ঃ ব্যাংক হিসাবে বাড়ী ভাড়া জমা সংক্রান্তঃ

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ৩৫ এবং বিধি ৮এ অনুসারে বাড়ী ভাড়া ব্যাংক হিসাবে জমা করার বিধান করা হয়েছে। এক বা একাধিক ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে বাড়ী ভাড়া বাবদ মাসিক সর্বমোট ২৫ হাজার টাকার বেশী প্রাপ্ত হলেই বাড়ীর মালিককে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে হবে এবং ঐ হিসাবে প্রাপ্ত ভাড়া জমা করতে হবে।

বাড়ীর মালিক (ব্যক্তি, ফার্ম, কোম্পানী বা অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠান) কর্তৃক এ বিধান পরিপালন করা না হলে গৃহ সম্পত্তি বাবদ অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের ৫০% অথবা ন্যূন্তম ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশী) হারে বাধ্যতামূলকভাবে জরিমানা আরোপিত হবে। এছাড়া, কোন করদাতার ব্যবসা বা পেশা আয় থাকলে তাঁকে ব্যবসা/পেশা সংশ্লিষ্ট বাড়ী, অফিস বা দোকান ভাড়া বাবদ প্রদেয় অর্থ অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায়, প্রদত্ত ভাড়া তার ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে না বরং পরিশোধিত ভাড়া আয় হিসেবে বিবেচনাপূর্বক তার উপর আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

বাড়ী ভাড়া পরিশোধের পদ্ধতি (ধারা ৩৫ ও বিধি ৮এ)ঃ

আয়কর অধ্যাদেশে হিসাব রক্ষণের পদ্ধতি বিষয়ক ধারা ৩৫ সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী কোন ব্যবসা বা পেশার জন্য বা অন্য কোন উৎসের আয়ের জন্য বা যে কোন শ্রেণীর করদাতা বা আয়ের জন্য হিসাব রক্ষণের পদ্ধতি নির্ধারণ করা যাবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারী করবে। উক্ত আদেশের মাধ্যমে হিসাব বা দলিলাদি কিভাবে বা কোন্‌ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হবে বা বাণিজ্যিক লেনদেনের পদ্ধতি বা পরিশোধের পদ্ধতি কি হবে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্ধারণ করবে।

এ বিধানের সাথে সংগতি রেখে বাড়ী ভাড়া পরিশোধের পদ্ধতি নির্ধারণ করার জন্য আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এ বিধি ৮এ নামে নতুন একটি বিধি সংযোজন করা হয়েছে। উক্ত বিধি অনুযায়ী কিভাবে বাড়ী ভাড়া পরিশোধিত হবে বা ব্যাংক হিসাবে জমা করা হবে তা নির্ধারিত হয়েছে। উক্ত বিধানের আলোকে বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়াগণের করণীয়সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

ক) বাণিজ্যিক বা আবাসিক যে কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহ সম্পত্তির মালিক বা ভোগ দখলে থাকা করদাতা কর্তৃক এক বা একাধিক ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে বাড়ী ভাড়া বাবদ মাসিক ২৫ হাজার টাকার বেশী (ফার্নিচার, ফিক্সচার ও ফিটিং ভাড়াসহ) প্রাপ্ত হলে বাড়ী ভাড়া জমা দেয়ার জন্য যে কোন  তফসিলি ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করতে হবে;

খ) উক্ত ব্যাংক হিসাবে অন্যান্য অর্জিত আয়সহ বাড়ী ভাড়া বা অগ্রীম ভাড়া হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ জমা করা যাবে;

গ) এক বা একাধিক ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে মাসিক ২৫ হাজার টাকার বেশী বাড়ী ভাড়া প্রাপ্ত হলে হিসাবের সুবিধার জন্য করদাতা একটি পৃথক রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে পারেন;
ঘ) উক্ত রেজিষ্টারে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াদের তথ্যাদি তথা নাম, ঠিকানা, ভাড়া প্রদানের তারিখ, ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ করা এবং প্রয়োজনে ভাড়াটিয়াদের অন্যান্য তথ্যাদি সন্নিবেশ করতে হবে;

ঙ) করদাতা কর্তৃক বাড়ী ভাড়া জমা করা সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে অবহিত করতে হবে এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় রিটার্নের সাথে বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব বিবরণীর কপি অবশ্যই দাখিল করতে হবে।

চ) যৌথ মালিকানায় একাধিক ব্যক্তি বাড়ির মালিক হলে, যে সকল মালিকের ভাড়ার অংশ মাসিক ২৫ হাজার টাকা অতিক্রম করবে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব খুলে বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত লেনদেন করতে হবে;

ছ) ভাড়ার পরিমাণ নির্বিশেষে ভাড়াটিয়াগণ ক্রস চেকের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করবেন অথবা বাড়ির মালিকের ব্যাংক হিসাবে ভাড়ার টাকা নগদ জমা করতে পারবেন। কোন ভাড়াটিয়া বাড়ীর মালিককে নগদে ভাড়া পরিশোধ করলে, বাড়ির মালিক তাঁর ব্যাংক হিসাবে উক্ত ভাড়া জমা করবেন;

জ) কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে পৃথক ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভাড়ার লেনদেন করতে পারেন; এবং
ঝ) কোন বাড়ীর মালিক দেশে অবস্থান না করলে এবং তাঁর মালিকানাধীন বাড়ী রক্ষণাবেক্ষন ও ভাড়া আদায়ের জন্য তিনি যদি অন্য কাউকে Power of Attorney প্রদান করেন, তবে সেক্ষেত্রে Power of Attorney প্রাপ্ত ব্যক্তিকে উক্ত ভাড়া জমা করার জন্য ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে হবে।

গৃহ সম্পত্তির ভাড়া নির্ধারণঃ

গৃহ সম্পত্তি হতে ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণ সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ২(৩) এবং ২৪ ধারায় অর্থ আইন-২০১৪ এর মাধ্যমে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে কোন করদাতা প্রকৃত ভাড়ার তুলনায় কম আয় ব্যাংকে জমা করলে, অথবা প্রাপ্ত ভাড়া নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে মোটেই জমা না করলে প্রচলিত নিয়মে উপকর কমিশনার আয়কর অধ্যাদেশের ২(৩) এবং ২৪ ধারা প্রয়োগ করে গৃহ সম্পত্তি খাতে আয় নির্ধারণ করতে পারবেন। ব্যাংক হিসাবে ভাড়া জমা করা সংক্রান্ত বিধানটি নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ সহকারে স্পষ্ট করা হলোঃ

(১) জনাব অমিত হাসান ধানমন্ডিতে পৈত্রিক বাড়ীতে বসবাস করেন। ১০ টি ফ্ল্যাট বিশিষ্ট ৬-তলা বাড়ীর বর্তমান মালিক তাঁর মরহুম পিতার চারজন উত্তরাধিকার। আইন অনুযায়ী তিনি, তাঁর মা এবং দুই বোন এই বাড়ীর মালিক। জনাব অমিত ৪টি ফ্ল্যাটের মালিক হিসেবে নিজে একটিতে বসবাস করেন এবং অন্য ৩টি ফ্ল্যাট প্রতিটি ২৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আয় প্রাপ্ত হন। অন্যদিকে, তাঁর মা ২টি ফ্ল্যাটের মালিক কিন্তুছেলের সাথে বসবাস করেন এবং ফ্ল্যাট দুটিও মাসিক ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়ে তিনি আয় প্রাপ্ত হন। দুই বোনের রয়েছে ৪টি ফ্ল্যাটের মালিকানা। এছাড়া, জনাব অমিত গুলশানে ডেভেলপার কোম্পানী থেকে একটি ফ্ল্যাটের দখল বুঝে পেয়েছেন কিন্তু এখনো দলিল সম্পন্ন হয়নি। উক্ত ফ্ল্যাটটিও তিনি মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। বসুন্ধরা শপিং মলে জনাব অমিতের রয়েছে ২টি দোকান। একটিতে নিজে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং অন্যটি ভাড়া বাবদ মাসিক ১০ হাজার টাকা প্রাপ্ত হন।
এক্ষেত্রে, জনাব অমিত নিম্নরূপ ভাড়া প্রাপ্ত হচ্ছেনঃ

ক্রমিক ভাড়ার বিবরণ মাসিক ভাড়ার পরিমাণ ইউনিটের সংখ্যা সর্বমোট ভাড়া
১। ধানমন্ডিতে ৩টি ফ্ল্যাটের ভাড়া ২৫,০০০/- ৭৫,০০০/-
২। গুলশানে ১টি ফ্ল্যাটের ভাড়া ৪০,০০০/- ৪০,০০০/-
৩। বসুন্ধরায় দোকান ভাড়া ১০,০০০/- ১০,০০০/-
    সর্বমোট  ১২৫,০০০/-

এক্ষেত্রে, জনাব অমিত যেহেতু মাসিক ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা প্রাপ্ত হয়েছেন, সেহেতু তাঁর জন্য এ বিধান অবশ্যই পালনীয়। জনাব অমিতকে জুলাই, ২০১৪ থেকে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করতে হবে এবং বাড়ী ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত চেক/নগদ অর্থ জমা করতে হবে। এছাড়া, হিসাব রক্ষনের সুবিধার্থে তিনি ভাড়াটিয়াগণের তথ্যাদি যেমন নাম, ঠিকানা, ভাড়া গ্রহণের তারিখ, ভাড়ার পরিমাণ, অগ্রীম ভাড়া গ্রহণ করা হলে গৃহীত অগ্রীমের পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ করার জন্য একটি পৃথক রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে পারেন। জনাব অমিতের পরিচালিত ব্যাংক হিসাব সংগ্রহপূর্বক ভাড়াটিয়াগণ নিজেরাই ভাড়ার টাকা ক্রস চেকের মাধ্যমে বা নগদে জমা করতে পারবেন অথবা নগদ টাকা জনাব অমিতের নিকট জমা দিবেন এবং তিনি এ টাকা তাঁর ব্যাংক হিসাবে জমা করবেন।

(২) জনাব সাগর ঢাকার আরামবাগে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছেন। প্রতি কক্ষে ৪ জন করে ভাড়াটিয়া থাকেন। প্রতি ভাড়াটিয়া ২ হাজার ৫ শত টাকা ভাড়া পরিশোধ করেন। একই সাথে জনাব সাগর কমলাপুরের পাশে অবস্থিত এবং তাঁর দখলে থাকা ৪টি ছোট ছোট ঘর ভাড়া দিয়ে প্রতিটি ঘর থেকে মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাড়া প্রাপ্ত হন। এক্ষেত্রে জনাব সাগর নিম্নরূপ ভাড়া প্রাপ্ত হচ্ছেনঃ

ক্রমিক ভাড়ার বিবরণ প্রতি কক্ষের ভাড়া ইউনিটের সংখ্যা সর্বমোট টাকা
১।  আরামবাগে ৪টি রম্নমের ভাড়া ২,৫০০x৪=১০,০০০/- ৪০,০০০/-
২। কমলাপুরে অবস্থিত ঘর ভাড়া ৩,০০০/- ১২,০০০/-
    সর্বমোট ৫২,০০০/-

জনাব সাগর প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে ২৫ হাজার টাকার কম ভাড়া প্রাপ্ত হলেও যেহেতু তাঁর সর্বমোট মাসিক ভাড়া প্রাপ্তির পরিমাণ ৫২ হাজার টাকা অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকার বেশী, সেহেতু তাঁকেও ব্যাংক হিসাবে এ ভাড়া জমা দেয়া সংক্রান্ত বিধান পরিপালন করতে হবে।

(৩) অগ্রণী ব্যাংক লি: এর ঢাকাস’ মৌচাক শাখা একটি ভাড়া বাড়ীতে অবস্থিত। উক্ত ভাড়া বাড়ীর জন্য মাসিক ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এই বাড়ীর মালিক মরহুম জব্বারের উত্তরাধীকারী হিসেবে ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। মুসলিম শরিয়া আইনে যেহেতু ১ ছেলে ১০ হাজার টাকা এবং ১ মেয়ে ৫ হাজার টাকা ভাড়া প্রাপ্ত হন, সেহেতু মোট মাসিক ভাড়া ২৫ হাজার টাকার বেশী হলেও একজন ব্যক্তির প্রাপ্ত ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারিত সীমার নীচে। এ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বাড়ী ভাড়া ব্যাংক হিসাবে জমা করা বাধ্যতামূলক নয়।

তবে, যদি মরহুম জব্বারের একজন ছেলে উক্ত বাড়ী ব্যতীত অন্যান্য বাড়ী ভাড়া বাবদ আরো ১৬ হাজার টাকা প্রাপ্ত হয়, তাহলে যৌথ মালিকানাধীন বাড়ীর তাঁর অংশের ব্যাংকের ভাড়া বাবদ ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য বাড়ীর ১৬ হাজার টাকা সর্বমোট মাসিক ২৬ হাজার টাকার জন্য তাঁকে ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ অন্যান্য বিধান পরিপালন করতে হবে।

(৪) জনাব আহসান দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ আয়কর পরিশোধ করে আসছেন। তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস বাড়ী ভাড়া। ২০১৩-২০১৪ করবর্ষে একটি ফ্লাটের ভাড়া বাবদ তিনি ৩০ হাজার টাকা প্রদর্শন করেছিলেন। নতুন এ বিধান প্রবর্তনের প্রেক্ষিতে জনাব আহসান ভাড়াটিয়ার সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে ভাড়া বাবদ ২০ হাজার টাকা নগদে গ্রহণ করেছেন এবং চেকের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। ২০১৫-২০১৬ করবর্ষে জনাব আহসান যদি তাঁর বাড়ী ভাড়া বাবদ মাসিক ১০ হাজার টাকা প্রদর্শন করে ব্যাংক বিবরণীসহ আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন এবং কর নির্ধারণ পর্যায়ে দেখা যায় যে, ২০১৩-২০১৪ করবর্ষে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া আয় প্রদর্শন করা হয়েছিল, তবে সে ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ২(৩) ধারার ক্ষমতাবলে বাড়ী ভাড়া বাবদ মাসিক ৩০ হাজার টাকা অথবা যুক্তিসংগত পরিমাণ ভাড়া প্রাপ্তি প্রাক্কলন করবেন এবং যথাযথভাবে খরচ বিয়োজনপূর্বক গৃহ সম্পত্তি খাতে আয় নিরূপন করবেন।

