New Law-2012

Displaying 1-10 of 140 results.

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২

[২০১২ সনের ৪৭ নং আইন]

মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক এবং টার্নওভার কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ এবং কর আদায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধান সুসংহতকরণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে আনীত আইন

যেহেতু মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক এবং টার্নওভার কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ এবং কর আদায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধান সুসংহতকরণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;  
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন।

(১)     এই আইন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ নামে অভিহিতহইবে।
(২)     এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়, দ্বাদশ অধ্যায় ও পঞ্চদশ অধ্যায় এবং ধারা ১২৮, ১৩২, ১৩৪ ও ১৩৫ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(৩)     উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অধ্যায় ও ধারাসমূহ ব্যতীত এই আইনের অন্যান্য
অধ্যায় ও ধারাসমূহ সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে কার্যকর হইবে।

২। সংজ্ঞা। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

 (১)    “অনাবাসিক ব্যক্তি” অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি আবাসিক নহেন;
 (২)    “অপরাধ” অর্থ ধারা ১১১, ১১২, ১১৩, ১১৬ ও ১১৭ এ উল্লিখিত কোন অপরাধ;
 (৩)     “অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ” অর্থ ধারা ২৬ এ উল্লিখিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ;
 (৪)     “অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি” অর্থ ধারা ২৬ এ উল্লিখিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি;
 (৫)    “অর্থ” অর্থ বাংলাদেশ বা যে কোন দেশে প্রচলিত কোন মুদ্রা (legal tender), এবং নিম্নবর্ণিত দলিলাদিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:

(ক) বিনিমেয় দলিল (negotiable instrument);   
(খ) বিল অব এক্সচেঞ্জ, প্রমিসরি নোট, ব্যাংক ড্রাফট, পোস্টাল অর্ডার, মানি অর্ডার বা সমতুল্য দলিল;
(গ) ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড; বা
(ঘ) এ্যাকাউন্ট ডেবিট বা ক্রেডিটের মাধ্যমে প্রদত্ত সরবরাহ;

(৬)     “অর্থনৈতিক কার্যক্রম” অর্থ পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়মিত বা  ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত কোন কার্যক্রম; এবং

(ক) নিম্নবর্ণিত কার্যক্রমও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:
(অ) কোন ব্যবসা পেশা, বৃত্তি, জীবিকা উপার্জনের উপায়, পণ্য প্রস্তুত বা কোন ধরনের উদ্যোগ (undertaking) মুনাফার লক্ষ্যে কার্যক্রমটি পরিচালিত হউক বা না হউক;
(আ) লিজ, লাইসেন্স বা অনুরূপ উপায়ে কোন পণ্য, সেবা বা সম্পত্তি সরবরাহ;
(ই) কেবল একবারের জন্য পরিচালিত কোন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা উদ্যোগ; বা
(ঈ)    উক্ত কার্যক্রমের প্রারম্ভে বা শেষে সম্পাদিত কোন কার্য; তবে  
(খ) নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:  
(অ) কর্মচারী কর্তৃক তাহার নিয়োগকর্তাকে প্রদত্ত সেবা;
(আ) কোম্পানীর কোন পরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত কোন সেবা:

তবে, যেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার ব্যবসা পরিচালনার নিমিত্ত উক্ত পরিচালকের পদ গ্রহণ করেন, সেইক্ষেত্রে তৎকর্তৃক প্রদত্ত সেবা অর্থনৈতিক কার্যক্রম হইবে;
(ই) বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত নয় এমন কোন বিনোদনমূলক কাজ বা শখ;
(ঈ) বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ব্যতীত, সরকার কর্তৃক পরিচালিত নির্ধারিত কোন কার্যক্রম;

(৭)     “অংশীদারি কারবার’’ অর্থ অংশীদারি কারবার আইন, ১৯৩২ (১৯৩২ সনের ৯ নং আইন) এর ধারা ৪ এ সংজ্ঞায়িত অংশীদারি কারবার;     
(৮)     “আগাম কর” অর্থ ধারা ৩১(২) এর অধীন করয্যেগ্য আমদানির উপর আগাম প্রদেয় কর;
(৯)     “আদেশ” অর্থ বোর্ড বা অনুমোদিত মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশ;
(১০)     “আনুক্রমিক (progressive) বা পর্যাবৃত্ত (periodic) সরবরাহ” অর্থ-

(ক)    কোন চুক্তির অধীন আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্তভাবে অর্থ পরিশোধের শর্তাধীনে প্রদত্ত কোন সরবরাহ;
(খ) কোন লিজ, হায়ার অব লাইসেন্স (ফাইন্যান্স লিজসহ) এর অধীন প্রদত্ত কোন সরবরাহ; বা
(গ)    নির্মাণ বা প্রকৌশলগত কার্যক্রম, ভবন পুনর্গঠন বা বর্ধিতকরণের কাজে প্রত্যক্ষভাবে প্রদত্ত কোন সরবরাহ;    

(১১)     “আনুষঙ্গিক পরিবহন সেবা” অর্থ জাহাজে পণ্য বোঝাইকরণ বা খালাসকরণ
সংক্রান্ত সেবা, পণ্য বাঁধা সংক্রান্ত সেবা, পণ্য পরিদর্শন সংক্রান্ত সেবা, শুল্ক দলিলাদি প্রস্তুতকরণ ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সেবা, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত সেবা, পণ্য গুদামজাতকরণ বা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সেবা ও অনুরূপ অন্য কোন সেবা;
(১২)     “আন্তর্জাতিক পরিবহন” অর্থ আনুষঙ্গিক পরিবহন সেবা ব্যতিরেকে, সড়ক, নৌ বা আকাশপথে যাত্রী ও পণ্যাদির নি¤œবর্ণিত পরিবহন, যথা:-

