Business Blog

Displaying 51-60 of 81 results.

নতুন ভ্যাট আইনে ২০ সুবিধা

Picture

আগামী অর্থবছর থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত হবে ভ্যাট বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর)। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে নতুন মূসক আইন কার্যকর হবে।
নতুন আইন বাস্তবায়ন, সেবা প্রদান ও মূসক আদায় হবে অনলাইনে। ফলে, সনাতনী মূসক আইনে হয়রানির অভিযোগবিহীন করদাতারা পাবেন নতুন ২০টি সুবিধা।
২০টি সুবিধা হলো-
- মূল্য ঘোষণার ঝামেলা নেই। বিদ্যমান আইনে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল পণ্যের মূল্য ঘোষণা, যা বর্তমান আইনে থাকছে না।
ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বা সেবা যে মূল্যে বিক্রি করবেন, সে মূল্যেই মূসক পরিশোধ করবেন। এ মূল্যের মধ্যেই মূসক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- নতুন আইনে চলতি হিসাব রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে না। চলতি হিসাবের জটিলতা নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে না।
- রেয়াত গ্রহণ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে। নতুন আইনে উপকরণ কর রেয়াতের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেয়াত পাওয়া যাবে আগের তুলনায় অনেক বেশি।
- আমদানিতে বিল অফ এন্ট্রি, সরবরাহ ক্ষেত্রে চালানপত্র, উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রে সমন্বিত চালানপত্র এবং উৎসে কর সংক্রান্ত সনদ দাখিল করলে রেয়াত পাওয়া যাবে।
- রিটার্ন দাখিলে মূসক অফিসে যেতে হবে না। যে কোনো সময় অনলাইনে দাখিল করা যাবে। দাখিল করা রিটার্নে ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
- নতুন আইনে ব্যাংকে না গিয়ে অনলাইনে মূসক পরিশোধের ব্যবস্থা থাকছে। ট্রেজারি চালান ছাড়াও ব্যাংক ও অনলাইনের মাধ্যমে মূসক প্রদান করা যাবে।
এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিস্তিতে মূসক পরিশোধ করার সুযোগ থাকছে। মূসক পরিশোধের পেমেন্ট কপি করদাতা ও বিভাগীয় দফতর সংরক্ষণ করবে।
- রিফান্ড পদ্ধতি অনলাইনে করা হয়েছে। অনলাইনে রিফান্ড পাওয়া যাবে। রিফান্ড গ্রহণের ক্ষেত্রে ৬ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
যদি কোনো কারণে ৬ মাস অতিক্রান্ত হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশনারের কাছে আবেদন করলে তা ৩ মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে। টাকা সরাসরি করদাতার অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।
- মূসক আইনে আপিল আবেদন অত্যন্ত জটিল। নতুন আইনে অনলাইনের মাধ্যমে আপিল আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, সে আদেশের বিস্তারিত অনলাইনে পাবেন। অনলাইনে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি অনলাইনে জানতে পারবেন।
- কমিশনারেট ও বিভাগীয় অফিসে ‘ট্যাক্স পেয়ার সার্ভিস সেন্টার’ থাকবে। সেখানে ছোট ছোট গ্রুপ করে কমিশনাররা করদাতাদের অভিযোগ শুনে সমাধান দেবেন।
একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে উন্মুক্ত সভা, সেমিনার করা হবে। সেখানে সমস্যা শোনা ও তার সমাধান দেওয়া হবে।
- মূসক নিবন্ধনে মূসক অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বা অফিসে অনলাইনের মাধ্যমে মূসক নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করা যাবে।
- ব্যবসায়ীদের মূসক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারানোর ভয় থাকবে না। সব কাগজপত্র, তথ্য অনলাইনে করদাতার মূসক অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে।
- রিটার্ন অনলাইনে দাখিলে ভ্যাট কমিশনারেট অফিস বা বিভাগীয় অফিসে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে তা দাখিল করতে পারবেন।
- মূসক দিতে যে কোনো জটিলতায় থাকবে কন্ট্যাক্ট সেন্টার। সেখান থেকে মূসক সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান পাওয়া যাবে ২৪ ঘণ্টা।
- বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান মূসক প্রদান করে থাকে। তাদের জন্য থাকবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস।
- নতুন আইনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করতে বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লাখ টাকা বা তার কম টার্নওভার সম্পন্ন হলে মূসক দিতে হবে না।
- ৩০ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ৮০ লাখ টাকার কম বার্ষিক টার্নওভার সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার কর প্রদান করলেই হবে।
- অনাবাসিক ব্যক্তি (দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তি) এজেন্টের মাধ্যমে মূসক প্রদান করতে পারবেন অথবা অনলাইনে মূসক পরিশোধ করতে পারবেন।
- সম্পূরক শুল্কের পরিধি কমিয়ে অনেক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
- সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রদানের ফলে ছোট বড় সব প্রতিষ্ঠান সমান ব্যবসার সুযোগ পাবে।
- টার্নওভার সুবিধাপ্রাপ্ত ইউনিটগুলো সরাসরি আমদানি-রফতানি করতে পারবে।
- নতুন আইনের আওতায় মূসক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটার ভিত্তিক হওয়ায় তা পরিপালন সহজতর হবে।


 

রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি

Picture

বর্তমানে রিটার্ন দাখিলের জন্য দু’টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যথাঃ  সাধারণ পদ্ধতি ও সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতি। নিম্নে পদ্ধতি  দু’টি  স¤পর্কে  বিস্তারিত আলোচনা  করা হলোঃ

সাধারণ পদ্ধতিঃ
রিটার্নে  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতি  উল্লেখ  করা  না  হলে  রিটার্নটি  সাধারণ  পদ্ধতির আওতায়  দাখিলকৃত  বলে  গণ্য  হবে।  এক্ষেত্রে  রিটার্নে  প্রদর্শিত  আয়ের  সমর্থনে যথোপযুক্ত তথ্য ও প্রমাণাদি না থাকলে করদাতার শুনানী গ্রহণপূর্বক মামলা নি®পত্তির বিধান রয়েছে।

সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিঃ
করদাতা তাঁর নিজের আয় নিজে পরিগণনা করে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করবেন -এটি  বিশ্বব্যাপী  বহুল  অনুসৃত  পদ্ধতি।  এই  পদ্ধতিতে  করদাতার  দাখিলকৃত  রিটার্ন প্রাথমিকভাবে বিনা প্রশ্নে আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়। রিটার্ন দাখিলের সমর্থনে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এক্ষেত্রে কর  নির্ধারণী  আদেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।  করদাতা রিটার্ন ফরম পূরণ পর্যায়ে রিটার্নের প্রথম পৃষ্ঠায়  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতির ঘরে টিক প্রদান করলে কিংবা  রিটার্নের  উপরে  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতি  উল্লেখ করলে দাখিলকৃত রিটার্নটি  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতির  আওতায়  গৃহীত  হবে।  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে  দাখিলকৃত  রিটার্ন   সমূহের  মধ্যে  একটি  অংশ  জাতীয়  রাজস্ব  বোর্ড  কর্তৃক নির্ধারিত এর ভিত্তিতে পরবর্তীতে অডিট হয়ে থাকে।
২০১৪-২০১৫ করবর্ষে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্ণসমূহের মধ্যে যে সকল রিটার্ন পূর্ববর্তী কর বছরের নিরূপিত আয়ের কমপক্ষে ২০% আয় বৃদ্ধি করে এবং নি¤েœাক্ত শর্ত সমূহ  পূরণ করে  দাখিল  করবে  কর বিভাগ  কর্তৃক  উক্ত  রিটার্ন  অডিট  না করার বিধান করা হয়েছে।
পালনীয় শর্তসমূহঃ
ক. রিটার্নের ভিত্তিতে ফেরতযোগ্য কর সৃষ্টি হবে না।
খ. কোনরূপ দান গ্রহণ প্রদর্শন করা যাবে না।
গ. রিটার্নে করমুক্ত আয় প্রদর্শন করলে করমুক্ত আয়ের সমর্থনে যাচাইযোগ্য দালিলিক প্রমানাদি রিটার্নের সাথে দাখিল করতে         হবে।
ঘ. আয়কর  অধ্যাদেশ,  ১৯৮৪  এর  ৪৪  ধারা  অনুযায়ী  জারীকৃত  প্রজ্ঞাপন অনুসারে  হ্রাসকৃত হারে আয়কর প্রযোজ্য হয়         এরূপ কোন আয় প্রদর্শন করা যাবে না।
ঙ. ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য যেকোন উৎস থেকে ৫ লক্ষ টাকার অধিক ঋণ গ্রহন প্রদর্শন করা হলে দাখিলকৃত         রিটার্নের সাথে গৃহীত ঋণ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বিবরণী বা হিসাব বিবরণী দাখিল করতে হবে।
পূর্ববর্তী  বছরের  ন্যায়  এ  বছরও  আয়কর  অধ্যাদেশের  ৮২বিবি  ধারায়  সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত নতুন রিটার্নে ব্যবসা ও পেশা খাতে প্রদর্শিত আয়ের ৪ গুন হারে প্রারম্ভিক পূঁজি নেয়া যাবে। তবে এ পূঁজি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট আয় বছরে বা আয় বছর শেষ হওয়ার  পরবর্তী ৫  বছরের মধ্যে  ব্যবসা বা পেশা থেকে  স্থানান্তর  করা  যাবে না। করলে যে বছর স্থানান্তর করা হবে, সে বছরের সংশ্লিষ্ট করবছরে অর্থ স্থানান্তরকারীর অন্যান্য উৎসের আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য যে, নিরীক্ষার আওতায় না পড়লেও কোন রিটার্নে আয় গোপন করা হলে বা কর ফাঁকি থাকলে, সংশ্লিষ্ট করবছরের  রিটার্নের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের ৯৩  ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

উদাহরণ-১
করদাতা জনাব ইকবাল হোসেন ২০১৪-১৫ কর বছরে ১০ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় সারচার্জসহ প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬ শত টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। ৩০ জুন, ২০১৩ তারিখে তিনি ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করেন। তিনি ২০১৪-১৫ কর বছরের আয়কর রিটার্নে IT-10B ফরম এর ক্রমিক নং- ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ তে কোন তথ্যাদি প্রদান করেননি। অর্থাৎ করদাতা ২০১৩-১৪ আয় বছরের খরচের হিসাব, সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ এবং সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাখ্যা প্রদর্শন করেননি।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব ইকবাল বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করে রিটার্ন দাখিল করলেও ২০১৪-১৫ কর বছরের দাখিলকৃত রিটার্নটিকে পড়সঢ়ষবঃব রিটার্ন বলে গণ্য করা যাবে না। ফলে করদাতা তাঁর রিটার্নটি ৮২ইই ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-২
করদাতা জনাব বদিউল আলম ২০১৪-১৫ কর বছরে ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। ৩০ জুন, ২০১৩ তারিখে তিনি ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করেন। ২০১৪-১৫ কর বছরের আয়কর রিটার্নে IT-10BB র্ফম এ ২০১৩-১৪ আয় বছরের যাবতীয় খরচ বাবদ মোট ১০ লক্ষ টাকা প্রদর্শন করেন এবং তা ওঞ-১০ই র্ফম এর ক্রমিক নং- ১৫ তে উল্লেখ করেন। তিনি ৩০ জুন, ২০১৪ তারিখের IT-10B ফরম এর ক্রমিক নং- ১৮ তে ১০ লক্ষ টাকা পার্থক্য প্রদর্শন করেন।  অর্থাৎ ৩০ জুন, ২০১৪ তারিখে করদাতা জনাব বদিউল আলমের সম্পদ বৃদ্ধি ও খরচের পরিমাণ ২০১৩-১৪ আয় বছরের আয়ের উৎসের তুলনায় ১০ লক্ষ টাকা বেশি।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব বদিউল আলম বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করে রিটার্ন দাখিল করলেও ২০১৪-১৫ কর বছরের দাখিলকৃত রিটার্নটিকে সঠিক রিটার্ন বলে গণ্য করা যাবে না এবং করদাতা তাঁর রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না। কারণ এক্ষেত্রে করদাতার সম্পদ বৃদ্ধি ও খরচের পরিমাণ তাঁর আয়ের পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং এ রিটার্নটিকে সাধারণ পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্ন বলে অভিহিত করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ৮৩(২) অথবা ৮৪ ধারায় কর নির্ধারণ করা যাবে।