প্রদেয় আয়করের পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভাড়া জমা না দেওয়ার কারণে বা আংশিক ভাড়া জমা করার কারণে ১২৩(২) ধারার বিধান অনুযায়ী বাড়ী ভাড়ার উপর প্রদেয় করের ৫০% অথবা কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশী) জরিমানা হিসেবে আরোপ করবেন।

উলেস্নখ্য, বাড়ী ভাড়ার আয় গোপনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে যদি তথ্য-প্রমাণাদি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন বাড়ীর মালিক মাসিক ২৫ হাজার টাকার অধিক বাড়ী ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত হলেও তার আয়কর নথিতে উক্ত অর্থের কম প্রাপ্তি হিসেবে প্রদর্শন করেছেন বা কোন আয় প্রদর্শন করেন নি, তাহলে তাঁর সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কর মামলা ৯৩ ধারায় উন্মোচন/পূণ:উন্মোচন করে কর নির্ধারণ করা হবে এবং কর ফাঁকির জন্য ১২৮ ধারার জরিমানার পাশাপাশি এই বিধান লংঘনের জন্য ১২৩(২) ধারার নির্ধারিত জরিমানাও আরোপিত হবে।

(৫) জনাব হোসেন দশটি ফ্ল্যাট বিশিষ্ট একটি বাড়ির মালিক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র এবং দুই কন্যা রেখে যান। বাড়িটির পাঁচটি ফ্ল্যাটে বাড়ির মালিকগণ নিজেরা বসবাস করেন। অন্য পাঁচটি ফ্ল্যাট প্রত্যেকটি মাসিক ২০ হাজার টাকায় ভাড়া প্রদান করেন।

এক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুসারে বাড়ির মালিকগণের কারো অংশেই মাসিক ভাড়া ২৫ হাজার টাকা অতিক্রম না করায় ব্যাংক হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক নয়।

(৬) জনাব জাকির হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী একজন অনিবাসী বাংলাদেশী, তিনি ঢাকাস’ মিরপুরে একটি ৫ তলা দালানের মালিক। উক্ত বাড়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভাড়া আদায়ের জন্য তিনি তাঁর ভাই জনাব আমির হোসেনকে Power of Attorney প্রদান করেন।

এক্ষেত্রে উক্ত বাড়ী ভাড়া জমা করার জন্য জনাব আমির হোসেনকে একটি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করে উক্ত ব্যাংক হিসাবে বাড়ী ভাড়ার টাকা জমা করতে হবে। জনাব জাকির হোসেনের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় উক্ত বাড়ী ভাড়া জমা হওয়া সংক্রান্ত জনাব আমির হোসেনের ব্যাংক হিসাবের বিবরণী দাখিল করতে হবে।

ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাড়ী ভাড়ার টাকা জমা না করলে প্রযোজ্য করের ৫০% অথবা ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা  (যেটি বেশী) জরিমানা আরোপঃ

আয়কর আইনের ১২৩ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হিসাব রক্ষণের পদ্ধতি অনুসরণ না করলে জরিমানা আরোপের বিধান করা হয়েছে। উপ-ধারা (২) অনুযায়ী ব্যক্তি বা কোম্পানী বা যে কোন শ্রেণীর করদাতার গৃহ সম্পত্তি আয় থাকলে এবং সর্বমোট ভাড়া প্রাপ্তির পরিমাণ মাসিক ২৫ হাজার টাকার অধিক হলে ঐ করদাতাকে বিধি ৮এ অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংক হিসাবে বাড়ী ভাড়া জমা করতে হবে। এ শর্ত পরিপালন করা না হলে গৃহ সম্পত্তি খাতের আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের ৫০% অথবা ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশী) আবশ্যিকভাবে জরিমানা আরোপিত হবে। তবে জরিমানা আরোপের পূর্বে করদাতাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে ১৩০ ধারার নোটিশ প্রদান করা হবে। জরিমানা আরোপের পদ্ধতি নিম্নরূপঃ

করদাতা জনাব আনিস বাড়ী ভাড়া জমা দেয়ার জন্য কোন ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেননি এবং প্রাপ্ত বাড়ী ভাড়া তাঁর ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়নি। ২০১৫-২০১৬ করবর্ষে আয়কর রিটার্নে তিনি নিম্নরূপ আয় প্রদর্শন করেছেন:

ব্যবসা খাতে আয় ৫,০০,০০০/-
গৃহসম্পত্তি খাতে আয় ৬,০০,০০০/-
অন্যান্য উৎসের আয় ৩,৫০,০০০/-
মোট আয় ১৪,৫০,০০০/-

মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ হবে নিম্নরূপ:

মোট আয় ১৪,৫০,০০০/-
করমুক্ত সীমা ২,২০,০০০/
  টা: ১২,৩০,০০০/-
প্রথম সত্মরে করের পরিমান হবে ১০% হারে টা: ৩,০০,০০০/
টা: ৯,৩০,০০০/-
এর উপর ৩০,০০০/-
দ্বিতীয় সত্মরে করের পরিমান হবে ১৫% হারে টা:৪,০০,০০০/-
টা: ৫,৩০,০০০/-
এর উপর  ৬০,০০০/-
     
তৃতীয় সত্মরে করের পরিমান হবে ২০% হারে টা: ৫,০০,০০০/-
টা: ৩০,০০০/-
এর উপর  ১,০০,০০০/-
অবশিষ্ট ৩০,০০০/- টাকার উপর ২৫% হারে করের পরিমাণ হবে ৭,৫০০/-
সর্বমোট প্রদেয় করের পরিমাণ ১,৯৭,৫০০/-
দাবীকৃত বিনিয়োগজনিত রেয়াতের পরিমাণ ধরা যাক শূন্য
নীট প্রদেয় করের পরিমাণ  ১,৯৭,৫০০/-

ব্যাংক হিসাবে বাড়ী ভাড়া জমা না করায় বাড়ী ভাড়ার উপর নিম্নরূপে জরিমানা আরোপিত হবে:

বাড়ী ভাড়ার উপর প্রদেয় আয়কর
=
১,৯৭,৫০০/- X ৬,০০,০০০/-
১৪,৫০,০০০/-
= ৮১,৭২৪/-

বাড়ী ভাড়ার উপর প্রদেয় আয়কর ৮১,৭২৪/- টাকার ৫০%  অথবা ৫,০০০ টাকা, এ দুয়ের মধ্যে যেটি বেশী অর্থাৎ ৪০,৮৬২/- টাকা জরিমানা হিসেবে আরোপিত হবে। ফলে করদাতা জনাব আনিস এর মোট প্রদেয় আয়করের পরিমাণ হবে ১,৯৭,৫০০/- + ৪০,৮৬২/- = ২,৩৮,৩৬২/- টাকা। উলেস্নখ্য, আলোচ্য করদাতার ক্ষেত্রে ৭৩ ধারায় সরল সুদ ও সারচার্জ প্রদেয় হলে তাও আলাদাভাবে নিয়ম অনুযায়ী আরোপিত হবে।

ব্যাংকের মাধ্যমে বাড়ী ভাড়া জমা না করায় ব্যবসা বা পেশা খাতে খরচ অগ্রাহ্যকরণ:

আয়কর আইনের ৩০ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী ব্যবসা বা পেশা খাতে  আয় রয়েছে এমন যে কোন করদাতার (ব্যক্তি, ফার্ম, কোম্পানী পর্যায়ের করদাতা ইত্যাদি) বাড়ী ভাড়া বাবদ বাড়ীর মালিককে প্রদেয় ভাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাড়ী ভাড়া বাবদ প্রদেয় অর্থ অবশ্যই ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় কর নির্ধারণ পর্যায়ে এ খরচ অগ্রাহ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট করদাতার আয় হিসেবে বিবেচনা করে প্রযোজ্য হারে আয়কর আরোপিত হবে। ১ জুলাই, ২০১৪ তারিখের পর পরিশোধিত ভাড়ার ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মিসেস হক এর বিবিধ মালের ব্যবসা থেকে আয় রয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি মাসিক ৫ হাজার টাকা হিসেবে বার্ষিক ৬০ হাজার টাকা বাড়ী ভাড়া বাবদ খরচ হিসেবে দাবী করেছেন। নতুন সন্নিবেশিত বিধান অনুযায়ী মিসেস হক যদিও মাসিক ৫ হাজার টাকা হিসেবে বাড়ী ভাড়া বাবদ ব্যয় দাবী করেছেন, যদি তিনি এ ব্যয় ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ না করেন, তাহলে মিসেস হকের দাবীকৃত এ খরচ অগ্রাহ্য হবে এবং বাড়ীভাড়া বাবদ পরিশোধিত অর্থ তাঁর ব্যবসা আয় হিসেবে বিবেচনাপূর্বক প্রযোজ্য হারে আয়কর আরোপিত হবে।

উপরোক্ত বিধানসমূহ ১ জুলাই, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ থেকে প্রযোজ্য হবে অর্থাৎ ২০১৫-২০১৬ করবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। এ বছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫ কর বছরের জন্য যে সকল বাড়ীর মালিক রিটার্ন দাখিল করবেন তাঁরা পূর্বের নিয়মেই রিটার্ন দাখিল করবেন।

(মোঃ আবদুর রহমান খান এফসিএমএ)
প্রথম সচিব (কর নীতি)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।

 

 

Paripatra-1 2014-2015

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।

নথি নং- ০৮.০১.০০০০.০৩০.০৩.০০৮.২০১৪ তারিখঃ ০৯/০৭/২০১৪ খ্রিঃ।

পরিপত্র নং-১(আয়কর)/২০১৪

বিষয়ঃ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53H এবং আয়কর বিধিমালা, 17II তে আনীত সংশোধনের বিষয়ে স্পষ্টিকরণঃ-

আয়কর বিধিমালায় একটি নতুন বিধি  17II  সন্নিবেশের মাধ্যমে সারা দেশের জমি/স্থাপনা রেজিষ্ট্রেশন পর্যায়ে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর  53H  ধারায় কর আরোপের নিমিত্তে তিনটি তফসিল  (a), (b)  ও  (c) অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কর হার নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এ বিধিমালা প্রয়োগের বিষয়ে নিম্নরূপ ব্যাখ্যা প্রদান করা হলোঃ

ক। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার যে সকল জমি/স্থাপনা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এর অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অথবা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক ইতোপূর্বে বরাদ্দ বা বিক্রয় করা হয়েছিল, সে সকল জমি বা স্থাপনা পরবর্তীতে হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা  17II  তে উল্লিখিত তফসিল  (a)  ও তফসিল  (b)  তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে। অন্যান্য জমি হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা  17II  তে তফসিল  (c)  তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে।

খ। চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ (আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা), খুলশী, নাসিরাবাদ, হালিশহর, পাঁচলাইশ, সিডিএ এভিনিউ ও মেহেদীবাগ এলাকায় যে সকল জমি বা স্থাপনা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অথবা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক ইতোপূর্বে বরাদ্দ বা বিক্রয় করা হয়েছিল, সে সকল জমি বা স্থাপনা হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা  17II তে উল্লিখিত তফসিল (a) ও তফসিল  (b) তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে। অন্যান্য জমি হস্তান্তর/বিক্রয় দলিল রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা 17II তে উল্লিখিত তফসিল (c)  তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে।

গ। ঢাকা জেলার বসুন্ধরা (ব্লক-এ থেকে ব্লক-জি পর্যন্ত) ও নিকেতন আবাসিক এলাকার দলিল রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে তফসিল  (b) এর দফা (১) তে বর্ণিত হারে কর আদায় করতে হবে।

ঘ। আয়কর বিধিমালা  17II  এর তফসিল  (c)  এর ক্রমিক ২ তে উল্লিখিত জেলাসমূহ অর্থাৎ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম জেলায় রাজউক ও সিডিএ এর অধিক্ষেত্রাধীন এলাকা ব্যতীত সকল এলাকায় (সিটি কর্পোরেশন এলাকা নির্বিশেষে) দলিল মূল্যের ৩% হারে কর আদায় করতে হবে। তবে বর্ণিত জেলাসমূহের ক্ষেত্রে রাজউক ও সিডিএ এর অধিক্ষেত্রাধীন এলাকাসমূহে দলিল মূল্যের ৪%। হারে কর আদায় করতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের যে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় (রাজউক ও সিডিএ এর অধীন এলাকাসমূহ ব্যতীত) দলিল মূল্যের ৩% হারে কর আদায় করতে হবে।

ঙ। সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা সদরের পৌরসভায় অবস্থিত ১ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের জমি বা দালান ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতার ই-টিআইএন সনদ দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ক্রেতা অনিবাসী বাংলাদেশী হলে ই-টিআইএন সনদ দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়। নাবালকের জন্য জমি বা স্থাপনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় নাবালকের আইনগত অভিভাবককে ই-টিআইএন দাখিল করতে হবে। যৌথ নামে রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে যে অংশীদারের অংশের দলিল মূল্য ১ লক্ষ টাকার অধিক হবে তাঁকে বা তাঁদেরকে ই-টিআইএন সনদ দাখিল করতে হবে।

চ। রিয়েল এস্টেট বা ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উক্ত জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের সময় আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 53FF ধারায় কর পরিশোধের পাশাপাশি পূর্বের ন্যায় 53H ধারায়ও প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।

ছ। অর্থ আইন, ২০১৪ তে মূলধনী সম্পত্তির সংজ্ঞা সংশোধন করায় এবং কৃষি জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে করারোপের বিধান করে 53H ধারা সংশোধন করায় শ্রেণী নির্বিশেষে সকল জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে 53H ধারায় কর আদায় করতে হবে।

জ। না দাবী দলিল হস্তান্তর দলিল নয় বিধায়, না দাবী দলিলের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে উক্ত দলিল রেজিষ্ট্রেশনের সময় 53H ধারার কর প্রযোজ্য হবে না।
ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে নিম্নে দুটি উদাহরণ দেয়া হলোঃ-

উদাহরণ-০১

রাজউকের আওতাধীন গুলশান বাণিজ্যিক এলাকায় ৫ কাঠা জমি বিক্রয় করা হলে এবং উক্ত জমির দলিল মূল্য ৯ কোটি টাকা হলে রেজিষ্ট্রেশনকালে কি পরিমাণ আয়কর আদায় করতে হবে?