(ক) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থান হইতে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থানে পরিবহন;
(খ) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থান হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন স্থানে পরিবহন; বা

(গ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত কোন স্থান হইতে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থানে পরিবহন;


(১৩)     “আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ঋণ চুক্তি” অর্থ বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, কারিগরি বা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত বাংলাদেশ সরকার এবং বিদেশী সরকার বা আন্তঃদেশীয় আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত আবদ্ধ কোন চুক্তি;
(১৪)     “আপীলাত ট্রাইব্যুনাল” অর্থ শুল্ক আইনের ধারা ১৯৬ এর অধীন গঠিত শুল্ক, আবগারি এবং মূল্য সংযোজন কর আপীলাত ট্রাইব্যুনাল;
(১৫)     “আবাসিক ব্যক্তি” অর্থ এমন কোন ব্যক্তি, যিনি―

(ক) স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশে বসবাস করেন; বা
(খ) চলতি বর্ষপঞ্জির ১৮২ (একশত বিরাশি) দিবসের অধিককাল বাংলাদেশে অবস্থান করেন; বা
(গ) কোন বর্ষপঞ্জির ৯০ (নব্বই) দিবসের অধিককাল বাংলাদেশে অবস্থান করেন এবং উক্ত  বর্ষপঞ্জির অব্যবহিত পূর্ববর্তী চার বৎসরের মধ্যে ৩৬৫ (তিনশত পয়ষট্টি) দিবসের অধিককাল বাংলাদেশে অবস্থান করিয়া থাকেন; এবং নিম্নবর্ণিত সত্ত্বাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) কোম্পানী, যদি উহা বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের অধীন নিগমিত হয় বা উহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশে অবস্থিত হয়;
(খ) ট্রাস্ট, যদি ট্রাস্টের একজন ট্রাস্টি বাংলাদেশে আবাসিক হন বা ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশে অবস্থিত হয়;
(গ) ট্রাস্ট ব্যতীত কোন ব্যক্তি সংঘ, যদি উহা বাংলাদেশে গঠিত হয় বা উহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশে অবস্থিত হয়;
(ঘ) সকল সরকারি সত্তা; বা
(ঙ) সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ;

(১৬)     “আমদানি” অর্থ বাংলাদেশের বাহির হইতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার অভ্যন্তরে কোন পণ্য আনয়ন;
(১৭)     “আমদানিকৃত সেবা” অর্থ নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তির নিকট বাংলাদেশের বাহির হইতে সরবরাহকৃত সেবা;
(১৮)     “ইলেকট্রনিক সেবা” অর্থ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, স্থানীয় কিংবা বৈশ্বিক তথ্য নেটওয়ার্ক বা অনুরূপ মাধ্যমে প্রদানকৃত নিম্নবর্ণিত সেবা-

(ক) ওয়েব সাইট, ওয়েব-হোস্টিং বা অনুষ্ঠান ও যন্ত্রপাতির দূরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) সফটওয়্যার এবং দূরবর্তী সেবা প্রদানের মাধ্যমে উহার হালনাগাদকরণ;
(গ) প্রদত্ত ইমেজ (image), টেক্সট এবং তথ্য;
(ঘ) ডাটাবেইজ বা তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার (access to database);
(ঙ) স্ব-শিক্ষণ প্যাকেজ;
(চ) সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং ক্রীড়া; এবং
(ছ) রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিল্পকলা, খেলাধুলা, বিজ্ঞান বিষয়ক এবং টেলিভিশন সম্প্রচারসহ যেকোন বিনোদনমূলক সম্প্রচার এবং অনুষ্ঠান।

(১৯)     “উপকরণ কর” (input tax) অর্থ আমদানিকৃত পণ্য বা সেবার করযোগ্য সরবরাহের উপর কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় মূল্য সংযোজন করসহ যে কোন পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তির করযোগ্য সরবরাহের উপর আরোপিত মূল্য  সংযোজন কর;    
(২০)     “উৎপাদ কর” (output tax) অর্থ কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর, যথা:-

(ক) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক করযোগ্য পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহ; বা
(খ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক করযোগ্য সেবা আমদানি;

(২১)     “উৎসে কর কর্তনকারী সত্ত্বা” অর্থ-

(ক) কোন সরকারি সত্ত্বা;
(খ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোন বেসরকারি  প্রতিষ্ঠান;
(গ) কোন ব্যাংক, বীমা কোম্পানী বা অনুরূপ আর্থিক  প্রতিষ্ঠান;
(ঘ) কোন মাধ্যমিকোত্তর (post secondary) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(ঙ) কোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী; বা
(চ) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (মূল্য সংযোজন কর) এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান;

(২২)     “উৎসে  কর কর্তন সনদপত্র” অর্থ উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত কোন সনদপত্র;
(২৩)     “কমিশনার” অর্থ যখন এককভাবে শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন এই আইনের ধারা ৭৮ এর অধীন নিয়োগকৃত কমিশনার;
(২৪)     “কর” অর্থ মূসক, টার্নওভার কর ও সম্পূরক শুল্ক, এবং বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে সুদ, জরিমানা ও অর্থদ-ও উহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(২৫)     “কর চালানপত্র” (tax invoice) অর্থ ধারা ৫১ এর অধীন সরবরাহকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন দলিল;
(২৬)     “করদাতা” অর্থ এই আইনের অধীন কর পরিশোধকারী এবং উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা;
(২৭)     “কর নিরূপণ” অর্থ পঞ্চম অধ্যায় এর অধীন করদাতা কর্তৃক কর নিরূপণ (assessment);
(২৮)     “কর নির্ধারণ” অর্থ একাদশ অধ্যায় এর অধীন কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণ (determination);
(২৯)     “কর  ভগ্নাংশ” অর্থ নিম্নবর্ণিত সূত্র অনুযায়ী নির্ণীত অর্থের পরিমাণ, যথা:-