উদাহরণ-৩
করদাতা জনাব রুহুল আমিন ২০১৪-১৫ কর বছরে ২০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব রুহুল আমিন বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করেননি বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-৪
করদাতা জনাব জসীমুদ্দিন আহম্মেদ ২০১৪-১৫ কর বছরে ১০ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় সারচার্জসহ প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬ শত টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে বিদেশে অর্জিত আয় হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা করমুক্ত আয় প্রদর্শন করেন কিন্তু উক্ত আয়ের স্বপক্ষে কোনরূপ দালিলিক প্রমাণাদি দাখিল করেন নাই। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব জসীমুদ্দিন আহম্মেদ বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকবে না, কারণ তিনি রিটার্নের সাথে করমুক্ত আয়ের স্বপক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণাদি দাখিল করেননি।  

উদাহরণ-৫
করদাতা মোসাঃ শামীমা পারভীন ২০১৪-১৫ কর বছরে ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে ৮২ইই ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে তাঁর স্বামীর নিকট থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দান প্রাপ্তি প্রদর্শন করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১১ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে ৮২ইই ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাবা শামীমা পারভীন বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বছরে দান প্রাপ্তি প্রদর্শন করেন বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি ৮২ইই ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-৬
করদাতা সেহেলা সিদ্দিকা ২০১৪-১৫ কর বছরে ১০ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় সারচার্জসহ প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ৪ হাজার ৫ শত টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে তাঁর মামার নিকট থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ প্রদর্শন করেন কিন্তু ঋণ গ্রহণের সমর্থনে তাঁর ব্যাংক বিবরণী দাখিল করেননি। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা সেহেলা সিদ্দিকা বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বর্ষে ঋণ গ্রহণের সমর্থনে ব্যাংক বিবরণী দাখিল করেননি বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।  

উদাহরণ-৭
করদাতা জনাব রবিউল আওয়াল ২০১৪-১৫ কর বছরে ২০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১৬ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। তিনি উক্ত রিটার্নে মৎস্য চাষ খাতে ৫ লক্ষ টাকা আয় প্রদর্শন করেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব রবিউল আওয়াল বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বছরে হ্রাসকৃত হারে আয়কর প্রযোজ্য হয় এরূপ মৎস্য চাষ খাতে আয় প্রদর্শন করেছেন বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-৮
করদাতা জনাব শামীম আল মামুন ২০১৪-১৫ কর বছরে ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে উৎসে কর পরিশোধ বাবদ ৫০ হাজার টাকা, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ বাবদ ১ লক্ষ টাকা এবং বিগত কর বছরের ফেরত যোগ্য কর বাবদ ৭৫ হাজার টাকা সর্বমোট ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা কর পরিশোধ দাবি করে উক্ত রিটার্নে ৩৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য কর প্রদর্শন করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১১ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব শামীম আল মামুন বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বর্ষের রিটার্নে ফেরতযোগ্য কর প্রদর্শন করেছেন বিধায় তাঁর দাখিলকৃত
রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।
এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

করমুক্ত এবং কর অব্যাহতির জন্য দাবীকৃত আয় (করবর্ষ ২০১৫-২০১৬ জন্য প্রযোজ্য)

Picture

করদাতার করমুক্ত এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয় থাকলে তা এখানে দেখাতে হবে। ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের কয়েকটি আইটেম নিচে দেয়া হলোঃ
(১)    করদাতা যদি চাকুরীর দায়িত্ব পালনের জন্য কোন বিশেষ ভাতা, সুবিধা বা আনুতোষিক (perquisite) পান;
(২)    পেনশন;
(৩)    অংশীদারী ফার্ম হতে পাওয়া মূলধনী মুনাফার (ফার্ম কর্তৃক কর পরিশোধিত) অংশ;
(৪)    গ্রাচুইটি প্রাপ্তি;
(৫)    প্রভিডেন্ট ফান্ড (এ্যাক্ট, ১৯২৫ অনুযায়ী) থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৬)    স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৭)    স্বীকৃত সুপারএ্যানুয়েশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৮)    কোম্পানীজ প্রফিট  (ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন) এ্যাক্ট ১৯৬৮ এর আওতায় ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৯)    মিউচুয়্যাল ফান্ড অথবা ইউনিট ফান্ড থেকে পাওয়া লভ্যাংশ (dividend)) যা ২৫,০০০/-টাকার বেশী নয়;
(১০)    নগদ লভ্যাংশ খাতে প্রাপ্ত আয় ২০,০০০/- টাকা পর্যন্ত
(১১)    সরকারি নিরাপত্তা জামানতের সুদ যা সরকার করমুক্ত বলে ঘোষণা করেছে;
(১২)    রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ী অধিবাসীর দ্বারা এই জেলাগুলোতেপরিচালিত আর্থিক কর্মকান্ডের ফলে প্রাপ্ত আয়;
(১৩)    রপ্তানী ব্যবসা হতে প্রাপ্ত আয়ের ৫০%;
(১৪)    আয়ের একমাত্র উৎস ’কৃষি খাত’ হলে কৃষি খাত হতে আয় ২,০০,০০০/-টাকা পর্যন্ত;
(১৫)    ২০০৮ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিন হতে ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ত্রিশতম দিন পর্যন্ত Software Development and info-rmation Technology Enabled Services (ITES) এর ব্যবসা-উদ্ভূত যেকোন আয়  তবে শর্ত থাকে যে, সংশি−ষ্ট ব্যাক্তি ধারা ৭৫(২) (সি) এর বিধানমতে আয়কর রিটার্ণ দাখিল করতে হবে।
ব্যাখ্যা- Info-rmation Technology Enabled Services (ITES) ej‡Z Digital Content Development and Manage-ment,Animation (both 2D and 3D), Geographic Information Service (GIS), IT Support and Software Maintenance Services, Web Site Services Business Process Outsourcing, Data Entry, Data Processing,Call Centre,Graphics Design (Digital Service),Search Engine Optimization,Web Listing, E-commerse and Online Shopping,Document Conversion,Imaging and Archiving বুঝাবে ।  

(১৬)    ১লা জুলাই ২০১১ হতে তারিখ ৩০শে জুন, ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে পোলট্রি খামারায়ন হতে নিম্নে বর্ণিত শর্তাবলী সাপেক্ষে যেকোন আয়ঃ
(এ) যদি ঐরূপ আয় ১,৫০,০০০/- টাকার অধিক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ঐরূপ আয়ের অন্যূন ১০ শতাংশ আয় বর্ষ সমাপ্ত হবার ছয় মাসের মধ্যে সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বণ্ড বা সিকিউরিটি ক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ হতে হবে;
(বি) ঐ ব্যাক্তি অত্র অধ্যাদেশের ৭৫ ধারার উপ-ধারা (২) এর দফা (সি)-এর বিধাাবলী অনুসরণ করে তার আয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে; এবং
(সি) ঐরূপ কোন আয় আয় বর্ষ সমাপ্ত হবার পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে দান বা ঋণ
      প্রদানের অজুহাতে হস্তান্তর করা যাবে না।