(ক) প্রতি কাঠার জন্য ১০,৮০,০০০ টাকা হারে ৫ কাঠার জন্য প্রদেয় কর ১০,৮০,০০০ টাকা x ৫ কাঠা= ৫৪,০০,০০০ টাকা।
(খ) দলিল মূল্য ৯,০০,০০,০০০ টাকার ৪% হারে = ৩৬,০০,০০০ টাকা।
সুতরাং প্রদেয় করের পরিমাণ হবে (ক) ও (খ) এর মধ্যে যেটি বেশি অর্থাৎ ৫৪,০০,০০০ টাকা।

উদাহরণ-০২

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কোম্পানীর নিকট থেকে ক্রয়কৃত ১/২ কাঠা জমিসহ ২,৫০০ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের দলিল মূল্য (জমির মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা এবং ফ্ল্যাটের মূল্য ৩৭,৫০,০০০ টাকা) ৫৭,৫০,০০০ টাকা হলে, 53FF ধারায় ও 53H ধারায় কি পরিমাণ আয়কর প্রদেয় হবে?

53FF ধারায় প্রতি বর্গমিটার ১৫০০ টাকা হারে প্রদেয় করের পরিমাণ হবে (১৫০০ x ২৫০০) / ১০.৭৬=৩,৪৮,৫১৩ টাকা।

53H ধারায় প্রদেয় করঃ

(ক) জমির জন্য প্রদেয় করঃ-

(অ) কাঠা প্রতি ২,৪০,০০০ টাকা হারে ২,৪০,০০০ দ্ধ ০.৫০ কাঠা= ১,২০,০০০ টাকা।

(আ) জমির দলিল মূল্য ২০,০০,০০০ টাকার ৪% হারে = ৮০,০০০ টাকা।

সুতরাং জমির জন্য প্রদেয় করের পরিমাণ (অ) এবং (আ) এর মধ্যে যেটি বেশি অর্থাৎ ১,২০,০০০ টাকা।

(খ) ২৫০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের জন্য প্রদেয় করঃ-

(অ) প্রতি বর্গমিটার ৬০০ টাকা হারে (২৫০০ দ্ধ ৬০০) স্ট ১০.৭৬ = ১,৩৯,৪০৫ টাকা।

(আ) ফ্ল্যাটের দলিল মূল্য ৩৭,৫০,০০০ টাকার ৪% হারে =১,৫০,০০০ টাকা।

সুতরাং ফ্ল্যাটের জন্য প্রদেয় করের পরিমাণ (অ) এবং (আ) এর মধ্যে যেটি বেশি, অর্থাৎ ১,৫০,০০০ টাকা।

অতএব, জমি ও ফ্ল্যাটের জন্য ৫৩ঐ ধারায় প্রদেয় করের পরিমাণ হবে (১,২০,০০০ টাকা + ১,৫০,০০০ টাকা) = ২,৭০,০০০ টাকা।

(মোঃ আবদুর রহমান খান এফসিএমএ)
প্রথম সচিব (কর নীতি)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।
ফোনঃ ৮৩১১৩৯৬

 

 

Paripatra-2 2010-2011

পরিপত্র-২ অর্থ বছর ২০১০-২০১১ 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
নথি নং-জারাবো/ কর-৭/আ:আ:বি:/৩/২০১০/১৬৪ তারিখ:২৩/০৯/২০১০।
পরিপত্র নং-২ (আয়কর)

বিষয়: আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর Sixth Schedule  এর  Part-A এর Paragraph ৩৪ এ বর্ণিত উৎসে আয়ের ১০% বন্ড বা সিকিউরিটি  ক্রয়ে বিনিয়োগ সংক্রান্ত।
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর Sixth Schedule এর Part-A এর Paragraph ৩৪ এর বিধান অনুসারে নিম্নোক্ত খাতসমূহের আয়কে কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
(ক) মৎস্য খামার হতে আয়;
(খ) হাঁস-মুরগীর খামার;
(গ) pelleted poultry feed উৎপাদন;
(ঘ) বীজ উৎপাদন;
(ঙ) স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপনন;
(চ) গবাদি পশুর খামার;
(ছ) দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার;
(জ) ব্যাঙ উৎপাদন খামার;
(ঝ) উদ্যান খামার প্রকল্প (horticulture);
(ঞ) রেশম গুটিপোকা পালনের খামার;
(ট) ছত্রাক (mushroom) উৎপাদন; এবং
(ঠ) ফুল ও লতাপাতার চাষ।
তবে এখাত থেকে কোন করদাতার আয় ১, ৫০, ০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার বেশী হলে মোট আয়ের ১০% অর্থবছর শেষ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে বন্ড বা সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের শর্ত আছে।   

০২। উলেস্নখ্য, অর্থ আইন, ২০১০ এর মাধ্যমে ১/৭/২০১০ তারিখ থেকে production of pelleted poultry feed এবং কোম্পানী করদাতাদের মৎস্য চাষ হতে উদ্ভুত আয়কে হ্রাসকৃত হারে করারোপ করা হয়েছে।

০৩। উপরোক্ত Paragraph ৩৪ বা অধ্যাদেশের section ২ এ বন্ড বা সিকিউরিটির কোন সংজ্ঞা নেই। এ শ্রেনীর করদাতাগণ  সাধারনত: ৩-বছর মেয়াদী বিনিয়োগ বন্ডে বিনিয়োগ করতেন। অভ্যনত্মরীণ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক ৩-বছর মেয়াদী বিনিয়োগ বন্ড বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়ায় আয়কর আইনের শর্ত পরিপালনের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের উপর বাধ্যকতামূলক বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে  জটিলতা দেখা দিয়েছে।

০৪। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ মর্মে সঙষ্টীকরণ করছে যে, The Securities Act, ১৯২০ এবং The Public Debt Act, ১৯৪৪ অনুযায়ী “সঞ্চয়পত্র” সিকিউরিটিজ হিসাবে গণ্য হবে। Sanchayapatra Rules, ১৯৭৭  অনুযায়ী কেবল ব্যক্তিগণ (individual) “৩ মাস অনত্মর  মুনাফা  ভিত্তিক  সঞ্চয়পত্র” এবং “৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র” ক্রয় করতে পারতেন। ব্যক্তি ভিন্ন অংশিদারী ফার্ম, কোম্পানী বা অন্য শ্রেণীর করদাতাগণের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করার কোন সুযোগ ছিল না। অভ্যনত্মরীণ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন নং অম/অসবি/সঞ্চয়-৮/২০০২/২২৭ তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০ এর মাধ্যমে Sanchayapatra Rules, ১৯৭৭ সংশোধন করেছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী আয়কর অধ্যাদেশ এর Sixth Schedule এর  Part-A এর Paragraph ৩৪ এ বর্ণিত আয়ের জন্য “৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র” তে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এজন্য সঞ্চয়পত্র ক্রয়কালে তাদের এরূপ উৎসের আয় আছে মর্মে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনারের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

০৫। এমতাবস্থায়, আয়কর অধ্যাদেশ এর Sixth Schedule এর  Part-A এর Paragraph ৩৪ এর শর্তানুযায়ী ১,৫০,০০০/- টাকার বেশী করমুক্ত আয় আছে এরূপ করদাতাগণ (ব্যক্তি, অংশিদারী ফার্ম ও কোম্পানী নির্বিশেষে) তাদের মুনাফার ১০% “৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র” বিনিয়োগ করতে পারবেন। সঞ্চয়পত্র ক্রয়কালে তাদের এরূপ উৎসের আয় আছে মর্মে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনারের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।


(মোঃ রুহুল আমিন)
প্রথম সচিব (আয়কর নীতি)।
টেলিফোন: ৯৩৪ ১৫৪৮।



Paripatra-3 2014-2015

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন
সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
নথি নং-০৮.০১.০০০০.০৩০.০৩.০০৭.২০১৪.৮১  তারিখঃ ২০/০৮/২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ।
পরিপত্র-৩ (আয়কর)/২০১৪

 

বিষয়ঃ ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের বাজেট কার্যক্রমের আওতায় আয়কর আইন, বিধি ও প্রজ্ঞাপনের পরিবর্তন সম্পর্কিত স্পষ্টীকরণ।

অর্থ আইন, ২০১৪ এবং বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এবং আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে কতিপয় সংশোধনী আনা হয়েছে। নব প্রবর্তিত ও সংশোধিত আইন, বিধি ও প্রজ্ঞাপনসমূহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকল্পে ও করদাতাদের জ্ঞাতার্থে উক্ত পরিবর্তন/সংশোধনসমূহ নিম্নরূপে উপস্থাপন করা হলোঃ

১। ২০১৪-২০১৫ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য আয়কর হারঃ

(ক) ব্যক্তি শ্রেণীর কর হারঃ

(i) অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে ব্যক্তি করদাতা, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার,
অংশীদারি ফার্ম, ব্যক্তি সংঘ এবং আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের
সীমা ২০১৩-২০১৪ কর বছরের ন্যায় ২,২০,০০০/- টাকা বহাল রয়েছে। ২০১৪-২০১৫ কর বছরের জন্য এরূপ করদাতাদের আয়ের উপর প্রযোজ্য কর হার
নিম্নরূপে পুনঃবিন্যাস করা হয়েছেঃ-

মোট আয়

কর হার

প্রথম ২,২০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য
পরবর্তী ৩,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২০%
পরবর্তী ৩০,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২৫%
অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর  ৩০%

(ii) মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের পুরুষ করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ২,৫০,০০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২,৭৫,০০০/- টাকা করা হয়েছে।

(iii) প্রতিবন্ধী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,০০,০০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩,৫০,০০০/- টাকা করা হয়েছে।

(iv) মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪,০০,০০০/- টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মু্‌ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং মুবিম/প্রঃ৩/মুক্তিযোদ্ধা/গেজেট/২০০৩/৪৭৯, তারিখঃ ২০শে ভাদ্র ১৪১০/ ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০০৩ এ উল্লেখিত তালিকায় যে সকল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে সকল করদাতা এ সুবিধা পাবেন।

(v) করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বের আয়ের ক্ষেত্রে প্রদেয় ন্যূনতম আয়করের পরিমাণ বিগত বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রয়েছেঃ

এলাকার বিবরণ

ন্যূনতম আয়কর

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতা

৩,০০০/-

জেলা সদরের পেক্সরসভায় অবস্থিত করদাতা

২,০০০/-

অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত করদাতা

১,০০০/-

করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বে আয় আছে এমন করদাতার প্রদেয় আয়করের পরিমাণ বা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বিবেচনার পর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়করের কম বা ঋণাত্মক হলেও তাঁকে তাঁর জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

(খ) ব্যক্তি করদাতাদের উপর প্রযোজ্য সারচার্জের হার পুনঃবিন্যাসঃ-

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে ব্যক্তি করদাতাদের প্রদেয় আয়করের উপর প্রযোজ্য সারচার্জ আরোপের বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বের ন্যায় আয়কর রিটার্নের সাথে দাখিলকৃত সম্পদ ও দায় বিবরণীতে প্রদর্শিত নীট সম্পদের পরিমাণ ২ (দুই) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে হলে নীট সম্পদের উপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত হারে প্রদেয় আয়করের উপর সারচার্জ আরোপিত হবেঃ

নীট সম্পদের মূল্য

সারচার্জের হার

(ক) দুই কোটি টাকা পর্যন্ত

শূন্য

(খ) দুই কোটি টাকার অধিক কিন্তু দশ কোটি টাকার অধিক নয়

১০%

(গ) দশ কোটি টাকার অধিক কিন্তু বিশ কোটি টাকার অধিক নয়

১৫%

(ঘ) বিশ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ত্রিশ কোটি টাকার অধিক নয়

২০%

(ঙ) ত্রিশ কোটি টাকার অধিক হলে

২৫%

উক্ত সারচার্জ বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বাদে প্রদেয় আয়করের উপর প্রযোজ্য হবে।

সারচার্জ কিভাবে আরোপিত হবে তা নিচের উদাহরণগুলোর সাহায্যে স্পষ্ট করা হলোঃ-

    টাকা
(১) একজন করদাতার নীট সম্পদ ১,৯০,০০,০০০/-
  মোট আয়- ১০,০০,০০০/-
  আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ ১,০৬,০০০/-
  প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ শূন্য
(২) একজন করদাতার নীট সম্পদ ২,১০,০০,০০০/-
  মোট আয়- ১০,০০,০০০/-
  আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ ১,০৬,০০০/-
  প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১০%) ১০,৬০০/-
(৩) একজন করদাতার নীট সম্পদ ১১,০০,০০,০০০/-
  মোট আয়- ১০,০০,০০০/-
  আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ ১,০৬,০০০/-
  প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১৫%) ১৫,৯০০/-
(৪) একজন করদাতার নীট সম্পদ ২০,৫০,০০,০০০/-
  মোট আয়- ১০,০০,০০০/-
  আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ ১,০৬,০০০/-
  প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (২০%) ২১,২০০/-
(৫) একজন করদাতার নীট সম্পদ ৩০,১৪,০০,০০০/-
  মোট আয়- ১০,০০,০০০/-
  আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ ১,০৬,০০০/-
  প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (২৫%) ২৬,৫০০/-
(৬) একজন করদাতার নীট সম্পদ ৩২,০০,০০,০০০/-
  মোট আয়- ১০,০০,০০০/-
  আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ ১,০৬,০০০/-
  বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত ২০,০০০/-
  বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত বাদে প্রদেয় আয়কর ৮৬,০০০/-
  অগ্রিম আয়কর পরিশোধ ৭৫,০০০/-
  অবশিষ্ট প্রদেয় আয়কর ১১,০০০/-
  প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ ৮৬,০০০/- টাকার ২৫% ২১,৫০০/-

ব্যক্তি (individual) শ্রেণীর করদাতা ভিন্ন অন্য কারো উপর এ সারচার্জ আরোপিত হবে না।

(গ) অনিবাসী ব্যক্তির করহার:

অর্থ আইন, ২০১৪ তে বাংলাদেশী নয় এমন অনিবাসী ব্যক্তিদের কর হার ২৫% থেকে বৃদ্ধি করে ৩০% করা হয়েছে। তবে অনিবাসী ব্যক্তি করদাতা বাংলাদেশী নাগরিক হলে তাদের আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য হারে (০%, ১০%, ১৫%, ২০%, ২৫% ও ৩০%) কর প্রদেয় হবে।