           R   

        100+R
     যেইক্ষেত্রে, R অর্থ ধারা ১৫(৩) এ উল্লিখিত মূসক হার;  
(৩০)     “কর মেয়াদ” অর্থ-

(ক) মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্কের ক্ষেত্রে, খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জিতে চিহ্নিত এক মাস; বা
(খ) টার্নওভার করের ক্ষেত্রে, ত্রৈমাসিক সময়কাল, যাহা মার্চ ৩১, জুন ৩০, সেপ্টেম্বর ৩০ বা ডিসেম্বর ৩১ এ সমাপ্তি ঘটে;

(৩১)     “করযোগ্য আমদানি” অর্থ অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি ব্যতীত যেকোন আমদানি;
(৩২)     “করযোগ্য সরবরাহ” অর্থ অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ ব্যতীত কোন সরবরাহ, যাহা-

(ক) বাংলাদেশে;
(খ) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক; এবং
(গ) কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় প্রদত্ত হয়।

(৩৩)     “করহার” অর্থ প্রাসঙ্গিকতা ভেদে-

(ক) ধারা ১৫(৩) এ উল্লিখিত মূসক হার;
(খ) ধারা ৫৫(৪) এ উল্লিখিত সম্পূরক শুল্কহার; বা
(গ) ধারা ৬৩(১) এ উল্লিখিত টার্নওভার করহার;

(৩৪) “কর সুবিধা” অর্থ নিম্নবর্ণিত কোন সুবিধা, যথা:

(ক) উৎপাদ কর  হ্রাসকরণ;
(খ) পণ্য আমদানির উপর মূসক  হ্রাসকরণ;
(গ) জের টানা অতিরিক্ত অর্থের বৃদ্ধি বা করদাতার করদায়ের পরিমাণ  হ্রাসকরণ;
(ঘ)  হ্রাসকারী সমন্বয়ের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিকরণ;
(ঙ) বৃদ্ধিকারী সমন্বয়  হ্রাসকরণ;
(চ) কর ফেরত প্রদান;
(ছ) উৎপাদ কর স্থগিতকরণ বা উপকরণ কর রেয়াতের দাবি উত্থাপন ত্বরান্বিতকরণ;  
(জ) উৎপাদ কর বা বৃদ্ধিকারী সমন্বয় হিসাব বিলম্বিতকরণ বা উপকরণ কর রেয়াত বা হ্রাসকারী সমন্বয় দাবি উত্থাপন ত্বরান্বিতকরণ;
(ঝ) মূলত ও কার্যত একটি করযোগ্য সরবরাহ বা করযোগ্য আমদানিকে অকরযোগ্য সরবরাহ বা আমদানিতে পরিণতকরণ;
(ঞ) মূলত ও কার্যত কোন আমদানি বা অর্জনের ক্ষেত্রে উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্তির অধিকার না থাকা সত্ত্বেও রেয়াত প্রাপ্তির অধিকার সৃষ্টিকরণ; বা
(ট) করদাতার টার্নওভার কম প্রদর্শন;

(৩৫)     “কার্যধারা” অর্থ কমিশনার কর্তৃক এই আইনের অধীন গৃহীত কোন কার্যধারা বা কার্যক্রম, কিন্তু অপরাধ সংক্রান্ত কোন মামলার কার্যক্রম উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৩৬)     “কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ চুক্তি” অর্থ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত কোন চুক্তি যাহার অধীন-

(ক) প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধের পর অন্ততঃ একটি অতিরিক্তবার অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য প্রদান করা হয়;
(খ) শেষ কিস্তির অর্থ পরিশোধের পর পণ্যের দখল অর্পণ করা হয়; এবং
(গ) দখল অর্পণের মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হয়;

(৩৭)     “কেন্দ্রীয় ইউনিট” অর্থ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সকল হিসাব-নিকাশ ও রেকর্ডপত্র যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ও সংরক্ষিত হয়;
(৩৮)     “কোম্পানী” অর্থ কোন আইনের অধীন কোম্পানী হিসাবে নিগমিত কোন প্রতিষ্ঠান;
(৩৯)     “ক্রেডিট নোট” অর্থ হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে করদাতা কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন দলিল;
(৪০)     “চালান” অর্থ পণ পরিশোধের দায় সংক্রান্ত কোন দলিল;
(৪১)     “জরিমানা” অর্থ ধারা ৮৫ এর অধীন কমিশনার কর্তৃক আরোপিত জরিমানা, কিন্তু অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থদ- উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৪২)     “টার্নওভার” অর্থ কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন নির্ধারিত সময়ে বা কর মেয়াদে তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রম দ্বারা প্রস্তুতকৃত, আমদানিকৃত বা ক্রয়কৃত করযোগ্য পণ্যের সরবরাহ বা করযোগ্য সেবা প্রদান হইতে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য সমুদয় অর্থ;
(৪৩)     “টার্নওভার কর” অর্থ ধারা ৬৩ এর অধীন আরোপিত কর;
(৪৪)     “ডেবিট নোট” অর্থ বৃদ্ধিকারী সমন্বয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে করদাতা কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন দলিল;
(৪৫)     “তফসিল” অর্থ এই আইনের কোন তফসিল;
(৪৬)     “তালিকাভুক্ত” অর্থ ধারা ১০(২) এর অধীন টার্নওভার কর তালিকাভুক্ত;
(৪৭)     “তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তি” অর্থ ধারা ১০(১) এর অধীন টার্নওভার কর তালিকাভুক্তিযোগ্য কোন ব্যক্তি;
(৪৮)     “তালিকাভুক্তিসীমা” অর্থ কোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার প্রতি ১২
(বার) মাস সময়ে ২৪ (চব্বিশ) লক্ষ টাকার সীমা, কিন্তু নিম্নবর্ণিত মূল্য উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(ক) অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহের মূল্য;
(খ) মূলধনী সম্পদের বিক্রয় মূল্য;
(গ) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠান বা উহার কোন অংশবিশেষের বিক্রয় মূল্য; বা
(ঘ) অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করিবার ফলশ্রুতিতে কৃত সরবরাহের মূল্য;