(১৭)    স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর শেয়ার বিক্রয় হতে অর্জিত মূলধনী মুনাফা (এসআরও নং ২৬৯ আইন/আয়কর/২০১০ তাং ১/৭/২০১০)।
(১৮)    বাংলাদেশের বাইরে উদ্ভুত আয় প্রচলিত আইনের অধীনে বাংলাদেশে আনীত হলে, উক্ত আয় (এসআরও নং ২১৬ আইন/আয়কর/২০০৪)।
(১৯)    হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানী হতে উদ্ভূত আয়।
(২০)    তেল গ্যাস উৎপাদনে নিয়োজিত কোন কোম্পানীকে সরকার কর্তৃক উহার আয়কর বাবদ অর্থ পরিশোধ করা হলে উক্ত তেল গ্যাস কোম্পানীর আয়।
(২১)    বেসরকারি কৃষি কলেজ ও কৃষি বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম হতে উদ্ভিত্ত যে কোন আয়;
(২২)    বাংলাদেশের অবস্থিত যেকোন দালান হইতে অর্জিত আয় যাহা কম পক্ষে দশ ফ্ল্যাট বিশিষ্ট পাঁচ তলা দালান নির্মাণ কাল ১লা জুলাই ২০০৯ এবং ৩০ শে জুন ২০১৪ (উভয় দিন সহ ) এর মধ্যে দালান সম্পূর্ণ হইবার তারিখ হইতে দশ বৎসরের জন্য সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, টঙ্গী উপজেলা, নারায়নগঞ্জ পৌরসভা, গাজীপুর পৌরসভা এবং ঢাকা জেলার যে কোন পৌরসভা এলাকায় উপস্থিত যে কোন দালান ব্যতীত।
(২৩)    ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যার বার্ষিক টার্ণওভারের পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকার বেশী নয় উহার আয়;
(২৪)    জিরো কুপন বন্ড হতে উদ্ভূত আয়;)
(২৫)    সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব স্কিম হতে অর্জিত সুদ আয় (এসআরও নং ৮৯ আইন আয়কর/২০০৩)
(২৬) একজন করদাতার আয়ের পঞ্চাশ শতাংশ পরিমাণ অর্থ,যা শস্য মেইজ বা ইক্ষু উৎপান থেকে উদ্ভূদ হয়েছে।
(২৭) কোন অর্থ বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাষ্ট আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৫নং আইন) (Trust of Prime Minister’s Education Assistance Act 2012) (Act no. 15 of 2012) (অপঃ হড়. ১৫ ড়ভ ২০১২) দ্বারা বা তদধীন গঠিত যে কোন তহবিলে করদাতা আয় হতে দানকৃত অর্থ নিম্নে বর্ণিত সর্বোচ্চ সীমা সাপেক্ষে-
ধ) কোন কোম্পানীর আয়ের বিশ শতাংশ (২০%)  বা ১২ কোটি টাকা, এতদোভয়ের মধ্যে যেটি কম:
ন) কোম্পানী নয় এরূপ করদাতার আয়ের বিশ শতাংশ (২০%) বা ১ কোটি টাকা, এতদোভয়ের মধ্যে যেটি কম:

আয়কর রিটার্নের প্রকারভেদ

Picture

ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা ও কো¤পানী করদাতাদের জন্য পৃথক  পৃথক  রিটার্ন ফরম চালু আছে। যথাঃ-        
ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার জন্য রিটার্ন ফরমঃ         
      ●    আইটি-১১গ
    এ ফরম বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষায় চালু আছে (পরিশিষ্ট-ঘ, পৃষ্ঠা নং-৪৭)। সকল ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা এ ফরমটি ব্যবহার     করতে পারবেন।
    
    ●    আইটি-১১ঙ
    রিটার্ন  ফরমটি  (IT-11-UMA)  কেবল  বেতনভোগী  করদাতাদের  জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-খ, পৃষ্ঠা নং-৩৮)।
    ●    আইটি-১১চ
    যে  সকল  ব্যক্তি  করদাতার  ব্যবসা  বা  পেশাখাতে  আয়  রয়েছে  এবং  এরূপ আয়ের  পরিমাণ  ৩  লক্ষ  টাকার      বেশী  নয়  সে  সকল  করদাতার  জন্য  এই আয়কর রিটার্ন  ফরম (IT-11CHA) প্রণয়ন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-গ, পৃষ্ঠা নং-৪৪)  

¯পট এ্যাসেসমেন্ট এর আওতাধীন করদাতাদের জন্য ভিন্ন রিটার্ন ফরমঃ
রিটার্ন ফরমটি  (IT-GAGA)  কেবলমাত্র ¯পট এ্যাসেসমেন্ট এর আওতাধীন ব্যবসা এবং ডাক্তার ও আইন পেশায় নিয়োজিত তুলনামূলক কম আয়ের নতুন করদাতাদের  জন্য  প্রযোজ্য  (পরিশিষ্ট-খ)।  ব্যবসার  ক্ষেত্রে  যাদের  ব্যবসার পুঁজি সর্বোচ্চ  ১৫  লক্ষ টাকা এবং ডাক্তার  বা আইনজীবী যারা অনধিক ১০ বছর  তাঁদের  পেশায়  নিয়োজিত  আছেন  তাঁরা  দুই  পৃষ্ঠার  ফরমটি  স্পট এ্যাসেসমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন।