(ঘ) ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প থেকে উদ্ভূত আয়ের উপর আয়কর রেয়াতঃ

কোন ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা যদি স্বল্প উন্নত এলাকা (less developed area) বা সবচেয়ে কম উন্নত এলাকায় (least developed area) অবস্থিত কোন ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পের মালিক হন এবং উক্ত কুটির শিল্পের দ্রব্যাদি উৎপাদনে নিয়োজিত থাকেন, তাহলে তিনি উক্ত ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প থেকে উদ্ভূত আয়ের উপর নিম্নবর্ণিত হারে আয়কর রেয়াত লাভ করবেন, যথা :-

বিবরণ

রেয়াতের হার

যেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৎসরের উৎপাদনের পরিমাণ পূর্ববর্তী বৎসরের উৎপাদনের পরিমাণের তুলনায় ১৫% এর অধিক, কিন্তু ২৫% এর অধিক নয়;

প্রদেয় আয়করের ৫%;

যেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৎসরের উৎপাদনের পরিমাণ পূর্ববর্তী বৎসরের উৎপাদনের পরিমাণের তুলনায় ২৫% এর অধিক হয়।

প্রদেয় আয়করের ১০%

(ঙ) কোম্পানীর কর হারঃ

নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর কর হার ৩৭.৫% থেকে হ্রাস করে ৩৫% করা হয়েছে।
পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর হার ২৭.৫% অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী ৩০% এর চেয়ে বেশি নগদ লভ্যাংশপ্রদান করলে ১০% হারে কর রেয়াত পাবে। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে এরূপ কোম্পানীর কর হার হবে ২৪.৭৫%। অপরদিকে ১০% এর কম লভ্যাংশ ঘোষণা করলে অথবা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশ প্রদান না করলে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর কর হার হবে ৩৫%।

২০১৪-১৫ কর বছরের জন্য কোম্পানীর আয়করের হার (প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয় ও মূলধনী আয় ব্যতীত) নিম্নরূপঃ

কোম্পানীর ধরণ

কর হার

মন্তব্য

নন-পাবলিকলি ট্রেডেড
কোম্পানী (স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানী)
৩৫%  
পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী (স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানী) ২৭.৫% শর্তঃ
১। ১০% এর কম লভ্যাংশ প্রদান করলে কর হার ৩৫%;
২। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড
এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লভ্যাংশ প্রদান না করলে কর হার
৩৫%;
৩। ন্যূনতম ৩০% নগদ লভ্যাংশ প্রদান করলে কর হার ২৪.৭৫%;
৪। ন্যূনতম ২০% শেয়ার ওচঙ এর
মাধ্যমে পুঁজিবাজারে হস্তান্তর করা হলে হস্তান্তর সংশ্লিষ্ট কর বছরে কর হার
২৪.৭৫%।
ব্যাংক, বীমা, অর্থলগ্নীকারী
প্রতিষ্ঠান
৪২.৫%  
মার্চেন্ট ব্যাংক ৩৭.৫%  
সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানী ৪৫% পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানী হলে কর হার ৪০%।
মোবাইল ফোন অপারেটর
কোম্পানী
৪৫% ১। ন্যূনতম ১০% শেয়ার পুঁজিবাজারেহস্তান্তর করা হলে কর হার ৪০%।
২। পরিশোধিত মূলধনের ২০% এর
অধিক আইপিও এর মাধ্যমে হস্তান্তর
করলে হস্তান্তর সংশ্লিষ্ট কর বছরে কর হার
৩৬%।

তাছাড়া কোন কোম্পানী কর্তৃক প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ের ক্ষেত্রে আয়করের হার ২০% এবং মূলধনী মুনাফার ক্ষেত্রে আয়করের হার হবে ১৫%।

অর্থ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী ১ জুলাই, ২০১৪ তারিখে আরব্ধ কর বছরের জন্য আয়করের হার পরিশিষ্ট-১৭ এ দেখানো হয়েছে।

২। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 16CCC সংশোধন [ফার্মের বা কোম্পানীর ন্যূনতম কর হার হ্রাস সংক্রান্ত]ঃ

আয়কর অধ্যাদেশের 16CCC ধারায় ফার্মের ৫০ লক্ষ টাকার অধিক মোট প্রাপ্তি হলে অথবা কোম্পানীর মোট প্রাপ্তির উপর ন্যূনতম প্রদেয় করের হার ০.৫০% থেকে হ্রাস করে ০.৩০% করা হয়েছে।

এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

৩। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সংক্রান্ত কতিপয় সংশোধনঃ

বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত হয়ে “বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক” হিসেবে পুনর্গঠিত হওয়ার প্রেক্ষিতে উক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির পরিবর্তে “বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক” এর নাম অন্তর্ভুক্ত করে আইনের ১৯(১১), ১৯(১৫)(এএ), ২৮(৩) এবং ২৯(১)( xviii এ) ধারা সংশোধন করা হয়েছে।

৪। সরকারী ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগ বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়া সংক্রান্ত ধারা 19D বিলোপঃ

ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগকৃত টাকার উপর ১০% কর পরিশোধ করলে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশড়ব না করে বিনিয়োগ মেনে নেয়া সংক্রান্ত ১৯ডি ধারা বিলোপ করা হয়েছে। ফলে ১ জুলাই ২০১৪ তারিখে অথবা এর পরে ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎসের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। তবে ৩০ জুন, ২০১৪ তারিখ বা তার পূর্বে ক্রয়কৃত ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০% কর পরিশোধ করলে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎস সম্পর্কে আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন প্রশড়ব উত্থাপন করা হবে না।

৫। কোম্পানী করদাতা কর্তৃক ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যতীত গৃহীত ঋণ সংক্রান্ত 19(26) ধারার বিধান সংশোধনঃ

কোন কোম্পানী ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করলে তা আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর 19(26) ধারার বিধান অনুসারে করদাতা কোম্পানীর করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে উক্ত ধারায় একটি প্রোভাইসো সংযোজন করে এরূপ বিধান করা হয়েছে যে, কোম্পানী করদাতা কর্তৃক এরূপে গৃহীত ঋণ 19(26) ধারায় মোট আয়ের সাথে যোগ হবার পর যদি পরবর্তী কোন বছরে পরিশোধ করা হয়, তবে যে বছর উক্ত ঋণ পরিশোধ করা হবে, সে বছরের করযোগ্য আয় থেকে উক্ত ঋণের পরিশোধিত অংকের পরিমাণ বাদ যাবে।

এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে প্রযোজ্য হবে।

৬। গৃহসম্পত্তি খাতে আয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 25 সংশোধনঃ

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী গৃহসম্পত্তি নির্মাণের জন্য গৃহীত ঋণ কেবলমাত্র ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে গৃহীত হলেই বাড়ি ভাড়া খাতে আয় নির্ধারণকালে উক্ত ঋণের বিপরীতে প্রদেয় সুদ অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে গণ্য করা হবে। অন্য কোন উৎস হতে গৃহীত ঋণের সুদ গৃহসম্পত্তি খাতে অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে প্রযোজ্য হবে।

উদাহরণঃ XYZ লিঃ একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য ABC লিঃ এর নিকট থেকে ১০% সুদে ৫০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে। পরবর্তীকালে XYZ লিঃ উক্ত বাণিজ্যিক ভবনের ভাড়া আয় থেকে অইঈ লিঃ কে প্রদেয় ঋণের সুদ বাবদ ৫ কোটি টাকা ২০১৪-২০১৫ কর বছরে খরচ হিসেবে দাবী করে। কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে উক্ত ঋণ গ্রহণ করা হয়নি বিধায় XYZ লিঃ এর দাবীকৃত ঋণের সুদ অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

৭। ব্যবসা বা পেশা আয়ের ক্ষেত্রে পারকুইজিট বাবদ অনুমোদনযোগ্য খরচের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি [ধারা 30(e)]ঃ

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর clause(e) সংশোধনের মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য বাৎসরিক পারকুইজিট বাবদ নিয়োগকারীর হাতে অনুমোদনযোগ্য ব্যয় সীমা ২,৫০,০০০/- টাকা হতে বৃদ্ধি করে ৩,৫০,০০০/- টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে নিয়োগকারী তার কোন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৩,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত পারকুইজিট প্রদান করলে তা অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে। উক্ত নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত পারকুইজিট প্রদান করা হলে অতিরিক্ত অংক নিয়োগকারীর হাতে করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে।

এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

৮। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর কতিপয় clause এ বিদ্যমান ব্যবসা বা পেশার আয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য খরচের খাতের সংশোধনঃ

(ক) হেড অফিস খরচঃ- আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর clause(g) সংশোধন করে এরূপ বিধান করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত নয় এরূপ কোম্পানীর ক্ষেত্রে হেড অফিস খরচ খাতে অনুমোদনযোগ্য খরচ নির্ধারণকালে নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত মুনাফাকে ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রদর্শিত মুনাফার সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত হেড অফিস খরচ করযোগ্য আয় নির্ধারণকালে অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হবে। এক্ষেত্রে নিরূপিত করযোগ্য আয় যাই হোক না কেন অনুমোদনযোগ্য হেড অফিস খরচ নির্ধারণের সময় করদাতা কোম্পানী কর্তৃক নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত মুনাফাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

(খ) রয়্যালটি, টেকনিক্যাল সার্ভিস ফি ইত্যাদিঃ- আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর clause (h) সংশোধন করে এরূপ বিধান করা হয়েছে যে, রয়্যালটি, টেকনিক্যাল সার্ভিস ফি, টেকনিক্যাল নো-হাউ-ফি অথবা টেকনিক্যাল এসিস্টেন্স ফি খাতে সর্বোচ্চ অনুমোদনযোগ্য খরচ নির্ধারণকালে করদাতা কোম্পানী কর্তৃক নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত মুনাফার ৮% এ খাতে খরচ হিসেবে অনুমোদন যোগ্য হবে। এক্ষেত্রে নিরূপিত করযোগ্য আয় যাই হোক না কেন অনুমোদনযোগ্য রয়্যালটি, টেকনিক্যাল সার্ভিস ফি, টেকনিক্যাল নো হাউ ফি অথবা টেকনিক্যাল এসিস্টেন্স ফি খাতে খরচ নির্ধারণের সময় করদাতা কোম্পানী কর্তৃক নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত মুনাফাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

(গ) ইনসেনটিভ বোনাসঃ- আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এর clause (j) অনুসারে ইনসেনটিভ বোনাস খাতে অনুমোদনযোগ্য খরচ নির্ধারণকালে নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত মুনাফাকে ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। করযোগ্য আয় নির্ধারণকালে প্রদর্শিত মুনাফার সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত ইনসেনটিভ বোনাস খাতে খরচ পূর্বের ন্যায় অনুমোদনযোগ্য হবে। এক্ষেত্রে নিরূপিত করযোগ্য আয় যাই হোক না কেন অনুমোদনযোগ্য ইনসেনটিভ বোনাস খাতে খরচ নির্ধারণের সময় করদাতা কোম্পানী কর্তৃক নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত মুনাফাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

৯। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত বিধান সংযোজনঃ

ব্যবসা বা পেশা আয় রয়েছে এমন করদাতা কর্তৃক বাণিজ্যিক অথবা আবাসিক কাজে ব্যবহৃত যে কোন সম্পত্তির (ভবন, ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট, অফিস স্পেস, দোকান, ফ্যাক্টরী ইত্যাদি) ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 30 এ একটি নতুন clause (n) সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ বিধান অনুযায়ী ব্যবসা বা পেশা পরিচালনাকারীকরদাতা কর্তৃক ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে যে কোন অংকের গৃহ সম্পত্তির ভাড়া ক্রস চেক অথবা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ করা না হলে উক্ত ভাড়া খাতে দাবীকৃত খরচ অগ্রাহ্য করা হবে।

এ বিধান ২০১৫-১৬ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

১০। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 33 ধারা সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 33 এর clause (d) তে 19(21B),(26), (27) or (28) অন্তর্ভুক্ত করে 19 ধারা এবং 33(d) ধারায় বিদ্যমান অসামঞ্জস্যতা দূর করা হয়েছে।

১১। হিসাব রক্ষণ পদ্ধতি (Method of accounting) সংক্রান্ত ধারা 35 সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে হিসাব রক্ষণের পদ্ধতি বিষয়ক ধারা 35 সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী কোন ব্যবসা বা পেশার জন্য বা অন্য কোন উৎসের আয়ের জন্য বা যে কোন শ্রেণীর করদাতা বা আয়ের জন্য হিসাব রক্ষণের পদ্ধতি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারণ করা যাবে। এ লক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারী করতে পারবে বলে বিধান করা হয়েছে। উক্ত আদেশের মাধ্যমে হিসাব বা দলিলাদি কিভাবে বা কোন্‌ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হবে বা বাণিজ্যিক লেনদেনের পদ্ধতি বা পরিশোধের পদ্ধতি কি হবে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্ধারণ করবে।

এ বিধানের সাথে সংগতি রেখে বাড়ী ভাড়া পরিশোধের পদ্ধতি নির্ধারণ করার জন্য আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এ নতুন একটি বিধি 8A সংযোজন করা হয়েছে। উক্ত বিধি অনুযায়ী কিভাবে বাড়ী ভাড়া পরিশোধিত হবে বা ব্যাংক হিসাবে জমা করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। উক্ত বিধানের আলোকে বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়াগণের করণীয় সম্পর্কে ২২/০৭/২০১৪ খ্রিঃ তারিখে জারীকৃত বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত পরিপত্র-২ এ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

35 ধারার (3) উপধারায় সংশোধনী এনে এরূপ বিধান করা হয়েছে যে, চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টগণকে কোম্পানীর হিসাব নিরীক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে, উক্ত কোম্পানীর হিসাবের খাতাপত্র এবং আর্থিক বিবরণীসমূহ বাংলাদেশ একাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (BAS) এবং বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (BFRS) অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ণপত্র প্রদান করতে হবে।

এ বিধান ২০১৫-১৬ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

১২। শিল্পের কর অবকাশ সুবিধা সংক্রান্ত section 46B সংশোধনঃ

(ক) আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 46B ধারায় বর্ণিত কর অবকাশের জন্য শিল্প স্থাপনের সময়সীমা ৩০ জুন, ২০১৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ জুন, ২০১৯ করা হয়েছে। ফলে উক্ত সময়কালের মধ্যে স্থাপিত কর অবকাশযোগ্য শিল্প নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রযোজ্য হারে কর অব্যাহতি পাবে।