(৪৯)     “দলিল” অর্থে নিম্নবর্ণিত বস্তু অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক)     কোন কাগজ বা অনুরূপ কোন বস্তু যাহার উপর অক্ষর, সংখ্যা, প্রতীক বা চিহ্নের মাধ্যমে কোন লেখনী প্রকাশ করা হয়; বা
(খ)     কোন ইলেক্ট্রনিক উপাত্ত, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার ফিতা, কম্পিউটার ডিস্ক বা অনুরূপ কোন ডিভাইস (ফবারপব) যাহা উপাত্ত ধারণ করিতে পারে;

(৫০)    “দাখিলপত্র” অর্থ কর নিরূপণ ও কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে কোন করমেয়াদে করদাতা কর্তৃক পেশকৃত কোন দাখিলপত্র;
(৫১)     “দেওয়ানী কার্যবিধি” অর্থ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন);
(৫২)     “নির্দিষ্ট স্থান” অর্থ বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিম্নবর্ণিত কোন স্থান, যথা:-

(ক) ব্যবস্থাপনার স্থান;
(খ) শাখা, দপ্তর, কারখানা বা ওয়ার্কশপ;
(গ) খনি, গ্যাসকূপ, পাথর বা অনুরূপ কোন খনিজ সম্পদ আহরণ ক্ষেত্র (quarry); বা
(ঘ) নির্মাণ বা স্থাপনা প্রকল্পের অবস্থান;

(৫৩)     “নির্ধারিত” অর্থ বোর্ড কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি বা আদেশ দ্বারা নির্ধারিত;
(৫৪)     “নিবন্ধন” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন মূসক নিবন্ধন;
(৫৫)     “নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন মূসক নিবন্ধনযোগ্য কোন ব্যক্তি;
(৫৬)     “নিবন্ধিত ব্যক্তি” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন মূসক নিবন্ধিত কোন ব্যক্তি;
(৫৭)     “নিবন্ধনসীমা” অর্থ কোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার প্রতি ১২ (বার) মাস সময়ে ৮০ (আশি) লক্ষ টাকার সীমা, কিন্তু নিম্নবর্ণিত মূল্য উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(ক) অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহের মূল্য;
(খ) মূলধনী সম্পদের বিক্রয় মূল্য;
(গ) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠান বা উহার কোন অংশের বিক্রয় মূল্য; বা
(ঘ)  অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করিবার ফলশ্রুতিতে কৃত সরবরাহের মূল্য;

(৫৮)     “ন্যায্য বাজার মূল্য” অর্থ-

(ক) পরস্পর সহযোগী নয় এরূপ ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত কোন সরবরাহের পণ;
(খ) যদি দফা (ক) এ উল্লিখিত ন্যায্য বাজার মূল্য পাওয়া না যায়, তাহা হইলে ইতোপূর্বে একই পরিস্থিতিতে সমজাতীয় কোন সরবরাহের পণ;
(গ) যদি উক্তরূপে ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করা না যায়, তাহা হইলে পরস্পর সহযোগী নয় এমন ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে সাধারণ ব্যবসায় সম্পর্কের ভিত্তিতে নিরূপিত পণের নৈর্ব্যক্তিক গড়ের ভিত্তিতে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য;

(৫৯)     “পণ” অর্থ কোন সরবরাহের ফলশ্রুতিস্বরূপ বা সরবরাহের প্রণোদনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদেয় অর্থ বা নগদ অর্থের পরিবর্তে প্রদত্ত বা প্রদেয় দ্রব্যের ন্যায্য বাজার মূল্য,-    

এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়ের অর্থও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) এই আইন বা অন্য কোন আইনের অধীন আরোপিত কর, যাহা-
(অ) সরবরাহের উপর বা সরবরাহের কারণে সরবরাহকারী কর্তৃক প্রদেয় হয়; বা
(আ) গ্রহীতার নিকট হইতে প্রাপ্ত মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বা উহার সহিত সংযোজিত হয়;
(খ) সার্ভিস চার্জ হিসাবে উল্লিখিত কোন অর্থ; বা
(গ) হায়ার পারচেজ বা ফাইন্যান্স লিজ চুক্তির অধীন পণ্য সরবরাহের পণের মধ্যে
ফাইন্যান্স লিজ বা হায়ার পারচেজের অধীন ঋণ প্রদান সম্পর্কিত প্রদেয় যেকোন অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে;     কিন্তু সরবরাহের সময় যে মূল্যছাড় দেওয়া হয় তাহা উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;


(৬০)     “পণ্য” অর্থ শেয়ার, স্টক, সিকিউরিটিজ এবং অর্থ ব্যতীত সকল প্রকার দৃশ্যমান অস্থাবর সম্পত্তি;  
(৬১)      “পণ্য সরবরাহ” অর্থ-