TIN (টিআইএন) সনদ এর প্রয়োজনীয়তা, ধারা 184A

Picture

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ১৮৪অ ধারা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান বিধান অনুসারে ২৫টি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নিকট টিআইএন সনদ দাখিলের ক্ষেত্রে ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিল করার বিধান করা হয়েছে।
(১)    আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র (এলসি) খেলার সময়;
(২)    আমদানী রেজিষ্ট্রেশন সার্র্টিফিকেট পাওয়ার উদ্দেশ্যে আবেদনের সময়;
(৩)    সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভা এলাকা বা বিভাগীয় সদর দপ্তর এর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করারর ক্ষেত্রে;
(৪)    চুক্তিকার্যকর, পন্য সরবরাহ বা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দরপত্র দাখিলের সময়;
(৫)    কোম্পানী আইন ১৯৯৪-এর আওতায় নিবন্ধনকৃত কোন ক্লাবের সদস্য হবার জন্য আবেদন দাখিল করার সময়;    
(৬)    সাধারন বীমার সার্ভেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্তি বা লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নের সময়;
(৭)    সিটি করর্পোরেশন এলাকার মধ্যে অবস্থিত কোন ভূমি, ইমারত বা কোন ফ্ল্যাটের চুক্তিমূল্য যদি এক লক্ষ টাকার উর্ধেব হয় সে ক্ষেত্রে ঐ ভূমি ভবন বা ফ­টের ক্রয়ের রেজিষ্ট্রেশনের সময়। তবে সিটি করর্পোরেশন এলাকার মধ্যে অবস্থিত কোন  ভূমি ভবন বা কোন ফ্ল্যাটের ক্রেতা বাংলাদেশের অনিবাসী হইলে তার ক্রয়ের রেজিষ্ট্রেশনের সময় এর বিধান কার্যকর  হইবে না;
(৮)    কার, জিপ বা মাইক্রোবাসের নিবন্ধন, মালিকানা বদল বা ফিটনেস রেজিষ্ট্রেশন নবায়নের সময়;
(৯)    কোন বানিজ্যিক ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানী কর্তৃক কোন ব্যাক্তিকে পাঁচ লক্ষ টাকার অধিক ঋণ বরাদ্দ দানকালে;
(১০)    ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর সময়;
(১১)    ডাক্তার, চার্টার্ড একাউনন্ট্যান্ট, কষ্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউনন্ট্যান্ট, আইনজীবি বা আয়কর পেশাজীবির পেশাদারীর লাইসেন্স অনুমোদনের সময়;
(১২)    যে কোন ধরনের ফোনের আই. এস. ডি সংযোগ প্রদান কালে;
(১৩)     কোম্পানি আইন ১৯৯৪ (১৯৯৪ সন এর ১৮নং আইন) এর আওতায় কোম্পানীর স্পন্সর ডাইরেক্টদের রেজিষ্ট্রেশনের  সময় এবং যে কোন শেয়ারহোল্ডারের সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে;
(১৪)    মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ এর আওতায় নিকাহ রেজিষ্টারের লাইসেন্স প্রদানের সময়। তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি ইতোমধ্যে নিকাহ রেজিষ্টার হিসাবে লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছে, তার ক্ষেত্রে অত্র বিধান কার্যকর হওয়ার  তিন মাসের মধ্যে টি.আই.এন সনদ সংগ্রহ করতে হবে;
(১৫)    কোন ব্যবসা সংস্থার সদস্য পদের জন্য আবেদন বা উহা নবায়নের সময়;  
(১৬)    ইমারত নির্মানের নিমিত্তে  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(রাজউক), চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), খুলনা  উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)  অনুমোদনের সময় টিআইএন সনদ দাখিল করতে হবে।
(১৭)    ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যুর সময়;
(১৮)    সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভা  বা ক্যান্টমেন্ট বোর্ড এর আওতাধীন এলাকায় বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে ;
(১৯)    সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভা  বা ক্যান্টমেন্ট বোর্ড এর আওতাধীন এলাকায় বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে ;
(২০)    ভাড়ায় চালিত বাস, ট্রাক, প্রাইমমুভার, লরী বা এরূপ পরিবহনের রেজিষ্ট্রেশন বা ফিটনেস নবায়নের সময় বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ;
(২১)    ভাড়ায় চালিত লঞ্চ, ষ্টীমার, ফিশিং ট্রলার, কার্গো, কোষ্টার, ডাম্প বার্জ ইত্যাদির সার্ভে সার্টিফিকেট ইস্যু বা নবায়ন; এবং
(২২)    ইন্সুরেন্স কোম্পানীর এজেন্টের সার্টিফিকেট রেজিষ্ট্রেশন বা নবায়ন;
(২৩)    জেলা সদরের পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় জমি বা স্থাপনা রেজিস্ট্রেশনের সময় জমি স্থাপনার ক্রেতাকে;
(২৪)    ইট ভাটার মালিকগণকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে অনুমতিপত্র সংগ্রহের সময় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের দপ্তরের আয়কর পরিশোধ সনদপত্র (Tax Clearence Certificate) দাখিলের বিধান করা হয়েছে;
(২৫)    উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিলের বিধান করা হয়েছে।

 

কোন ব্যক্তি নগদ ঋণ গ্রহণ করলে কত বৎসর পর্যন্ত ঋণ দেখানো যাবে এবং সীমা কি

 কোন ব্যক্তি নগদ ঋণ গ্রহণ করলে কত বৎসর পর্যন্ত ঋণ দেখানো যাবে এবং সীমা কি ?