(খ) পরিবেশ বান্ধব শিল্পকে উৎসাহিত করার লক্ষে Hybrid Hoffmann Kiln (HHK) পদ্ধতির অটোমেটিক ইট নির্মাণ শিল্পকে কর অবকাশযোগ্য শিল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

(গ) রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের সিটি কর্পোরেশন এলাকাসমহূ ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে ৩০ জুন, ২০১৯ সময়কালের মধ্যে স্থাপিত ও বাণিজ্যিক উৎপাদন আরম্ভ করা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছরের জন্য নিম্নরূপ ক্রমহ্রাসমান হারে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করা হয়েছেঃ-

কর অব্যাহতির সময়কাল

অব্যাহতির হার

প্রথম ও দ্বিতীয় বছর আয়ের ১০০%
তৃতীয় বছর আয়ের ৭০%
চর্তু বছর আয়ের ৫৫%
পঞ্চম বছর আয়ের ৪০%
ষষ্ঠ বছর আয়ের ২৫%
সপ্তম থেকে দশম বছর আয়ের ২০

১৩। সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে স্থাপিত উৎপাদনমূখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতি প্রদানঃ

যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান (কোম্পানী) কর অবকাশ সুবিধাযোগ্য তালিকাভুক্ত শিল্প নয়, সে সকল উৎপাদনমূখী শিল্প ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে ৩০ জুন, ২০১৯ এর মধ্যে দেশের যে কোন সিটি কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকার বাইরে স্থাপন করে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করলে সে সকল উৎপাদনমূখী শিল্প প্রতিষ্টানকে এস,আর,ও নং ১৮৫-আইন/আয়কর/২০১৪, তারিখঃ ১ জুলাই ২০১৪ (পরিশিষ্ট-১১) এর মাধ্যমে,

নিম্নরূপ কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছেঃ

ক্র:
নং

শর্তাবলী

কর রেয়াতের
হার

ক। ১ জুলাই, ২০১৪ হতে ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্য‘ম শুরু করলে বাণিজ্যিক কার্য‘ম শুরুর পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত ২০%
খ। সিটি কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকার মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পূর্বেই শুরু হয়েছে এরূপ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান ১ জুলাই, ২০১৪ হতে ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকার বাইরে সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তরপূর্বক বাণিজ্যিক কার্য‘ম শুরু করলে, স্থানান্তর পরবর্তী বাণিজ্যিক কার্য‘ম শুরুর পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত ২০%
গ। সিটি কর্পোরেশনের এলাকার বাইরে বাণিজ্যিক কার্য‘ম শুরু হয়েছে, এরূপ বিদ্যমান কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত ১০%

তবে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কর অব্যাহতির এ বিধান প্রযোজ্য হবে নাঃ

(অ) কোন কর অবকাশ সুবিধা প্রাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান কর অবকাশ মেয়াদকালে এ অব্যাহতি সুবিধা পাবে না;

(আ) আয়কর অব্যাহতি প্রাপ্ত কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান কর অব্যাহতির মেয়াদকালে এ অব্যাহতি সুবিধা পাবে না;

(ই) Income-tax Ordinance, 1984 (Ord. XXXVI of 1984) এর section 44 এর ক্ষমতাবলে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের অধীন হ্রাসকৃত হারে কর সুবিধা ভোগকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান হ্রাসকৃত হারে কর সুবিধা ভোগের মেয়াদকালে এ অব্যাহতি সুবিধা পাবে না;

(ঈ) কোন কে এক্সচেঞ্জে publicly traded company হিসেবে তালিকাভুক্ত কোমপানী এ অব্যাহতি সুবিধা পাবে না;

(ঙ) পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক হালনাগাদ পরিবেশ ছাড়পত্র প্রাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান না হলে এ অব্যাহতি সুবিধা পাবে না।

এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

১৪। ভৌত অবকাঠামোর কর অবকাশ সংক্রান্ত ধারা 46C সংশোধনঃ

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 46C ধারায় বর্ণিত ভৌত অবকাঠামো সুবিধার ক্ষেত্রে কর অবকাশের জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের সময়সীমা ৩০জুন, ২০১৫ থেকে ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ৩০ জুন, ২০১৯ এর মধ্যে নির্মিত কর অবকাশযোগ্য ভৌত অবকাঠামোসমূহ প্রযোজ্য হারে কর অব্যাহতি পাবে।

১৫। ট্রেজারী বন্ড, ট্রেজারী বিল, ডিবেঞ্চার এবং অন্যান্য সিকিউরিটিজ এর উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 51 সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে সিকিউরিটিজ এর সুদের উপর উৎসে অগ্রিম (upfront) করের হার ১০% থেকে হ্রাস করে ৫% করা হয়েছে। একই সাথে ধারা 51(1) এর প্রোভাইসোটি এবং উক্ত ধারার উপধারা (3) বিলোপ করে ট্রেজারী বন্ড, ট্রেজারী বিল এবং ডিবেঞ্চারের সুদের উপর ৫% হারে উৎসে অগ্রিম কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে।

১ জুলাই, ২০১৪ বা এরপর যে সকল ট্রেজারী বন্ড, ট্রেজারী বিল ও সরকারী সিকিউরিটিজ বিক্রয় করা হবে, সে সকল সিকিউরিটিজ বিক্রয়ের সময় মেয়াদান্তে উদভূত সুদ বা ডিসকাউন্টের উপর অগ্রিম (upfront) উৎসে আয়কর সংগ্রহ করতে হবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

১৬। লোকাল এলসির মাধ্যমে মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের জন্য একটি নতনু ধারা 52U সন্নিবেশঃ

ধারা 52 হতে “লোকাল এলসি” শব্দগুলো বিলোপ করতঃ লোকাল এলসি’র মাধ্যমে মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের পৃক বিধান করে 52U ধারা সন্নিবেশ করা হয়েছে। নতুন প্রবর্তিত এ ধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপঃ

  • লোকাল এলসি অথবা অনুরূপ কোন ফাইন্যান্সিং এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে এলসি মূল্য ৫ লক্ষ টাকার অধিক হলে সম্পূর্ণ এলসি মূল্যের উপর এলসি issuing ব্যাংক কর্তৃক এলসি’র মূল্য পরিশোধকালে ৩% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে। এক্ষেত্রে এলসি’র মূল্য ৫ লক্ষ টাকার অধিক না হলে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না।
  • কতিপয় নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য সামগ্রী যেমন-আলু, পিঁয়াজ, রসুন, ছোলা, বুট, ডাল, আদা, হলুদ, মরিচ, চাল, গম, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্য তেল, চিনি, গোলমরিচ, এলাচ, দারূচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা, খেজুর, সকল প্রকার ফল ইত্যাদি যে কোন অংকের মালামাল লোকাল এলসি’র মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
  • লোকাল এলসি’র পরিবর্তে অন্য কোন ফাইন্যান্সিং এগ্রিমেন্টের আওতায় যেমন ইনভয়েস ফাইন্যান্সিং, সাপস্নাইয়ার ফাইন্যান্সিং অথবা অন্য যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকৃতিগতভাবে লোকাল এলসি’র অনুরূপ প্রক্রিয়ায় মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের এ বিধান প্রযোজ্য হবে।
  • Inland Documentary Bill Purchase (IDBP) বা Local Documentary Bill Purchase (LDBP) বা অনুরূপ কোন পদ্ধতিতে মালামালের বিক্রেতা যদি এলসি’র মেয়াদ পূর্তির পূর্বে কোন negotiating ব্যাংক হতে উক্ত এলসি’র বিপরীতে অর্থ গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে উক্ত negotiating ব্যাংক উৎসে কর্তনযোগ্য করের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে উক্ত এলসি’র বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করবে। তবে এলসি issuing ব্যাংকই এলসি’র মূল্য চূড়ান্তভাবে পরিশোধের সময় উৎসে কর কর্তন করে তা মালামাল বিক্রেতার পক্ষে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করবে।
  • লোকাল এলসির মাধ্যমে কেবলমাত্র দেশের অভ্যন্তরে পুনঃবিক্রয় অথবা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিক্রয়ের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে ধারা 52U প্রযোজ্য হবে। স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অথবা চুক্তিপত্রের আওতায় মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে অর্থের লেনদেন লোকাল এলসি’র মাধ্যমে হলেও পুনঃবিক্রয় অথবা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিক্রয়ের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত না হলে 52U ধারা প্রযোজ্য হবে না। এক্ষেত্রে ঠিকাদারী/সরবরাহ কার্যক্রমের জন্য প্রযোজ্য ধারা 52 এবং আয়কর বিধি-১৬ অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে আয়কর কর্তন করতে হবে।
  • যেক্ষেত্রে সরবরাহ/ঠিকাদারী বিলের উপর ধারা 52 এবং আয়কর বিধি-১৬ অনুযায়ী কর কর্তন করা হবে, সেক্ষেত্রে উক্ত সরবরাহ/ঠিকাদারী বিল লোকাল এলসি’র মাধ্যমে পরিশোধ করা হলেও একই সরবরাহ/ঠিকাদারী বিলের উপর পুনরায় 52U ধারায় উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না।
  • বাংলাদেশ থেকে বিদেশে ১০০% পণ্য রপ্তানী সংক্রান্ত আদেশ (মাস্টার এলসি) বাস্তবায়নের লক্ষে রপ্তানীর আদেশাধীন পণ্য প্রস্তুতে জড়িত আনুষঙ্গিক অন্যান্য পণ্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি’র মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে 52U ধারার আওতায় উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না।
  • লোকাল এলসি’র বিপরীতে উৎসে কর্তিত এ কর চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত না হয়ে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

উদাহরণ ১ঃ

ABC Ltd. কে ২ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার জন্য XYZ Ltd. চুক্তিবদ্ধ হয় এবং উক্ত চুক্তি মূল্য পরিশোধের জন্য XYZ খঃফ. এর অনুকূলে অইঈ খঃফ. একটি স্থানীয় ঋণপত্র (লোকাল এলসি) প্রদান করে। উক্ত যন্ত্রপাতি অইঈ খঃফ. নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন কাজে ব্যবহারের জন্য স্থাপন করে। এক্ষেত্রে উক্ত যন্ত্রপাতি লোকাল এলসির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হলেও তা পুনঃবিক্রয় অথবা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিক্রয়ের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়নি বিধায় ধারা 52U প্রযোজ্য হবে না। বরং এক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52 এবং বিধি 16 অনুসারে সরবরাহ মূল্যের উপর আয়কর কর্তন প্রযোজ্য হবে। উক্ত সরবরাহ বিলের উপর ABC Ltd. বিধি-১৬ অনুসারে কর কর্তন করে জমা দেয়ার পর একই সরবরাহ বিলের উপর L/C Issuing Bank বা L/C Negotiating Bank কে 52U অথবা অন্য কোন ধারায় পুনরায় কোন কর কর্তন করতে হবে না।

উদাহরণ-২ঃ

বাংলাদেশে নিবন্ধিত দু’টি কোম্পানী যথাক্রমে LMN Ltd. এবং PQR Ltd. বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ইলেকট্রনিক্স পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে সম্মত হয়। এ উদ্দেশ্যে পণ্যের ক্রেতা LMN Ltd. এর পক্ষে তার ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড পণ্যের বিক্রেতা PQR Ltd. কে স্থানীয় ঋণপত্র (Local L/C) প্রদান করে। ৯০ দিন মেয়াদী এ ঋণপত্রের মূল্যমান ১ কোটি টাকা। এলসি’র মেয়াদপূর্তীর পর পণ্য বিক্রেতা PQR Ltd. উক্ত এলসি’র মূল্য আদায়ের জন্য তার ব্যাংক রূপালী ব্যাংক লিমিটেড এর মাধ্যমে এ এলসি ডকুমেন্ট দাখিল করে। এক্ষেত্রে L/C Issuing Bank হিসেবে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডকে এলসি’র অর্থ পরিশোধকালে এলসি মূল্যের উপর ৩% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে। একই লেনদেনের জন্য L/C Negotiating ব্যাংককে অন্য কোন ধারায় পুনরায় উৎসে কর কর্তন করতে হবে না।

উদাহরণ-৩ঃ

কর্ণফুলী ট্রেডার্স লিমিটেড লোহার রড ক্রয়-বিক্রয়ে নিয়োজিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উক্ত কোম্পানী ২৫ জুলাই, ২০১৪ তারিখে রড প্রস্তুতকারী কোম্পানী সুরমা স্টীল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড হতে ১০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য ক্রয় করে এবং উক্ত পণ্য মূল্যের বিপরীতে সুরমা স্টীল ইন্ডাস্ট্রিজ এর অনুকূলে কর্ণফুলী ট্রেডার্স লিমিটেড এর পক্ষে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃক ১২০ দিন মেয়াদী স্থানীয় ঋণপত্র ইস্যু করে। সুরমা স্টীল ইন্ডাস্ট্রিজ উক্ত ঋণপত্রটি তার ব্যাংক যমুনা ব্যাংক লিমিটেড এর নিকট ১ আগষ্ট, ২০১৪ তারিখে IDBP/LDBP পদ্ধতিতে বিক্রয় করে।

এক্ষেত্রে L/C NEGOTIATING BANK হিসেবে যমুনা ব্যাংক লিঃ কর্তৃক সুরমা স্টীল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে IDBP/LDBP এর বিপরীতে অর্থ পরিশোধের সময় এলসি মূল্যের উপর ৩% হারে কর্তনযোগ্য কর বিবেচনায় নিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে L/C ISSUING BANK অর্থাৎ প্রাইম ব্যাংক লিঃ কর্তৃক এলসি’র মেয়াদ পূর্তীতে L/C NEGOTIATING BANK কে এলসি মূল্য পরিশোধকালে ৩% হারে উৎসে কর কর্তন করে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করতে হবে এবং সুরমা স্টীল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর অনুকূলে উক্ত উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত সনদপত্র প্রদান করতে হবে।