(ক) হায়ার পারচেজ চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয়সহ মালিক হিসাবে পণ্যের বিক্রয়, বিনিময় বা অন্যবিধভাবে বিক্রয়ের অধিকার হস্তান্তর; বা
(খ) লিজ, ভাড়া বা অন্য কোনভাবে পণ্য ব্যবহারের অধিকার প্রদান এবং ফাইন্যান্স লিজের  আওতায় পণ্য সরবরাহও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

 

(৬২)     “প্রচছন্ন রপ্তানি” অর্থে নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) বাংলাদেশের বাহিরে ভোগের জন্য অভিপ্রেত কোন পণ্য বা সেবার উপকরণ নির্ধারিত পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে সরবরাহ;
(খ) কোন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন পণ্য বা সেবার সরবরাহ; বা
(গ) স্থানীয় ঋণপত্রের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন পণ্য বা সেবার সরবরাহ;

 

(৬৩)     “প্রতিনিধি” অর্থ-

(ক) অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, অভিভাবক বা তৎকর্তৃক নিযুক্ত ব্যবস্থাপক;   
(খ) কোম্পানীর ক্ষেত্রে, অবসায়নাধীন কোম্পানী ব্যতিরেকে কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা;
(গ) অংশীদারি কারবারের ক্ষেত্রে, উহার কোন অংশীদার;
(ঘ) ট্রাস্টের ক্ষেত্রে, উক্ত ট্রাস্টের ট্রাস্টি বা নির্বাহক বা প্রশাসক;
(ঙ) ব্যক্তি সংঘের ক্ষেত্রে, উহার চেয়ারম্যান, সম্পাদক বা কোষাধ্যক্ষ;
(চ) সরকারি সত্তার ক্ষেত্রে, উহার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা;
(ছ) বৈদেশিক সরকারের ক্ষেত্রে, উক্ত বৈদেশিক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন কর্মকতা;
(জ) অনাবাসিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তৎকর্তৃক নিযুক্ত মূসক এজেন্ট; বা
(ঝ)  নির্ধারিত অন্য কোন প্রতিনিধি;

(৬৪)     “প্রদেয় নীট কর” অর্থ কোন কর মেয়াদে ধারা ৪৫ এর অধীন নিরূপিত সমুদয়
উৎপাদ কর, বৃদ্ধিকারী সমন্বয় এবং উপকরণ কর রেয়াত এবং হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করিবার পর উক্ত কর মেয়াদে যে পরিমাণ মূসক, সম্পূরক শুল্ক বা টার্নওভার কর প্রদেয় হয়;
(৬৫)    “প্রস্তুতকরণ (manufacturing)” অর্থ-

(ক)    কোন পদার্থ এককভাবে বা অন্য কোন পদার্থ বা সরঞ্জাম বা উৎপাদনের অংশবিশেষের সহিত সংযোগ বা সম্মেলনের দ্বারা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে অন্য কোন সুনির্দিষ্ট পদার্থ বা পণ্যে রূপান্তরকরণ বা উহাকে এইরূপে পরিবর্তিত, রূপান্তরিত বা পুনরাকৃতি প্রদানকরণ যাহাতে উক্ত পদার্থ ভিন্নভাবে বা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহারের উপযোগী হয়;
(খ) পণ্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করিবার  জন্য কোন আনুষঙ্গিক বা সহায়ক প্রক্রিয়া;
(গ) মুদ্রণ, প্রকাশনা, শিলালিপি বা মিনাকরণ প্রক্রিয়া;
(ঘ)    সংযোজন, মিশ্রণ, পরিশুদ্ধকরণ, কর্তন, তরলীকরণ, বোতলজাতকরণ, মোড়কাবদ্ধকরণ বা পুনঃমোড়কাবদ্ধকরণ; বা
(ঙ)    মধ্যবর্তী বা অসমাপ্ত প্রক্রিয়াসহ পণ্য উৎপাদন বা তৈরিতে গৃহীত সকল প্রক্রিয়া;

(৬৬)    “ফাইন্যান্স লিজ” অর্থ হায়ার পারচেজ ব্যতীত এমন কোন লিজ যাহা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফাইন্যান্স লিজ হিসাবে গণ্য;
(৬৭)     “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫নং আইন);
(৬৮)     “বকেয়া কর” অর্থ ধারা ৯৫ এ উল্লিখিত বকেয়া কর;
(৬৯)     “বিধি” অর্থ বোর্ড কর্তৃক প্রণীত কোন  বিধি;

(৭০)     “বিল অব এন্ট্রি” (Bill of Entry) অর্থ শুল্ক আইনের ধারা ২ (সি)-তে সংজ্ঞায়িত Bill of Entry;
(৭১)     “বৃদ্ধিকারী সমন্বয়” অর্থ নিম্নবর্ণিত কোন  বৃদ্ধিকারী সমন্বয়, যথা:-

(ক) উৎসে কর্তিত করের বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(খ) বাৎসরিক পুনঃহিসাব প্রণয়নের ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(গ) ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ না করিবার  ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(ঘ) ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত (private use) পণ্যের ক্ষেত্রে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(ঙ) নিবন্ধিত হওয়ার পর বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(চ) নিবন্ধন বাতিলের কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(ছ) মূসক হার পরিবর্তিত হওয়ার কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(জ) সুদ, জরিমানা, অর্থদ-, ফি ইত্যাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বৃদ্ধিকারী সমন্বয়; বা
(ঝ)  নির্ধারিত অন্য কোন বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;

(৭২)     “বৃহৎ করদাতা ইউনিট” অর্থ ধারা ৭৮(৩) এর অধীন গঠিত কোন বৃহৎ করদাতা ইউনিট;
(৭৩)     “বোর্ড” অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদেশ, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সনের ৭৬ নং আদেশ) এর অধীন গঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড;
(৭৪)      “ব্যক্তি” অর্থ স্বাভাবিক কোন ব্যক্তি, এবং নিম্নবর্ণিত সত্তাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) কোন কোম্পানী;
(খ) কোন  ব্যক্তি সংঘ;  
(গ) কোন সরকারি সত্তা;
(ঘ) কোন বৈদেশিক সরকার বা তৎকর্তৃক নির্ধারিত কোন বিভাগ বা নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা;  
(ঙ) কোন আন্তঃদেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন; বা
(চ) সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ বা অনুরূপ কোন উদ্যোগ;