করবর্ষ ২০০৯-২০২০ এর আগে ৫০,০০০ টাকার উপর নগদে ঋণ গ্রহণ করলে সেই ঋণের অংক পরবর্তী তিন বৎসরের মধ্যে ফেরত প্রদান না করা হলে পরবর্তী করবর্ষে তা ঋণ গ্রহীতার মোট আয়ের উপর অন্তর্ভুক্ত করা হত । অর্থ আইন ২০০৯ এর মাধ্যমে এই নগদে ঋণের সীমা  কোন ব্যক্তি নগদ ঋণ গ্রহণ করলে কত বৎসর পর্যন্ত ঋণ দেখানো যাবে এবং      সীমা কি ? উত্তর:   ১,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থ আইন ২০১২। অনুযায়ী কোম্পানি ব্যতীত যে কোন করদাতা কর্তৃক এক বা একাধিক উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অথবা দান বা নগদে এক বা একাধিক উৎস থেকে ৫ লাখ টাকার অধিক ঋণ বা দান গ্রহণের  ক্ষেত্রে ক্রসড চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে এ ঋণ বা দান গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   ক্রসড চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যম ব্যতীত নগদে গৃহীত উপরোক্ত সীমা অতিক্রম করলে সম্পূর্ণ অংক করদাতার আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। নিম্নে বর্ণিত উদাহরণ দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট করা হলোঃজনাব হোসেন ২০১৭-২০১৮ কর বছরে নিুরূপ ঋণ বা দান প্রদর্শন করেছেনঃ  * সোনালী ব্যাংকের ঋণ ৫০ লাখ টাকা;  * ভাইয়ের নিকট থেকে নগদে গৃহীত ঋণ ৩ লাখ টাকা;  * আতœীয়ের নিকট থেকে নগদে গৃহীত দান ৪ লাখ টাকা; এবং * পিতার নিকট থেকে ২০ লাখ টাকা মূল্যের জমি দলিলের মাধ্যমে দান প্রাপ্ত।  এক্ষেত্রে জনাব হোসেন সর্বমোট ৫৩ (৫০+৩) লাখ টাকা ঋণ হিসেবে প্রাপ্ত হয়েছেন। করদাতা ব্যাংকের মাধ্যমে  ৫০ লাখ টাকা ঋণ এবং ২০ লাখ টাকা মূল্যের জমি দান প্রাপ্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভাই ও আতœীয়ের নিকট থেকে নগদে ঋণ ও দান হিসেবে সর্বমোট ৭ (৩+৪) লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। ক্রসড চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত ৭ লাখ টাকা ঋণ ও দান গ্রহণ করায় জনাব হোসেন এর ২০১৮-২০১৯ কর বছরে উক্ত ৭ লাখ টাকা আয় হিসেবে গন্য হবে।     ৫ লাখ টাকা বা তার কম পরিমাণ অর্থ কোন করদাতা নগদ ঋণ হিসেবে প্রাপ্ত আয় বছরের পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে ৪র্থ বছরে এরূপ অপরিশোধিত ঋণ করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনা হবে। অর্থ আইন ২০১৭ স্বামী, স্ত্রী, সন্তান এবং পিতা মাতার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং মাধ্যম ((Banking Channel) জরিত থাকা বলতে বুঝাবে প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর মধ্যে কমপক্ষে যে কোন একজনের ব্যাংক হিসাবে দান বা ঋণ প্রদান/ গ্রহণের প্রমাণ থাকবে।

 

মৃত ব্যক্তির আয়ের ক্ষেত্রে কর নির্ধারণ কিভাবে হবে?

মৃত ব্যক্তির আয়ের ক্ষেত্রে কর নির্ধারণ কিভাবে হবে?

(১) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি মারা যায় তবে তিনি মারা না গেলে তার আইনগত প্রতিনিধি যে    পরিমাণ কর বা এ অধ্যাদেশের আওতায় অন্য কোন অর্থ পরিশোধের জন্য বাধিত থাকতেন ,   উক্ত পরিমাণ কর বা অন্য কোন দাবি একই উপায়ে পরিশোধের জন্য দায়ী থাকবেন এবং    এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যে মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিকে করদাতা হিসেবে বিবেচনা    করা হবেঃ তবে শর্ত থাকে যে,  মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধিকে করদাতা বিবেচনা করার পূর্বে,    উপ-কর কমিশনার তাঁর প্রতি এতদ্বিষয়ে বিজ্ঞতি প্রদান করিবেন। (২)  মৃত ব্যক্তির আয় নির্ধারণ এবং কর আদায়ের লক্ষ্যে(ক)  মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্বে তার বিরুদ্ধে কোন কার্যক্রম নেয়া হলে তা তার আইনানুগ       প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে মর্মে বিবেচিত হবে এবং মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে ঐ    কার্যক্রম যে স্তরে ছিল, সে স্তর থেকেই চালিয়ে যেতে হবে; এবং (খ)  মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে তার বিরুদ্ধে যে কার্যক্রম নেয়া যেত আইনানুগ প্রতিনিধির    বিরুদ্ধেও একই কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে এবং অধ্যাদেশের সকল বিধান যতটুকু সম্ভব    এক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে। (৩)  অত্র অধ্যাদেশের অধীনে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি যে পরিমাণ দায় পূরণে সক্ষম, আইনানুগ    প্রতিনিধির দায়ও সে পরিমাণই সীমাবদ্ধ থাকবে। (৪)  এই ধারার এবং এই অধ্যাদেশের অন্যন্য বিধানবলীর উদ্দ্যেশ্য সাধনকল্পে মৃত ব্যক্তির    অধিকার, স্বার্থ এবং দায় দায়িত্ব সম্পর্কযুক্ত আইনানুগ প্রতিনিধি মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নির্বাহীক,    প্রশাসক এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির মোতায়াল্লীকেও।

 

গৃহ সম্পত্তির আয়

গৃহ সম্পত্তির আয় (আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ২৪ ও ২৫ ধারা অনুযায়ী):
কোন করদাতা তার বাড়ি আবাসিক বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ভাড়া দিলে, সেই আয় রিটার্নের গৃহ সম্পত্তির আয়ের ঘরে দেখাবেন। যারা আট পাতার ফরম পূরণ করবেন (আইটি-১১গ) সেই ফরমের সাথে একটি তফসিল (তফসিল-২) দেয়া আছে। আর যারা তিন পাতার ফরম (ITUMA) ব্যবহার করবেন তারা আলাদা কাগজে দেখাবেন নতুন ফরমে Part-3-এ ৫২ নং Colum-এ Schedule-24B সিলেক্ট করতে হবে এবং উক্ত Schedule-এ বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত তথ্যগুলো ইনপুট দিতে হবে।

গৃহ সম্পত্তির
অবস্থান ও বর্ণনা
বিবরণ  টাকা  টাকা
বাড়ির অবস্থান
কত তলা উল্লেখ
 করতে হবে
১। ভাড়া বাবদ বার্ষিক আয়।
গৃহ সম্পত্তি ভাড়া দেয়া হলে ১২ মাসের ভাড়া দেখাতে হবে। যদি এক বা একাধিক মাস বাড়ি খালি থাকে সেক্ষেত্রেও ১২ মাসের ভাড়া দেখাতে হবে। তবে খালি থাকা মাসের ভাড়া নীচের আর একটি ঘরে খরচ হিসাবে দাবী করা যাবে
  ***
 

২। দাবীকৃত ব্যয়সমহঃ

 