১৭। এ্যাকচুয়ারিয়াল সার্ভিস (actuarial service) কে প্রফেশনাল সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত করে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 52A সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে 52A ধারার explanation এর clause (a) সংশোধন করে “প্রফেশনাল সার্ভিস” এর মধ্যে “এ্যাকচুয়ারিয়াল সার্ভিস” কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ্যাকচুয়ারিয়াল সার্ভিস (actuarial service) থেকে প্রাপ্ত ফি এর উপর এ ধারায় বর্ণিত অন্যান্য করদাতার ন্যায় ১২ ডিজিটের টিআইএন থাকলে ১০% হারে অন্যথায় ১৫% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান করা হয়েছে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

১৮। পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের সুদের উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 52D সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52D তে একটি নতুন প্রোভাইসো এবং ৬ষ্ঠ তফসিল পার্ট-A তে একটি নতুন প্যারাগ্রাফ 32A সংযোজনের মাধ্যমে পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্রমযোজিত (cumulative) বিনিয়োগ হতে অর্জিত সুদ আয় করমুক্ত করা হয়েছে। ৫ লক্ষ টাকার অধিক বিনিয়োগের সুদের উপর ৫% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান বহাল রয়েছে। তাছাড়া, ৮২সি ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড এর সুদের উপর কর্তিত করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করার বিধান করা হয়েছে। কর নির্ধারণ পর্যায়ে পেনশনার সঞ্চয়পত্র/ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড এর মুনাফা খাতে ধারা 82C(4) অনুসারে আয় পরিগণনার সময় পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড এর মুনাফার উপর কর্তিত করের আনুপাতিক অংশই করদাতার এ খাতে আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে পেনশনার সঞ্চয়পত্র/ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড এর মুনাফার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট বিধায় প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট বিধায় প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ এবং এ খাতে ধারা 82C(4) অনুসারে নিরূপিত আনুপাতিক আয় এর পার্থক্যের উপর ধারা 82C(6) এর বিধান প্রযোজ্য হবে না এবং জনাব স্বপন কুমার রায় কে উক্ত পার্থক্যের জন্য কোন অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে না। এরূপ পার্থক্য তাঁর সম্পদ পরিবৃদ্ধির উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ-২ঃ

জনাব হাবিবুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরিজীবী। এপ্রিল ২০১৪ মাসে অবসর গ্রহণ করেন। ১ জুলাই, ২০১৪ তারিখে তিনি ৩০ লক্ষ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন এবং ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে তিনি ৩,৯৫,৭০০/- টাকা মোট মুনাফা অর্জন করেন। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে তিনি একটি প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে মোট ১২ লক্ষ টাকা অর্জন করেন।

জনাব হাবিবুর রহমানের পেনশনার সঞ্চয়পত্র হতে অর্জিত মুনাফা ৩,৯৫,৭০০/- টাকার উপর ৫% হারে ১৯,৭৮৫/- টাকা উৎসে কর কর্তন করতে হবে এবং উক্ত কর ২০১৫-১৬ কর বছরে তাঁর চূড়ান্ত করদায় বলে গণ্য হবে ।
কর নির্ধারণ পর্যায়ে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা খাতে ধারা 82C(4) অনুসারে আয় পরিগণনার সময় পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর কর্তিত করের আনুপাতিক অংশই জনাব হাবিবুর রহমানের এ খাতে আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট বিধায় প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ এবং এ খাতে ধারা 82C(4) অনুসারে নিরূপিত আনুপাতিক আয় এর পার্থক্যের উপর ধারা 82C(6) এর বিধান প্রযোজ্য হবে না এবং জনাব হাবিবুর রহমানকে উক্ত পার্থক্যের জন্য কোন অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে না। এরূপ পার্থক্য তাঁর সম্পদ পরিবৃদ্ধির উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।
উদাহরণ-৩ঃ
জনাব বিধান চন্দ্র লস্কর যুক্তরাজ্যে চাকুরিরত একজন অনিবাসী বাংলাদেশী করদাতা। তিনি জুলাই ২০১৪ মাসে ৫ বছর মেয়াদী ৩ লক্ষ টাকার ডঊউই ক্রয় করেন এবং জুলাই ২০১৫ মাসে পুনরায় ৫ বছর মেয়াদী ১০ লক্ষ টাকার WEDB ক্রয় করেন। এক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৩ লক্ষ টাকার ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের প্রাপ্ত মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তন করতে হবে না এবং ২০১৫-১৬ কর বছরে উক্ত মুনাফা করমুক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে যেহেতু জনাব বিধান চন্দ্র লস্করের ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ পূর্বের বিনিয়োগসহ ৫ লক্ষ টাকা অতিক্রম করেছে সেহেতু ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ধারণকৃত সম্পূর্ণ বিনিয়োগ অর্থাৎ ১৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের অর্জিত মুনাফার উপর ৫% হারে কর কর্তন করতে হবে। উক্ত উৎসে কর্তিত কর ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য করদাতার চূড়ান্ত করদায় বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ-৪ঃ

জনাব আজিজুর রহমান একজন সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে মার্চ ২০১৪ মাসে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি জুলাই ২০১৪ মাসে ৫ বছর মেয়াদী ৪ লক্ষ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন এবং জুলাই ২০১৫ মাসে পুনরায় ৫ বছর মেয়াদী ১৫ লক্ষ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন।

এক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৪ লক্ষ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র হতে প্রাপ্ত মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তন করতে হবে না এবং ২০১৫-১৬ কর বছরে উক্ত মুনাফা করমুক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে যেহেতু জনাব আজিজুর রহমানের পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ পূর্বের বিনিয়োগসহ ৫ লক্ষ টাকা অতিক্রম করেছে সেহেতু ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ধারণকৃত সম্পূর্ণ বিনিয়োগ অর্থাৎ ১৯ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের অর্জিত মুনাফার উপর ৫% হারে কর কর্তন করতে হবে। উক্ত উৎসে কর্তিত কর ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য করদাতার চূড়ান্ত করদায় বলে গণ্য হবে।

১৯। ইট ভাটা থেকে কর সংগ্রহ সংক্রান্ত ধারা 52F সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52F সংশোধন করে ইট ভাটায় উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ইট ভাটার ইট তৈরির অনুমতিপত্র সংগ্রহকালে বা নবায়নকালে অগ্রিম আয়কর পরিশোধের হার নিম্নরূপে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছেঃ-

সেকশন

উৎসে সংগৃহীত আয়করের হার
প্রতিটি এক সেকশন এর জন্য

৪৫,০০০/-

প্রতিটি দেড় সেকশন এর জন্য

৭০,০০০/-

প্রতিটি দুই সেকশন এর জন্য

৯০,০০০/-

যন্ত্রের সাহায্যে ইট তৈরির ক্ষেত্রে

১,৫০,০০০/-

তাছাড়া 184A(1) ধারার CLAUSE (V) অনুসারে ব্রিক ফিল্ড সংক্রান্ত নিম্নোক্ত দুটি বিধান করা হয়েছেঃ-

ক) প্রতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র গ্রহণের সময় ব্রিক ফিল্ডের মালিককে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে; এবং

খ) জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ইট ভাটার ছাড়পত্র নবায়নের সময় ব্রিক ফিল্ডের মালিককে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২০। ট্রাভেল এজেন্ট হতে উৎসে কর আরোপ সংক্রান্ত ধারা 52JJ সন্নিবেশঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক প্রাপ্ত কমিশন বা অন্যান্য প্রাপ্তির উপর কর কর্তনের উদ্দেশ্যে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 52JJ সন্নিবেশ করা হয়েছে। উক্ত বিধান অনুসারে ট্রাভেল এজেন্সী কর্তৃক প্রাপ্ত কমিশন, ডিসকাউন্ট, ইনসেনটিভ বোনাস কিংবা অনুরূপ কোন প্রাপ্তির উপর কমিশন, ডিসকাউন্ট, ইনসেনটিভ বোনাস ইত্যাদি প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস্‌ কর্তৃপক্ষ, জেনারেল সেলস্‌ এজেন্ট (GSA) বা অনুরূপ অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে ৩% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২১। কুইক রেন্টাল কোম্পানীর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 52N সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 52N ধারায় সংশোধনী এনে কুইক রেণ্টাল কোম্পানীসমূহকে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ৪% থেকে বৃদ্ধি করে ৬% হারে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২২। বোতলজাত খাবার পানি বা মিনারেল ওয়াটার এর উপর উৎসে অগ্রিম কর আরোপ সংক্রান্ত ধারা 52S সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 52S সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান মোতাবেক সফ্‌ট ড্রিংকস বা কোমল পানীয় এর ন্যায় বোতলজাত খাবার পানি বা মিনারেল ওয়াটার এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল সরবরাহকালে ক্রেতার নিকট হতে সংশ্লিষ্ট পণ্যের মূল্যের উপর ৩% হারে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড কর্তৃক অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করতে হবে।এক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য বলতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত মূল্যকে বোঝাবে।

বোতলজাত খাবার পানি বলতে ছোট-বড় যে কোন আকারের বোতল, জার, ক্যান বা সিলিন্ডারে বাজারজাতকৃত খাবার পানি যার ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর আইন অনুযায়ী স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল প্রযোজ্য তাকে বুঝাবে। বোতলজাত খাবার পানি বা মিনারেল ওয়াটার এর ব্যান্ডরোল ক্রয়ের সময় পরিশোধিত এ অগ্রিম কর পরবর্তীতে করদাতার সংশ্লিষ্ট কর বর্ষের প্রদেয় করের বিপরীতে সমন্বয় করা হবে।

বোতলজাত খাবার পানি বা মিনারেল ওয়াটার এর ক্ষেত্রে উৎসে অগ্রিম কর সংগ্রহের এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২৩। জীবন বীমা পলিসির মুনাফার উপর উৎসে কর আরোপ সংক্রান্ত ধারা 52T সন্নিবেশঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে জীবন বীমা পলিসির মুনাফা প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের বিধান করা হয়েছে। যে সকল জীবন বীমা পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, সে সকল জীবন বীমা পলিসির অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে পলিসি হোল্ডার কর্তৃক পরিশোধিত প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত মুনাফা প্রদান করা হলে সমুদয় মুনাফার উপর ৫% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।

উৎসে কর্তিত এ কর পলিসি হোল্ডারের অগ্রীম আয়কর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রদেয় করের বিপরীতে সমন্বয় করা হবে। তবে বীমা চলাকালীন সময়ে বীমার কিস্তি পরিশোধকারী পলিসি হোল্ডার মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার/উত্তরাধীকার কর্তৃক প্রাপ্ত অর্থের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
তাছাড়া, বীমার মেয়াদ সম্পূর্ণ পূর্তির আগে বীমাকৃত অংকের অংশ বিশেষ ফেরৎ প্রদান করা হলে, উক্ত অর্থের উপর উৎসে কর কর্তনের এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উদাহরণ-১ঃ জনাব আশরাফুল আলম ১৯৯৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর সাথে বার্ষিক ৭,৫০০ টাকা প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ১ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি পলিসি গ্রহণ করেন। জনাব আশরাফুল আলম ১৮ বছর মেয়াদের এ পলিসির অর্থ ৬ বছর পর ২৫% অর্থাৎ ২৫,০০০ টাকা, ১২ (বার) বছর পর ২৫% অর্থাৎ ২৫,০০০ টাকা এবং মুনাফাসহ ১৮ বছর পূর্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে মোট ১,১৫,০০০ টাকা প্রাপ্ত হন। এক্ষেত্রে জনাব আশরাফুল আলমের প্রাপ্ত মুনাফার পরিমাণ নিম্নরূপঃ-

৬ বছর পূর্তিতে প্রাপ্ত
১২ বছর পূর্তিতে প্রাপ্ত
১৮ বছর পূর্তিতে মুনাফাসহ প্রাপ্ত
মোট প্রাপ্তি
২৫,০০০/-
২৫,০০০/-
১,২৫,০০০/-
১,৭৫,০০০/-
বাদঃ ১৮ বছরের প্রিমিয়াম বাবদ পরিশোধ (৭,৫০০ x১৮) ১,৩৫,০০০/-
মুনাফার পরিমাণ
সুতরাং, এক্ষেত্রে ৪০,০০০ টাকা মুনাফার উপর ৫% হারে
উৎসে কর কর্তনের পরিমাণ হবে ২,০০০ টাকা।
৪০,০০০/-

উদাহরণ-২ঃ

জনাব জহুরুল ইসলাম তার সন্তানের নামে ১৬ বছর মেয়াদের বার্ষিক ৭,৬০০ টাকা প্রিমিয়ামে ১৯৯৮ সালে ১ লক্ষ টাকা মূল্য মানের শিক্ষাবীমা গ্রহণ করেন যা থেকে তিনি মেয়াদান্তে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মুনাফাসহ ২,৩০,০০০/- টাকা প্রাপ্ত হন।

এক্ষেত্রে মোট মুনাফার পরিমাণ হবে [২,৩০,০০০ টাকা - (৭৬০০ x১৬)] = ১,০৮,৪০০
টাকা এবং উক্ত মুনাফার উপর ৫% হারে কর কর্তনের পরিমাণ হবে ৫,৪২০ টাকা।

উদাহরণ-৩ঃ

জনাব লাল মিয়া জানুয়ারী ২০০৯ এ বার্ষিক ৯,০০০ টাকা প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে ১ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৮ বছর মেয়াদী একটি জীবন বীমা পলিসি গ্রহণ করেন। ৩ কিস্তিতে ফেদরতযোগ্য এ বীমা পলিসির ৬ বছর পূর্তিতে জানুয়ারী ২০১৫ মাসে বীমা মূল্যের ২৫% অর্থাৎ ২৫,০০০ টাকা ফেরত পান।

এক্ষেত্রে ফেরত প্রাপ্ত ২৫,০০০ টাকার উপর উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য নয়, কারণ এটি মুনাফা নয় বরং পলিসি হোল্ডার কর্তৃক বীমা মূল্যের অংশ বিশেষ ফেরৎ প্রাপ্তি।
এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২৪। মোবাইল ফোন কোম্পানী কর্তৃক পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিং, লাইসেন্স ফিস, চার্জ ইত্যাদির উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 52V সন্নিবেশঃ