(৭৫)     “ব্যক্তি সংঘ” অর্থ অংশীদারি কারবার, ট্রাস্ট বা অনুরূপ কোন ব্যক্তি সংঘ, কিন্তু কোন কোম্পানী বা অনিগমিত যৌথ মূলধনী কারবার উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৭৬)     “ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা” অর্থ নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তির অনুকূলে ইস্যুকৃত মূসক নিবন্ধন সনদপত্র বা টার্নওভার কর সনদপত্রে উল্লিখিত কোন অনন্য ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা;
(৭৭)     “ভূমির সহিত প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সেবা” অথে-

(ক) ভূমির উপর প্রত্যক্ষভাবে প্রদত্ত সেবা;
(খ) নির্দিষ্টি ভূমির উপর বিশেষজ্ঞ এবং এস্টেট এজেন্ট প্রদত্ত সেবা;
(গ) নির্দিষ্ট ভূমির উপর গৃহীত বা গৃহীতব্য নির্মাণ কাজ সম্পর্কিত সেবা;

(৭৮)     “মূল্য” অর্থ-


(ক) ধারা ২৮ এ উল্লিখিত আমদানি মূল্য; বা
(খ) ধারা ৩২ এ উল্লিখিত সরবরাহ মূল্য;

(৭৯)     “মূল্য সংযোজন কর” বা “মূসক” অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন আরোপিত মূল্য সংযোজন কর;
(৮০)     “মূল্য সংযোজন কর কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৭৮ এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ;
(৮১)     “মূল্য সংযোজন কর কর্মকর্তা” বা “মূসক কর্মকর্তা” অর্থ ধারা ৭৮(১) এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তা;
(৮২)     “রপ্তানি” অর্থ বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার বাহিরে কোন পণ্য সরবরাহ এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮৩)     “শাখা ইউনিট” অর্থ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের এমন কোন শাখা যেখানে পৃথক বা স্বতন্ত্রভাবে উহার হিসাব-নিকাশ পরিচালনা ও রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করা হয়;
(৮৪)     “শুল্ক আইন” অর্থ শুল্ক আইন, ১৯৬৯ (১৯৬৯ সনের ৪ নং আইন) বা তদধীন প্রণীত কোন বিধি বা প্রদত্ত কোন আদেশ;
(৮৫)     “শুল্ক কমিশনার” বা “শুল্ক কর্মকর্তা” অর্থ শুল্ক আইনের অধীন নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা;
(৮৬)     “শূন্যহার  বিশিষ্ট সরবরাহ” অর্থ ধারা ২১ এ উল্লিখিত শূন্যহার  বিশিষ্ট কোন সরবরাহ;
(৮৭)     “সমন্বয় ঘটনা” অর্থ নিম্নবর্ণিত কোন ঘটনা, যথা:―

(ক) কোন সরবরাহ বাতিলকরণ;
(খ) কোন সরবরাহের পণ পরিবর্তন;  
(গ) সরবরাহকৃত পণ্য সম্পূর্ণ বা উহার অংশবিশেষ সরবরাহকারীর নিকট ফেরত প্রদান;
(ঘ) সরবরাহের প্রকৃতি পরিবর্তনের কারণে কোন সরবরাহ অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহে পরিণত হওয়া; বা
(ঙ) নির্ধারিত অন্য কোন ঘটনা;

(৮৮)     “সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ” অর্থ কোন চুক্তি যাহার অধীন কোন ভূমির মালিক তাহার ভূমিতে ভবন নির্মাণের জন্য কোন নির্মাতার সহিত শর্তাধীনে অঙ্গিকারাবদ্ধ হয়;
(৮৯)     “সম্পূরক শুল্ক” অর্থ ধারা ৫৫ এর অধীন আরোপিত সম্পূরক শুল্ক;
(৯০)     “সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত কোন পণ্য;
(৯১)     “সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত কোন সেবা;
(৯২)     “সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র” অর্থ ধারা ৫৩ এ উল্লিখিত কোন দলিল;
(৯৩)    “সরকারী সত্তা” অর্থ-

(ক) সরকার বা উহার কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বা দপ্তর;
(খ) আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোন সংস্থা;
(গ) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোন প্রতিষ্ঠান; বা
(ঘ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, পরিষদ বা অনুরূপ কোন সংস্থা;

(৯৪)     “সরবরাহ” অর্থ যেকোন সরবরাহ এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) পণ্য সরবরাহ;
(খ) স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহ;
(গ) সেবা সরবরাহ; বা
(ঘ) দফা (ক), (খ) এবং (গ)-তে বর্ণিত সরবরাহের সমাহার;

(৯৫)     “সনদপত্র” অর্থ এই আইনের অধীন কমিশনার কর্তৃক সরবরাহকৃত কোন সনদপত্র;
(৯৬)     “সরবরাহের সময়” অর্থ-
(ক) পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে, যেসময়ে  পণ্যের দখল অর্পণ বা অপসারণ করা হয়;
(খ) সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে, যেসময়ে সেবা প্রদান, সৃষ্টি, হস্তান্তর বা স্বত্ব অর্পণ করা হয়; বা
(গ) স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে, যেসময়ে সম্পত্তি অর্পণ, সৃষ্টি, হস্তান্তর বা স্বত্ব প্রদান করা হয় সেই সময়;