 
  মেরামত,আদায়, ইত্যাদিঃ
(ক) আবাসিক ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেয়া হলে বার্ষিক ভাড়ার উপর ২৫% মেরামত আদায় ইত্যাদি খরচ অনুমোদন যোগ্য।
(খ) বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেয়া হলে বার্ষিক ভাড়ার উপর ৩০% খরচ মেরামত , আদায়, ইত্যাদি খরচ অনুমোদনযোগ্য।
এই খরচের জন্য কোন প্রমাণ দাখিলের প্রয়োজন নেই।
***  
  পৌর কর/ ক্যান্টমেন্ট বোর্ড কর / স্থানীয় কর ***  
  ভূমি রাজস্ব ***  
  সংশিষ্ট গৃহ সম্পত্তি নিমার্ণ বা পুনঃ নির্মাণের জন্য ঋণ গ্রহণ করা হলে উক্ত ঋণের সুদ  ***  
  বীমা কিস্তি: সংশ্লিষ্ট গৃহ সম্পত্তির বীমা করা হলে ***  
  গৃহ সম্পত্তি খালি থাকার কারণে দাবিকৃত রেয়াত ***  
  অন্যান্য , যদি থাকে ***  
  মোট =   ***
  ৩। নীট আয়ঃ   ***

(i) বেতনভুক্ত করদাতাগণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী করদাতাগণ আইটি-১১গ এর পরিবর্তে যথাক্রমে আইটি-১১ঙ ও আইটি-১১চ ব্যবহার করলে এরূপ তফসিল সংযোজনের প্রয়োজন নেই। তবে গৃহ সম্পত্তি খাতে আয় নিরূপণ করে একটি পৃথক বিবরণী আইটি-১১ঙ বা আইটি-১১চ এর সাথে সংযুক্ত করা যেতে পারে নতুন ফরমে Part-3-এ ৫২ নং Colum-G Schedule-24B সিলেক্ট করতে হবে এবং উক্ত Schedule
-এ বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত তথ্যগুলো ইনপুট দিতে হবে।
(ii) এস,আর,ও নং ২১৬-আইন/আয়কর/২০১৪, তারিখঃ ১৮ আগষ্ট, ২০১৪ এর মাধ্যমে বিধি ৮এ সংযোজন করে আয়কর অধ্যাদেশে হিসাব রক্ষণের পদ্ধতি বিষয়ক ধারা ৩৫ সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে এক বা একাধিক
ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে বাড়ি ভাড়া বাবদ মাসিক সর্বমোট ২৫ হাজার টাকার বেশি প্রাপ্ত হলেই বাড়ির মালিককে ব্যাংক হিসাবে প্রাপ্ত ভাড়া জমা করতে হবে। বাড়ির মালিক (ব্যক্তি, ফার্ম, কোম্পানি বা অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠান) কর্তৃক এ বিধান পরিপালন করা না হলে গৃহ সম্পত্তি বাবদ অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের ৫০% অথবা ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) হারে বাধ্যতামূলকভাবে জরিমানা আরোপিত হবে।
(iii) অর্থ আইন, ২০১৫ পরিপত্রে আনিত ব্যাখ্যা : গৃহ-সম্পত্তি খাতের আয় নিরূপণে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ২৫ এর উপ-ধারা
(১) এর ক্লজ (h) অনুযায়ী আবাসিক ভবনের বার্ষিক ভাড়া মূল্যের ২৫% এবং বাণিজ্যিক ভবনের ৩০% আইনানুগভাবে মেরামত, আদায়, ইত্যাদি খরচ হিসেবে অনুমোদন করা হয়। গৃহ-সম্পত্তির আয় গণনায় এরূপ ব্যয় দাবী সত্বেও কোন করদাতা আইনানুগভাবে অনুমোদিত এ খরচের সম্পূর্ণ বা অংশ বিশেষ মেরামত বাবদ খরচ হয়নি- এ যুক্তিতে যদি কোন অংক তার সম্পদ পরিবৃদ্ধির তহবিলের উৎস হিসেবে প্রদর্শন করেন, তবে সমপরিমাণ অংক অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ১৯ এ সংযোজিত উপ-ধারা (৩০) এর বিধানমতে “গৃহ-সম্পত্তি খাতে আয়” হিসেবে গণ্য হবে। ধরা যাক, একজন ব্যক্তি-করদাতা একটি আবাসিক ভবন ভাড়ায় প্রদান হতে আয় অর্জন করেন। উক্ত ভবনের বার্ষিক ভাড়ামূল্য ১২,০০,০০০ টাকা। আয়কর রিটার্নে তিনি গৃহ-সম্পত্তির আয় গণনায় আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ২৫ এর উপ-ধারা (১) এর ক্লজ
(h) অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য খরচ ৩,০০,০০০ টাকা দাবী করেন। কিন্তু উক্ত অংক খরচ হয়নি দাবী করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর বছরের সম্পদ পরিবৃদ্ধির উৎস ব্যাখ্যায় তা তহবিল হিসেবে প্রদর্শন করেন । এ ক্ষেত্রে নব প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী বিধিবদ্ধ ব্যয়ের অব্যয়িত সমুদয় অংক আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ১৯ এর উপ- ধারা (৩০) এর বিধান অনুসারে“গৃহ-সম্পত্তির আয়” হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, দাবী অনুযায়ী এ ধরণে অব্যয়িত সমুদয় অংক বা অংশ বিশেষের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। ব্যক্তি-করদাতা ব্যতীত অন্যান্য পর্যায়ের করদাতাও যদি হিসাব বিবরণীতে গৃহ-সম্পত্তি খাতের আয় গণনায় দাবীকৃত এরূপ খরচ অব্যয়িত অংক হিসেবে প্রদর্শন করে, সেক্ষেত্রেও এ ধারার বিধানটি সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

বেতনাদি (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ২১ এবং আয়কর বিধিমালা ১৯৮৪ এর বিধি ৩৩ অনুযায়ী)

বেতনাদি (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ২১ এবং আয়কর বিধিমালা ১৯৮৪ এর বিধি ৩৩ অনুযায়ী)
সাধারণতঃ মূল বেতন উৎসব ভাতা, মহার্ঘ ভাতা, পরিচারক ভাতা, সম্মানী ভাতা, ওভারটাইম ভাতা, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা এবং বিভিন্ন পারকুইজিটস (সুবিধা) বেতন খাতের করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বেতনাদি ঘরটি পূরণ করার আগেই রিটার্ন ফরমের (আইটি ১১গ) তৃতীয় পৃষ্ঠায় বর্ণিত তফসিল-১ (বেতনাদি) পূরন করিতে হইবে। প্রয়োজনে করদাতা পৃথক কাগজে বেতন খাতের আয়ের হিসাব সংযোজন করিতে পারিবেন। তফসিল-১ (বেতনাদি) পূরণের পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো- (সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি ব্যতীত) অর্থ আইন ২০১৬ দ্বারা নতুন রিটার্ন ফরমের সাথে তফসিল ২৪এ প্রবর্তন করা হয়েছে।