মোবাইল ফোন কোম্পানী কর্তৃক স্পেকট্রাম এসাইনমেন্ট ফিস, লাইসেন্স একুইজিশন ফিস, এপ্লিকেশন ফিস, বার্ষিক লাইসেন্স ফিস, লাইসেন্স রিনিউয়াল ফিস, রেভিনিউ শেয়ারিং, সোশাল অবলিগেশন ফান্ডে দান অথবা অন্য কোন ফিস বা চার্জেস ইত্যাদি যে কোন নামে অর্থ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BTRC) কে পরিশোধকালে উক্ত সকল অর্থের উপর ১০% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান করা হয়েছে।

উৎসে কর্তিত এ কর অগ্রিম আয়কর হিসেবে অর্থ গ্রহণকারী বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী কমিশনের (BTRC) করযোগ্য আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর বছরে সমন্বয় করা হবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২৫। বাড়ি ভাড়া হতে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 53A সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে ধারা 53A সংশোধন করে বাড়ী ভাড়ার উপর উৎসে কর কর্তনের পরিধি সমপ্রসারণ করা হয়েছে। সংশোধিত 53A ধারার বিধান অনুযায়ী করদাতার শ্রেণী বা মর্যাদা (status) নির্বিশেষে বাড়ী ভাড়া থেকে উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কোম্পানী করদাতা না হলেও তাদেরকে বাড়ীভাড়া পরিশোধ কালে ৫% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২৬। Export cash subsidy এর উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 53DDD সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53DDD সংশোধন করতঃ export cash subsidy এর উপর উৎসে কর কর্তনের হার ৫% থেকে হ্রাস করে ৩% করা হয়েছে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২৭। ডিষ্ট্রিবিউশন খাতে অনুমিত কমিশন হতে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 53E সংশোধনঃ

যে সকল পণ্য পূর্ব নির্ধারিত খুচরা মূল্যে (এমআরপি) বিক্রি হয়, সে সকল পণ্য লিখিত চুক্তির আওতায় ডিলার বা এজেন্ট এর মাধ্যমে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, এমআরপি ও ডিলার মূল্যের পার্থক্যকে কমিশন বলে গণ্য করে উক্ত অনুমিত কমিশনের উপর ৫% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান করা হয়েছিল। অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে 53E(2) ধারা সংশোধন করতঃ উক্ত অনুমিত কমিশনের উপর উৎসে কর কর্তনের হার ৫% থেকে হ্রাস করে ৩% নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২৮। জমি বা গৃহ সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তর মূল্যের উপর উৎসে অগ্রিম কর সংগ্রহের হার পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত ধারা 53H এর প্রতিস্থাপনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 53H প্রতিস্থাপন এবং আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ তে একটি নতুন বিধিমালা 17II সন্নিবেশের মাধ্যমে জমি বা গৃহ সম্পত্তি বিক্রিয়কালে প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তনের হার সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং চট্টগ্রাম জেলার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জমি বা স্থাপনা রেজিস্ট্রেশনের সময় জমির ক্ষেত্রে কাঠা প্রতি হার অথবা দলিল মূল্যের ৪% (যেটি বেশী) এবং স্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে ৬০০ টাকা অথবা স্থাপনার দলিলমূল্যের ৪% (যেটি বেশী) হারে কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে।

জমি বা গৃহ সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রয় মূল্যের উপর বিদ্যমান উৎসে কর কর্তনের হার পরিবর্তন করে আয়কর বিধি 17II অনুসারে পৃক তিনটি তফসিল (a), (b) এবং (c) তে উৎসে কর কর্তনের প্রযোজ্য হার উল্লেখ করা হয়েছে।

তাছাড়া, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2(15) সংশোধন করে মূলধনী সম্পত্তির সংজ্ঞা পরিবর্তন করায় এবং ধারা 53H প্রতিস্থাপন করায় পে․রসভার বাইরের কৃষি জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রেশন মূল্যের ১% হারে উৎসে কর আরোপের বিধান করাহয়েছে। অগ্রিম আদায়কৃত এ কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনার বিধান বহাল আছে। নির্দিষ্টকৃত এলাকার জমির ক্ষেত্রে কাঠা প্রতি আয়কর এবং স্থাপনার ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি প্রদেয় আয়কর বিষয়ক পরিপত্র নং-১(আয়কর)/২০১৪ তাং-৯ জুলাই ২০১৪ তে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

২৯। রাজউক, সিডিএ, কেডিএ, আরডিএ এবং এনএইচএ কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদী লীজ দলিল রেজিষ্ট্রেশনের সময় দলিল মূল্যের উপর উৎসে অগ্রিম কর সংগ্রহের বিধান সংক্রান্ত ধারা 53HH সন্নিবেশঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে নতুন ধারা 53HH সন্নিবেশ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) এই ৫টি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১০ বছর বা এর অধিক মেয়াদের স্থাবর সম্পত্তির লীজ দলিল রেজিষ্ট্রেশনের সময় দলিল মূল্যের ৪% হারে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে।

আরোপিত এ কর লীজদাতা প্রতিষ্ঠান (lessor) কে পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) সমূহকে এ অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট লীজদাতা কর্তৃপক্ষের করযোগ্য আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের বিপরীতে উক্ত অগ্রিম কর সমন্বয় করা যাবে। অর্থাৎ রাজউক, সিডিএ, কেডিএ, আরডিএ এবং এনএইচএ কর্তৃক পরিশোধিত এই অগ্রিম কর ২০১৫-১৬ কর বর্ষ হতে সংশ্লিষ্ট কর বর্ষের প্রদেয় করের বিপরীতে সমন্বয় করা যাবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

৩০। অনলাইন বিজ্ঞাপনের উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত ধারা 53K সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 53K ধারা সংশোধন করে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি অনলাইন বিজ্ঞাপনের জন্য প্রদেয় অর্থের উপরও ৩% হারে উৎসে কর কর্তন করার বিধান করা হয়েছে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

৩১। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফার উপর উৎসে কর সংগ্রহ সংক্রান্ত ধারা 53N সংশোধনঃ

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা 53N সন্নিবেশিত হয়েছে। উক্ত ধারার বিধান অনুসারে কোন শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক স্টক এক্সচেঞ্জ এর শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তর অথবা হস্তান্তরের ঘোষণা বা হস্তান্তরের অনুমতি প্রদানের সময় স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে উক্ত শেয়ার হস্তান্তর হতে অর্জিত মুনাফার উপর ১৫% হারে উৎসে কর সংগ্রহ করতে হবে।

হস্তান্তরিত শেয়ারের হস্তান্তর মূল্য এবং উক্ত শেয়ারের অর্জন মূল্য (cost of acquisition) এর পার্থক্যকে মুনাফা হিসেবে গণ্য করে উক্ত মুনাফার উপর ১৫% হারে উৎসে কর সংগ্রহ করতে হবে।

এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ অনুসারে ২১ নভেম্বর, ২০১৩ থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে। উক্ত আইনের আওতায় স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন সদস্যগণ তাঁদের সদস্যপদের বিপরীতে প্রত্যেকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সমান সংখ্যক শেয়ার প্রাপ্ত হন এবং প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ স্টক এক্সচেঞ্জ এর একটি Trading Right Entitlement Certificate বা TREC বিনা মূল্যে প্রাপ্ত হন। এ প্রক্রিয়ায় প্রাক্তন মিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যগণ নবগঠিত ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের (শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ কোম্পানী)
শেয়ার হোল্ডারে পরিণত হন।

ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জের উক্ত শেয়ারসমূহ এবং Trading
Right Entitlement Certificate (TREC) হস্তান্তরযোগ্য। 53N ধারার বিধান অনুসারে উক্ত শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফার উপর ১৫% হারে উৎসে কর সংগ্রহ করতে হবে।

প্রতি শেয়ারের অর্জন মূল্য (cost of acquition) নির্ধারণ এবং মুনাফার উপর করারোপঃ

ডিমিউচু্যয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার কোম্পানীসমূহের শেয়ার হস্তান্তর হতে অর্জিত মুনাফা নিরূপনের লক্ষে প্রতিটি শেয়ারের অর্জন মূল্য (cost of acqusition) নিরূপণ করে নিম্নরূপে কর আরোপ করা হবেঃ-

ক) ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার কোম্পানী প্রাক্তন মিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ লাভের জন্য যে অর্থ পরিশোধ করেছে, তাই হবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হতে প্রাপ্ত সকল শেয়ারের এবং Trading Right Entitlement Certificate (TREC) এর অর্জন মূল্য (cost of acquition);

খ) ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার কোম্পানীসমূহের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পূর্বে অর্থাৎ ২১ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখের পূর্বে প্রস্তুতকৃত BALANCE SHEET এ স্টক এক্সচেঞ্জ এর সদস্যপদ লাভের জন্য পরিশোধিত অর্থের যেপরিমাণ প্রদর্শন করা হয়েছে, তাই হবে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে প্রাপ্ত সকল শেয়ার এবং Trading Right Entitlement Certificate (TREC) এর অর্জন মূল্য। এ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের কোন শেয়ার হোল্ডার কোম্পানী যদি স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ/ শেয়ারের পুনঃমূল্যায়ন (revaluation) করে Balance Sheet এর সম্পদ পার্শ্বে অর্জন মূল্যের অতিরিক্ত মূল্য প্রদর্শন করে, সেক্ষেত্রে পুনঃমূল্যায়নের ফলে নিরূপিত বাড়তি মূল্য বা পুনঃমূল্যায়ন রিজার্ভ (revaluation reserve) যা Balance Sheet এর দায় ও ইক্যুইটি পার্শ্বে প্রদর্শণ করা হয়ে থাকে তা বিবেচনায় না নিয়ে প্রকৃত অর্জন মূল্যকেই উক্ত শেয়ার ও Trading Right Entitlement Certificate (TREC) এর অর্জন মূল্য (cost of acquition) হিসেবে গণ্য করতে হবে;

গ) স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফার উপর করারোপের লক্ষে, প্রাক্তন স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদের অর্জন মূল্যই ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে প্রাপ্ত সমুদয় শেয়ারের অর্জন মূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। মোট অর্জন মূল্যকে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হতে প্রাপ্ত মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতি শেয়ারের অর্জন মূল্য নিরূপণ করতে হবে;

ঘ) হস্তান্তরিত শেয়ারের মোট মূল্য হতে উক্ত শেয়ার সমূহের অর্জন মূল্য (প্রতি শেয়ারের অর্জন মূল্য x হস্তান্তরিত শেয়ার সংখ্যা) বাদ দিয়ে অর্জিত মুনাফা নিরূপণ করতঃ নিরূপিত মুনাফার উপর ১৫% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে;

ঙ) যেহেতু প্রাক্তন স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ প্রাপ্তির জন্য ব্যয়িত সমুদয় মূল্য ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের সকল শেয়ারের অর্জন মূল্য হিসাবে বিবেচিত হবে, সেহেতু Trading Right Entitlement Certificate (TREC) এর অর্জন মূল্য শূণ্য হিসেবে গণ্য করে TREC হস্তান্তর হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থই অর্জিত মূলধনী মুনাফা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের বিধান না থাকায় উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না। TREC হস্তান্তর থেকে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থের উপর করদাতা কোম্পানীকে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত মূলধনী মুনাফার উপর প্রযোজ্য হারে অর্থাৎ ১৫% হারে কর প্রদান করতে হবে।

এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে কার্যকর হবে।

উদাহরণ-১ঃ

কর্ণফুলী সিকিউরিটিজ লিঃ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন সদস্য এবং বর্তমান শেয়ারহোল্ডার। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পর উক্ত কোম্পানী স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদের বিপরীতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭২,১৫,১০৬ টি শেয়ার এবং উক্ত এক্সচেঞ্জের একটি TREC প্রাপ্ত হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেও উক্ত কোম্পানী তার সদস্যপদের বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪২,৮৭,৩৩০ টি শেয়ার এবং উক্ত স্টক এক্সচেঞ্জের একটি TREC প্রাপ্ত হয়।
উক্ত কোম্পানী ৩১/১২/২০১২ তারিখের Balance Sheet এর সম্পদ হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদের প্রকৃত অর্জন মূল্য ১,১৬,০৬,০০০/- টাকা হলেও পুনঃমূল্যায়িত মূল্য (revaluation price) ৭,২১,৫১,০৬০/- টাকা প্রদর্শন করে এবং পুনঃমূল্যায়ন রিজার্ভ হিসেবে অবশিষ্ট ৬,০৫,৪৫,০৬০ টাকা Balance Sheet এ ইক্যুইটি হিসাবে প্রদর্শন করে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদের প্রকৃত অর্জন মূল্য ৫০,০০,০০০/- টাকা হলেও উক্ত তারিখের Balance Sheet এ সম্পদ হিসেবে ৪,২৮,৭৩,৩০০ টাকা প্রদর্শন করে এবং পুনঃমূল্যায়ন রিজার্ভ হিসেবে অবশিষ্ট ৩,৭৮,৭৩,৩০০/- টাকা Balance Sheet এ ইক্যুইটি হিসেবে প্রদর্শন করে।

মার্চ ২০১৫ তে যদি উক্ত কোম্পানী তার মালিকানাধীন স্টক এক্সচেঞ্জ এর শেয়ার হতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর ৩০ লক্ষ শেয়ার প্রতিটি ৯০ টাকা দরে বিক্রয় করে এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর শেয়ার হতে ১০ লক্ষ শেয়ার প্রতিটি ৮৫ টাকা দরে বিক্রয় করে এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের TREC টি ৫ কোটি টাকায় বিক্রয় করে, তবে নিম্নরূপে কর পরিশোধ করতে হবেঃ-

ক্রমিক
নং

বিবরণ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

চট্টগ্রাম স্টক

সদস্যপদের প্রকৃত অর্জন মূল্য

১,১৬,০৬,০০০/-

৫০,০০,০০০/-

ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ
হতে প্রাপ্ত শেয়ার সংখ্যা

৭২,১৫,১০৬ টি

৪২,৮৭,৩৩০ টি

প্রতিটি শেয়ারের অর্জন মূল্য (১÷২)