(৯৭)     “সহযোগী” অর্থ দুইজন ব্যক্তির মধ্যে এমন সম্পর্ক যাহার কারণে একে অপরের বা উভয়ে অপর কোন তৃতীয় ব্যক্তির অভিপ্রায় অনুযায়ী কাজ করেন বা কাজ করিবেন বলিয়া প্রত্যাশা করা হয়, এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথা:―

(ক) ব্যক্তির কোন আত্মীয়;
(খ) অংশীদারি কারবারের কোন অংশীদার;
(গ) কোম্পানীর কোন শেয়ার হোল্ডার;
(ঘ) কোন ট্রাস্ট এবং  উক্ত ট্রাস্টের সুবিধাভোগী; বা
(ঙ) কোন সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ এবং উক্ত উদ্যোগের অংশীদার ভূমি মালিক, নির্মাতা বা অন্য কোন ব্যক্তি; কিন্তু নিম্নবর্ণিত সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিবর্গ উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না, যথা:-
(অ) চাকুরীর সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিবর্গ; বা
(আ) প্রতিনিধি, মূসক এজেন্ট, পরিবেশক, লাইসেন্সী বা অনুরূপ সম্পর্কযুক্ত  ব্যক্তিবর্গ;

(৯৮)    “সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্য” অর্থ এমন কোন পণ্য যাহা পূর্বে ব্যবহৃত হইয়াছে, কিন্তু মূল্যবান ধাতু বা উহার দ্বারা তৈরি কোন পণ্য (যেমন: স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম বা অনুরূপ কোন ধাতু), এবং হীরা, পদ্মরাগমণি বা চুন্নি, পান্না, নীলমণি বা নীলকান্তমণি উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;     
(৯৯)     “সেবা” অর্থ যেকোন সেবা তবে, পণ্য, স্থাবর স¤পত্তি এবং অর্থ (সড়হবু) উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(১০০)     “সেবা সরবরাহ” অর্থ এমন সরবরাহ যাহা পণ্য, অর্থ বা স্থাবর সম্পত্তির সরবরাহ নহে, তবে সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্য না করিয়া নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:

(ক) অধিকার প্রদান (grant), হস্তান্তর (assignment), সমাপ্তি (termination), বা কোন অধিকার সমর্পণ;
(খ) কোন সুযোগ, সুবিধা বা উপকার গ্রহণের ব্যবস্থা করণ;
(গ) কোন কার্য করা, কোন অবস্থা বা কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা হইতে বিরত থাকা বা মানিয়া লওয়ার জন্য চুক্তি; এবং
(ঘ) লাইসেন্স, পারমিট, সনদপত্র, বিশেষ সুবিধা, অনুমতিপত্র বা অনুরূপ অধিকার  জারিকরণ, হস্তান্তর বা সমর্পণ;

(১০১)     “স্থাবর সম্পত্তি” অর্থ স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহের বিষয়বস্তু, সরবরাহকৃত বস্তুটি সম্পত্তি হউক বা সম্পত্তির সংশ্লিষ্ট অধিকারের সমাহার হউক না কেন (chose in action) উহাতে ভূমি, বা ভূমির উপর অবস্থিত কোন ভবন বা উহাতে স্থাপিত বা সংযুক্ত কোন কাঠামো অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১০২)     “স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহ” অর্থে নিম্নবর্ণিত সরবরাহসমূহ অন্তর্ভুক্ত হইবে―

(ক) ভূমির উপর কোন অধিকার বা স্বার্থ;
(খ) ভূমির উপর কোন অধিকার বা স্বার্থ প্রদানের আহ্বান সম্বলিত ব্যক্তিগত অধিকার,
(গ) আবাসন সরবরাহসহ ভূমিতে অধিষ্ঠানের (occupy) নিমিত্ত লাইসেন্স প্রদান বা ভূমিতে প্রয়োগযোগ্য কোন চুক্তিভিত্তিক অধিকার;
(ঘ) দফা (ক), (খ) এবং (গ)-তে বর্ণিত কোন বিষয় অর্জনের অধিকার বা ভবিষ্যতে উক্ত অধিকার প্রয়োগের অভিপ্রায় (option);  
     
(১০৩)     “হ্রাসকারী সমন্বয়” অর্থ নিম্নবর্ণিত কোন  হ্রাসকারী সমন্বয়, যথা:-

(ক) আগাম কর হিসাবে পরিশোধিত অর্থের  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(খ) টেলিযোগাযোগ পণ্য বা সেবা সরবরাহকারীকে প্রদত্ত  হ্রাসকারী সমন্বয়;  
(গ) উৎসে কর্তিত করের  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ঘ) বাৎসরিক পুনঃহিসাব প্রণয়নের ফলে প্রযোজ্য  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ঙ) নিবন্ধিত হওয়ার পর  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(চ) পুনঃবিক্রয়ের নিমিত্ত ক্রয়কৃত সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্যের ক্ষেত্রে  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ছ) বীমাপত্রের অধীন বীমা কোম্পানী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(জ) লটারী, লাকী ড্র, র‌্যাফেল বা অনুরূপ উদ্যোগের নিমিত্ত প্রদত্ত অর্থনৈতিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ঝ) মূসক হার হ্রাস পাওয়ার ক্ষেত্রে  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ঞ)সম্পূরক শুল্ক ফেরত প্রদান সংক্রান্ত হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ট) পূর্ববর্তী কর মেয়াদ হইতে নেতিবাচক অর্থের পরিমাণ জের টানার নিমিত্ত  হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ঠ) পূর্ববর্তী কর মেয়াদে অতিরিক্ত পরিশোধিত মূসক হ্রাসকারী সমন্বয়; বা
(ড) নির্ধারিত অন্য কোন  হ্রাসকারী সমন্বয়।