আয়ের বিস্তারিত বিবরণী সম্বলিত তফসিল-১ (বেতনাদি)
(সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যতীত)

 

বেতন ও ভাতাদি আয়ের
পরিমাণ (টাকা)
কর মুক্ত আয়ের পরিমান টাকা নীট করযোগ্য আয়
(টাকা)
মূল বেতন   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ করযোগ্য।
মহার্ঘ ভাতা   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ করযোগ্য।
যাতায়াত ভাতা (নগদে গৃহীত)   ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত ৩০,০০০ টাকার অবশিষ্ট
 অংশ।
বাড়ি ভাড়া ভাতা (নগদে গৃহীত)   ৩,০০,০০০ টাকা বা মূল বেতনের
৫০% এর মধ্যে যেটি কম তা করমুক্ত।
অবশিষ্ট অংশ
চিকিৎসা ভাতা  

-প্রাপ্ত মূল বেতনের ১০% অথবা বার্ষিক
১,২০,০০০ টাকা, এ দুটির মধ্যে যেটি
কম সে পরিমাণ অংক

-প্রতিবন্ধী এমপ্লয়ির ক্ষেত্রে ১০
লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা কর মুক্ত
আয় হিসেবে গণ্য হবে।

- প্রাপ্ত ভাতার অবশিষ্ট অংশ

- কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার
পরিচালক ব্যতীত অন্য কোন
এমপ্লয়ির ক্ষেত্রে হার্ট, কিডনি,
চক্ষু, লিভার এবং ক্যান্সার
সার্জাারীর জন্য প্রাপ্ত চিকিৎসা খরচ
কর মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

পরিচারক ভাতা    করমুক্ত নয়  সম্পূর্ণ অংশ।
ছুটি ভাতা    করমুক্ত নয়  সম্পূর্ণ অংশ।
সম্মানী/ পুরস্কার/ ফি   করমুক্ত নয়  সম্পূর্ণ অংশ।
ওভার টাইম ভাতা/মহার্ঘভাতা   করমুক্ত নয়  সম্পূর্ণ অংশ।
বোনাস/এক্সগ্রোসিয়া    করমুক্ত নয়  সম্পূর্ণ অংশ
উৎসব ভাতা    করমুক্ত নয়  সম্পূর্ণ অংশ।
স্বীকৃত ভবিষ্যত তহবিলে
নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা
  করমুক্ত নয়  সম্পূর্ণ অংশ।
স্বীকৃত ভবিষ্যত তহবিলে
অর্জিত সুদ
  মূল বেতনের ১/৩ অংশ পর্যন্ত প্রাপ্ত সুদ
(এখানে বেতন বলতে মূল বেতন এবং
মহার্ঘ ভাতা বুঝাবে) অথবা সরকার কর্তৃক
নির্ধারিত হার ১৪.৫০% এ দুয়ের মধ্যে
যেটি কম
এর অতিরিক্ত করযোগ্য।
যানবাহন সুবিধার জন্যবিবেচিত আয়   যদি করদাতা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়োগকর্তার
নিকট থেকে গাড়ি পান তাহলে মূল বেতনের ৫%
সরাসরি নীট অথবা বার্ষিক ৬০,০০০ টাকা, (দুটির মধ্যে
যেটি বেশি) সরাসরি নীট করযোগ্য আয় হবে।
মূল বেতনের ৫% বা ৬০,০০০ যেটি বেশি।
বিনামূল্যে বা হ্রাসকৃত ভাড়ায়প্রাপ্ত বাসস্থানের জন্য বিবেচিত আয়  

ক। যদি করদাতা নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত
বিনা ভাড়ায় সজ্জিত বা অ-সজ্জিত বাসস্থানে
বাস করেন তাহলে সাধারণভাবে মূল
বেতনের ২৫% করযোগ্য আয় হিসাবে গণ্য
হবে।

খ। যদি করদাতা নিয়োগকর্তা থেকে
হ্রাসকৃত ভাড়ায় সজ্জিত বা অ-সজ্জিত
বাসস্থান প্রাপ্ত হন সে ক্ষেত্রে সাধারণভাবে
মূল বেতনের ২৫% হতে প্রকৃত পরিশোধিত
ভাড়া বাদ দিয়ে পার্থক্য করযোগ্য আয়
হিসাবে গণ্য হবে।

 -মূল বেতনের ২৫% যোগ হবে

মূল বেতনের ২৫% = *
বাদঃ প্রকৃত ভাড়া =*
পার্থক্য করযোগ্য আয় হবে = *

অন্যান্য, যদি থাকে (বিবরণ
দিন)
  করদাতা যদি নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত
বাসস্থানে দারোয়ান, মালি, বাবুর্চী কিংবা
অন্য কোন সুবিধা পেয়ে থাকেন তবে প্রাপ্ত
সুবিধার সমপরিমাণ আর্থিক মূল্য করযোগ্য
আয় হিসাবে দেখাতে হবে।
এ সকল সুবিধার আর্থিক
মূল্য
ছুটি নগদায়ন   করমুক্ত নয়  করযোগ্য।
পেনশন   করমুক্ত  শূন্য
গ্র্যাচুইটি   ২.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত অংক করযোগ্য
Workers Participation
Fund
  ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। ৫০,০০০ টাকার অবশিষ্ট অংশ


 

আয়কর আইনে কি ধরণের আয়ের খাতসমূহ হিসেবে আনতে হবে

আয়কর আইনে কি ধরণের আয় হিসেবে আনতে হবে অর্থাৎ আয়ের খাতসমূহ:
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা-২০ মোতাবেক আয়কর ধার্য্যরে জন্য এবং মোট আয় নির্ণয়ের জন্য সকল আয়কে নিম্নেবর্ণিত খাতে বিভক্ত করে
হিসাবে করতে হবে, যথাঃ
(ক) বেতন
(খ) নিরাপত্তা (সিকিউরিটির) উপর সুদ
(গ) গৃহ সম্পত্তি হতে আয়
(ঘ) কৃষি আয়
(ঙ) ব্যবসা বা পেশা হতে আয়
(চ) ফার্মের আয়ের অংশ
(ছ) স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আয় (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৪৩ (৪) ধারা অনুযায়ী)
(জ) মূলধনী আয়
(ঝ) অন্যান্য উৎস হতে আয়