১.৬০৬৮৫৭

১.১৬৬২২

হস্তান্তরিত শেয়ারের সংখ্যা

৩০,০০,০০০ টি

১০,০০,০০০ টি

প্রতিটি শেয়ারের হস্তান্তর মূল্য

৯০/-

৮৫/-

হস্তান্তরিত শেয়ারের মোট হস্তান্তর মূল্য ২৭,০০,০০,০০০/-

৮,৫০,০০,০০০/-

হস্তান্তরিত শেয়ারের প্রকৃত অর্জন মূল্য (৪÷৩) ৪৮,২৫,৭১০/-

১১,৬৬,২২০/-

শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফা (৬-৭) ২৬,৫১,৭৪,২৯০/-

৮,৩৮,৩৩,৭৮০/-

53N ধারার বিধান অনুযায়ী উৎসে কর সংগ্রহের হার ১৫%

১৫%

১০

উৎসে সংগ্রহযোগ্য করের পরিমাণ ৩,৯৭,৭৬,১৪৩/-

১,২৫,৭৫,০৬৭/

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের Trading Right Entitlement Certificate (TREC) হস্তান্তর বাবদ প্রাপ্ত ৫ কোটি টাকা সম্পূর্ণই অর্জিত মূলধনী মুনাফা বলে গণ্য হবে এবং উক্ত মূলধনী মুনাফার উপর কর্ণফুলী সিকিউরিটিজকে ১৫% হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

উদাহরণ-২ঃ

যমুনা সিকিউরিটিজ লিঃ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন সদস্য হিসেবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭২,১৫,১০৬ টি শেয়ার এবং একটি Trading Right Entitlement Certificate (TREC) প্রাপ্ত হয়।

এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ অর্জনের প্রকৃত মূল্য ৮০,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ উক্ত কোম্পানী তার Balance Sheet এ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর সদস্যপদের মূল্য বাজার দরে পুনঃমূল্যায়ন করেনি। জানুয়ারী ২০১৫ তে উক্ত কোম্পানী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এর ২০ লক্ষ শেয়ার প্রতিটি ৫০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর করলে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 53N ধারার বিধান অনুসারে নিম্নরূপে উৎসে কর কর্তন করতে হবেঃ-

ক্রমিক
নং

বিবরণ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

সদস্যপদের প্রকৃত অর্জন মূল্য ৮০,০০,০০০/-

ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হতে প্রাপ্ত শেয়ার সংখ্যা ৭২,১৫,১০৬ টি

প্রতিটি শেয়ারের অর্জন মূল্য (১÷২) ১.১০৮৭৮

হস্তান্তরিত শেয়ারের সংখ্যা ২০,০০,০০০ টি

প্রতিটি শেয়ারের হস্তান্তর মূল্য ৫০/-

হস্তান্তরিত শেয়ারের মোট হস্তান্তর মূল্য ১০,০০,০০,০০০ /-

হস্তান্তরিত শেয়ারের প্রকৃত অর্জন মূল্য (৪÷৩) ২২,১৭,৫৬০/-

শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফা (৬-৭) ৯,৭৭,৮২,৪৪০/-

53N ধারার বিধান অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের হার ১৫%

-

উৎসে কর্তনযোগ্য করের পরিমাণ ১,৪৬,৬৭,৩৬৬ /-

উদাহরণ-৩ঃ

মেঘনা সিকিউরিটিজ লিঃ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন সদস্য হিসেবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭২,১৫,১০৬ টি শেয়ার এবং একটি Trading Right Entitlement Certificate (TREC) প্রাপ্ত হয়।

উক্ত কোম্পানী ৩০/০৬/২০১৩ ইং তারিখের Balance Sheet এ সম্পদ হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ অর্জনের প্রকৃত মূল্য ৩২,০২,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ উক্ত কোম্পানী তার Balance Sheet এ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর সদস্যপদের মূল্য বাজার দরে পুনঃমূল্যায়ন করেনি। সেপ্টেম্বর ২০১৪ তে উক্ত কোম্পানী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এর ৫ লক্ষ শেয়ার প্রতিটি ৪০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর করলে আয়কর
অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 53N ধারার বিধান অনুসারে নিম্নরূপে উৎসে কর সংগ্রহ করতে হবেঃ-

ক্রমিক
নং

বিবরণ

ঢাকা স্টক
এক্সচেঞ্জ

সদস্যপদের প্রকৃত অর্জন মূল্য ৩২,০২,০০,০০০/-
ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হতে প্রাপ্ত শেয়ার সংখ্যা ৭২,১৫,১০৬ টি
প্রতিটি শেয়ারের অর্জন মূল্য (১÷২) ৪৪.৩৭৯১১
হস্তান্তরিত শেয়ারের সংখ্যা ৫,০০,০০০ টি
প্রতিটি শেয়ারের হস্তান্তর মূল্য ৪০/-
হস্তান্তরিত শেয়ারের মোট হস্তান্তর মূল্য ২,০০,০০,০০০/-
হস্তান্তরিত শেয়ারের প্রকৃত অর্জন মূল্য (৪÷৩) ২,২১,৮৯,৫৫৫/-
শেয়ার হস্তান্তর থেকে ক্ষতি (৬-৭) (২১,৮৯,৫৫৫) /-

এক্ষেত্রে মেঘনা সিকিউরিটিজ লিঃ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর শেয়ার হস্তান্তর করে মুনাফা অর্জন করেনি, বরং তার ক্ষতি হয়েছে বিধায় আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 53N ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না অর্থাৎ উৎসে কোন কর সংগ্রহ করতে হবে না।

উদাহরণ-৪ঃ

পদ্মা সিকিউরিটিজ লিঃ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন সদস্য হিসেবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪২,৮৭,৩৩০ টি শেয়ার এবং একটি Trading Right Entitlement Certificate (TREC)) প্রাপ্ত হয়।

উক্ত কোম্পানী ৩০/০৬/২০১৩ ইং তারিখের Balance Sheetএ সম্পদ হিসেবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ অর্জনের প্রকৃত মূল্য ৩,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ উক্ত কোম্পানী Balance Sheet এ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর সদস্যপদের মূল্য বাজার দরে পুনঃমূল্যায়ন করেনি। জানুয়ারী ২০১৫ তে উক্ত কোম্পানী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এর ১০ লক্ষ শেয়ার প্রতিটি ৩০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর করলে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 53N ধারার বিধান অনুসারে নিম্নরূপে উৎসে কর সংগ্রহ করতে
হবেঃ-

ক্রমিক
নং

বিবরণ

চট্টগ্রাম স্টক
এক্সচেঞ্জ

সদস্যপদের প্রকৃত অর্জন মূল্য ৩,০০,০০০/-
ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হতে প্রাপ্ত শেয়ার সংখ্যা ৪২,৮৭,৩৩০ টি
প্রতিটি শেয়ারের অর্জন মূল্য (১÷২) ০.০৬৯৯৭
হস্তান্তরিত শেয়ারের সংখ্যা ১০,০০,০০০ টি
প্রতিটি শেয়ারের হস্তান্তর মূল্য ৩০/-
হস্তান্তরিত শেয়ারের মোট হস্তান্তর মূল্য ৩,০০,০০,০০০/-
হস্তান্তরিত শেয়ারের প্রকৃত অর্জন মূল্য (৪÷৩) ৬৯,৯৭০/-
শেয়ার স্থানান্তর থেকে অর্জিত মুনাফা (৬-৭) ২,৯৯,৩০,০৩০/-
53N ধারার বিধান অনুযায়ী উৎসে কর সংগ্রহের হার ১৫%
১০ উৎসে সংগ্রহযোগ্য করের পরিমাণ ৪৪,৮৯,৫০৪/-

উদাহরণ-৫ঃ

সুরমা সিকিউরিটিজ লিঃ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন সদস্য হিসেবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪২,৮৭,৩৩০ টি শেয়ার এবং একটি Trading Right Entitlement Certificate (TREC) বিনা মূল্যে প্রাপ্ত হয়।

উক্ত কোম্পানী ৩০/০৬/২০১৩ ইং তারিখের Balance Sheet এ সম্পদ হিসেবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ অর্জনের প্রকৃত মূল্য ২৮,০০,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ উক্ত কোম্পানী তার Balance Sheet এ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর সদস্যপদের মূল্য বাজার দরে পুনঃমূল্যায়ন করেনি। এপ্রিল ২০১৫ তে উক্ত কোম্পানী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এর ১০ লক্ষ শেয়ার প্রতিটি ৭০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর করলে আয়কর
অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 53N ধারার বিধান অনুসারে নিম্নরূপে উৎসে কর সংগ্রহ করতে হবেঃ-

ক্রমিক
নং

বিবরণ

চট্টগ্রাম স্টক
এক্সচেঞ্জ

সদস্যপদের প্রকৃত অর্জন মূল্য

২৮,০০,০০,০০০/-

ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হতে প্রাপ্ত শেয়ার সংখ্যা

৪২,৮৭,৩৩০ টি

প্রতিটি শেয়ারের অর্জন মূল্য (১÷২)

৬৭.১৭৪৬৮

হস্তান্তরিত শেয়ারের সংখ্যা

১০,০০,০০০ টি

প্রতিটি শেয়ারের হস্তান্তর মূল্য

৭০/-

হস্তান্তরিত শেয়ারের মোট হস্তান্তর মূল্য

৭,০০,০০,০০০ /-

হস্তান্তরিত শেয়ারের প্রকৃত অর্জন মূল্য (৪÷৩)

৬,৭১,৭৪,৬৮০/-

শেয়ার হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফা (৬-৭)

২৮,২৫,৩২০ /-

53N ধারার বিধান অনুযায়ী উৎসে কর সংগ্রহের হার

১৫%

১০

উৎসে সংগ্রহযোগ্য করের পরিমাণ

৪,২৩,৭৯৮/-

৩২। শেয়ার বাজারের মুনাফার উপর উৎসে কর আরোপ সংক্রান্ত ধারা 53O সন্নিবেশঃ

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ তে কোম্পানী ও ফার্ম শ্রেণীর করদাতা কর্তৃক শেয়ার বাজার থেকে অর্জিত মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত একটি নতুন ধারা 53O সংযোজন করা হয়েছে। উক্ত ধারার বিধান মোতাবেক কোম্পানী/ফার্ম শ্রেণীর করদাতা কর্তৃক ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর শেয়ার লেনদেন থেকে অর্জিত মুনাফার উপর ১০% হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের হিসাব সংরক্ষক বা তত্ত্বাবধানকারী (custodian) ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা Trading Right Entitlement Certificate (TREC) হোল্ডার সংশ্লিষ্ট কোম্পানী বা ফার্মের শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত মুনাফার উপর ১০% হারে কর পরিগণনা করে উৎসে কর আদায় করবে। উৎসে কর্তিত এ কর সংশ্লিষ্ট কোম্পানী বা ফার্মের শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত মুনাফার উপর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রতিটি আর্থিক বছরের ৩০ জুন তারিখে সমাপ্ত বর্ষের জন্য কোম্পানী বা ফার্মের বেনিফিশিয়ারী ওনার্স একাউন্ট (বি.ও. একাউন্ট) পরিচালনাকারী TREC হোল্ডার, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে উক্ত বি.ও. একাউন্টে শেয়ার ক্রয়বিক্রে য়র মাধ্যমে যে পরিমাণ নীট মুনাফা অর্জিত (net realized gain) হবে, তার উপর ১০% হারে কর কর্তন করে যথানিয়মে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করতঃ, সংশ্লিষ্ট বি.ও. একাউন্ট-এর হিসাবে ডেবিট করতে হবে। Net realized gain হিসাব করার সময় উক্ত বি.ও. হিসাবে সংশ্লিষ্ট বছরে ডেবিটকৃত কমিশন, ফিস, ঋণের আনুপাতিক সুদ বা চার্জ ইত্যাদি খরচ মোট অর্জিত মুনাফা থেকে বাদ দিতে হবে। তবে unrealized gain করযোগ্য আয় নয় এবং এর উপর কোন উৎসে কর কর্তন করতে হবে না।

কোন কোম্পানী বা ফার্মের বি.ও. হিসাবে পর্যাপ্ত ক্রেডিট ব্যালেন্স না থাকলেও সংশ্লিষ্ট TREC হোল্ডার, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে উৎসে কর কর্তন করে সংশ্লিষ্ট বি.ও. একাউন্টে ডেবিটকরতঃ যথাসময়ে সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে।

কর নির্ধারণ পর্যায়ে কোম্পানী বা ফার্ম কর্তৃক শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত মুনাফা খাতে ধারা 82C(4) অনুসারে আয় পরিগণনার সময় অর্জিত মুনাফার উপর কর্তিত করের আনুপাতিক অংশই করদাতার এ খাতে আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত মুনাফার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট বিধায় প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ এবং এ খাতে ধারা 82C(4) অনুসারে নিরূপিত আনুপাতিক আয় এর পার্থক্যের উপর ধারা 82C(6) এর বিধান প্রযোজ্য হবে না এবং করদাতাকে উক্ত পার্থক্যের জন্য কোন অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে না।

করদাতা কোম্পানী বা ফার্মের শেয়ার লেনদেন হতে অর্জিত মুনাফার উপর উৎসে কর্তিত এ কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হবে। উৎসে কর কর্তনের এ বিধান ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে এবং ৮২সি ধারায় চূড়ান্ত করদায় সংক্রান্ত বিধান ২০১৫-১৬ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

উদাহরণ-১ঃ

XYZ লিঃ সুরমা সিকিউরিটিজ লিঃ এর একটি বি.ও. হিসাব পরিচালনার মাধ্যমে শেয়ার বা সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বিভিন্ন শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যমে XYZ লিঃ ২৫,০০,০০০/- টাকা মুনাফা অর্জন করে। সুরমা সিকিউরিটিজ লিঃ উক্ত অর্থ বছরে ঋণের সুদ বাবদ ২,০০,০০০/- টাকা এবং বিভিন্ন ফিস/কমিশন ও চার্জ বাবদ ২০,০০০/- টাকা, XYZ লিঃ এর বি.ও. একাউন্টে চার্জ করে। ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে উৎসে কর কর্তনের পূর্বে XYZ লিঃ এর বি.ও. একাউন্টের ডেবিট ব্যালেন্স অর্থাৎ সুরমা সিকিউরিটিজ লিঃ এর নিকট XYZ লিঃ এর দেনার পরিমাণ ছিল ৫,০০,০০,০০০/- টাকা।

এক্ষেত্রে সুরমা সিকিউরিটিজ লিঃ XYZ লিঃ এর নীট অর্জিত মুনাফা [২৫,০০,০০০ - (২,০০,০০০+২০,০০০)] = ২২,৮০,০০০/- টাকার উপর ১০% হারে ২,২৮,০০০/- টাকা