৩। আইনের প্রাধান্য।-

আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন, বিধি, প্রবিধান বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্যকোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

৪। মূসক নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি।-

(১) কেন্দ্রীয় বা শাখা ইউনিট নির্বিশেষে, নিম্নবর্ণিত প্রত্যেক ব্যক্তি কোন মাসের প্রথম দিন হইতে মূসক নিবন্ধনযোগ্য হইবেন, যথা:-
(ক) যে ব্যক্তির টার্নওভার উক্ত মাসের পূর্ববর্তী মাসের শেষে সমাপ্ত ১২ (বার) মাস সময়ে নিবন্ধনসীমা অতিক্রম করে; বা
(খ) যে ব্যক্তির প্রাক্কলিত টার্নওভার উক্ত মাসের পূর্ববর্তী মাসের প্রারম্ভ হইতে পরবর্তী  ১২ (বার) মাস সময়ে নিবন্ধনসীমা অতিক্রম করে।
(২)     উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে মূসক নিবন্ধিত হইতে হইবে, যিনি-
(ক) বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য প্রস্তুত করেন; বা
(খ) বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য  সেবা সরবরাহ করেন।

৫। কেন্দ্রীয় বা শাখা ইউনিটের নিবন্ধন।-


(১)     কেন্দ্রীয় ও সকল শাখা ইউনিটের জন্য প্রত্যেক নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের শুধুমাত্র একটি মূসক নিবন্ধন থাকিবে।
(২)     উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শাখা ইউনিটের হিসাব-নিকাশ ও রেকর্ডপত্র কেন্দ্রীয় ইউনিট হইতে পৃথক ও স্বতন্ত্রভাবে শাখা ইউনিটে পরিচালনা বা সংরক্ষণ করা হইলে উক্ত শাখা ইউনিটের জন্য পৃথক নিবন্ধন গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩)     পৃথকভাবে নিবন্ধিত প্রত্যেক শাখা ইউনিট, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পৃথক করদাতা হিসাবে গণ্য হইবে।
(৪)     একই অর্থনৈতিক কার্যক্রমের এক শাখা ইউনিট হইতে পৃথকভাবে নিবন্ধিত অপর শাখা ইউনিটে পণ্য বা সেবার আদান-প্রদান বা চলাচল সরবরাহ বলিয়া গণ্য হইবে না এবং ফলশ্রুতিতে উৎপাদ কর দায় বা উপকরণ কর রেয়াত উদ্ভূত হইবে না। 

৬। মূসক নিবন্ধন।

(১)     প্রত্যেক নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধনের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিবেন।
(২)     কমিশনার, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করিয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সম্বলিত নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করিবেন।
(৩)     উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আবেদন বিধিসম্মত না হইলে কারণ উল্লেখপূর্বক কমিশনার আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাইয়া দিবেন।

৭। নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রকাশ ও সংরক্ষণ।-

(১)     বোর্ড, সময় সময়, নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রণয়ন করিয়া উহা প্রকাশ, প্রচার ও সংরক্ষণ করিবে।
(২)     কোন ব্যক্তির নাম প্রকাশিত তালিকায় না থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে না।  
(৩)     কোন ব্যক্তির নাম উক্ত তালিকায় থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি এই আইনের অধীন নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে।

৮। স্বেচ্ছা মূসক নিবন্ধন।-

(১)     যে ব্যক্তি কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে করযোগ্য সরবরাহ প্রদান করেন, তাহার নিবন্ধনের আবশ্যকতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় মূসক নিবন্ধনের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(২)     কমিশনার, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করিয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সম্বলিত নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করিবেন।

৯। মূসক নিবন্ধন বাতিল।-

(১)     যদি কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা হইতে বিরত থাকেন, তাহা হইলে তিনি, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধন বাতিলের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(২)     কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি যাহার আর নিবন্ধিত থাকিবার প্রয়োজন নাই, তাহার করযোগ্য সরবরাহ প্রদান অব্যাহত থাকিলে, তিনি নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে কমিশনারের নিকট নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৮ এর অধীন স্বেচ্ছায় নিবন্ধিত কোন ব্যক্তিকে কমপক্ষে এক বৎসর নিবন্ধিত থাকিতে হইবে।
(৩)    কমিশনার, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন।
(৪)     যদি কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি মূসক নিবন্ধন বাতিলের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন দাখিল না করেন এবং যথাযথ অনুসন্ধানের পর যদি কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিলযোগ্য, তাহা হইলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে মূসক নিবন্ধন বাতিলের আবেদনপত্র দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান  করিবেন এবং উক্ত নির্দেশ অনুযায়ী আবেদন করা না হইলে কমিশনার স্ব-উদ্যোগে তাহার মূসক নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন।  
(৫)    কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিলের পর যদি দেখা যায় যে, তিনি তালিকাভুক্তিযোগ্য তাহা হইলে কমিশনার আবেদনের ভিত্তিতে বা স্ব-উদ্যোগে তাহাকে টার্নওভার করদাতা হিসাবে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবেন।
(৬)    কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিল করা হইলে, তিনি-
(ক) অনতিবিলম্বে কর চালানপত্র, সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র, রশিদ, ক্রেডিট নোট, ডেবিট নোট, ইত্যাদি ব্যবহার বা ইস্যু করা হইতে বিরত থাকিবেন; এবং   
(খ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র এবং উহার সকল প্রত্যায়িত অনুলিপি কমিশনারের নিকট ফেরত প্রদান এবং বকেয়া কর পরিশোধ ও চূড়ান্ত মূসক দাখিলপত্র দাখিল করিবেন।